মোহনীর দাদার বিয়ে

মোহনীর দাদার বিয়ে

-তাই হোক।
-কি হোক দাদা?
নিশোথ তার বোন মোহনীর দিকে তাকাল।
-তুই আরও বড় হ।
মোহনী হেসে হেসে বলল-আর কত বড় হব দাদা,তালগাছের সমান?
-এত বড় হ যে আকাশের মেঘ ছুঁই ছুঁই করে।
-থাক এত বড় হয়ে আমার কাজ নেই। আমি যেমন আছি তেমনি ভাল।অত বড় হলে বিয়ে করার ছেলেয় খুঁজে পাব না।
-এই মেয়েটার ছবি দেখ।
এই বলে একটি ছবি মোহনীর হাতে দিল।
-এতো পুরো ডাইনি।ছবির দিকে তাকাতেই কেমন জানি গা ছমছম করল।
-পরীর মত মেয়ে,আর তুই বলিস ডাইনি?মাথা তোর গেছে।
-আমার মাথা ঠিক আছে।
নিশোথ হেসে বলল-তোর হবু বরটা কেমন?
-একেবারে রাজকুমার।

নিশোথ হু হু করে হেসে উঠল।বলল-এই ডাইনিটাই হচ্ছে তোর রাজকুমারের একমাত্র বোন।
মোহনীর মুখটা চুপসে যায়। হালকা হেসে বলল-আরে আমিতো মজা করেছি। এই মেয়েতো আসলেই পরীর মত।
-যাক তাহলে একটা কথা বলি।
-বল।
-মেয়েটা তোর বউদি হবে।
-কি?
-প্লীজ,মাকে গিয়ে বল না?
-না।আমি তোমার মত ভবঘুরের সাথে ওর বিয়ে দিব না।
-ও সোনা তোর কিছু হয় না।
-বললে আমার…
নিশোথ দাঁত বের করে ফিক করে হেসে বলল-মিথ্যে বলেছিলাম।
-না,এই ডাইনিটা কিছুতেই আমার বউদি হতে পারে না।
-অমনি ডাইনি হয়ে গেল।

নীলপরী,নীলপরী করে ডাকতেই একটি মেয়ে সামনে এসে দাঁড়াল। মোহনী মেয়েটার দিকে তাকিয়ে বিস্মিত হল। নীলপরী মোহনীর গালে চিমটি দিয়ে বলল-মোহনী যাও,মাকে বল,তোমার দাদা বিয়ে করেছে।
মোহনীর ঘোর কাটছে না।ছবিতে দেখল ডাইনি মত মেয়ে,বাস্তবে তো একেবারে পরী।–এ কি দেখছি দাদা?
-তোকে এমনি এমনি এক মেয়ের ছবি দেখিয়েছিলাম।

মোহনী ঘোর কাটিয়ে বলল-বউদি তুমি এসেছ,খুব ভাল হয়েছে।এবার বাঁদরটাকে দুইজনে মিলে জ্বালাব।খুব মজা হবে।মাও খুব খুশি হবে।দাদাকে বিয়ের কথা বলতে বলতে বিয়ের আশা প্রায় ছেড়েয় দিয়েছেন।
মা,মা,দেখ দাদা কী কাণ্ড করেছে?-এই বলতে বলতে মোহনী পাশের রুমে গেল।নীলপরীর খুব খুব অস্থির অস্থির লাগছে।

গল্পের বিষয়:
গল্প

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত