আইসক্রিম

আইসক্রিম

রাত একটা বাজে হঠাৎ করে রিহানের ফোন বেজে উঠলো, ফোনের শব্দ শুনে সাথে সাথে রিহানের ঘুম ভেঙ্গে যায়। কল রিসিভ করতেই অদ্ভুত সব গালাগালি কুত্তা-শয়তান-বাটপার-ফাজিল এইসব। তখন রিহান চুপচাপ শুনে যাচ্ছে। কারন কলটা আর কেউ করেনি, ওর ভালবাসার পাগলী টা কল দিয়েছে। মেয়েটা মনে হয় এখনো ঘুমায়নি

-তুমি এখনো জেগে আছো? (রিহান)
-হুমম,  আমি আইসস্ক্রিম খাবো এখন (রুপা)
-এত রাতে আইসক্রিম খাওয়ার ইচ্ছে জাগলো?
-হুমম
-কি হুমম? আর এত রাতে আমি কোথায় পাবো আইসক্রিম?
-কোথায় পাবা মানে? তুমি আমাকে একটুও ভালবাসো না আমি জানি
-আরে বাবা এর মাঝে ভালবাসা আর না বাসার সম্পর্ক কি?
-আচ্ছা থাক লাগবে না তোমার আইসস্ক্রিম।

এটা বলেই কল কেটে দেয় রুপা, মেয়েটা রাগ করেছে। আর রুপা রেগে থাকলে রিহানের ঘুম হবে না। তাই বিছানা থেকে উঠে বের হয়ে যায় আইসক্রিমের দোকানকে উদ্দেশ্য করে। কিন্তু এত রাতে কোন দোকান খোলা নেই। পার্কের সামনের দোকান টাও আজ বন্ধ। কিন্তু অন্য সময় খোলা থাকতো দোকানটি, কি করবে এখন? রিহান খুব চিন্তায় পড়ে গেছে অন্য দিকে রুপা রাগ করে নির্ঘুমে বসে আছে। তখন রিহান ওর এক বন্ধুর কাছে ফোন দিলো, ওদের ফ্রিজে সব সময় আইসক্রিম থাকে, কারন ওর ছোট বোন সারাদিন আইসক্রিম খায়।

-দোস্ত (রিহান)
-কিরে রিহান এত রাতে কল দিলি কেন? (সজিব)
-দোস্ত রুপা রাগ করে বসে আছে আইসক্রিমের জন্য।
-কি বলিস এত রাতে?
-হুমম, তোদের ফ্রিজে তো আইসক্রিম থাকে, দেয়া যাবে?
-হুমম তুই বাসার নিছে আয়, আমি আইসক্রিম নিয়ে নামছি!
-আচ্ছা।

দৌড়ে সজিবের বাসায় চলে গেলো রিহান। এবং দুটো কোন অাইসক্রিম সজিবের কাছ থেকে নিয়ে, রুপাদের বাড়ির পথ ধরে হাটা শুরু করলো রিহান। রাস্তায় যেতে যেতে রুপাকে অনেক বার ফোন দিয়েছে কিন্তু রিসিভ করেনি। মনে হয় পাগলী টা রেগে অাছে, রুপা রাগ করলেওর চেহারা একদম লাল হয়ে যায়।তখন দেখতেও খুব মায়াবী লাগে, কিন্তু ডাক্তারবলেছে রুপাকে রেগে থাকতে দেয়া যাবেনা। অতঃপর রিহান রুপার বাসার নিচে দাড়িয়ে অাছে, রিহান লক্ষ্য করলো রুপা ওর রুমের বাড়ান্দায় হাল্কা লাইটের অালো জ্বালিয়ে বসে অাছে। রিহান রুপাকে ডাক দিতেই রুপা উপর থেকে রিহানকে উদ্দেশ্য করে বলে শয়তান কুত্তা বখাটে টা এখানে কেন?

-ওই তুই এখানে কেন অাসলি কে বলছে এখানে অাসতে? (রুপা) রিহান রুপাকে তখন কল দিলে রুপা রিসিভ করে।

-তোমার জন্য আইসক্রিম এনেছি, কোন অাইসক্রিম। (রিহান)
-তোর অাইসক্রিম তুই খা, অামি খাবো না (রুপা)
-সরি রুপা অামার ভুল হয়ে গেছে, অার এত রাতে দোকান খোলা ছিলো না, অনেক কষ্টের পর দুটো অাইসক্রিম পেয়েছি। অনেক বুঝানোর পর পাগলীর রাগ কমাতে সক্ষম হয় রিহান। এবং রুপা নিচে নেমে অাসলে রিহান রুপার হাতে আইসক্রিম গুলো ধরিয়ে দেয়।

-এত রাতে আইসক্রিম খাওয়ার ইচ্ছে জেগেছে কেন? (রিহান)
-স্বপ্ন দেখেছি (রুপা)
-স্বপ্ন দেখে আইমক্রিম খাওয়ার ইচ্ছে হলো?
-হুহ্
-তো এমন কি দেখলে শুনি!
-অামাকে কেউ অাইসক্রিম খেতে দেয়না, সবাই অামাকে দেখিয়ে দেখিয়ে খাচ্ছে।
-কি? হাহাহা (একটু হেসে)
-তুই হাসছিস? শয়তান খাবো না তোর অাইসক্রিম
-অাচ্ছা বাবা সরি, এবার যাও আইসক্রিম খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ো রাত অনেক হয়েছে।
-অাচ্ছা শুভ রাত্রি
-হুমম শুভ রাত্রি।

রিহান রুপাকে খুব ভালবাসে, রুপাও রিহানকে অনেক ভালবাসে। কিন্তু রুপার মাথায় একটু প্রবলেম অাছে, একদিন রিহান অার রুপা রিকশায় করে ঘুরছে। হঠাৎ একটি Accident এ রুপা মাথায় অনেক অাঘাত পায়, এরপর থেকে সে কি করে না করে সব ভুলে যায়।

রুপা এবার Hsc পরিক্ষার্থী কিন্তু এবার তার পরিক্ষাও দেয়া হলোনা। তাই রুপাকে বাসা থেকে বের হতে দেয়া হয়না। কিন্তু ডাক্তার বলেছে ২/৩ মাসের মদ্ধে সব ঠিক হয়ে যাবে। তবে ওর সব ইচ্ছে পুরণ করতে হবে কোন রকম টেনশনে রাখা যাবে না এবং কষ্ট দেয়া যাবে না। তাই রিহান চেষ্টা করছে ওর সব ইচ্ছে পুরণ করার জন্য। এবং অপেক্ষায় অাছে কবে রুপা একদম সুস্থ হয়ে যাবে অার দুজন এক সাথে তাদের প্রিয় যায়গা গুলোতে ঘুরতে যাবে।

গল্পের বিষয়:
গল্প

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত