অপ্রকৃতস্থ

অপ্রকৃতস্থ

ট্রেনের হুইসল ভেসে আসছে , প্লাটফর্মে হুইল চেয়ারে বসে আছি, শাড়ি পরা তুই পাশে দাড়িয়ে, আমাকে একা ফেলে চলে যাচ্ছিস কোথাও! ট্রেন ছেড়ে দিল তো! হুইল চেয়ারের চাকা জোরে ঘুরিয়ে ট্রেনের পিছনে ছুটছি ছুটছি যেন অনন্তকালধরে,শীত শীত লাগছে ।
উফফ !!!এত ভয়ংকর দুঃস্বপ্ন না দেখলে হয় না !
এখনও সকাল হয় নি,চারিদিকে ভয়ঙ্কর কুয়াশা। মোবাইল বের করে টাইম দেখলাম সকাল ৪:৩০| প্রায় দেড় ঘণ্টা শুয়ে আছি ফার্মগেট ওভারব্রিজের উপর।প্রথম ঢাকা আসা। বাসায় বলে আসি নি , গায়ে ভারী কাপড়ও নেই। ঠকঠক করে কাঁপছি। এই তো ভোরটা হোক, গত কয়েকমাস পর এই প্রথম মনটা একটু ভাল। আশেপাশে যা হচ্ছে এইসব ঘটনার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না, মস্তিষ্ক শাট ডাউন করে শুয়ে থাকাটাই ভাল।
আশ্চর্য ! একটা মশা ও নেই। শীতকালে মশাগুলো যায় কোথায় এই বিষয়ে ছোটখাটো গবেষণা হওয়া উচিত । বাগধারা হিসেবে ‘শীতের মশা’ খারাপ না , তবে শীতের মশা অর্থ কি হবে সেই বিষয়ে আরও ভাবনা চিন্তার প্রয়োজন আছে। এত উঁচুদরের সাহিত্য বিষয়ক গবেষণায় বাধা দিল বেরসিক হর্ন ।
প্রায় ভোর,সকাল ৫:৩০ টা।
:এই যে ভাই মোস্তফা গলিটা কোন দিকে?
:আরে মিয়া , আপনের সামনেই তো, আন্ধা নাকি? আজাইর‍্যা প্রশ্ন করেন কেন?
:না ভাই, ইয়ে মানে ঢাকা প্রথম আসছি তো!
ধুর, ফুরফুরে মেজাজটাই খারাপ করে দিল। কতদিন পর তোর সাথে দেখা হবে । এইতো ১১৯/ডি, নিবেদিকা ছাত্রী হোস্টেল।গলির মুখের দারোয়ান বিরক্ত চোখে তাকিয়ে আছে,যেন প্রতিদিন ভোরে আমার মত কিশোরেরা ঘুরঘুর করে এইখানে, করতেই পারে ছাত্রী হোস্টেলের গলি। নাহ, আর একটু সকাল হোক তুইতো আবার ৭:৪৫ এর আগে ঘুম থেকেই উঠিস না। অবশ্য এই এক বছরে রুটিন একই আছে কিনা আল্লাহ্‌ মালুম ! বের হয়ে এলাম গলি থেকে ।
মামা, চা দেন তো একটা। বসে বসে বিস্বাদ চা পান করছি আর ভোরবেলা টেম্পো স্টার্ট করার বিচিত্র দৃশ্য দেখছি, ছোট হেলপার ছেলেটা সজোরে ঠেলছে আর ওস্তাদ চিল্লিয়ে বলছে আরও জোরে ঠেলতে পারস না, রাইতে আছিলি কই?বয়সও তো তেমন হয় নাই! আরও কিছু কুৎসিত বাক্য বলল যা শুনলে কান জমজমের পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে!

পাঁচ মাস আগে শেষ কথা হয়েছে,অথচ হোস্টেলের যেমন বর্ণনা দিয়েছিল ঠিক তেমনিভাবে মস্তিষ্ক হোস্টেলের অলিগলি চিনে ফেলছে। ঢুকব কি ঢুকব না এই চিন্তা করতে করতে, গেইটের দারোয়ানকে জিজ্ঞেস করে সোজা ওয়েটিং রুমে গিয়ে বসলাম। আটটা প্রায় বেজে আসছে ,অধিকাংশ মেয়েরা কলেজ ইউনিভার্সিটির জন্য বের হয়ে যাচ্ছে,নাহ আর অপেক্ষা করা চলে না।
:এইযে আপু ,আপনাদের হোস্টেলের মেট্রন কখন আসবেন?
:ও শাহেলা খালা! উনি তো নয়টা দশটার আগে আসেন না ।
:ও আচ্ছা! আপনি কি কষ্ট করে ফারিয়াকে ডেকে দিবেন ? নিচতলায় রান্নাঘরের পাশে সিঙ্গেল রুম!
:আচ্ছা আপনি ওয়েট করেন একটু।
:ঠিক আছে, বলবেন আবিদ এসেছে।
নিজেকে চিড়িয়াখানার বানর মনে হচ্ছে ,খালি একটা খাঁচার অভাব। যেই যাচ্ছে একবার এইদিকে তাকাচ্ছে, তাকাবেই তো, ঠিকমত রোদের তেজ ছড়ানোর আগে গেস্ট-রুমের ভিতর বসে আছি।কারো কারো হয়ত সন্দেহও জাগছে রাতে এইখানেই ঘুমিয়েছি কি না!
:স্যরি ভাইয়া, উনি তো নেই !
:নেই মানে ! আমি তো জানি আছে , কালকেই ওর বান্ধবী মনির সাথে কথা হল। কোথায় গিয়েছে বলতে পারেন?
:না ভাইয়া , রুমে তো তালা !
বুকের কোথাও কষ্টের তীব্র অনুভূতিতে যেন হাত-পা অবশ হয়ে আসছে । কষ্টের একটা স্রোত ঠিক বুকের মাঝখান থেকে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ল।প্রায় পাঁচ মিনিট পর সম্বিৎ ফিরে পেলাম, কিছু একটা করতে হবে জলদি খুব জলদি। খিলগাঁও ওর বড় ভাইয়ের বাসা, সেখানে যাব ? ধুর! খিলগাঁও তো আমি চিনিই না, বাসা খুঁজব কোথায়। মনিকে কল দিলাম চার-পাঁচ বার, রিসিভ করছে না !
হঠাৎ করে মনে হল, আরে DU তে চলে গেলেই তো হয়,ওর ক্লাশ আছে না ! একটা সিএনজি নিয়ে রওনা দিলাম।
রাস্তার পাশে এত এত গোলাপ, এত সুন্দর গোলাপ আমি কখনও দেখি নাই, জায়গাটার নাম কি? কই কখনও তো ফারিয়া আমাকে এত সুন্দর জায়গাটার কথা বলে নাই। গত একবছর সে DU’তে পড়ে, প্রতিদিনের ভোর এত সুন্দর ফুলের ঘ্রানে শুরু হওয়ার ভাবই আলাদা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গনিত ডিপার্টমেন্টের সামনে দাড়িয়ে আছি,সকাল ৯:০০টা।
আজিব হয়ে গেলাম কিছুক্ষনের জন্য, তীব্র শীতের মধ্যে অধিকাংশ পুলাপাইন শুধু শাল গায়ে দিয়ে ঘুরাঘুরি করছে,কিছুক্ষন পর বুঝলাম এইটাই নিয়ম!শীতকাল যে আছে সেইটা বুঝা যাবে শীতের বাহারি পোষাকে, কতটুকু ঠাণ্ডা লাগছে তার উপর নয়। বিশ মিনিট দুইতালা একতালা ঘরাঘুরি করার পর , ভয়ে ভয়ে আজিব টাইপের আলখাল্লা পরা এক ভাইয়ার কাছে জানতে চাইলামঃ ভাই, ফার্স্ট ইয়ারের ক্লাস কুনখানে হয়?
সে ইশারায় অঙ্গুলি নির্দেশ করে যা বুঝাতে চাইল তার মানে মনে হয়ঃ চারতলা,তা দিয়ে তোমার কি কাম?
আমি উত্তর না দিয়ে চারতলার দিকে সরলরেখায় হাঁটা ধরলাম,ভাইজান মনে হয় ভাবে আছে!
আধাঘণ্টা চারতলার সিড়িতে বসে আছি, কোন রুম খুলে নাই। ঘটনাটা কি? তিনতলার কোন এক রুমে ক্লাস হচ্ছে উঁকি-ঝুঁকি দিয়ে দেখলাম তোকে দেখা যায় কি না? নাহ , সময় নষ্ট করে লাভ নাই। এরচেয়ে ভালো হোস্টেলে গিয়ে দেখি মেট্রন এসেছে কি না?

মেট্রন বেশ কিছুক্ষন তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন, যেন ভিনগ্রহের কোন প্রাণী এসে উপস্থিত হয়েছে তার সামনে, অবশ্য আমার চেহারা কেমন হয়েছে কে জানে? কাল দুপুরের পর থেকে কিছু খাই নি,হাতমুখ ধুই নি! টাকাও তেমন নেই, বাসায় ফিয়ে যেতে হবে,টাকা লাগবে।
তিনি বললেনঃতুমিই আবিদ?
:জি, আপনি কেমনে চিনলেন! ফারিয়া বলেছে কিছু!
:না না, তুমি সকালে যেই কাজের মেয়েটার সাথে কথা বলেছ সে বলেছে।
আমি তো পুরাই ভম্ভহত, মানে হতভম্বের চেয়েও বেশি কিছু,ওইটা কাজের মেয়ে! বললামঃ ও! ফারিয়া কই?
:ও তো নাই,দুই মাস আগে হোস্টেল ছেড়ে দিয়েছে!
:কি বলেন, কোথায় গিয়েছে কিছু জানেন? আমি সেই চট্টগ্রাম থেকে এসেছি?
:একটু বস, আমি কাউকে জিজ্ঞেস করে দেখি।
আমার নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে, কান্নাও আসছে মনে হয়।মেট্রন ফিরে এসে চুপচাপ বসে আছেন,তার চেহারা দেখে মনে হল না কোন সুসংবাদ আছে আমার জন্য।

রোকেয়া হলের সামনে বসে আছি। ও বলেছিল হোস্টেল ছাড়লে রোকেয়া হলে উঠবে ।যেই মাত্র কোন মেয়ে বের হয়, আমি ভাবি তুই বের হয়েছিস। উঠে দাড়িয়ে ভাল করে দেখার চেষ্টা করি,ইশশ ভুলকরেও যদি তুই বাইরে আসিস।একেবারে কঠিন একটা ধমক দিব, আমাকে না বলে এইখানে চলে আসলি কেন?রোকেয়া হল ভাল না, জানিস না প্রতিবছর এই হোস্টেল ফাঁসি খাওয়ার প্রতিযগিতায় ফার্স্ট হয়!
ইচ্ছে করছে প্রত্যেকটা মেয়েকে গিয়ে জিজ্ঞেস করিঃ আপু ফারিয়াকে চিনেন ? ম্যাথ ডিপার্টম্যান্ট, ফার্স্ট ইয়ার। কাল চোখ,শ্যামলা,পিচ্চি পিচ্চি লাগে দেখতে! খুব বেশি হাসে,সারাদিন হি হি করে! হ্যা হ্যা,দিনে ১৪ ঘন্টা ঘুমায় !
জিজ্ঞেস করা হয় না। মাথায় বুদ্ধি আসে একটাঃ গেটের কাছে দাঁড়ান দারোয়াণকে ১০০ টাকা দিয়ে বলি, এই রকম দেখতে কাউকে চিনে কি না? না চিনলে যেন গিয়ে খুঁজে দেখে। গ্রাম থেকে এসেছি টাকা নিয়ে ,দিতে পারছি না মোবাইল বন্ধ করে রাতে ঘুমিয়েছে তো,তাই কল করতে পারছি না!
:আপনে খানিক অপেক্ষা করেন,এইটা কোন বিষয় হইল?
বলে সেই বৃদ্ধ দারোয়ান প্রায় ২০ মিনিট পর এসে সুসংবাদ দিল, পাওয়া গিয়েছে , উনি গনরুমে ছিলেন, এখুনি আসছেন! আমি আনন্দে হার্টফেল করে ফেলব মনে হচ্ছে।ইচ্ছে করছে বৃদ্ধকে ধরে চুমা খাই, আরো ১০০ টাকা এনাম দিলাম তাকে!
অবশ্য গনরুমের ব্যপারটা বুঝতে পারলাম না,গনটয়লেট শুনেছি যেইখানে সবাই মিলে গনহারে হাগে। কিন্তু, গনরুমের বিষয়টা কি? ফারিয়াকে জিজ্ঞেস করতে হবে। অবশেষে, চোখে চশমা ওয়ালা, চুলে হলুদ রং করা একটা মেয়ে বিরক্ত মুখে এসে হাজির হল।সুন্দর চেহারার সাথে বিরক্তিটা বেশ মানিয়েছে! তাকে দেখে আমি যতটা হতবাক সে আমাকে দেখে তারচেয়ে বেশী! মনে হয় অন্য কাউকে আশা করছিল!
: আমাকে খুজছেন?
:না , আপনাকে খুজব কেন? আমি ফারিয়া কে খুজছি!
:হ্যা , আমিই ফারিহা। বলেন!
:আরে, আমি আপনি ফারিয়া কে খুজছি না! আমার ফারিয়া কে খুজছি!
:তো আপনার ফারিয়াকে খুজলে আমাকে ডাকলেন কেন? যত্তসব!
:ইয়ে, কষ্ট করে এসেছেন যেহেতু একটা কৌতূহল মিটিয়ে যান!
:কি তাড়াতাড়ি বলেন?
:না মানে দারোয়ান ভাই বললেন যে, আপনি গনরুমে থাকেন, গনরুম বিষয়টা ঠিক বুঝি নাই! যদি একটু বুঝিয়ে দিতেন চিরকৃতজ্ঞ হয়ে যেতাম, এমনিতেও আপনি আসাতে আমি অতিকৃতজ্ঞ বোধ করছি!
:বললে বুঝবেন না, বুঝতে চাইলে আসেন আমার সাথে দুই একদিন থাকেন! কাজকর্ম নাই আপনার? নাকি মেয়ে দেখলেই খেজুরে আলাপ করতে ইচ্ছা করে,যান ভাগেন!ঘুমটা নষ্ট করলেন খামোখা ।
বলেই উল্টা দিকে হাঁটা দিল!এই দুঃখের মধ্যেও আমার হাসি এসে গেল! সুন্দরী মেয়েগুলোর মাথার স্ক্রু দুই একটা কম থাকে মনে হয়!
আমিও হনহন করে আবার ম্যাথ ডিপার্টম্যন্ট এর দিকে হাঁটা দিলাম দ্রুতগতিতে, এইখানে আর বেশীক্ষণ দাঁড়ানো নিরাপদ মনে হচ্ছে না। ইভটিজিংয়ের মামলায় ফেঁসে যাওয়া কোন ভাল কথা হতে পারে না!
চারতলায় ফিরে আসলাম,সময় কাটানোর জন্য নোটিশ বোর্ড দেখছি! একটা নোটিশে দেখলাম ফার্স্ট ইয়ারের ফাইনাল পরীক্ষা শুরু হয়েছে ,তাই ক্লাস সাসপেন্ড। আমি হন্যে হয়ে পরীক্ষার রুটিন খুজছি। গতকাল পরীক্ষা ছিল, পরবর্তী পরীক্ষা ফেব্রুয়ারির চার তারিখ। এরপর আমি কি করেছি ঠিক মনে পড়ছে না, এতটুকু মনে আছে শীতকালেও সেইদিন ম্যাথ ডিপার্টম্যান্ট এর করিডোর অঝর বর্ষণে ভিজে গিয়েছিল।
একজন আলখাল্লা ভাই আমাকে ডেকে বললঃ কি? পাখি ফুরুত তাই না! মামা, ঢাকা শহর বড়ই আজিব, তার চেয়েও আজিব মানুষগুলা ।বন্য পাখিরে পাইল্লা-পুইশ্যা উড়তে শিখাইবা তুমি,আর একটু উড়তে শিখা সেই পাখি তোমারে ছাইড়া আর একজনের আকাশে উড়ব। হেইলাইগ্যাই আমরা উড়তে শিখনের আগে ডানা কাইট্টা দেই! হা, হা! নাহ,তুমি এইগুলা বুঝবা না । যাও ঘরে ফিররা যাও! কিয়ামত পর্যন্ত এইখানে দাঁড়াইয়া থাইকাও কোন ফায়দা হবে না!
আলখাল্লা ভাইকে কয়েকটা শক্ত কথা বলব ভেবেছিলাম, থাক বলে আর কি হবে, বেচারা ভাবে আছে ,ভাবে থাকুক।আর তোকে তো উনি চিনে না,তুই কেমন তাও জানে না।একটা সম্পর্কে দুইজনের মাঝে একটু আকটু রাগ তো হতেই পারে।তুই কখনও আমার সাথে মিথ্যা বলিস না ,আমি একটু রাগ করলেই তুই নাকের জল আর চোখের জলে বুক ভাসিয়ে দিস সেইটা তো উনি জানেন না!উনি তো জানেন না তুই আর আমি আমৃত্যু একসাথে বেঁচে থাকার শপথ নিয়েছি!
মনিকে আবারো কল দিলাম, কয়েকবার কল দেওয়ার পর সে রিসিভ করলঃহ্যা, আবিদ তুমি কই?
:আমি টিএসসির সামনে,বাদাম খাই! আচ্ছা তুমি ভুল খবর দ্যাও কেন? কালকে রাতে তুমি যে বললা ফারিয়া আগের হোস্টেলে আছে, কই সে তো ওইখানে নাই!
:শোন আবিদ, তুমি একটা গাধা, সে ওই হোস্টেলেই আছে,তোমার সাথে দেখা করবে না , আমি ১২টার দিকে ওর হোস্টেলে গিয়েছিলাম, ও তখনও ঘুমে।
:আমার কথা কিছু বলে নাই?
:হুম্ম বলেছে,তোমার সাথে ও কোন সম্পর্ক রাখবে না,তোমাকে অযথা ঢাকা আসতে ও নিষেধ করেছে, সে আরও বলেছে আমি যদি তোমার সাথে যোগাযোগ করি সে আমার সাথে আর সম্পর্ক রাখবে না, অন্ধভাবে মানুষকে বিশ্বাস করা বন্ধ কর আবিদ আজ থেকে,রাখি।
সেইদিন সন্ধ্যা নামার আগ পর্যন্ত আবিদ মোস্তফা গলির সামনে বসে ছিল, সন্ধ্যা নামার পর ফুটপাথ ধরে হেঁটে হেঁটে আবার নোটিশ বোর্ড দেখতে গেল ।খুব দূরে কোথাও টিমটিম করে জ্বলে থাকা বাল্বের আলোয় নি:সঙ্গ নোটিশ বোর্ডেটি যেন তাকে উপহাস করছিল !
রাত প্রায় ১২ টা ,তীব্র শীতের মাঝে কিছু সুখী মানুষের সাথে আবিদ বাস টার্মিনালের সামনে হাত পা ছড়িয়ে মাটিতে বসে আগুন পোহাচ্ছে,কাগজ পোড়া ঘ্রাণটা শুনতে বেশ ভালো লাগছে তার,বাচ্চা ছেলের মত বাসের টিকিট হাতের মুঠিতে দলা পাকিয়ে রেখেছে!
আর কিছু মানুষকে বোঝানোর চেষ্টা করছে সে হোস্টেলেই ছিল, আমার সাথে দেখা করেনি।

এই নগরীর হাজারো অপ্রকৃতস্থ মানুষের ভিড়ে আরও একজন মানুষ যোগ হল।সুনসান নিশীথে যার কষ্টগুলো অশ্রুহয়ে ঝরে পড়ে,তার দীর্ঘশ্বাস গুলোকে আচমকা ভেসে আসা কারো আর্তনাদ বলে ভুল হতে পারে!

ব্যস্ত নগরীর বিষাক্ত বাতাসে হাজারো জীবনের উপন্যাসে শত আবিদ অনিচ্ছায় হারিয়ে যায়। আচ্ছা,সেচ্ছায় যারা হারিয়ে যেতে চায় তাদের কি কেউ খুজে পায় ?

গল্পের বিষয়:
রহস্য
DMCA.com Protection Status
loading...

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত