খেউর নামা

খেউর নামা

কিছু বন্ধু আজকাল আমার অধিক কাছেরজন হয়ে গেছেন দেখছি, যারজন্য তাঁরা আমাকে সযত্নে এরিয়ে চলছেন। কি আর বলি তাদের, একটাই কথা ‘আপনাদের দ্যায় কে’? কিছুজন আবার ছোঁয়াচ বাঁচায়, তাদের বলি কাকা/পিসিমা, আমার পোষ্ট বা টাইমলাইনে এলে মাথায় একটা কন্ডোম পরে নিয়েন প্লিজ, এখানে HIV ভাইরাস চিলুচিলু করে ঘুরে বেড়ায়। খপাৎ করে আপনার ঢাউস সাম্মানিক ফানুশ ফাসিয়ে দিতে পারে। কিছুজন কোনো কারন ছারায় আমায় দেখে এমনধারা নাক সিটকায়, যেন আমার হাত দিয়ে হস্তমৈথুন করতে গিয়ে তার লিঙ্গের নুনছাল উঠে গেছে। বলি ও মশাই, এতো পতিভা কি ঘরের লোক জানে? কয়েকজন তো আবার আমার ঠিকেদারি নিয়ে রেখেছে, কে জানে বিবাহযোগ্যা মেয়ে বা বোনের জন্য মনেমনে আমি তাদের মানসপুত্র ছিলাম কিনা। এমনও হতেই পারে নিজের অতৃপ্ত শয্যা সঙ্গী বা সঙ্গীনির জন্য আমাকে নিতান্ত মনোনীত করা হলেও আশ্চর্যের কিছু নেই। এগুলো দেখলেই আমার মনে এমন ভাব চলে আসে যে, কেঁদে ফেলি মাইরি, আর আজকাল কে আর না জানে চোখের জলেও গর্ভসঞ্চার হয়।

গত কয়েকদিন ধরেই মান ও সম্মান নিয়ে বেশ কয়েকটা সুতো ইতিউতি নজরে পরেছে। আমাদের এক বিশেষ গ্রুপ সহ বেশ কিন্তু বন্ধুর সময় সারণীতেও যার চোরাবালি অপসৃতমান; চেরানোবিল পারমাণবিক তেজস্ক্রিয়ার মত বেশ ভালই ঘা করেছে পরিচিতমহলে।

যদিও আমার ওটা সাবজেক্ট নয় বলে, তেমন উৎসাহিত হইনি। আমার তো শ্লা হল গিয়ে, সম্মানই নেই, তো অসম্মানিত হবো সে উপায় মোটে নাই। দুটো দিন ধরে বেশ পবিত্র চেষ্টা চরিত্র করলাম, ভোরে প্রাণায়াম, সকালে কাঁচা দুধে ডিম ফাটিয়ে দুপিস আমন্ড, দুপুরে চাউমিন, সন্ধ্যায় ছাতু ও রাত্রে বাংলা… নাহ। মানই গজালোনা, তো যাবে, লোম অবশ্য গজানো বন্ধ নেই, নির্দিষ্ট মাত্রাতে বাড়ছে। চেষ্টা করলে অবশ্য ঘরের পিছনের ছাঁচতলাতে, যেখানে ছোটবেলা হিসি করতাম সেখানে দুটো কচু বুনলে নিশ্চিত ‘মান’- বাঁচিয়ে দিত, একটা লম্বা গজিয়ে, নিচের দিকে।
আমার তো…
বাপ বললে মোদির ভাই (এক্ষেত্রে আপনি মনে মনে যা খুশি বসাতেই পারেন), আনন্দের আর সীমা নাই।
লোকে জন্মাবার পর ছ্যাবলা হয়, আমি মায়ের পেট থেকেই ত্যাদোঁড়। হতেই পারে, নিষিক্তকরণকালে কোনো ফলিডল বা গ্যামাক্সিনের প্রকোপ থাকলে সেটা আশ্চর্যের কিছুনা। তাই বলে রাখি কিছু রেমিডি আমার টাইমলাইন ও গ্রুপের উপরোক্ত অবন্ধু, শুভান্যুধায়ী ও বন্ধুদের জন্য-

আমার পোষ্ট বা কমেন্টে কারোর খারাপ কিছু লাগলে, আমার ভাবনা অনুযায়ী একটাই কাজ করতে পারেন, খুবই রেডিমেড প্রায় ২ মিণিটস নুডলসের মতোই আরকি:-

একটা গ্লাস নিন, একটু ঠান্ডা জল ঢালুন তাতে। হালকা ইসব গুলের ভুষি বা কায়মচূর্ন মিসিয়ে ঢক করে গিলে নিন। এবার মানসিক ভাবে নিজেকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করুন। মনে রাখবেন বাঙালীর যুদ্ধ, আধাঘন্টার বেশী সময় লাগার কথা না।
এবারে মনে করুন শ্বশুর বাড়ির প্রথম অপমানের কথাটা, নাহ আত্মা জাগলনা তো? রোজ ডেলিপ্যাসেঞ্জারি করেন যে জন-বাহনটিতে, সেখানের সেই বিশেষ যাত্রীটিকে মনে করুন, তার বগলের গন্ধ… দেখুন এবারে আপনার রোমকূপের ছিদ্রগুলো খুলে গেছে। এবারে ভাবুন, প্রাক ভার্চুয়াল যুগে যখন কাওকে টাইমলাইনে গালি দেবার সুযোগ ছিলনা, তখনকার দিনের অফিসে বা কর্মস্থলে সেই অপমানের কথাগুলো, কয়েকবিন্দু ঘাম টপ করে দেখবেন ঝরে পড়ল বলে। এবারে হালকা করে একবার পাছায় হাত বুলিয়ে নিন, এটা সামান্য বিরতি মাত্র, মানসিক প্রশান্তি পাবেন নিশ্চিত। দিয়ে আবার ভাবুন, যেবারে হিসি করতে গিয়ে অসাবধানতা বসত অর্ধেক হিসিটা প্যান্টেই পরেছিল, আর আপনি সেটা লুকাতে কলের জলে হাত ধোয়ার বাহানাতে আরো খানিকটা প্যান্ট ভিজিয়ে ঢাকাবার চেষ্টাটা , চায়ের দোকানের ছোঁড়া চাঁদু সকলকে বলে দিয়েছিল… ব্যাস, রাগে কপাল ফেটে দরদর করে ঘাম ঝরছে। রগের শির ফুলে উঠেছে, ঠিক এই সময় ঘড়িটা দেখে নিন।

মিনিট পনেরো এভাবেই কাটিয়ে ফেলেছেন ইতোমধ্যে, অতএব আপনি সম্পূর্ন প্রস্তুত সমরের জন্য। এবারে একটা কমোড ওয়ালা প্যানে গিয়ে হাতে সময় নিয়ে বসুন, সাথে ২ টো মাড়ি বিস্কুট রাখা অবশ্যকর্তব্য। আর এক বোতল ফ্রিজের জল তো থাকতেই হবে, এটা জীবনদায়ী। হ্যাঁ, অবশ্যই ইজের খুলে বসবেন। এবারে আগের কাজ আগে, ব্যাটা ছেলে হলে, আগে বিড়ি টা শেষ করুন। কারন ওই সুখটান পৃথিবীর আর কিচ্ছুতেই নেই। মেয়েরা শ্বাশুরী বা ননদের নাম নেবেন ১১ বার, ভরভর করে ও কাজটা ত্বরান্বিত হবে।

এবার বারমুডার পকেট থেকে, বা লুঙি না নাইটির কোঁচর থেকে এন্ড্রোয়েডটা বের করে নেট অন করে ফেসবুক এপসে ক্লিক মারুন। এই এক ফেসবুক, আমাদের প্রতিষ্ঠিত ক্লিকবাজে পরিণত করে সার্টিফিকেট দিয়ে দিয়েছে। ফেবু তার নোটিফিকেশনের আপডেট দিতে থাকুক, তার মত সময় নিয়ে; আপনি উইকিপিডিয়াতে গিয়ে একবার নিজের খিস্তির স্টকটা ঝালিয়ে নিন। যাঁহারা তরলমতি, তাদের কোষ্ঠে কাঠিন্য অতি স্বাভাবিক, অতএব এবারে একটা উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত চালিয়ে দিন ওই মোবাইলেই, যাদের বায়ুর দোষ আছে তারা হিমেশের নিজের গাওয়া গান লাগিয়ে দিন, কারন নাক টিপে গুনগুন করলে ওটা যাবে ভাল, বাকিরা হানি সিং,কারন বলছি।

হিমেসের গান শুনলেই, মুখে অটোমেটিক বিকৃতি শুরু হয়ে যাবে, যেটা আপনাকে কোঁথ পারতে সাহায্য করবে। এবার নিম্নচাপের টুপটাপ বর্ষন শুরু হয়ে গেলেই, ওই বিকৃতি মুখের যাবতীয় এক্সপ্রেশন এক্সটেন্ডেড করুন। ফিরে আসুন ফেসবুকে, সোজা চলে আসুন আমার পোষ্টে। যাবতীয় কাঁচা গালাগালি সহ ইত্যাদি ইত্যাদি পরিবেশন করুন থরে থরে, সমস্ত রেজুলেসন ভুলে রেভুলিউসন সহ। কারন ততক্ষন আপনার উদরলঘুতার কারনে, মনেও হালকা প্রাশান্তি ভাব বিরাজমান।

এবার বিস্কুট দুটো খেয়ে নিন, একটু ঠান্ডা জলো গলায় ঢালুন। বেগটা আবার ফিরে পাবেন।
আবার এক প্রস্থ নিজের মনকে সুখ দিয়ে নিন, আমায় গাল দিয়ে, অন্য অনেকের প্রতি যত্তো ক্ষোভ, নিজের যাবতীয় না-পারা সহ সকল কিছুর দায় ভার্চুয়ালি সব আমার উপর ঢেলে দিন। কেও মানা করবেনা, সব্বাই দাঁত ক্যালাবে। আর মাইরি বলছি, শৌচাগারে আমি নেই দেখার জন্য, নিশ্চিবতে করুন। সাথে সাথে যত্তো রাগবেন, পেট টাও রিলাক্স ফিল করবে।

এবার একটু হালকা ঘাম মুছে নিন। ছেলারা লুঙ্গি দিয়ে, মেয়েরা নাইটির অতিরিক্ত অংশ দিয়ে। বারমুডা বিলাসীরা হাত দিয়েই ঘাম ঝাড়ুন। যদিও আমার আবার ওই সুবিধা নেই। আমি বাথরুমে জন্মাবস্থার সময়কালেই বিশ্বাসী। জীবনে নাগা হবার যে সুপ্ত বাসনা টা ছিলো, ওখানেই মেটায়।

সে যাই হোক। পেটের এবং মনের যাবতীয় স্খলন পরিপূর্ন করে, টয়লেট পেপারে গুহ্যদ্বার মুছে নিন, আপনার হলুদ পাখীদের আপাতত টাটা করুন। তার সাথে আমার নাম ২১ বার অত্যন্ত ঘৃনামিশ্রিত স্বরে উচ্চারিত করুন। কমোডে ফেলার আগে জয় সতীনাথের জয় বলে, অরিজিত সিং এর একটা রোমান্টিক গান চালিয়ে, হাত ধুয়ে (ডেটল সাবান দিয়ে) আরেকটা সরি পোষ্ট অথবা কমেন্ট করে দিন।

ব্যাস…
সাপ-লাঠি দুই ই অক্ষত।
যারা আমাকে ব্লক করে রেখেছেন তাদের জন্য বলি, ফেক একাউন্ট থেকে দেখছেন সেটা আর লজ্জা লজ্জা মুখ করে বলতে হবেনা, আমি আমার সেই সকল কাছের মানুষ নিয়েই সুখী ও খুশি, যাদের জাত যায়না আমিত্বের দায়ে।

আপনি থাকছেন স্যার।

গল্পের বিষয়:
গল্প

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত