চিঠির শেষ লাইন

চিঠির শেষ লাইন

ডায়রিটা খুঁজে পাচ্ছি না৷ পড়ার টেবিলের সামনে রাখা চেয়ারটাতে বসে খানিক্ষণ ভাবলাম৷ নাহ, বাইরে কোথাও নেয়া হয়নি৷ ঠক ঠক আওয়াজে ভাবনাটা ভাঙল৷ দরজার দিকে তাকিয়ে দেখি, অণু মেয়েটা দাঁড়িয়ে আছে৷ চোখাচোখি হতেই চোখ সরিয়ে নিই৷ সামনে রাখা বইটা হাতে নিয়ে ব্যস্ততার ভান ধরি৷ অণুর দিকে তাকালাম না৷ মনে মনে চাইছি মেয়েটা যেন চলে যায়৷ অপরাধবোধ ঝেঁকে বসে আমার মনে৷ গতকালের ঘটনাটা মিটমাট হয়ে গেলেও, ঘটনার রেশটা এখনো থেকে গিয়েছে৷ আমি দরজার দিকে আবার তাকালাম৷ মেয়েটা এখনো দাঁড়িয়ে আছে৷ এই মূহুর্তে রুম জুড়ে একটা গুমোঢ় আবহাওয়া বিরাজ করছে৷ আমি গলাঝাড়া দিয়ে হালকা স্বরে জিজ্ঞেস করি,

-কিছু বলবি অণু?

উত্তরে অণু মাথা নেড়ে বুঝায়, সে কিছু বলতে চায়৷ অণু এবার গুটি পায়ে এগিয়ে এসে খাটটাতে বসে৷ অস্বস্থি ভাবটা ফুটে উঠে আমার মনে৷ এমন না যে, অণু এই প্রথম আমার রুমে আসছে৷ গত ৮বছর ধরেই আমার রুমে ওর আসাযাওয়া৷ আমার রুমের প্রত্যেকটা জিনিস ওর হাতে সাজানো৷ এমনকি রোজ সকালের মশারিটাও ও খুলে দিতো৷ শখ করে নিজ হাতে আমার রুমের দেয়ালে কয়েকটা ফুল এঁকে দিয়েছে৷ ওর প্রিয় ফুলের ছবি৷ তবে যা কিছু হয়েছে গতকালের আগে৷ বারেক চাচার ছাদের এই রুমটাতে আমি ৮বছর ধরে আছি৷ অণু বারেক চাচার মেয়ে৷ এবার ইন্টার ২য় বর্ষে উঠেছে৷ যেদিন চাচা আমাকে গ্রাম থেকে নিয়ে এসেছিল৷ সেদিন থেকেই অণুর সাথে আমার পরিচয়৷ আমার সুখ -দুঃখ , হাসি আনন্দ সবকিছুর অংশ ছিল মেয়েটা৷ গত ৮বছরে অণুর সাথে আমার কখনোই ঝগড়া হয়নি৷ কখনো শুনতে হয়নি “আমার বাবার টাকায় খাস তুই”৷ অণু আমাকে মাঝে মাঝে বলতো,

-মাঝে মাঝে তোমাকে আমার মুরগী ছানা মনে হয়!” আমি জিজ্ঞেস করতাম,
-কেন? আমার প্রশ্ন শুনে অণু কিছুক্ষণ হেসে নিতো৷ তারপর দম নিয়ে বলতো,
-এই যে তুমি মুরগীর বাচ্চার মতো দু’টো করে ভাত খাও৷ অল্প খেয়েই উঠে যাও৷” জবাবে আমি যখন বলতাম,
-তোর বাবার খাচ্ছি৷ একটু হিসেব করে খেতে হবে তো৷” আমার কথা শুনে অণু রেগে যেত৷ ছাদের কোণে রাখা ভাঙা

ইটগুলো দেখিয়ে বলতো, পরেরবার এসব বললে ঐ ইট দিয়ে তোমার মাথা ফাটাবো৷ তারপর তুমি মাথাবর্তি ব্যান্ডেজ নিয়ে বিছানায় শুয়ে থাকবা৷ আর আমি পাশে বসে সেবা করবো তোমার৷ তখনতো আর তুমি নিজ হাতে খেতে পারবানা৷ তখন আমি ইচ্ছেমত গেলাবো তোমাকে৷” আমি অণুর গালগুলো টেনে বলতাম, এত পাকনা কেনো রে তুই? অণু মুচকি হেসে বলতো তোমার জন্য৷ এই নাদুস নুদুস গালের সরল মনা মেয়েটার সাথে আমার কত কত স্মৃতি জড়িয়ে আছে৷ স্মৃতিগুলো যদি জায়গা দখল করতো৷ তাহলে হয়তো আমার রুমটাতে আর তিল ধারণের জায়গা থাকতো না৷ গত দিনের সকালবেলার আকাশটা মেঘলা ছিল৷

মাথার উপরের আকাশটার সাথে আমার মনের আকাশটার অনেক মিল আছে৷ যেদিন মাথার উপরের আকাশে উঠা বিশাল সূর্যের এক চিলতে রোদ আমার জানালার ফাঁক গলিয়ে আমার চোখে পরতেই আমার ঘুমটা ছুটে যায়৷ জানালার ফাঁক দিয়ে আমি কিছুক্ষণ আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকি৷ অদ্ভূতভাবে আমার মনটা খুশিতে ভরে উঠে৷ আমার মাঝে মাঝে মনে হয় রোদটা আমার বিষণ্ণতাগুলো শোষণ করে নেয়৷ আবার যেদিন মেঘাচ্ছন্ন থাকবে৷ সেদিনের সকালটা আমার জন্য চরম মন খারাপের সকাল৷ আমার কিছুতেই কিছু ভালো লাগে না৷ আমার মায়ের কথাটা খুব বেশি মনে পরে আমার৷ এমনই এক মেঘাচ্ছন্ন সকালে আমার ঘুম ভেঙেছিল৷ আমার কেন জানি মনে হয়েছিল আজকের দিনটা ভালো যাবে না৷ বিকেলে খেলার মাঠে আমার মন বসছিল না৷ অসুস্থতার ভান ধরে চলে এসেছিলাম৷ ঠিক সেদিন সন্ধ্যায় আমার মা মারা গিয়েছিল৷

এরপর থেকেই মেঘলা আকাশ আমার বড্ড ভয় লাগে৷ আকাশের বিষণ্ণতা দেখলেই আমি ভয়ে চুপষে যেতাম৷
এই ক’বছরে ভয়টা অনেক কমেছে৷ হারানোর মতো কিছু নেই বলে হয়তো৷ মা হারানোর সকালের মতো ছিল গতকালের সকালটা৷ মেঘলা আকাশটা আমার মনে বিষণ্ণতা চাপিয়ে দিয়েছে ততক্ষণে৷ আমি জানালার গ্রিল ধরে আকাশটার দিকে তাকিয়েছিলাম৷ হাতে চায়ের কাপ নিয়ে আমার পাশে এসে দাঁড়ায়৷ আমি যেদিন চা খেতে নিচে যাই না৷ সেদিনই অণু মেয়েটা নিজ হাতে চা বানিয়ে নিয়ে আসে৷ আমি মাঝে মাঝে ইচ্ছে করেই যাই না৷ অণুর হাতে বানানো চা খাওয়ার জন্যে অবশ্যই৷ গতকালের ব্যাপারটা ভিন্ন৷ চায়ের কাপটাতে দু’টো চুমুক দিয়ে অণুকে ম্মিত হেসে বলেছিলাম,

-চা টা তুই দারুণ বানাস৷ তোর বানানো চায়ে চুমুক দিলে মনটা ভালো হয়ে যায় আমার৷” অণু লজ্জা লজ্জা মুখ নিয়ে বলেছিল, শুভ্রদা তুমি সবসময় বড্ড বাড়িয়ে বলো৷ আমি কিন্তু অতোটা ভালো চা বানাই না৷” আমি আর কথা বাড়ালাম না৷ চুপচাপ চা শেষ করে কাপটা অণুর হাতে তুলে দিলাম৷ চায়ের কাপটা সামনের টেবিলে রেখে গলায় ঝুলানো ঊড়নাটা হাতের আঙুলে পেঁচাতে পেঁচাতে অণু বলল, শুভ্রদা একটা চিঠি লিখে দিবে আমায়? তুমি তো বেশ ভালো চিঠি লিখতে পারো! অণুর কথা শুনে আমি অবাক হই! জিজ্ঞস করে বসি, কে বলেছে তোকে?” প্রশ্ন শুনে অণু একটু বিব্রত হয়৷ টুপ করে কথা ঘুরিয়ে বলে বসে,

-না মানে তোমাকে দেখে তেমনটাই মনে হয়৷”

অণুর এমন যুক্তিতে আমি দমে যাওয়ার পাত্র নই৷ সেটা মেয়েটা জানে৷ আমাকে ঘায়েল করার জন্য মেয়েটা আবার বলে, অমা তুমি জানো না বুঝি! মেয়েদের তিনটে চোখ বলে একটা কথা আছে না! আমরা সব বুঝতে পারি৷” মেয়েটার কথাশুনে আমি শব্দ করে হেসে উঠি৷ সাথে অণুও হাসে৷ হুট করে আমার মনের বিষণ্ণতাগুলো গায়েব হয়৷ আমি আবার আকাশের দিকে তাকায়৷ নাহ! কালো মেঘগুলো কাটার নাম নেই৷ তবে আমার মন খারাপগুলো কেটেছে মোটামুটি৷

-কিসের চিঠি লিখবো বলতো? আমি জিজ্ঞেস করি৷ জবাবে অণু বলল,
-এই ধরো তুমি তোমার প্রেমিকাকে চিঠি লিখছো!
-আমারতো প্রেমিকা নেই৷
-ধরো আমিই তোমার প্রেমিকা! আমি অণুর কপালে হাত দিলাম৷ অণু কপট রাগ দেখিয়ে বলল,
-এত ভ্যাবাছ্যাকা হওয়ার কিছু নেই হুহ৷ প্রেমিকা যেহেতু নেই, তাই আমার নাম লিখতে বলেছি৷ আসছে ন্যাকা৷ লিখে ফেলো৷ সন্ধ্যায় দিবে আমাকে৷” কথাটা বলেই অণু আর দাঁড়ালো না৷

কিছুক্ষণ ঝিম মেরে বসেছিলাম আমি৷ কাগজে কলম বসাতে আমার বড্ড ভয় হচ্ছিল৷ লিখতে বসলেই অণুকে ঘিরে আমার জীবন্ত অনুভূতিগুলো হুড়মুড় করে বেরিয়ে আসবে৷ তারপরও আমি তোয়াক্কা করিনি৷ মনের সবটুকু মাধূর্য্য মিশিয়ে লিখেছিলাম চিঠিটা৷ সন্ধ্যে হওয়ার আগেই অণুর হাতে পৌঁছে দিয়েছিলাম৷ তবে প্রেরকের ঠিকানায় নামটা খালিই রেখেছিলাম৷ মাগরিবের নামাজ পড়ে যখন উপরে উঠছিলাম৷ চাচা ডাক দেয় আমাকে৷ আমার ভেতরটা মুচড়ে উঠে৷ আমার শরীরটা জমে গিয়েছিল৷ এরকম গম্ভীর স্বরে চাচা আমাকে কখনোই ডাকেনি৷ মেঘলা আকাশের ব্যাপারটা আমার মনে পরে৷ হারানোর ভয়টা ঝেঁকে বসে৷ বারেক চাচা আর চাচীর চেহারাটা ভেসে উঠে আমার সামনে৷ অমায়িক সহজ সরল দু’টো মানুষের প্রতিচ্ছবি আর আমার প্রতি তাদের বিশ্বাস, ভরসা৷

আমার হুট করে সেদিনটার কথা মনে পরে৷ মা মারা যাওয়ার কিছুদিন পরেই আমার বোনটার বিয়ে হয়ে গিয়েছিল৷ বাবা ততদিনে ছন্নছাড়া মানুষ৷ আমারও ইচ্ছে করতো মায়ের কাছে চলে যেতে৷ বোনের কাছে যেতাম মাঝে মাঝে৷ তবে কেন জানি না, বোনের আদরটা আমার গায়ে লাগেনি৷ বারেক চাচার সাথে বাবার সম্পর্ক ভালো ছিল৷ মাঝে মাঝে আমাদের বাড়িতে আসতেন৷ আমার মাথায় হাত বুলিয়ে বলতেন, ভালোভাবে লিখাপড়া কর৷ সেদিনও বারেক চাচা আমাদের বাড়িতে এসেছিলেন৷ আমি দরজার সামনে বসে ছিলাম৷ বাড়িতে কেউ ছিল না৷ বাইরের খাঁ খাঁ দুপুরের মতো আমার মনটাও খাঁ খাঁ করছিল৷ বারেক চাচা আমার হাতে কচকচে ১০০টাকার ১টা নোট দিয়ে বলেছিলেন, কিছু কিনে খেয়ে নিস৷ আমি টাকাটা চাচাকে ফিরিয়ে দিয়ে বলেছিলাম,

-চাচা আমাকে নিয়ে চলেন আপনার সাথে৷ দু’মুটো খেতে দিলেই হবে৷ আমার আর এ বাড়িতে থাকতে ইচ্ছে করে না৷ দম বন্ধ হয়ে আসে আমার৷ বারেক চাচা আমার আবদার ফেলতে পারেনি৷ কি ভেবে আমাকে নিয়ে এসেছিলেন আমি জানি না৷ আমার ধারণা ছিল, ইট পাথরের শহরের মানুষগুলো নিষ্ঠুর হয়৷ বারেক চাচাকে দেখে আমার ধারনাটা পাল্টে গিয়েছিল৷ “ভয়ের কিছু নেই৷ অণু সবটা বলেছে আমাকে!”

গম্ভীর গলায় বলে বারেক চাচা৷ আমি অণুর দিকে তাকালাম৷ নাদুস নুদুস গালগুলো লাল হয়ে আছে৷ আমার ভেতরটা হু হু করে উঠে৷ নিজেকে অপরাধী মনে হয় আমার৷ খুব ইচ্ছে করছিল অণুর গালগুলো ছুঁয়ে বলতে, নিঃস্বঙ্গ পৃথিবীতে আমাকে সঙ্গ দিতে গিয়ে নিজেকে কেন কষ্ট দিচ্ছিস মেয়ে! পরক্ষণেই ইচ্ছেটাকে দমিয়ে রাখি৷ আমি চুপচাপ মাথা নিচু করে বসে ছিলাম৷ “আমি জানি এতে তোর দোষ নেই৷ চিন্তা নেই তোর৷ চা খাবি?” চাচার কথার জবাবে প্রত্যুত্তরে আমার মুখ দিয়ে শব্দ বের হয়নি৷ শুধু মাথাটা নাড়িয়ে “না” সূচক জবাব দিয়ে চুপচাপ চলে এসেছিলাম৷ অপরাধবোধ এ ভরে উঠে আমার মনটা৷ বিষণ্ণতাগুলো ঝেঁকে বসে আমার উপরে৷ সারারাত ঘুম হয় নি আমার৷ আমি অণুর দিকে তাকালাম ভালোমতো৷ গালের লাল দাগগুলো এখনো আছে৷

-আমাকে ক্ষমা করে দিস অণু৷ ” আমার কথা শুনে অণু মৃদ্যু হাসে৷ সামনে এগিয়ে এসে টুপ করে আমার হাতদু’টো তার গালে টেসে ধরে মেয়েটা বলল,

-শুভ্রদা আমি জানি চিঠিতে আমাকে নিয়ে লিখা প্রত্যেকটা অনুভূতিই সত্য৷ জানো তো, আমি কাল সারারাত কেঁদেছি৷ না বাবার হাতের চড়ের ব্যাথায় নয়৷ বাবার সামনে বসে তুমি যে অপরাধ বোধে ভুগছিলে৷ সেটা আমার ভিতরটা ধুমড়ে মুচড়ে দিয়েছে৷ শুভ্রদা তুমি হয়তো জানো না! আমার নিজস্ব পৃথিবীতে তুমি সবচেয়ে ভালো একটা মানুষ৷ মাঝে মাঝে তোমার চুলগুলো এলোমেলো করে দিয়ে বলতে ইচ্ছে করে, এতো ভালো কেন তুমি হ্যা!

কিন্তু বলা হয়ে উঠেনি৷ শেষবিকেলে যখন তোমার পাশাপাশি দাঁড়িয়ে পাখিদের ঘরেফেরা দেখতাম৷ তখন তোমার কাঁধে মাথা রাখতে মন চেয়েছে আমার৷ ভোরের কুয়াশায় খালি পায়ে তৌমার পাশাপাশি হাত ধরে হাঁটতে ইচ্ছে করেছে আমার৷ জানো তৌ! তোমাকে নিজ হাতে বানিয়ে দেয়া চা এর কাপে আগে আমি চুমুক দিয়ে দেখতাম৷ আমার খুব ইচ্ছে ছিল, তোমার সাথে এক কাপে ভাগ করে চা খাওয়ার৷ ইচ্ছেটা আমি পূরণ করেছি৷ যা কিছু পূরণ হয়নি তা চাইলেই আমি তোমায় বলতে পারতাম৷ কিন্তু প্রতিবার কিছু একটা থামিয়ে দিচ্ছিল৷ আমার সামান্য ভুলে যদি তৌমাকে হারাতে হয় এই ভেবে৷ কিন্তু দেখো! সেই ভয়টাই সত্যি হয়ে গেল৷

তুমি না মেঘলা আকাশ ভয় পেতে৷ মেঘলা আকাশ দেখলেই হারানোর ভয় পেয়ে বসতো তোমার উপর৷
সেই মেঘলা দিনেই শেষ হয়ে গেল সবকিছু৷ আর তোমার ডায়রিটা আমি রেখে দিয়েছি৷ তোমাকে পড়ার বড্ড ইচ্ছে আমার৷” অণু থেমে যায়৷ আমি জানি মেয়েটা কান্না আটকে রেখেছে৷ উড়না দিয়ে মুখ ঢেকে দৌঁড়ে চলে যায় অণু৷
সাথে করে নিয়ে যায় তিলে তিলে জমানো ভালোবাসাগুলৌ৷ এক বুক বিষণ্ণতা নিয়ে আমি আবার লিখতে বসি৷ এই তিনটে মানুষকে যে আমি প্রচন্ড পরিমাণের ভালোবাসি সেটা লিখবো৷ চিঠির শেষ লাইনে লিখবো,”অণু আমি ফিরবো৷ তুই না হয় আমার জন্য ছাতক পাখি হয়ে থাকিস৷” প্রেরকের নামটাতে লিখে দিবো “তোর শুভ্রদা”

গল্পের বিষয়:
গল্প

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত