নতুন এক শহর

নতুন এক শহর

সন্ধ্যার আলো ছুয়ে দিচ্ছে আমার শহরে। শীতের সময়ে রাতটা যেনো খুব তাড়াতাড়ি হয়ে যায়। রাত নয়টা বাজতেই মনে হয় খুব রাত হয়ে গেছে। বাহিরে থাকতে ইচ্ছে হয়না। ফারিনের সাথে এর আগেও অনেক ঝগড়া হয়েছিলো আমার কিন্তু এইবারের মতোনা! প্রতিবার ও রাগ করলে আমি নিজেই বেহায়ার মতো ব্যবহার করে সব কিছু নিজের কাধে নিয়ে ঝগড়াটা সমাধানে নিয়ে আসি। কিন্তু এইবার তা হলোনা। রাগের মাথায় এমন কিছু বলে ফেলবো তা আমার কল্পনার বাহিরে। কিন্তু ওর কথার ধরণ গুলো মনে পড়লে কেন যেনো মাথায় রক্ত চলে আসে। আমি না হয় রেগে অনেক কিছু বলে ফেলিছিলাম,প্রতিবার তো আমি নিজেই সব দোষ নিজের কাধে নেই। এইবার কি একটাবার পারতোনা ও সেক্রিফাইজ করতে একটু।

গত পড়শু যখন ওকে ফোন দিয়ে ওয়েটিং য়ে পাচ্ছিলাম। প্রায় বিশ মিনিট পর ফোন ধরতেই আমি বল্লাম”ফোন এতো ওয়েটিং য়ে থাকে কেন?” ফারিনকে কথাটা জিজ্ঞাস করার পর ও কিছুটা রেগেই আমাকে বল্লো,”থাকবেই ওয়েটিং য়ে সমস্যা!” আমার মেজাজটা চরম খারাপ হয়ে গেলো। ভালো করে বল্লেইতো হতো। আমি বন্ধুদের কাছ থেকে দূরে যেয়ে কিছুটা রেগেই বলে উঠলাম,”ভাতার এর তো এখন অভাব নাই। ওয়েটিং য়ে থাকবে না তো কি থাকবে! তোরা মেয়ে মানুষরা কি যে চাস নিজেরাও জানিস না। তোর সাথে রিলেশন করার পর এক মাসের মধ্যে কম হোলেও পনেরো দিন ঝগড়া লেগেই আসছে। কি পাইছিস তুই? আমারে মারতে চাস! ভালবেসে ভুল করছি তোকে?” ফারিন আমার কথা শুনে বল্লো,”ওয়েট ওয়েট,তোর মতো ছেঁচড়ার সাথে রিলেশন করে আমার লাইফটা শেষ করে দিছি। তোর সাথে কোনো কন্ডিশন নিয়ে রিলেশন করছি আমি! যে আমার ফোন ওয়েটিং য়ে থাকতে পারবে না। ছি! তোর মুখ দিয়ে এসব কথা বের হলো কি করে! আমার ভাতার ছি! এতো নিচ তুই!” আমি বল্লাম”কাশ দিয়ে পাদ ঢাকো! সোনামণি তোমাকে আমার ভালো মতো চিনা হয়ে গেছে। তুমি যেই মুখে মৃষ্টি দাও সেই মুখেই বিষ দিতে ওস্তাদ। অনেক সহ্য করছি আর কাজ হবেনা।” ফারিন এইবার রেগেই বল্লো,”থার্ড ক্লাস কোথাকার আর ফোন দিবিনা আমাকে। আজকের পর থেকে আর তোর সাথে কোনো সম্পর্ক রাখতে চাইনা আমি।” আমাকে আর কিছু বলতে না দিয়ে ফোনটা রেখে দিলো ফারিন।

আজকের রাত পোহালে তিন হয়ে যাবে। এই তিন দিনে একটাবারের জন্য যদি ও ফোনটা দিতো! কিভাবে সম্ভব এতো দিনের সম্পর্ক এইভাবে এই মেয়েটা হুট করে ইতি টানতে পারে,মাথায় যেনো একটা বারের জন্য আমার কাজ করছিলোনা। অনেক নিজের কাধে সব দোষ নিছি এইবার আর না। চুপ করে বসে রইলাম। ঘড়ির কাটা তার নিজ গতিতে চলতে লাগলো। প্রতিটা সেকেন্ডে সেকেন্ডে ওর সাথে কাটানো একেকটা কথা মনে হচ্ছিলো। কেন যেনো রাতের আধারে রিকশায় যাওয়া বেশ কিছু জোড়া শালিক গুলোকে দেখে হিংসা হতে লাগলো। কি প্রেমরে বাবা! আর আমি একটা প্রেম করছি! হাইরে কি অযুহাত! দুইবছরের মধ্যে একটাবার পারলাম না রাতের আধারে ঢাকা শহরটা ঘুরার। রাত বাড়তে লাগলো শীতে পুরো শরীরটা শিরশির করতে লাগলো। আজ আবার শালটা নিয়ে আসি নি। শীতে আর টিকতে না পেরে বসা থেকে উঠে বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হোলাম। বাসায় ঢুকার পর দেখলাম সবাই খেয়ে উঠেছে।

মা আমার দিকে তাকাতেই যেনো উনার মেজাজ খারাপ হয়ে গেলো। গাড় থেকে ব্যাগটা নামিয়ে সোফার উপর রেখে ওয়াশ রুমে ঢুকলাম। ওয়াশ রুম থেকে বের হয়ে যেই রুমে ঢুকতে নিলাম ঠিক তখনি মা বলে উঠলো,”পেট টান করে আইছোস! তোরে বলছি না এই শীতের ভিতর বাড়িতে দশটার মধ্যে থাকবি। বাপের জমিদারি!সকাল থেকা সারাটাদিন খাটাখাটি করতে করতে সময় চলে যায়। শান্তিতে তো তোরা দুই ভাইবোন থাকতেই দিবিনা! মায়াদয়া বলতে কিছুই নাই তদের ভিতর। আইসা যেমন একটা ভাব নিলি মনে হয় লক্ষ লক্ষ টাকা কামায়া আইছোস। রাইতের বেলা পুটুর পুটুর আওয়াজ আসে ঘর থেকে। কার সাথে এতো কথা! কোন মেয়ে তোর মতো একটা বাদাইম্মার সাথে কথা বলে হ্যা!” আমি মা’র কথা চুপ করে শুনে কিছু বল্লাম না। আস্তে করে যেই রুমে আবার ঢুকতে যাবো। ঠিক তখনি মা আবার বল্লো,”কি খাইতে হবেনা!” আমি আর চুপ করে থাকতে না পেরে একটু রেগেই বল্লাম,”ভাতের পাতিলটা আমার গলায় বেধে দাও! বসে বসে খাই।” কথাটা বলেই আমি আর দেড়ি না করে রুমে যেয়ে ঢুকে বসলাম। বুঝলাম না সময় খারাপ গেলে কি সব দিক দিয়ে খারাপ যেতে হয়। রুমে বিছানায় হেলান দিয়ে কিছুক্ষণ বসে থাকার পর আমার ছোট বোন সিমা ভাত নিয়ে আসলো। আমার সামনে ভাতের প্লেট টা রেখেই বল্লো,”ফায়সাল ভাইয়া ফারিন আপু ফোন দিছিলো! তোমার ভার্সিটিতে নাকি আগামিকাল এসাইনমেন্ট জমা দিতে হবে।

সেই খাতা নাকি ফারিন আপুর কাছে, গত দুইদিন ক্লাসে যা দিছে সেইগুলো নাকি উনি নিজেই করেনি। তোমাকে সেইগুলা নিয়ে আসতে বলছিলো। তোমাকে এতো ফোন দিছি তুমিতো ফোনটাও ধরলানা।” আমি সিমার কথা শুনে ঘোরের থেকে বের হোলাম। আল্লাহ্ কি হবে এখন! যদি ফারিন এসাইনমেন্ট গুলা না করে দেয় তাহলে আমার কি হবে! কাল তো শেষ আমি! কথাটা ভেবেই ফোনটা বের করে দেখলাম ফারিন মেসেজ দিছে সন্ধ্যায়। ফোনটা সাইলেন্ট হয়ে ছিলো বিদায় বুঝতে পারিনি। ঘড়ির দিকে তাকাতেই দেখি বারোটা বাজতে দশ মিনিট বাকি। আমি বেশি দেড়িনা করে ফারিনকে ফোন দিতেই দেখি ওর নাম্বার বন্ধ বলছে। ফোন যত বার দিলাম ততোবার ফোনটা বন্ধই বলে যাচ্ছিলো। মেজাজটা যেনো আজ খারাপের উপর খারাপ হোতেই লাগলো। ভাতটা কোনো মতো খেয়ে শুয়ে রইলাম। মনটা যেনো বলছিলো যেই ব্যবহার করেছি মেয়েটার সাথে আমাকে শিক্ষা দেওয়ার ভালো একটা সুযোগ পেয়েছে।

পরের দিন ভার্সিটি আসার পর ফারিনের সাথে দেখা হলো। আমি ওর কাছে যেতেই এমন ভাবে তাকালো মনে হচ্ছিলো ওর বাবার সম্পদ চুরি করেছি আমি। আমাকে দেখেই ওর ব্যাগ খুলে আমার খাতাটা বের করে দিয়ে ওর বান্ধবির সাথে কথায় ব্যস্ত হয়ে গেলো। এমন ব্যবহার করলো মনে হয় আমাকে চিনেই না। আমি কিছু বল্লাম না। আস্তে করে আমি খাতাটা নিয়ে আমার সিটে যেয়ে বসলাম। ক্লাসে স্যার আসার পর বুকটা কেঁপে উঠলো আমার। যদি বলি স্যার এসাইনমেন্ট গুলো কমপ্লিট হয় নি তাহলে যে আমার কি হবে! শালার মায়াদয়া বলতে কিছুই নাই। তার উপর আজ শেষ ডেট। কথাটা ভাবতে ভাবতে কি মনে করে যেনো খাতার শেষ পৃষ্ঠাটা উল্টানোর সাথে সাথেই গতকালের তারিখ লিখা দেখে ভালো করে খাতার লিখাগুলো পড়তে লাগলাম। ফারিন তাহলে এতো কিছু হওয়ার পড়েও আমার এসাইনমেন্ট গুলো করে এনেছে। মনটা জুড়ে গেলো। ওর দিকে তাকাতেই যেনো একটু মায়া লাগছিলো। ইশ! এসাইনমেন্ট গুলা না করলে যে কি হতো আজ আমার! ঠিক সেই মুহূর্তেই ফারিন আমার দিকে তাকালো। আমি কিছুটা রাগ নিয়েই ওর দিক থেকে মুখটা ঘুরিয়ে নিলাম। ও নিজে এসে একবার ভুলটা নিজ থেকে স্বিকার করুক। সব মাফ করে দিবো।

ক্লাস শেষে বাহিরে বের হওয়ার সময় আমি নিজ ইচ্ছায় ওকে ধাক্কা মারলাম। মুখ দিয়ে কিছু না বল্লেও চোখ দিয়ে অনেক কিছুই বুঝালো। আমি অন্য দিকে তাকিয়ে বল্লাম,”এতোই যখন ভালবাসো তাহলে কি দরকার ছিলো নিজের খান্দানির পরিচয় দেওয়ার। তোমার মুখ থেকে যে এমন কথা বের হবে আশা করিনি।” ফারিন হাটা থামিয়ে আমাকে বল্লো,”কি বল্লা! এসাইনমেন্ট গুলা করে দিছি দেখে ভেবোনা তোমার প্রতি ভালবাসা আছে বলে করছি। আজ যদি না করতাম তাহলে কি হতো ভাবছো একবার!” আমি বল্লাম,”মায়া হয় দেখেই তো করছো।” ফারিন একটু হেসে বল্লো,”তোমার করুন অবস্থা কি হবে তা সরণ করে এসাইনমেন্ট গুলো করছি।

এখন মনে হচ্ছে না করলেই ভালো হতো।” কথাটা বলেই যেই ফারিন সামনে ঘুরে হাটতে নিলো আমি আস্তে করে আমার ডান পাটা আগে বাড়িয়ে ওকে ল্যাং মেরে দিলাম। যেই ও পড়ে যেতে নিলো আমি ওর হাতটা ধরে টান দিয়ে উঠিয়ে বল্লাম,”দেখো এইবার তোমার হাতটা না ধরলে তোমার কি করুণ অবস্থা হতো।” ফারিন এইবার রেগে যেয়ে বল্লো,”ছেঁচড়া কোথাকার!” কথাটা বলেই ও খুব দূরুত্বতার সাথে চলে যেতে লাগলো। রিলেশনটা ব্রেকাপ না হলে এখন হয়তো দুইজন কিছুটা সময় এক সাথে থাকতাম। আদৌ কি আমাদের ব্রেকাপ হয়ে গেছে! আমি আর বেশি কিছু না ভেবে হাটা ধরলাম।
চার পাঁচ দিন হয়ে গেলো। দুইজনের মাঝে দেখা হোলেও কোনো কথা হয়ে উঠেনি। আসলেই চোখের কাছে থেকেও কথা না হয়ে উঠাটা যে কতটা কষ্টদায়ক তা যেনো হারে হারে টের পাচ্ছিলাম।ওর কি মাত্রা বিন্দুও খারাপ লাগেনা আমাকে দেখে।

ইশ! কি সুন্দর না হয়েছে। মেয়েগুলো এমন রহস্যজনক হয় কেন! বিচ্ছেদের পড়েই কি ওদের এতোটা মায়াবি হতে হয়! প্রেম শুরুতে তো এতো গুছানো ছিলো না। আজ সারাটা ক্লাস বসে শুধু ওর দিকে তাকিয়ে ছিলাম। কত দিন একটু কাছে আসে না। যত যাই করতো, ওর আমার দিকে মনোযোগ হয়ে তাকিয়ে থাকাটা যেনো খুব বেশিই দুর্বল করে তুলেছিলো আমাকে। আমি নিশ্চুপ হয়ে থাকতাম কেন যেনো খুব ভাগ্যিমান মনে হতো নিজেকে! কই গেলো সেই দিন গুলা! কেন যেনো টিকে থাকতে না পেরে ক্লাসে স্যার থাকা স্বত্বেও চুপ করে ক্লাস থেকে বের হয়ে গেলাম। আমার এইরকম কাজে সবার চোখ যেনো আমার দিকেই ছিলো। ভার্সিটি থেকে বের হয়ে সোজা দিয়া বাড়ির দিকে চলে আসলাম। আমি আর ফারিন মাঝে মাঝে এইখানে এসে যেইখানে বসতাম ঠিক সেই জায়গায় এসে বসলাম। লাস্ট যেইদিন দুইজন এখানে এসেছিলাম সেইদিনো মেয়েটা আমার সাথে খুব ছোট একটা বিষয় নিয়ে ঝগড়া বাধিয়ে দিয়েছিলো। আমি বসে বসে গেমস খেলছিলাম ও হুট করে বলে উঠেছিলো,”আচ্ছা, বিয়েতে আমাকে কি কি গহনা দিবা?”

আমি ওর কথা শুনে মোবাইলের দিকে তাকিয়েই বল্লাম,”রাঙ্গামাটি থেকে তিন সেট গহনা এনে দিবো,গাঁয়ে হলুদের এক সেট,ল্গনের জন্য এক সেট,আর বৌ ভাতের জন্য এক সেট। একদম মাথা থেকে শুরু করে পা পর্যন্ত সাজবে। কোনো দিক দিয়ে কম থাকবে না।” আমার কথা শুনে ফারিন খুব এক্সাইটেড হয়ে টুপ করে আমার গালে চুমু খেয়ে বল্লো,”এতো ভালবাসো আমাকে? এক সেট হোলেই চলবে। এতগুলা টাকা নষ্ট করে লাভ আছে? আর তাছাড়া রাঙ্গামাটি থেকে কেন? ঢাকায় কি ভালো জুয়েলারির অভাব আছে নাকি!” আমি ফারিনের কথা শুনে মোবাইলটা পকেটে রেখে বলেছিলাম,”ঢাকার জুয়েলারিতে রাঙ্গামাটির মতো গহনা পাওয়া যাবেনা। আর যদি তুমি ভেবে থাকো গহনা গুলো স্বর্নের হবে তাহলে ভুল! সেইগুলো মাটির তৈরির গহণা হবে। একটু স্পেশাল! তবে হাতের রিংটা স্বর্নের দিবো চিন্তা করোনা।” আমার কথা শোনার পর ফারিন এমন ভাবে তাকিয়েছিলো মনে হচ্ছিলো কিছুক্ষণ আগে দেওয়া চুমুটা মনে হয় আমার গাল থেকে কেরে নিবে! আমি চুপ না থেকে বল্লাম,”তোমাকে এরকম সিম্পল ভাবেই ভালো লাগে। আর তাছাড়া মাটির গহনাকে ছোট মনে করোনা।

তোমাকে সেই লাগবে দেখি একটু উর্নাটা মাথায় দাওতো সেই গহনাগুলো তোমাকে কল্পনায় পড়িয়ে দেখি কেমন লাগে!” কথাটা বলেই আমি যেই নিজ হাতে ওর মাথায় ঘুমটা টা দিয়ে দিতে নিলাম।ঠিক তখনি ও আমার হাতটা সরিয়ে দিয়ে বল্লো,”আমি ফাইজলামি মুডে কথাটা বলিনি।” আমি বল্লাম,”আমিওতো ফাইজালামি মুডে বলিনি। সবাইতো স্বর্নের গহনা পড়ে এখন তুমি একটু ব্যাতিক্রম পড়বা। তোমার দেখা দেখি অন্য মেয়েরা তোমাকে আইডোল ভেবে ওরাও মাটির গহনা দিয়ে বিয়ের কাজ চালিয়ে দিবে। এ থেকে হাজারো ছেলেরা বিয়ের জন্য টাকা পয়সা খরচের চিন্তা করবে না।” ফারিনের নাকের ডোগাটা লাল হয়ে উঠলো। আমি বুঝিনা প্রেমের আগে এই মেয়েগুলো কত প্রকার হাদিসের কথা শোনায় আর যখন প্রেম গভীর হয় তখন এরা কেন এমন হয়ে যায়! ফারিন হুট করে বল্লো,”মনটা একটু বড় করো!সব মেয়েরি একটা শখ আহ্লাদ আছে।” আমি ওর এরকম কথা শুনে মনে মনে বল্লাম শখ আহ্লাদ মিটাতে গিয়ে ছেলেদের উপর কি পরিমাণ বাশ যায় সেইটা তোমরা বুঝো কয়জন। যেদিন মা হবে বুঝবে।

ফারিন আর টিকে থাকতে না পেরে বল্লো,”আমি বাসায় যাবো।” কথাটা বলেই ও যখন উঠতে নিলো আমি সব কিছু ধামাচাপা দিয়ে ওর হাতটা টান দিয়ে আমার সামনে কিছুটা টান দিয়ে নিয়ে বল্লাম,”মাটির গহনা দিয়ে টাকা বাঁচিয়ে পুরো এক মাস হানিমুন করবো। কেন বুঝোনা সোনামণি! খালি রাগ নাকের ডোগায় বসে থাকে হুম! একটু মায়া হয় না আমার জন্য! বিয়ের পর মা হোলে বুঝবে আমার কষ্টটা। আমার বাবাকেও আমার মা কম জ্বালায় নি। এখনো বাপ আমার মায়ের উপর কথা বলতে পারেনা। তোমরা মেয়েরা পারো ছেলেদের সব কিছুতে রাজি করাতে শুধু এই রাগ দিয়ে।” আমার কথা শুনে ফারিন হাসলো। ও বল্লো,”তুমি নিজের বাবা মাকেও ছাড় দিলানা। এমন কেন তুমি?” কথাটা বলেই ফারিন আমার চোখের দিকে মনোযোগ দিয়ে তাকালো। কেন যেনো আবারো দুর্বল হয়ে পড়লাম। আমি নাক দিয়ে ওর কাধে নাক ঘেষে বলতে লাগলাম,”তাকাস না এইভাবে আমার ভিতরটা যে তোর এইভাবে তাকাতে দেখে প্রতিনিয়ত খামখেয়ালি হয়ে যায়!” ফারিন কিছুক্ষণ আমাকে এইভাবেই রেখে খিলখিলে হেসে বল্লো,”মানুষ দেখে কি ভাব্বে! চাপো শুরশুরি লাগতেছে।” কিন্তু ও নিজ থেকে একটা বারো আমাকে চাপালোনা। আমি বুঝতে পারছিলাম ওর এতে মোটেও একটু খারাপ লাগছেনা।

আমি ওকে ছেড়ে দিয়ে বলেছিলাম,”তোমার শরীরের স্মেইলটা খুব মারাত্মক ইফেক্ট করে আমাকে। এতে যে কি পরিমাণ ক্ষতি আছে তা জেনেও আমি নেশাগ্রস্ত তবুও ছাড়তে পারিনা। কবে যে এই নেশায় বুদ হতে দিবে আমাকে!” ফারিন কিছুটা সরম পেয়ে আমার হাতে চিমটি দিয়ে বল্লো,”তোমাকে সুযোগ দিতে দিতে মাথায় উঠিয়ে ফেলছি। মুখ দিয়ে এখন সবকিছু লাগাম ছাড়া বের হয়। লুচু কোথাকার কি সব বলে!” আমি ওর দিকে তাকালাম তারপর বল্লাম,”লুচুগিরীতো একজনের সাথেই করতে হয়। আর সেই ব্যাক্তিটাই হচ্ছো তুমি। আরো যে কত প্রকার দেখবা।” ফারিন এইবার আমাকে ঝাড়ি দিয়ে বল্লো,”থামবে!” আমি বাধ্য বালকের মতো চুপ হয়ে তাকিয়ে থাকতাম।
কথা গুলো ভাবতেই যেনো বুকটা মোচড় দিয়ে উঠলো আমার। সত্যি কি ফারিন এই সব কিছু ভুলে গেলো! কি করে আমাকে ভুলে থাকতেছে! আমি চুপ করে বসে রইলাম। কিছুই যেনো ভালো লাগছিলো না।

পরের দিন ভার্সিটির ক্যাম্পাসে ঢুকার পর খেয়াল করলাম ফারিন একটা ছেলের বাইকের পিছে বসে ঠিক আমার সামনে এসে হাসতে হাসতে নামতেছে। আমি অবাক হোলাম! কেন যেনো রাগ হলো খুব। বাইক থেকে নেমে যেই ছেলেটার সাথে কথা বলতে লাগলো। আমি সেইখান দিয়ে আসা এক ছোট ভাইকে আমার কাছে এনে বলতে লাগলাম,”মেয়ে মানুষের একটা হয়? হয় না! ওরা তুই থাকতেই আরেকটা জোগান দিয়ে রাখে। এখনকার মেয়েরা সব থার্ড ক্লাস হয়ে গেছে। তোর বাইক আছে যে তোর সাথে যে হেসে হেসে কথা বলবে! প্রেম করার টাইমে স্বপ্ন দেখায় মজা শেষ সেই স্বপ্ন উধাও হয়ে যায় বুঝলি! মেয়ে মানুষ চিনছোস তো! রিয়াল ভালবাসলে কি হয় প্রমান পাইছোস। প্রেম করবি খারাপ হইবি। চিজ শালিরা একটা দিয়া পোষায়না। কয়দিন হইছে ফোন দেয় না! কিন্তু তোকে না দিয়ে আরেকজনের সাথে ঠিকি রাত বিরাতে পুটুর পুটুর করে। যা ক্লাসে যা। কার জন্য নিজেরে কষ্ট দেস? যা বলছি ক্লাসে যা!” আমার একটানা কথাগুলো শুনে ছোট ভাই বেকুবের মতো আমার দিকে তাকিয়ে থেকে ভার্সিটির ভিতরে ঢুকতে লাগলো। আমি একটু ফারিনের দিকে তাকালাম ফারিন আর ওর সাথে থাকা ছেলেটাও আমার দিকে তাকিয়ে আছে। আমি আর ওদের দিকে না তাকিয়ে থেকে ব্যাগটা কাধে থেকে নামিয়ে হাতে করে নিয়ে সোজা ভার্সিটিতে ঢুকে গেলাম।

ক্লাসে ফারিন ঢুকেই আমার সামনে তেড়ে আসলো। কিন্তু স্যার সাথে সাথে এসে পড়ার কারনে কিছু বলতে পারলোনা। সারাটা ক্লাস দুইজনের চোখাচোখি হতে লাগলো। ওর চোখের দিকে যেনো তাকানোই যমযাচ্ছিলো। যেই চোখে আগে ছিলো ফারিনের ভালোবাসা আজ যেনো সেই চোখে আগুনের চাকা। কোনো সিনক্রিয়েট যদি করে বসে তাহলে ফ্রেন্ডরা কি ভাব্বে! আমিআর একটা বারের জন্য ওর দিকে তাকাতে পারলাম না। স্যার ক্লাস থেকে যাওয়ার পর ও আমার সামনে এসে কোমড়ে হাত রেখে বলতে লাগলো,”আচ্ছা এই কাজটা তুমি ঠিক করছো!” আমি বল্লাম,”কোন কাজ!” ফারিন বল্লো,”আমি বাইক থেকে নামার পর তুমি ওই ছেলেটার সামনে কি বলছো এই সব!” আমি বল্লাম,”তো আমার ছোট ভাই কানের কাছে এসে বলতাছিলো ওর গার্লফ্রেন্ড নাকি ওর সাথে চিট করছে তাই বল্লাম।

এইখানে তোমার রাগ হওয়ার কি আছে!” ফারিন এইবার দাত কামড়িয়ে বল্লো,”ছোট ভাই তাই না!” আমি বল্লাম,”হুম!” ফারিন বল্লো,”তোর এইরকম ছেঁচড়ামি ছাড়বিনা তুই?” আমি আর ঠান্ডা না থেকে বলে উঠলাম,”এই তুইতামারী করবিনা। ভালো মেয়েরা এইভাবে কথা বলে! পাইছোস কি তুই এক মাস না হতেই আলতু ফালতু মেয়েদের মতো আরেকটা জুটায়া নিবি। তাও আবার আমার চোখের সামনে লুতুপুতু করবি কিছু বলবো না! ওরে কি প্রেম! আমার সাথে কয়বার এমনে কথা বলছোস? তুই যে কোন পদের আমার চেনা হয়ে গেছে।” ফারিন রাগে ফুসফুস করতে লাগলো। ও আর চুপ করে না থেকে বল্লো,”আমার মতো মেয়ে পাইছিলি এটাই তোর ভাগ্য পারলে আরেকটা করে দেখিস। ফালতু কোথাকার।” কথাটা বলেই আর একটা মিনিট ও দেড়িনা করে আমার সামনে থেকে চলে যেতে লাগলো। আমি ওকে আরেকটু রাগানোর জন্য বল্লাম,”তু চিজ বারিহে মাস্তে মাস্তে তু চিজ বারিহে মাস্ত।” গানের লিরিকটা বলতে দেড়ি স্যারের টেবিল থেকে ডাস্টার এর ডিলা খেতে আমার দেড়ি হলোনা। কেন যেনো খুব হাসি পেলো। কিন্তু মনে মনে খুব রাগ উঠলো আমার। ও কি বল্লো এইটা আমি ওকে ছাড়া অন্য কারো সাথেই রিলেশন করতে পারবোনা! এতো বড় কথা!

বাসায় এসে যেনো পাগলের মতো হয়ে গেলাম। বার বার ওই ছেলেটার সাথে হেসে হেসে কথা বলার চিত্রটা চোখে ভেসে আসছিলো। ফারিন এমনটা করতে পারলো! আমি যেনো নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারলাম না। অনলাইনে ঢুকে লিষ্টের সব মেয়েকে মেসেজ পাঠালাম। মনে মনে প্রচুর রাগ উঠতে লাগলো ফারিনের উপর।তুই এক মাস না যেতে রিলেশনে জড়িয়ে গেছিস আর আমি পারবোনা! এক এক করে প্রতিটা মেয়ের মেসেজের রিপ্লাই দিতে লাগলাম। মাথায় আমার কিছুই খেলছিলোনা।

এদের মধ্যে একজনকে কি করে পটাবো। এই মেয়ের সাথে প্রেম করে যেনো সব কিছু ভুলে গিয়েছি। আগে তো কত মেয়ের সাথে কথা বলতাম তখন চাইলেই একেক জনকে পটাতে পারতাম। এখন কিভাবে সম্ভব!শালিরে ভালোটাবেসেই ভুল করছি। এখন এতো তাড়াতাড়ি কে প্রেম করবে! ধর্য্যে যেনো কোলাচ্ছিলোনা। ওই দিক দিয়ে মা লাঞ্চের জন্য ডাকতে লাগলো। আমি মাকে অপেক্ষা করতে না দিয়ে মোবাইলটা খাটে রেখেই খেতে চলে গেলাম। খাবার টেবিলে বসে মা ভাত বাড়ার সাথে সাথে ইচ্ছা না থাকা স্বত্বেও প্লেটে দিয়ে খাবারটা খেয়ে যেই উঠতে নিবো মা তখন বল্লো,”কি হইছে কয়দিন ধরে তোর?” আমি মায়ের কথা শুনে সিমার দিকে তাকালাম। সিমা ব্যাপারটা কিছুটা হোলেও আচ করতে পেরেছে।কারন ওর সাথে ফারিনের মাঝেমাঝে কথা হয়। আমি সিমার দিক থেকে চোখ ফিরিয়ে নিয়ে বল্লাম,”পড়াশোনার চাপ বাড়ছে তো তাই।” মা আমার দিকে তাকিয়ে রইলো কিন্তু কিছু বল্লো না। আমিও আর কিছু না বলে আমার রুমে চলে আসলাম।

রুমে এসে মোবাইলটা নিয়ে আবারো চ্যাটিংয়ে মনোযোগ হয়ে গেলাম। ওরে বাবা একেকটা মেয়ের মেসেজের রিপ্লাই এর ভাব দেখে যেনো একদম থতবত খেয়ে গেলাম। কি ছিরিরে বাবা রিপ্লাইয়ের। আর থাকবে না কি করে। ফারিনের সাথে রিলেশনের পর যেনো অন্যান্য মেয়েদের প্রতি একটা অনিহা এসে পরেছিলো। আজ তো এমনটা হওয়া স্বাভাবিক। শালিরে কেন যে এতো ভালোবাসতে গেলাম! ইশ ওর সাথে রিলেশনের আগে সাভারের ঈশিতা নামের একটা মেয়ে আমার জন্য কত পাগল ছিলো! আমি সালা মেয়েটারে কত ইগনোর করলাম। না পারতে শেষ মেষ ওকে মেসেজ ব্লক পর্যন্ত দিয়েছি। কেন যেনো ওর কথাটা মনে পড়তেই। আমি মেসেঞ্জার থেকে মেসেজে যেয়ে ওকে মেসেজ ব্লক খুলেই মেসেজ দিলাম, “মিস ইউ” প্রায় দশ মিনিট পর ঈশিতা আমাকে অবাক ইমোজ দিলো। আমি লিখলাম কি হইছে? ও রিপ্লাই করলো, কিছুনা হঠাৎ মিস ইউ বল্লে কেন? আমি লিখলাম, তোমার মর্মটা এতোদিনে বুঝেছি। ও এইবার হাসির ইমোজ দিয়ে লিখলো, তুমি মামা হতে চলেছো। ছয় মাস হয়েছে আমার বিয়ের। আমি হা হয়ে গেলাম ওর রিপ্লাই দেখে। তাড়াতাড়ি করে ওর আইডির প্রোফাইলে ঢুকে দেখলাম আজাদ আদনান নামের একটা ছেলের সাথে রিলেশনশিপ ম্যারিড স্ট্যাটাস দেওয়া।

ইশ! খোদা কি খেলাটাই না খেলতেছে আমার সাথে। যখন চোখ পড়লো ও আমার লিস্টে নেই তখন যেনো আরো অবাক হোলাম। তার মানে ও অনেক আগেই আমাকে আনফ্রেন্ড দিছে! বুকের ভিতর চিন চিন ব্যাথা অনুভব হতে লাগলো। আবার যেই ওকে মেসেজ দিতে নিবো খেয়াল করলাম নীল করে লেখা ঈশিতা রহমান নামটা কালো হয়ে গেছে। আমার পুরো শরীর শীহরিত হয়ে উঠলো। আমি নিজেকে সামলিয়ে নিয়ে আমার ভার্সিটির এক বেচ জুনিয়ার আনিকা নামের মেয়েটাকে লিখলাম, “ভুলেইতো গেছো।” প্রায় কিছুক্ষণ পর রিপ্লাই আসলো,”আসলে ভাইয়া তা না। পড়াশোনার তো খুব চাপ তাই আর কি। আর আপনিও তো ভুলে গেছেন। ভার্সিটিতে দেখেও দেখেন না। হঠাৎ মনে পড়লো আমাকে!” মেয়েটার মেসেজটা দেখে এইবার মনে যেনো প্রশান্তি আসলো। যাক এইটা তাহলে লাইনে আছে। এই মেয়েটার সাথে আগে ভালোই কথা হতো ফারিনের পেঁচে পড়ে এই মেয়েটার সাথেও কথা বলা বন্ধ করতে হয়েছে। নিজে তো তোলে তোলে ভালোই কাজ কর্ম পাকিয়েছে।মাঝ খান দিয়ে আমাকে বাশ দিয়ে গেছে।

প্রায় বেশ কিছুক্ষণ আনিকার সাথে কথা বলার পর আমি ওর প্রোফাইল ঘাটাতে লাগলাম। একি এই মেয়ের রিলেশনশিপ স্ট্যাটাস দেওয়া ইন এ রিলেশনশিপ! আমি চুপ করে ভাবতে লাগলাম,এইটা কখনো সম্ভব না। এইটা হোতেই পাড়েনা। নিজেকে সেভে রাখার জন্য হয়তো রিলেশনশিপ স্ট্যাটাস দিছে। বুকে যেনো আবারো ধাক্কা দিয়ে উঠলো। মনকে আবোলতাবোল ভেবে শান্তনা দিতে লাগলাম। কথা বলতে বলতে এক ফাকে ওকে বলেই উঠলাম,”তোমার বি.এফ কি করে?” ওমা! আমি আন্তাজে ঢিল মারার সাথে সাথেই আনিকা বলে উঠলো,”ওর এ্যালিফেন্ট রোডে একটা সৌরম আছে।

হঠাৎ ওর কথা আস্ক করলেন কেন ভাইয়া।” আনিকার কথাটা শুনে আমার বুক থেকে যেনো পোড়া গন্ধ ছুটলো! কি রে বাবা প্রেম বাজারে এমন অকাল পরে গেলো! ফারিন কি ওর কালনাগিনী মুখে বদদোয়া দিয়ে গেলো! দুইটাকে ধরলাম দুইটারি শুনি বয় ফ্রেন্ড আছে! আমি আনিকা কে লিখলাম,”না এমনি! আচ্ছা আমি ঘুমাবো পড়ে কথা বলি।” মেসেজ টা দিয়েই আমি চুপ করে বসে রইলাম। কিছুক্ষণ যেতেই আমি ফারিনের টাইম লাইনে ঘুরাঘুরি করতে লাগলাম। রাতে যে সেই অনলাইন থেকে বের হয়েছে এখনো আসেনি। আচ্ছা আমি কি ওর সাথে বেশি রকম করে ফেল্লাম না তো! নাহ! আমি ঠিকি আছি। ওর দোষ সব। ও জানে আমি কেমন তবুও কেন এইরকম বলেছিলো! আর এখনতো আমি নাই ওর আসল চেহারা আজ দেখলামি! ইশ! ফোন দিলেই কত অযুহাত দেখাতো, খালু ফোনা দিছে,নানী ফোন দিছে। বেশি দুর্বল হলে যা হয় তার প্রমাণটা শালি আমাকে দিয়ে দিছে। আমি চোখ বন্ধ করে চুপ করে রইলাম।

রিলেশনের যেইদিন ছয়মাস হলো আমাদের আমি ভুলে গেলেও ফারিন ঠিকি মনে রেখেছিলো। সেইদিন ভার্সিতে এসেও আমার সাথে তেমন কথা বলেনি। আমি ব্যাপারটা মোটেও বুঝতে পারিনি। আসলে ও মাঝে মাঝে কারন ছাড়া রাগ করতো। আমি সেইটা ভেবেই চুপ করে ছিলাম। ক্লাস শেষে যখন ওর কাছে এসে বল্লাম,”কি হইছে মেডামের? কারন ছাড়াই কি সরি বলে মুড ঠিক করতে হবে!” ফারিন আমার দিকে কিছুটা দুর্বল ভাবে তাকালো। আমি প্রতিবার ওর কাছে আসলে ওর মাঝে নতুন নতুন কিছু আবিষ্কার করতে পারি। এখনো ঠিক তেমনটাই হলো। কেন যেনো প্রতিদিন ওর কিছুনা কিছুতে মায়াতে পড়তেই হবে আমার। আমি বুঝিনা আমি এমন কেন? মাঝে মাঝে মায়ায় পড়ে ওকে বুঝিয়ে দেই আমি কতটা পাগল।

এখনো ঠিক সেইরকম টাই হতে চলছিলো,কিন্তু আমি তা না করে আস্তে করে ওর হাতটা আমার হাতে নিয়ে বল্লাম,”কোনো ভুল করছি! আচ্ছা আমি সরি! প্লিজ মুড অফ করে থেকোনা! দম বন্ধ হয়ে আসে আমার।” ফারিন আমার ইমোশনটা বুঝতে পেড়ে নিজেকে স্বাভাবিক করে বল্লো,”আমাদের রিলেশনের আজ ছয় মাস হলো। কিন্তু তোমার মনে নেই।” আমি একটু হেসে বল্লাম,”এর জন্যেই মুড অফ ছিলো!” ফারিন বল্লো,”হুম।” আমি ওর কাধে হাত রেখে ওকে কিছুটা নিজের কাছে টানতেই ও বল্লো,”সফিক দেখতেছে।” আমি ফারিনের কাধ থেকে হাতটা চাপিয়ে বন্ধু সফিকের দিকে তাকাতেই দেখলাম সালা হাসতেছে। আমি কিছু বল্লাম না। ফারিন ব্যাগ থেকে একটা বক্স বের করে আবারো মুখে চোখে দুর্বল একটা ভাব নিয়ে বক্সটা আমার কাছে আগে বাড়িয়ে দিয়ে বল্লো,”পাস্তা রান্না করছিলাম।কেমন যেনো লেটকিয়ে গেছে!” আমি হাসলাম। বক্স খুলে দেখলাম তাকানোর মতো অবস্থা রাখে নি।

এখন না খেলেও কষ্ট পাবে তাই আমি কিছু না বলেই চুপ করে খেতে লাগলাম। দেখে যেমনটা ভেবেছিলাম,খেতে ততটা খারাপ লাগেনি। আমি খেতে খেতে বল্লাম,”ভালো হইছে। জাস্ট একটু লেটকে গেছে প্রবলেম নাই।” ফারিন কপাল কুঁচকে হুট করে বলে উঠলো,”সরি বলো।” আমি বল্লাম,”কেন!” ফারিন বল্লো,”পাস্তা লেটকে গেছে তাই!” আমি হাসতে হাসতে বল্লাম,”দোষ কি আমার!” ফারিন বল্লো,”আমার রাগ উঠতেছে সত্যি! কত শখ করে বানিয়েছিলাম!” আমি আর দেড়িনা করে বলে উঠলাম,”আচ্ছা সরি।” ফারিন এইবার আমার দিকে তাকিয়ে হেসে বলে উঠলো,”হাদারাম! কিভাবে খাচ্ছো এইগুলা! রাখো!” আমি বল্লাম,”ভালবাসা আছে সমস্যা নাই। খুব পুষ্টিকর!” তবুও ফারিন আমার হাত থেকে কেরে নিয়ে বক্সটা বল্লো,”ঢং করতে হবেনা। তুমি এমনটা দেখার পড়েও এক চামচ খাইছো এতেই আমি খুশি। বাসার কেউতো খেলোইনা!” আমি বল্লাম,”বাসার কেউ কি তোমাকে আমার মতো ভালবাসে!” ফারিন ওর চোখ জোড়া ছোট করে ব্যাগ থেকে পানির বোতলটা বের করে আমাকে দিয়ে বল্লো,”তাড়াতাড়ি পানি খাও আমরা ক্লাস থেকে বের হই। কেউ নাই ক্লাসে।” আমি আর বেশি দেড়ি না করে পানিটা খেয়েই বসা থেকে উঠে দাড়ালাম।

সিমার ঢাকে যেনো ভাবনা থেকে বের হোলাম। চোখ খুলে দেখি সিমা আমার সামনে দাড়িয়ে আছে। সিমা আমাকে বল্লো,”পহেলা ফাল্গুনের জন্য একটা শাড়ি কিনছি। শাড়ির সাথে ম্যাচ করে চুড়ি লাগবে আমাদের কলেজে পহেলা ফাল্গুনে অনুষ্ঠান আছে। মা কে বলছি আমার সাথে যেতে মা পারবেনা। সন্ধ্যায় কি আমার সাথে বাড়ির পাশের শপিং মলে যাবা?” আমি কিছুক্ষণ সিমার দিকে তাকিয়ে বল্লাম,”ঠিক আছে।” আমার কথা শুনে সিমা ওর হাতটা পিছনের থেকে বের করে একটা বেগুনি রং এর পাঞ্জাবি দিয়ে বল্লো,”এইটা তোমার জন্য।” আমি পাঞ্জাবিটা হাতে নিয়ে বল্লাম,”এইসবের কি দরকার ছিলো!” সিমা বল্লো,”ফারিন আপুকে নিয়ে ঘুরতে যাবেনা! তখন এইটা পড়বে।” আমি সিমার কথা শুনে বল্লাম,”ওর সাথে আমার ব্রেকাপ হয়ে গেছে।” সিমা ব্যাপারটা নরমালি ভাবে নিয়ে বল্লো,”ওহ! আচ্ছা ঠিক আছে,তাহলে যখন ইচ্ছা তখন পড়িও।” আমি আর কিছু বল্লামনা। সিমা চলে যাওয়ার পর গত বছরের ফাল্গুনের কথা মনে পড়লো। ফারিন সেইদিন প্রথম আমার সাথে শাড়ি পড়ে বের হয়েছিলো। গতবার ও নিজেই আমাকে ওর শাড়ির সাথে ম্যাচিং করে পাঞ্জাবি দিয়েছিলো।

পাঞ্জাবিটা এতোটা টাইট হয়েছিলো যে বলে বুঝাতে পারবোনা। আমি আর সেই পাঞ্জাবিটা না পড়তে পেরে অন্য একটা পাঞ্জাবি পড়ে গিয়েছিলাম। আমাকে ওর দেওয়া পাঞ্জাবিটা পড়তে না দেখে এতোটাই রাগ হয়ে গিয়েছিলো সেই রাগ সারাটা দিন আমার উপর দিয়ে ঝেড়েছিলো। এতো বুঝিয়েছিলাম যে খুব টাইট হয়েছে তাই পড়িনাই।কিন্তু কে শুনে কার কথা। পরক্ষণে আমার শরীর এতো মোটা হলো কেন এই নিয়ে খোটা দিয়া শুরু হয়ে গিয়েছিলো। আমি বুঝিনা আমার সেই ফারিনটা আজ আমার থেকে এতো দূরে! নিজেকে আর কন্ট্রোল করতে না পেরে চুপ করে বলতে লাগলাম।ও পাড়লে আমি কেন পারবোনা! চোখ দিয়ে অজান্তেই পানি বের হয়ে গেলো। ইশ! কত দিন আহ্লাদ করে মটু বলে ডাকে না, কি জানি আজ কে ওর সেই আহ্লাদ সুরে ডাক শোনার অধিকার পেয়েছে। কথাটা ভেবেই বাহিরের দরজার দিকে তাকাতেই দেখলাম সিমা আমার দিকে তাকিয়ে আছে। চোখের পানিটা আর আড়াল করতে না পেরে বলে উঠলাম,”ধ্যাত কি ঢুকলো চোখে জ্বলতেছে এখন চোখটা।” কথাটা বলেই আমি চোখ জোড়া কচলাতে লাগলাম। চোখ থেকে হাতটা চাপানোর সাথে সাথে দেখলাম সিমা চলে গেছে।

সন্ধ্যায় সিমাকে নিয়ে শপিং মলে যেয়ে ওর শাড়ির সাথে ম্যাচিং করে চুড়ি আরো কিছু কসমেটিকস কিনে বাসায় এসে আবারো চুপ করে বসে রইলাম। মোবাইলে একের পর এক বন্ধুদের ফোন আসতেই লাগলো। আসলে মনে শান্তি না লাগলে যা হয় তাই আমার মধ্যে চলছিলো। প্রায় বেশ কিছুদিন বন্ধুদের টাইম দিতে পারতেছিনা। কি করবো ওদের কাছে যেয়ে। কত বড় বড় কথা বলছিলাম ওদের, আমার ফারিন এই আমার ফারিন সেই!ওরা এখন যদি সব জানে তাহলে আমাকে কি করবে? ইশ! শালাদের সামনে গেলে ওদের টিটকারি মারা কথা শুনে মেজাজ যাবে খারাপ হয়ে! কিন্তু একের পর এক ফোন আসার কারনে আমি আর ঘরে বসে থাকতে পারলাম না। বাসা থেকে বের হয়ে সোজা ওদের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম।

ফুলার রোড আসার সাথে সাথেই ওদের মধ্যে একজন আমাকে দেখেই বলে উঠলো,”দেবদাস আসছে। তোমাকে খেয়ে চলে গেছে তাই না!” ওর কথা শুনে বাকিরা হেসে উঠলো। সবাই মিলে আমাকে বাটে নিয়ে ফারিনকে নিয়ে একের পর এক কথা বলতে লাগলো। আমি বুঝলাম না ফারিনের সাথে আমার সব শেষ ওরা এই খবর পেলো কই! আন্তাজে ডিল ছাড়া যে এইটা কিছুনা, আমি ব্যাপারটা বুঝতে পারলাম। ওদের উদ্দেশ্য করে বল্লাম,”বেহুদা প্যাচাল থামালে খুশি হোতাম।” আমার কথাটা শুনে ওরা আরো কিছুক্ষণ হাসি ঠাট্টা করে থেমে গেলো। কিন্তু ওদের এরকম হাসি ঠাট্টাতে আমার খুব জ্বলছিলো।

প্রায় ঘন্টা খানিক আড্ডা দেওয়ার পর দূর থাকে সোডিয়ামের আলোয় খেয়াল করলাম সেই বাইকটাতে করে সেই ছেলেটার পিছনেই বসে ফারিন আসছে। বুকের ভিতরটা যেনো খুব ধাক্কা দিয়ো উঠলো। কোনো দিন এরকম রাত করে আমার সাথে কিছুটা সময় কাটালোনা। কত বলেছিলাম! আর আজ! ভিতরটা যে কি পরিমাণ তোলপাড় করছিলো তা যেনো মুখে বুঝানো সম্ভব না। কষ্ট হওয়া সত্যেও আমি বসা থেকে উঠে দাড়ালাম। মস্তিষ্কে মনে হচ্ছিলো রক্তখনন শুরু হয়ে গেছে। চুল গুলো টানতে টানতে আমি কিছুটা সামনে যেয়ে দাড়ালাম। ফারিনের আমাকে দেখতে অসুবিধা হলোনা। ইচ্ছা করছিলো বাইকটা থামিয়ে কিছু বলি কিন্তু বাইকটা আমার সামনে আসতেই আমি বল্লাম,”ফ্যামিলি রাতে বাহিরে থাকাটা এলাউ করেনা! হাইরে ছলনাময়ী।

খুব নরম হলে যা হয় তার নমুনাটা দেখালি! প্রয়োজনে ইউজ করলি আমাকে এতোদিন! ভালো ভালো।হা হা হা!” বাইকটা চলে যেতে লাগলো কিন্তু ফারিন পিছু ফিরে আমার দিকেই কিছুক্ষণ তাকিয়ে ছিলো,যতটুক স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিলো আমি চেয়েই ছিলাম। ও চোখের আড়াল হোতেই আমি ল্যাম্পপোস্টের পিলারটাতে খুব জড়তে একটা লাথি মেরে উঠলাম। বন্ধু দুইটা আমার সামনে এসে কিছুটা অবাক হয়েই জিজ্ঞাস করলো,”ফারিন ছিলোনা!” আমি কিছুটা পাগল এর মতো বলে উঠলাম,”হুম ফারিন ছিলো। দেখছোস আমি থাকতে ওর ফ্যামিলি নাকি সন্ধ্যার পর বাহিরে থাকা এলাউ করতোনা। এখন ঠিকি ফ্যামিলি বাহিরে থাকা এলাউ করে! হাহ!” আমি আর কিছুই বল্লামনা। ওরা আমাকে ধরে নয়ে বসালো। আর একেকজন একেক রকম করে বুঝাতে লাগলো। আমি নিশ্চুপ হয়ে গিয়েছিলাম! নিজেকে বিশ্বাস করাতে খুব যেনো কষ্ট হচ্ছিলো। আসলেই খুব কষ্ট হচ্ছিলো। দুই বন্ধু এসে আমাকে বাড়িতে পৌছিয়ে দিয়ে চলে গেলো। আমি বাসায় ঢুকার পর রুমে যেয়ে কি করবো বুঝতে পারছিলাম না। কি হচ্ছে এইগুলা আমার সাথে! কেন সব কিছু শেষ হওয়ার পড়েও আমি কিছুতেই ওকে ভুলতে পারতেছিনা।

সব তো শেষ করেই দিলো। ও তো ভালো থাকার জন্য অপশন বেছে নিয়েছে আগে থেকেই, আমি ছেলে হয়ে কেন পারতেছিনা! দুই বছরের সম্পর্কটা এতোটাই নংড়া হয়ে গেলো! ইশ! ও তো ভালো মেয়ে কিন্তু ও কেন এমনটা করলো! এই দুই বছরে ওর ব্যাক্তিগত গোপন ব্যাপার গুলো,যেইগুলো আমাকে বলতো এখন তাহলে সেইগুলো অন্য কেউ শুনবে! এইরকম কথাটা ভাবতেই যেনো বুকের ভিতরে আবার তোলপাড় শুরু হয়ে গেলো! আচ্ছা একটা ছেলে কি সব শেষ হওয়ার পর এরকম কথা গুলো ভাবতে পারে! নাকি আমি শুধু একাই ভাবচ্ছি! ব্যাপারটা কি খুব মেয়েলি হয়ে গেলোনা! হোক গিয়ে আমি এমনি। আমার মতো। আর না! ও যা ইচ্ছা তাই করুক আমি আর এতে কোনো মাথা ঘামাবোনা কখনোনা, ফায়সাল কুল! জাস্ট কুল! কথাটা ভেবেই নিজেকে শান্তনা দিচ্ছিলাম। কিন্তু আমার বার বার ইচ্ছে করছিলো ফারিনকে একটু ফোন দিয়ে জিজ্ঞাস করি কেন এতোটা ছলনা করলো আমার সাথে। কিন্তু নিজেকে শান্ত রেখে আমি আর ওকে ফোন দিলাম না। রুমের দরজার দিকে তাকাতেই খেয়াল করলাম সিমা দাড়ানো। আমি ওকে মাথা হেলিয়ে জিজ্ঞাস করলাম কি হইছে। সিমাও মাথা হেলিয়ে আমাকে বুঝালো কিছুনা। আমি বুঝলাম না সিমা কেন হুট হাট করে আমার রুমে চলে আসে। ও কি আমার চেহারাতে কিছু দেখতে পায়! আমি আর ব্যাপারটা তেমন গুরুত্ব না দিয়ে চুপ করে খাটে শুয়ে পড়লাম।

রাতের খাবার শেষে রুমে ঢুকে যেনো সময় কাটছিলোনা। ফোনটা বের করে অনলাইনে ঢুকেতেই দেখি মেসেজ জমে গেছে। একেক করে সবার মেসেজের রিপ্লাই দেওয়ার পর দেখলাম মুনতাহা সাউদিয়া নামের একটা মেয়েরো মেসেজ আসছে। আমি মেয়েটার প্রোফাইল দেখে মেয়েটাকে চিনলামনা। প্রায় বেশ কিছুক্ষণ কথা বলার পর হুট করেই বলে উঠলাম,”প্রেম করবে আমার সাথে। আমি তোমাকে বিয়ে করতে চাই।” কথাটা বলেই যেনো আমি ধিক্কার খেয়ে উঠলাম। কষ্ট চাপা দেওয়ার জন্য এই কি বলে উঠলাম।

মেয়েটা কি সুন্দর করে কথা বলতেছিলো এখন কি ভেবে বসে। ভালো মতো কথা বলতে থাকতাম পড়ে না হয় সেটিং করে নিতাম! ধ্যাত! সহ্য-ধৈর্য সব খেয়ে ফেলেছি। সব যেনো ভুলেই গেছি। কথাটা ভাবতেই খেয়াল করলাম মেয়েটা রিপ্লাই দিয়েছে। আমি মেসেজটা সিন করে কিছুটা ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেলাম।মেয়েটা লিখেছে,”হুম করবো।” আমি চুপ করে রইলাম। ফেইক আইডি না তো! আমি মেয়েটাকে লিখলাম,”মেসেঞ্জারে ফোন দেই ধরতে পারবেন।” মেসেজটা মেয়েটা সিন করার পর আমি উত্তর দিলো,”ওকে।” ব্যাপারটা খুব কাকতালীয় লাগলেও আমি মেনে নিলাম গড গিফট হিসেবে। হয়তোবা এই মেয়েটাও সেইম আমার মতো কেইসে আহাত! আমি মেয়েটাকে ফোন দিলাম।

ঐপাশ থেকে মেয়েলি কন্ঠ ভেসে আসলো। আমি কন্ঠটা শুনে বেশি কিছু বলতে পারলাম না। আসলেই তো এইটা মেয়ে! মজা নিচ্ছে না তো। ফোনে বেশিক্ষণ কথা বল্লাম না। ফোন কাটার পর মেয়েটাই আমাকে নিজ ইচ্ছে থেকে একের পর এক কথা জিজ্ঞাস করতে লাগলো। একটা সময় হুট করে বল্লো,”আমি কেন তাকে বিয়ের প্রপোজাল না দেখেই করে উঠলাম।” আমি ফারিনের ব্যাপারটা ওকে খুলে বল্লাম। এরি মাঝে মনে হলো ফারিনের কনো ফ্রেন্ড না তো এইটা! ধ্যাত! হোলে হবে। কিন্তু আমি আর বেশিক্ষণ কথা বলতে পারলাম না।কেমন জানি অনিহা এসে পরেছিলো। আমি মেয়েটাকে কথার মাঝখানেই বল্লাম,”ভালো লাগছেনা আল্লাহ হাফেজ।” মেসেজটা দিয়ে সোজা অনলাইন থেকে বের হয়ে গেলাম। চুপ করে শুয়ে রইলাম। খেয়াল করলাম দুইবারের মতো সিমা আমার রুমে এসে উকি মারলো। আমার কাছে ব্যাপারটা যেনো কেমন লাগলো। একের পর এক কথা ভাবতে লাগলাম।

দুই চোখ জোড়া যে কখন বুঝে গেলো বুঝতে পারলাম না। রাতের দুইটা বাজতে যেনো সেই ঘুমটা ভাঙ্গলো আমার,ফোনের আওয়াজ শুনে ফোনের স্কিনের দিকে তাকাতেই দেখি গিন্নী লিখা নাম্বারটা থেকে ফোন এসেছে। এতো রাতে ফারিন ফোন দিলো! ভুলে কি দিয়েছে! কেন যেনো ওর উপর থাকা রাগটা আমার মাঝে আর কাজ করলোনা। আমি ফোনটা ধরতেই ও চুপ করে রইলো। আমি বল্লাম,”হঠাৎ এতো রাতে ফোন?” ফারিন কিছুক্ষন চুপ থেকে বল্লো,”ছেলেটা আমার কাজিন লাগে। কিছুদিন হয়েছে আমেরিকা থেকে আমাদের বাসায় উঠেছে।ঢাকাতে কিছু কাজ ছিলো ওর তাই,আগামিকাল রাতেই চলে যাবে।” আমি ফারিনের কথা শুনে কি বলবো বুঝতে পারলাম না। আর ও বা কেন আমাকে এতো রাতে ফোন দিয়ে কথাটা বল্লো আমি খুব ক্লিয়ার হয়ে গিয়েছিলাম। রাতে যা ঘটেছে তাতে হয়তো কিছুটা পরিমাণ আমার চেহারাটা দেখে ওর মায়া লেগেছে। আমি যা ভেবেছি তা কি ভুল ছিলো! এখনো কি ফারিন আমাকে….! আমি আর বেশি কিছু না ভেবে চুপ করে রইলাম।

ফারিন আবার আমাকে বল্লো,”উল্টা পাল্টা কিছু করে বইসোনা এর জন্যেই ফোন দিলাম।” এতো দরদ আমার প্রতি এখনো আছে ওর! আমি বল্লাম,”করুনা দেখাচ্ছো!নাকি মায়া হচ্ছে!” ফারিন বল্লো,”করুনা হলে সম্পর্কটা এতোদিন থাকতোনা। আমাকে তো কখনো বলো নাই বিয়ের কথা আজ দেখি সাউদিয়াকে চিনোনা জানোনা বিয়ের প্রপোজাল দিয়ে দিলে!” ফারিনের কথা শুনে আমি কি বলবো খুজে পেলাম না। আমার ভাবা ধারনাটা তাহলে সত্যি হলো। কি করে বুঝাই কতোটা কষ্টে বলছি। ওকে ঐ ছেলের সাথে দেখে মাথা আমার ঠিক ছিলোনা। কি বলবো বুঝতে পারছিলাম না।এই মেয়েগুলা এমন কেন! এদের কি কেউ বুঝতে পারেনা! আল্লাহ মেলয়েদের মনটাকে এতো রঙের কেন বানালো! এরাতো ঠিকি ছেলেদের মনের খবর বুঝে ফেলে। কিন্তু ছেলেরা কেন পারেনা! আল্লাহ কি নিজেও এদের মন কি চায় বুঝে! তোবা তোবা আল্লাহ মাফ করো,ভুলে বলে ফেল্লাম। কথাগুলো ভাবতে ভাবতে আমি ফারিনকে বল্লাম,”আমি তোমাকে ঐ ছেলের সাথে দেখে নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারি নাই।তাই এমনটা করছি।” কথাটা বলেই যেনো নিজেকে বলতে লাগলাম ধ্যাত কি করলাম এইটা আমি! কেন বল্লাম কথাটা! মনে হলো ফারিন হাসতেছে।

ফারিন বল্লো,”হুম সাউদিয়া বিয়ে করবে সামনের মাসে কিন্তু…..!” আমি খুব এক্সাইটেড হয়ে জিজ্ঞাস করলাম,”কিন্তু কি?” ও বল্লো,”তোমাকে না অন্য কাউকে। ওর বিয়ে ঠিক,সামনের মাসেই ওর বিয়ে। আমার কাজিন হয় সাউদিয়া আমার থেকে দুই বছরের বড় আমি বলাতেই তোমাকে মেসেজ করেছে।” আমি আর কিছু বল্লাম না। ফারিন যে ঐপাশ থেকে হাসছিলো ঠিকি বুঝতে পেরেছিলাম। কিন্তু ওর কথার মাঝে কিছুটা ক্ষোভ খুজে পেয়েছিলাম। সাউদিয়াকে বিয়ের প্রপোজাল দিয়েছি এতেই যে ও ক্ষোভ তা বুঝতে এইবার আর আমার ভুল হলোনা। বেশ কিছুক্ষণ ওর সাথে কথা বল্লাম। কিন্তু স্বাদটা আগের মতো পেলাম না। দুইজনেই খুব বিরতিহীন ভাবে কথা বলে যাচ্ছিলাম। কেন যেনো মনে হচ্ছিলো আমাদের সম্পর্কটার এখন কোনো নাম নেই। কথা বলার ধরন গুলো কোনো সম্পর্কের মধ্যে পরলোনা। ফারিন হুট করে বল্লো,”আগামিকাল পহেলা ফাল্গুনের অনুষ্ঠান ভার্সিটিতে, এখন না ঘুমালে সকালে কি উঠতে পারবো!” আমি বল্লাম,”ওহ! আচ্ছা ঘুমাও তাহলে।

ফারিন ফোন না কেটে চুপ করে রইলো। আমি আবার বল্লাম,”কি হলো কাটো!” ফারিন একটু হেসে বল্লো,”তুমি রাগ করলে খুব ইমোশনাল হয়ে যাও। ব্যাপারটা আমার খুব ভালো লাগে। এখনো আমি ফোন রাখতে বলছি তাতে ইমোশনাল হয়েছো তাই না!” আমি হাসলাম। সত্যিতো! এতো যেহেতু বুঝো তাহলে এতোদিন কেন ফোন দিলেনা! আজ দরদ বেয়ে পড়তেছে! কথা গুলো খুব জিজ্ঞাস করতে ইচ্ছা করছিলো কিন্তু কেন যেনো বাধা আসলো। আমি আর কিছুনা বলে বল্লাম,”ঘুমাও,সকালে উঠতে হবে।” কথাটা বলেই আমি ফোনটা কেটে দিলাম। কেন যেনো মনে খুব প্রশান্তি লাগছিলো। মাথায় অনেক কিছু ঘোরপাক খাচ্ছিলো,কিন্তু আমি আর দেড়িনা করে শুয়ে পড়লাম।ইশ! কাল ফাল্গুনের সাজে যা লাগবেনা ফারিনকে! আচ্ছা আগামিকাল কি একটু ওকে কাছে নিয়ে ছুঁয়ে দিতে পারবো! কথাটা ভেবেই আমি একটু হাসলাম।

সকালে ঘুম থেকে উঠে খেয়াল করলাম বেলা দশটা বেজে গেছে। খুব তাড়াহুড়া করে শোয়া থেকে উঠে গোসলে চলে গেলাম।আর মাকে বল্লাম সাদা পাঞ্জাবিটা আর পাইজামাটা আয়রন করতে। প্রায় পনের মিনিট পর ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে দেখলাম মা সব কিছু রেডি করে রেখেছে। আমি পাঞ্জাবীটা গাঁয়ে দিতে নিলাম ঠিক তখনি মা বলে উঠলো,”আজ এতোদিন পর খুশি খুশি লাগতাছে ব্যাপার কি?” আমি বল্লাম,”কই কিছু না তো!” মা আমার সামনে এসে বল্লো,”আমার ঘরে হইছোস তুই আমাকেই তালবাহানা!” আমি মায়ের কথা শুনে হাসলাম। পায়জামাটা পড়তে পড়তে মাকে বল্লাম,”বুঝছোই যখন আবার কেন জিজ্ঞাস করতাছো!” মা হাসলো। আমি মায়ের দিকে তাকালাম আসলেই মা রা সব বুঝে সন্তানের চেহারা দেখে।

আমি যেই বের হতে নিবো মা নাস্তা নিয়ে এসে আমাকে দাড়া করিয়ে বল্লো,”বস এক মিনিট অল্প একটু খেয়ে বের হ!” আমি আর কিছু বল্লাম না। মা নাস্তা নিয়ে এসে তার নিজের হাতেই আমাকে খায়িয়ে দিতে লাগলো। সময় ভালো গেলে যে সব দিক দিয়েই ভালো যায় তার প্রমাণটা যেনো আজ হাতে নাতে পেলাম। মা আমাকে খায়িয়ে দিতে দিতে বল্লো,”মেয়ের বাসা কই?” আমি কিছুটা লজ্জা পেয়ে গেলাম। মা যে এইভাবে বলবে ভাবতে পারি নি। আমি বল্লাম,”বংশালে থাকে।” মা আর কিছু না বলে আমাকে খাওয়ানো শেষে তার আচল থেকে এক হাজার টাকার একটা নোট বের করে দিয়ে বল্লো,”ধর! কয়টা দিন ধরে যা ব্যাবহার করছোস আমি ঠিকি বুঝতে পারছি। একটু কিছু হলে এমন ভেঙ্গে পড়তে হয়না। তোর বাবাকে কম জ্বালায় নি আমি!” আমি পানিটা খেয়ে মায়ের কপালে একটা চুমু খেয়ে কিছুক্ষণ জড়িয়ে ধরলাম। সত্যি আমার কেন যেনো এখন যেতেই ইচ্ছে করছিলোনা মাকে রেখে। মা নিজেই হাসতে হাসতে বল্লো,”যা তাড়াতাড়ি আবার ঝড় এসে পড়বে দেড়ি হলে।” আমি মায়ের কথা শুনে হাসলাম।

ভার্সিটি এসেই যেনো বাসন্তি রঙের মেলা দেখতে পেলাম। সবার খোপাতে ফুলের গ্রাউন পরনে। আমি একেক করে সবার মাঝে ফারিনকে খুজতে লাগলাম।এখনো একটা ফোন দেয়নি মেয়েটা। আমি আর ওকে না পেয়ে ফোন দিলাম। দুই একবার রিং হওয়ার পর ফারিন ফোনটা ধরলো। আমি বল্লাম,”কই তুমি?” ফারিন বল্লো,”সেইটা যেনে তুমি কি করবে?” ফারিনের এরূপ কথা শুনে আমি খুব থতবত খেয়ে উঠলাম। কি বলে এই মেয়ে! গতকাল রাতেই তো কত সুন্দর ভাবে কথা বলছিলো। আজ আবার কি হলো! আমি ভাবনায় পড়ে গেলাম,আসলেই কি কাল রাতে ওর সাথে আমার কথা হয়েছিলো,নাকি আমি স্বপ্নে দেখেছিলাম!কথাটা ভাবতেই আমি ওকে লাইনে রেখে কল লিস্ট চেক করে দেখলাম,ঠিকিতো আছে গতকাল দুইটা পনেরো মিনিটে ও ফোন দিছে।

আমি এইবার বল্লাম,”গতকাল রাতে আমাদের কথা হয়েছিলো না!” কথাটা বলার পর কেন যেনো মনে হলো ফারিন হাসতেছে। কিন্তু ও সেইটা আমাকে বুঝতে দিচ্ছেনা।ও বল্লো,”হুম হয়েছে তো কি হয়েছে!” আমি বল্লাম,”এইভাবে কেন কথা বলতেছো?” ফারিন এইবার একটু আওয়াজ করেই হেসে দিয়ে বল্লো,”আমি আমার কাজিনের সাথে আছি। ও আজ রাতে চলে যাবে বল্লাম না। তাই সকালে কলেজে এসে কিছুক্ষণ থেকে ওকে নিয়ে টি.এ.সিতে আসছি। তিনটার প্রোগ্রামে আবার এইখান থেকে সোজা ভার্সিটিতে আসবো।” অনেক আওয়াজ হচ্ছিলো কথাগুলো বেজে বেজে আসছিলো আমার কানে। আমি বল্লাম,”সকালে কি একটা ফোন দেওয়া যেতোনা!” ফারিন বল্লো,”তুমি ঘুমিয়েছিলে তাই দেইনি। আচ্ছা পড়ে কথা বলবো এখন রাখি।” কথাটা বলেই ফারিন ফোনটা কেটে দিলো। ব্যাপারটা আমি মানতেই পারলাম না। ক্যাম্পাসে আশে পাশে তাকাতেই দেখলাম সব জায়গায় জোড়া জোড়া বসে আছে। হুট করে রাত থেকে থাকা ফুরফুরে মনটা আমার চুপসে গেলো। কেন যেনো সবাইকে দেখে আমার হিংসা হতে লাগলো। আমি আর টিকে থাকতে না পেরে সোজা টি.এ.সির দিকে রওনা দিলাম।

সেইখানে পৌছিয়েই দেখলাম সব জায়গায় জোড়া জোড়া বসে আছে। আমি একেক করে সব জায়গায় তাকিয়ে দেখতে লাগলাম। প্রায় বেশ কিছুক্ষণ খুজার পর দেখলাম ফারিন বসে আছে সাথে ওর কাজিনটাও। এইরকম ভাবে বসে ছিলো যে কেউ দেখলে ভাব্বে প্রেমিক প্রমিকা। ফারিন লাল রঙের শাড়ি আর ছেলেটাও লাল রঙের পাঞ্জাবি পরনে ছিলো। ফারিন ছেলেটার হাত ধরে বসে আছে। আমি আর ওদের ডিস্টার্ব করলাম না। মোবাইলটা পকেট থেকে বের করে শুধু লিখলাম,”কাজিনের সাথে কেউ এইভাবে ক্লোজ করে বসে থাকেনা। ম্যাচিং করে ড্রেস পরনে,আবার হাতে হাত রেখেও বসে আছো। ভালোতো! সত্যি আমার সাথেই এমনটা করে পারলে।” আমি মেসেজটা দিয়ে আর সেইখানে একটা মুহূর্তের জন্য না দাড়িয়ে চুপ করে চলে যেতে লাগলাম। আর যেতে যেতে বন্ধুগুলার খোজ নিয়ে ওরা কই আছে তা যেনে ওদের উদ্দেশ্যে রওনা হোলাম।

ওদের সাথে দেখা করার পর মন না চাইতেও আগের মতো আড্ডায় মেতে উঠলাম। বার বার চোখের সামনে সেই দৃশ্যটা ভেসে আসছিলো। আচ্ছা আমি কি বেশি রকম করে ফেলছি! আমার জায়গায় অন্য কেউ থাকলে কি করতো! নাহ! আমার জায়গায় অন্য কেউ থাককে ঠিকি তেলে বেগুনে জ্বলে ওকে এখন ইচ্ছা মতো কথা শুনিয়ে আসতো। কিন্তু ওর ভাগ্য ভালো আমার মতো ছেলে পেয়েছে বলে ওকে কিছু বলি নি। আমি আর একটা মুহূর্তেও ওর কথা ভাবলাম না। সারাটা সময় বন্ধুদের সাথে আড্ডায় মেতে উঠলাম। বিকেল তিনটায় খেয়াল করলাম ফারিনের ফোন এসেছে। আমি একটা বারের জন্য ওর ফোন ধরলাম না। আমি ফোন না ধরায় ও কিছুক্ষণ পর পর ফোন দিয়েই যাচ্ছিলো। আমি ফোনটা সাইলেন্ট করে রেখে দিলাম।

রাতে বাসায় পৌছিয়ে ঠিক সকালে ঘর থেকে বের হওয়ার সময় যেইভাবে হাসিখুশি ভাবে বের হয়েছিলাম ঠিক সেইভাবেই ঘরে যেয়ে ঢুকলাম। মোবাইলটা রুমে যেয়ে চার্জে দিতেই দেখলাম ফারিন বিশ বার ফোন দিয়েছে। এমন কি তিনটা মেসেজ ও দিয়েছে। আমি মেসেজ গুলো পড়তে লাগলাম। প্রথম মেসেজটা ছিলো,তুমি টি.এ.সিতে আসছো? কই তুমি? দ্বিতীয় মেসেজটা ছিলো, অযথা ভুল বুঝতেছো। তৃতীয় মেসেজটা দেখে কিছুটা চমকে উঠলাম সেইখানে লিখা ছিলো, আমি ভাবতে পারি নি আজ আমার কাজিনটা এইভাবে আমাকে প্রপোজ করে বসবে। আমাকে মাফ করে দিও। আমার ওর সাথে আজ বের হওয়াটা ঠিক হয়নি। আমি মেসেজটা পড়ে কিছুক্ষণ চুপ করে রইলাম। কেন যেনো খুব রাগ হচ্ছিলো। আমি কিছু না বলেই ফোনটা বন্ধ করে রেখে দিলাম।

রাতে খাওয়া দাওয়া করার পর আমি রুমে এসে যেই টিভিটা ছেড়ে দেখতে নিলাম। ঠিক সেই সময় সিমা আমার রুমে এসে বলে উঠলো,”ফারিন আপু তোমাকে ফোন দিতেছে তোমার ফোন বন্ধ কেন?” আমি বল্লাম,”ওর ফোন রিসিভ করবিনা আর। ফালতু মেয়ে একটা ও।” সিমা বল্লো,”কথা বলার সময় কান্না করতেছিলো। ফোনটা চালু করে একটু কথা বলো।” আমি বল্লাম,”করুক কান্না। আজকের দিনটাতে কত আশা নিয়ে বের হইছি আজ ও যা করছে। আমার ওর উপর ঘৃণা এসে পরেছে।” সিমা এইবার একটু ক্ষেপে যেয়ে আমাকে বল্লো,”কি করেছে আমাকে সব বলছে।ও কি জানতো এমনটা হবে! আর তোমার এই উগ্রমেজাজী স্বভাবটা পরিবর্তন কইরো। কিছু না বুঝে হুট হাট কথা বলবা এতে যে কারো মেজাজ খারাপ হবে।” আমি সিমার কথা শুনে চুপ করে রইলাম। ও আর আমার সামনে না দাড়িয়ে থেকে চলে গেলো। আমি অন্যমনস্ক হয়ে টিভির দিকে তাকিয়ে রইলাম। সিমার কথাগুলো আমায় ভাবনায় ফেলিয়ে দিলো। বাড়ির সবাই ঘুমিয়ে যাওয়ার পর আমি ফোনটা খুল্লাম। কি মনে করে যেনো ওকে ফোন দিয়ে উঠলাম একবার রিং হতেই ফারিন ফোনটা ধরে চুপ করে রইলো। আমি বল্লাম,”সিমাকে কেন ফোন দিছো?” ফারিন ভারি গলায় বল্লো,”ফোন কেন বন্ধ করে রাখছিলে।

আমি বল্লাম,”ইচ্ছে হইছে তাই।” ফারিন চুপ করে রইলো। আমি আবার বল্লাম,”আজ তোমার জায়গায় আমি থাকলে কি করতে একটু ভেবে দেখোতো। আমাকে দুর্বল পেয়ে অনেক টর্চার করেছো তুমি আর তা হতে দিচ্ছিনা।” ফোনের ঐপাশ থেকে বুঝা যাচ্ছিলো ফারিন কান্না করছে। ফারিন কিছুটা সময় নিয়ে বল্লো,”এইভাবে কেন বলতাছো?আমার ভুল হইছে।আর এমন হবেনা।” আমি আর কিছু বল্লামনা। ফারিন আবার বল্লো,”কাল সকালে বের হবো।” আমি বল্লাম,”কালকের টা কাল দেখা যাবে। যাও এখন ঘুমাও।” ফারিন আমার কথা শুনে কিছু বল্লোনা। যদি কোনো অঘটন ঘটিয়ে বসে তাহলেতো পুলিশ ওর ফোন চেইক করে আমার নাম্বারটা পাবে। আমি এইবার কিছুটা নরমভাবেই বল্লাম,”আচ্ছা ঠিক আছে বের হবো। এখন ঘুমাও।আমিও ঘুমাই।” ফারিন বল্লো,”তোমাকে একটু জড়িয়ে ধরি?” আমি ওর কথা শুনে হাসলাম। আসলেই এদের একটু টাইট না দিলে এরকম মুহূর্ত গুলো অনুভব করা যায়না। আমি বল্লাম,”ঠিক আছে।” তারপর ও আর কিছুনা বলে ফোনটা কেটে দিলো।

সকালে আমার ঘুমটা ভাঙ্গলো সিমার ডাকে। আমি ওর দিকে তাকাতেই ও আমাকে বলে উঠলো,”ফারিন আপু তিন রাস্তার মোড়ে দাড়িয়ে আছে। তোমাকে সেই কখন থেকে ফোন দিতেছে তুমি ফোন কেন ধরতেছোনা?” আমি কিছুটা সময় চুপ করে রইলাম।বুকটা খুব ধরপর করতেছে। মোবাইলটা হাতে নিয়ে দেখলাম নয়টা বেজে গেছে। সিমা আমাকে তাড়াহুড়া করে উঠিয়ে দিয়ে নিজ হাতেই আমার টাউল টা দিয়ে ওয়াশ রুমে যেতে বল্লো। আমি খুব অবাক হলাম! ও এতো এক্সাইটেড কেন? ওয়াশ রুম থেকে তাড়াতাড়ি করে বের হয়ে দেখলাম সেই বেগুনি রঙের পাঞ্জাবিটা আমাকে দিয়ে বল্লো,”এইটা পড়ে তাড়াতাড়ি বের হউ। আধা ঘন্টা হয়ে গেছে মেয়েটা দাড়িয়ে আছে।” সিমার কথা শুনে আমি আর দেড়ি করলামনা। চুলটা কোনো মতো আঁচড়িয়েই বের হয়ে গেলাম।

তিন রাস্তার মোড় আসতেই আমি ডানে বামে তাকাতে লাগলাম। পিছন থেকে আমার কাধে এসে কেউ হাত রাখতেই বুঝলাম ফারিন হয়তো। পিছনের দিকে তাকাতেই দেখলাম বরকা আর হিজাব নেকাব আকারে পড়া এক মেয়ে। আমি পিছনের দিকে ঘুরেই বল্লাম,”কে আপনে?” ঠিক তখনি মেয়েটা হিজাবটা মুখ থেকে একটু চাপিয়ে দিয়ে আমাকে বুঝিয়ে দিলো এইটা অপরিচিত কেউ না।ফারিন! আমি একটু হাসলাম। ফারিন হিজাবটা আবার উপরে উঠিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে রইলো।

চোখ দুইটা কিছুটা ফুলা ফুলা দেখাচ্ছিলো। আমি ওকে বল্লাম,”এতো সকালে কেন আসতে হলো বিকেলে বের হতাম!” ফারিন কিছু বল্লোনা। আমি আবার বল্লাম,”নাস্তা করে আসছো?” ফারিন এইবার মাথা হেলিয়ে না করলো। আমি ওকে নিয়ে সোজা রোডের ওইপার থাকা এক রেস্টুরেন্টে যেয়ে ঢুকলাম। রেস্টুরেন্টে ঢুকে নাস্তার অর্ডার করেই ওকে বল্লাম,”হুজুর সেজে কেন আসছো? কালতো ভালোই সেজেগুজে এসেছিলে।” ফারিন আমাকে কিছু না বলে চুপ করে আমার দিকে তাকিয়ে রইলো। আমি আর কিছু বল্লাম না। নাস্তা আসার সাথে সাথেই ফারিন আমার বিপরীত পাশ থেকে উঠে এসে আমার পাশে এসে বসলো। ওর দিকে তাকাতেই মনে হচ্ছিলো গতকাল সারারাত একটুও ঘুমায়নি। আমি খাবার কাছে নিয়ে খেতে শুরু করে দিলাম ফারিন আমার দিকে তাকিয়েই রইলো। আমি যখন বল্লাম,”খাও!” ফারিন কোনো উত্তর না দিয়ে আমার দিকে সেই খামখেয়ালি ভাবে তাকিয়ে রইলো। ভালোই মায়া জমাতে পারো।

তোমাদের আল্লাহপাক এই বিষয়ে জন্মের আগেই পি.এইচ.ডি করে বানিয়ে পাঠিয়েছে। কথাটা মনে মনে বলে আমি আবার বল্লাম,”কি হলো খাও!” ফারিন তবুও কিছু না বলে চুপ করে রইলাম। আমি খাবার উঠিয়ে যেই মুখে নিতে যাবো ঠিক তখনি মনে হলো আমার হাতে খাওয়ার জন্য বসে আছে না তো! আমি আর নিজের মুখে খাবারটা না দিয়ে ওর মুখের সামনে হাত বাড়তেই ও আমার হাত থেকে খেয়ে নিলো। খেতে খেতে আমার দিকে তাকিয়ে কখন যে ওর চোখ থেকে পানি পড়ে গেলো বুঝতে পারলাম না। আমি আর ওর দিকে না তাকিয়ে নিজেও খেতে লাগলাম আর ওকেও খায়িয়ে দিতে লাগলাম। একটা সময় আমি বলে উঠলাম,”হুজুর সেজে এসেছো কেন?” ফারিন বল্লো,”বাসা থেকে দেখলে কি ভাব্বে?” আমি ওর কথাটার অর্থটা বুঝতে পারলামনা। আমি আর কথা না বাড়িয়ে খাওয়া শেষে বিল দিয়ে যেই বের হতে নিবো তখনি ফারিন বলে উঠলো,”আমি একটু ওয়াশ রুমে যাবো।” আমি বল্লাম,”ঠিক আছে যাও।”

প্রায় পনেরো মিনিট পর যখন ওয়াশ রুম থেকে ফারিন বের হলো,আমি কিছুটা অবাক হয়ে গেলাম। এই কি বেগুনি রঙের সিল্কের শাড়ি পরনে। পুরো আমার পাঞ্জাবির সাথে ম্যাচ করা। আমি ওর দিকে তাকিয়ে রইলাম। পনেরো মিনিটেই হালকা সেজে বের হয়ে এসেছে। রেস্টুরেন্টের সবাই ফারিনের দিকে তাকিয়ে রইলো। আমি আর দেড়ি না করে ওকে নিয়ে বাহিরে বের হয়ে ওকে জিজ্ঞাস করলাম,”কোথায় যাবো?” ফারিন বল্লো,”ক্যাম্পাসে যাই আগে!” আমি আর কিছু না বলে ভার্সিটির উদ্দেশ্যে রিকশা ঠিক করলাম।তারপর দুইজন রিকশাতে উঠে বসলাম। রিকশায় উঠার সাথে সাথে ফারিন বল্লো,”এই পাঞ্জাবিটা ঠিক লেগেছেতো।” ফারিনের কথা শুনে বুঝতে আর বাকি রইলোনা। পাঞ্জাবিটা সিমাকে ও নিজেই দিয়েছে। ওহ! তারমানে আমার বোনের সাথে তলে তলে প্রতিনিয়ত ঠিকি ও কথা বলতো। আমি বল্লাম,”হুম।” রিকশাটা কিছু দূর যেতেই ফারিন আমার হাতটা শক্ত করে জড়িয়ে ধরে নিয়ে বলতে লাগলো,”আমার কাজিনটা গতকাল চলে যাবে তাই বলে গতকাল শেষবারের মতো বের হয়েছিলাম ওকে নিয়ে। সত্যি ওকে আমি সবসময় ভাইয়ের চোখেই দেখতাম।

গতকাল ওর হাত ধরে কথা বলতেছিলাম। হুট করে আমাকে প্রপোজ দিয়ে বসে।আমি ওকে ডাইরেক্ট না করে দিছি। ও যে এমনটা করবে আমি ভাবতে পারিনি। তার উপর তুমি আমার ফোনটা ধরোনি। খুব খারাপ লাগছে আমার।” আমি চুপ করে ওর কথা শুনে যাচ্ছিলাম। ফারিন কথাটা বলেই আমার দিকে তাকালো। চোখগুলো কি পরিমাণ ফুলেছে তা আমি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছিলাম। ফারিন আবার আমাকে বল্লো,”ভার্সিটি যেতে তো বেশ কিছু সময় লাগবে। একটু রিকশার হুকটা উঠিয়ে দাওনা!” আমি ওর এরকম ইনোসেন্ট কথা শুনে কিছুটা বল্লে ভুল হবে খুব বেশিই মায়ায় পড়ে গেলাম। রিকশার হুকটা উঠিয়ে দিতেই ফারিন আমার কাধে মাথা রেখে গুটিসুটি খেয়ে শুয়ে পরলো। ফাল্গুনের হাওয়ায় যেনো আমার পুরো শরীরের লোম দাড়িয়ে যাচ্ছিলো। আমি চুপ করে না থেকে ওকে জিজ্ঞাস করলাম,”গতকাল রাতে ঘুমাও নাই?” ফারিন মুখে কিছু না বলে মাথাটা শুধু না সূচক ইশারায় হেলালো। আমি আবার বল্লাম,”যদি আমি বলতাম কাজিনের সাথে এতো ঘুরাঘুরি ঠিক না।এতো লাই দিওনা। তাহলে কখনোই আমার কথা শুনতেনা,উল্টো আমার উপর রাগ দেখাতে। ছেলেদের মাথায় উঠালে কি হয় তা আমাকে দিয়ে বুঝেছো।

তখন সিংগেল ছিলে একটা কথা। আমি থাকতেও তোমার এরকম করাটা ঠিক হয়েছে বলো?” ফারিন এইবার আমার দিকে তাকিয়ে বল্লো,”ভুল হয়ে গেছে।” আমি বল্লাম,”এইরকমটা আর করোনা। ওয়েটিংয়ে পেলে কেন এমন করতাম তার প্রমান নিশ্চয় পেয়ে গেছো! কত গুলাদিন কষ্টে রাখছো খেয়াল আছে? ভালো করেই জানতে একটু পাগল কিছিমের আমি।” ফারিন বল্লো,”প্লিজ আর লজ্জা দিওনা আমাকে।” আমি আর কিছুনা বলে চুপ করে রইলাম। ভার্সিটির কাছে আসতেই খেয়াল করলাম ফারিন ঘুমিয়ে পড়েছে। আমি রিকশাওয়ালাকে আস্তে করে বল্লাম,”ধানমন্ডি লেকের সামনে চলেন মামা।” আমার কথা রিকশাওয়ালা শুনে রিকশা ঘুড়িয়ে লেকের পারে যেতে লাগলো। আরো বিশ মিনিট যেতেই লেকের পার আসতেই আমি ফারিনের মাথার সাথে মুখ ঘেঁষে বলে উঠলাম,”ফারিন!উঠো।” আমার ডাক শুনে ফারিন তাড়াহুড়ো করে উঠে আমার দিকে তাকালো। খেয়াল করে দেখলাম ওর চোখ জোড়া লাল হয়ে গেছে।

আমি রিকশা ভাড়া দিয়ে ফারিনকে নিয়ে সোজা লেকের পার যেয়ে প্লেস খুজতে লাগলাম। সকাল ছিলো বিদায় লেকের পার ভীর জমলেও তেমনটা ছিলোনা। আমি ওকে নিয়ে এক সাইডে বসতেই ও আবার আমার হাতটা ধরে কাধে মাথা রেখে শুয়ে রইলো। আমি বল্লাম,”খুব ঘুম পাচ্ছে?” ফারিন মাথা হেলিয়ে হ্যা সূচক ইশারা করলো। আমি বল্লাম,”বাসায় যাও কাল বের হবোনে!” ফারিন বল্লো,”বাসায় গেলে আর ঘুম আসবেনা। খুব অন্যায় করে ফেলেছি তোমার সাথে তাই না!” আমি বল্লাম,”নাহ!” ফারিন বল্লো,”তোমার কি সমস্যা হচ্ছে?” আমি বল্লাম,”না।” ফারিন আর কিছু না বলে চুপ করে রইলো। বেশ কিছুক্ষণ হয়ে গেলো কেউ কোনো কথা বল্লাম না। ফারিনের দিকে তাকাতেই দেখলাম ঘুমে খুব মগ্ন! চেহারাটা যেনো মায়া দিয়ে ভরে গেছে। ইশ! এতো কাছে থেকে কতগুলো দিন পর দেখলাম ওকে! কিভাবে থাকবো তোমাকে ছাড়া! মস্তিষ্কে যে পোষণ করে নিয়েছি! আমি আলতো করে ওর কপালে দুইটো চুমু খেয়ে। মোবাইলটা বের করে কয়েকটা ছবি উঠাতে লাগলাম।

যোহরের আজানটা দিতেই ফারিনের ঘুমটা ভাঙ্গলো। চোখটা খুলেই আমার দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো। ঠোটের কোনে মৃদু একটা হাসি দেখতে পাচ্ছিলাম ওর। আজান শেষ হতেই আমাকে ও বল্লো,”এই তিন ঘন্টা এইভাবেই ছিলাম আমি!” আমি মাথা হেলিয়ে হ্যা সূচক ইশারা করলাম।কেন যেনো একদমি ওর উপরে থাকা সব রাগ গুলো আমার ভেনিস হয়ে গিয়েছিলো। খুব ইচ্ছে করছিলো একটু জড়িয়ে ধরি কিন্তু সম্ভবনা। ফারিন একটু নেড়েচেড়ে বসে আমার হাতটা ভালো করে ধরে আমাকে অবাক করে খুব দূরুত্বের সাথে আমার ঠোটে চুমু দিয়ে উঠলো। আমি অবাক না হয়ে বল্লাম,”জলন্ত আগুনটাকে কয়েক মিনিটেই ঠান্ডা করার ক্ষমতা তোমাদের আল্লাহ দিয়েই পাঠিয়েছেন।” ফারিন আমার দিকে তাকিয়ে এইবার একটু আওয়াজ করেই হাসলো। আমি আবার বল্লাম,”উঠবে এইখান থেকে?” ফারিন বল্লো,”একটু জড়িয়ে ধরে যদি ঘুমাতে পারতাম তাহলে ঘুমটা আরো ভালো হতো।” আমি বল্লাম,”আর এইরকম কথা বলে মায়ায় ফালিওনা প্লিজ।” ফারিন হাসতে হাসতে উঠে দাড়ালো। তারপর দুইজন পুরো লেক পাড় ঘুরে। পাশে থাকা কাবাব ঘরে ঢুকে লাঞ্চটা সেরে নিয়ে ডাইরেক্ট ক্যাম্পাসের জন্য রওনা দিলাম।

সারাটা বিকেল বন্ধুদের সাথে নিয়েই ক্যাম্পাসেই সময় কাটালাম। সত্যি বলতে হালকা স্বাজে খুব অপরূপ লাগছিলো ফারিনকে। সন্ধ্যা নামার মুহূর্তেই আমি ফারিনকে বল্লাম,”চলো তোমাকে বাসায় দিয়ে আসি!” ফারিন বল্লো,”হুম চলো!বাসা থেকে অলরেডি তিন চারবার ফোন দিয়েও দিয়েছে।” কথাটা ফারিন বলার সাথে সাথেই আমি সব ফ্রেন্ডের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে ফারিনকে ওর বাসায় পৌছিয়ে দেওয়ার জন্য ক্যাম্পাস থেকে বাহিরে বের হয়ে আবার রিকশা ঠিক করলাম। রিকশা চলতে লাগলো। আমি অপলক দৃষ্টিতে ওর দিকে রইলাম। রিলেশনের মাঝে ছোট খাটো একটা ব্রেক না হলে আসলেই কোনো মজা নেই। তবে আমাদের ব্রেকটা খুব বেশি দৃর্ঘ হয়ে গিয়েছিলো। সত্যি বলতে খুব পাগলামি করতে ইচ্ছে করছিলো। আমি আস্তে করে ওর কোমড়ে হাত রাখতেই ফারিন আমার দিকে তাকালো। ওর চোখে মুখে আমি এক আবেদনময়ী দৃশ্যের অনুভূতি দেখতে পেলাম। খেয়াল করলাম ফারিন নিজেই রিকশার হুকটা টান দিয়ে উঠেয়ে দিলো। আর কিছুটা গাঁ ঘেঁষে আমার সাথে বসলো।

আমার ভিতরে যে এই হালকা শীতের বাতাসের মাঝে ওর প্রতি যে মায়াটা খুব খুব বশিই জন্ম নিয়ে নিলো যা আমি মোটেও চাচ্ছিলাম না হারাতে। আমি কিছুনা ভেবে বল্লাম,”তোমার পক্ষের দুইজন সাক্ষি নিয়ে এসোতো। আমিও আমার পক্ষের দুইজন সাক্ষি নিয়ে আসবো। আমি আগামিকালের ভিতর তোমাকে বিয়ে করতে চাচ্ছি।” ফারিন খুব অবাক হয়েই আমার কথা শুনে তাকালো। ও যে আমার কথাটা বিশ্বাস করতে পাচ্ছে না। আমি তা ঠিকি এইবার বুঝতে পারলাম। আমি আবার বল্লাম,”আমি আর তোমাকে হারাতে চাচ্ছিনা। চলো কোট ম্যারেজটা করে ফেলি। আমার ফ্যামিলি ঠিকি মেনে নিবে। কিন্তু তোমার ফ্যামিলা না মানলে কোট ম্যারেজ এর কাগজটা খুব হেল্প করবে।” ফারিন বল্লো,”তুমি কি ফাইজালামি করতেছো।” আমি জানি ওর বিশ্বাস হবে না। তাই আমি আমার হাতটা ফারিনের মাথায় রেখে বল্লাম,”সত্যি বলতাছি বিয়ে করবো। আমি তোমাকে হারাতে চাচ্ছিনা আর! তোমার প্রতি খুব লোভ জন্মেছে আমার। আমি চাই না সেই লোভটা হারাম ভাবে ভোগ করি।

আমি নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারতেছিনা। তুমি যদি রাজি থাকো সত্যি কালকের মধ্যেই বিয়েটা সেরে ফেলবো।” ফারিন কোনো কথা বল্লোনা। চুপ করে বসে রইলো। রিকশা চলতে লাগলো নিজ গতিতে। প্রায় বিশ মিনিট হয়ে গেলো ফারিনের বাড়ির কাছাকাছি এসে পরেছিলাম কিন্তু ফারিনে কাছে আমার উত্তরটা পেলাম না। রিকশা থেকে ও নেমে আমার দিকে একটু তাকিয়ে বাড়ির ভিতর চলে গেলো। ওর মুখে উত্তরটা না পেয়ে আমার ভিতরটা কেমন করে যেনো মোচড় দিয়ে উঠলো! ফারিনকি আমাকে বিয়ে করতে চায়না! আমি বেশি দেড়িনা করে রিকশা ঘুড়িয়ে নয়াবাজারের মোড়ে যেতে বল্লাম। রিকশা ঘুড়িয়ে কিছু দূর যেতেই ফারিনের ফোন আসলো। আমি ফোনটা ধরতেই ফারিন বল্লো,”আমাদের বাসার নিচে আসোতো!” আমি বল্লাম,”কেন কি হয়েছে?” ফারিন বল্লো,”আসো তাড়াতাড়ি।” আমি আর কিছুনা বলে রিকশাওয়ালাকে রিকশা ঘুরাতে বল্লাম।

ফারিনের বাসার সামনে আসতেই আমি রিকশা থেকে নেমে রিকশাওয়ালা মামাকে বল্লাম,”একটু অপেক্ষা করো আমি আবার যাবো।সমস্যা নাই ভাড়া বাড়িয়ে দিবো।” কথাটা বলার সাথে সাথেই ফারিন আবার ফোন দিলো। ফোনটা ধরতেই ও বল্লো,”কই তুমি?” আমি বল্লাম,”তোমার বাড়ির সামনে।” ফারিন বল্লো,”আমি নিচ তালার ওয়েটিং রুমে আছি আসো তাড়াতাড়ি।” আমি আর কিছু না ভেবে বাড়ির ভিতর ঢুকে সোজা ওয়েটিং রুমে যেয়ে ঢুকলাম। খেয়াল করলাম ফারিন বোরকা পড়ে বসে আছে। আমি ওর সামনে যেতেই সোজা বসা থেকে উঠে আমাকে জড়িয়ে ধরলো। আমি খুব অবাক হয়ে গেলাম। কিছু সময় জড়িয়ে রেখে আমার দিকে তাকিয়ে থেকে ফারিন আমাকে আবার অবাক করে ঠোটে গভীর ভাবে চুমু দিতে লাগলো।

আমি নিজে থেকেই কিছুক্ষণ যেতেই ওকে ছাড়িয়ে নিয়ে বল্লাম,”প্লিজ কন্ট্রোল ফারিন।” ফারিন আমার কথাটা শুনে নিজেকে চাপিয়ে নিয়ে বল্লো,”আগামিকাল তো শুক্রবার আগামিপড়শু আমি সাউদিয়া আর ওর হবু হাসবেন্ড কে নিয়ে চলে আসবো তুমিও তোমার দুইজন সাক্ষি আর সিমাকে নিয়ে চলে এসো।” ফারিনে কথাটা আমি নিজের কানেকে বিশ্বাস করাতে পারলামনা। আমি বল্লাম,”সত্যি কি বিয়ে করবে আমাকে?” ফারিন একটু হেসে আমার গালে হাত দিয়ে অপলকভাবে তাকিয়ে থেকে মাথা হেলিয়ে হ্যা সূচক ইশারা দিয়ে আমাকে বুঝিয়ে দিলো। আমি আর নিজেকে আটকে না রেখতে পেরে ফারিনকে টেনে আবার জড়িয়ে নিলাম। প্রায় মিনিট দুইয়েক পর ফারিন বল্লো,”ছাড়ো কেউ এসে পড়বে।আর খুব শুরশুরি লাগতেছে।” আমি আরো কিছুক্ষণ জড়িয়ে ধরে রাখলাম ওকে।

পরক্ষণে মনে পড়লো রিকশা দাড়া করিয়ে রেখে এসেছি। আর দেড়িনা করে ফারিনকে ছেড়ে দিয়ে বল্লাম,”শনিবার কিন্তু আমার সাথে থাকবে!” ফারিন মুচকি হেসে আমার দিকে অন্যরকম ভাবে তাকালো। তারপর আমাকে বল্লো,”লুচুগিরীর স্বভাবটা গেলোনা।” আমি বল্লাম,”ওইটা প্রাপ্য আর অধিকারো!” ফারিন বল্লো,”অধিকার তাইনা!” আমি মাথা হেলিয়ে হ্যা সূচক ইশারা করলাম। তারপর ফারিন হাসতে হাসতে আমাকে ধাক্কা দিতে দিতে বাহিরে বের করে বলতে লাগলো,”এখন যাও তোমার এই প্রাপ্য আর অধিকারের কথা রাতে ফোনে বইলো।” আমি আর কিছু না বলে আস্তে করে বাড়ি থেকে বের হয়ে গেলাম। সত্যি বলতে আমার শহরের এতোদিন জমে থাকা মেঘ গুলো যেনো আজ বেলা শেষে নতুন এক শহরে ঠাই পেয়েছে।

গল্পের বিষয়:
গল্প

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত