আঁচিল

আঁচিল

বেশ কদিন হলো বড় আপু বলছে আমাদের বাড়িতে আই ঘুরে যা। অনেকদিন হলো আসিস না। এখন তো হাতে কাজ নেই। আমি যাবনা যাবনা অনেকবার বলেছিলাম। শেষ একদিন আপুর কল,
লতা আপু– কী করছিস?

আমি– ঘুমাচ্ছিলাম। কেন বল…
— আব্বু আম্মু কই??
— তাদের ফোনে কল দিয়ে শুনেক কই।
— তোকে বলেছি তুই বল।
— জানিনা। আমি রুমে। আর কিছু বলবি??
— হুম!
— কী দ্রুত বল।
— লক্ষি ভাই আমার, তোর দুলাভাই এই সপ্তাহে বাইরে যাবে। আমার একা থাকতে অনেক ভয় করে তুই আই না প্লিজ।

— ওহ তার মানে তুই আমাকে কেয়ার টেকার ভাবিস!!
— আহা না! তা কখন বললাম, আমি তোর আপু না বল, আমার একা থাকতে ভয় করে এতো বড় বাড়ি।
— একা মানে। তোর শশুর শাশুড়ি কই??
— উনারা আছে। তুই আই না প্লিজ ভাই।
— গেলে কত দিবি??
— ২ হাজার দিবো খুশি এবার আই।
— ছিঃ আপু তুই আমাকে মাত্র ২ হাজার দিবি! তোর জামাই মাসে কত আর্ন করে জানিস তুই??
— হইছে দিবোনে আই আজ বিকালে ট্রেনে আসিস ভাই।
— আম্মু কে কী বলবো??
— তোর কিছুই বলতে হবেনা আমিই সব বলেছি।
— ওরে পেত্নী আগেই সব ঠিক করে রাখছিস।

—এই হলো আমার আর আপুর সম্পর্ক। দুজন দুজনকে ভিষণ রকম ভালোবাসি। আমরা ৩ ভাইবোন। আমি ছোট বড় ভাইয়া আর্মি তে আছেন। আপুর জামাই বড় ব্যাংকার। আপু গৃহিণী। আর আমার ভাবী একজন শিক্ষিকা। আমি মেঘ একমাত্র ভবঘুরে। আর এদিকে আম্মা আর বাবা এই হলো আমাদের পরিবার। বলা বাহুল্য ভাবী প্রেগন্যান্ট। ছোট্ট এই মিষ্টি পরিবার দেখে অনেকেই বলে বসে তোদের ফ্যামিলিচিত্র অনেক মিষ্টি বুঝলি।

আপু যখন বাসায় আসে তখন আমার বন্ধু যারা আছে সবাই দাওয়াত পায়। ওদের সবাই কে নিয়ে চলে পিকনিক। রাতে লেট -নাইট আড্ডা নানান সব আয়োজন। আপু আমাদের সবাই কে খুব স্নেহ করে। আর তাছাড়া আমাদের দুলাভাই এলেই ক্রিকেট ম্যাচের জন্য যত খরচ সব ভাইয়া বহন করে। ভাইয়ার অযশ্র টাকা থাকলেও মনটা একদম শিশুর মতো। কত যে মজা করি আমরা তার হিসাব মেলানো ভার।

–বিকালবেলা আম্মা বাবা কে বিদায় জানিয়ে চলে গেলাম রেলস্টেশনে। তারপর নিজের ব্যাগপত্র গুছিয়ে উঠে পড়লাম জানালার পাশে এক সিটে। আসার আগেই বলে দিলাম তোর বাসায় এসেই কিন্তু মুরগী খাবো। আপু হেসে বলেছিল হুহ খাবি যত ইচ্ছা এখন দেখেশুনে আসিস। আর বাইরের ওসব হাবিজাবি খাস না আম্মা শুনলে আমাকে বকাবকি করবে। আমি বলেছিলাম, ওকে খাবোনা। আমার একটা দোষ আছে বাইরে খাবার দেখলে একটু চেকে দেখতে ইচ্ছা করে। কারণ খাবার গুলো বেশ মজাদার হয়। আর এতেই আপুর রাগারাগি।

–ভাইয়া ভাবীকে বললাম আপুর বাসায় যাচ্ছি। ভাবী বলছিল তাদের বাসায় যেন একবার ঘুরে আসি। ভাবী অনেকদিন তার আদরের দেবর কে দেখেনা তাই। আমি হেসে বললাম ঘুষ দিলে যাবো। কিন্তু ভাইয়াকে বলা যাবেনা। ভাবী হাসল। এইটাও যেন আমার ভাবী না আমার মাতৃসমতুল্য বা বোন। এরপর চিপস খাচ্ছিলাম আর অনলাইনে দেখছিলাম।

–গভীর রাতে পৌছে গেলাম। আপু নিজেই গাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছে! তারপর সোজা গাড়িতে চেপে আপুর বাসায়। আপুকে জড়িয়ে ধরলাম ভাইয়াকেও তারপর নানান গল্প।

–সেরাতে সামান্য খেয়ে ঘুমাতে গেলাম। আপু আগে থেকেই রুম ঠিক করে রাখছে, মোবাইল চার্জে দিয়ে ঘুমাতে গেলাম। ক্লান্ত ছিলাম দ্রুত ঘুমিয়ে গেলাম। পরেরদিন সকালে আপুর ডাকে ঘুম ভাঙল। শুনলাম দুলাভাই এখুনি চলে যাচ্ছে, আমি তাকে বিদায় দিতে চলে গেলাম গেট পর্যন্ত তারপর দুলাভাই একটা ৫ হাজার টাকার চেক হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলল আপুকে দেখে রাখতে সে ঠিকমতো খাওয়া দাওয়া করেনা। তারপর আমার মুচকি হাসি। আপু পর্দানশীল তায় বাইরে উনি কম যান। যা কিছু ভাইয়া কিনে নিয়ে আসে। যদি যখন আপু যায় তখন বোরখা পড়েন। দুলাভাই দেখতে বেশ হ্যান্ডসাম দেখলেই বোঝাযায় সাহেবি একটা বেপার।

–দুপুরবেলা দুজন মিলে মুরগী খেলাম মজা করে। তারপর আপুর সাথে বসে নানান গল্প। বাড়ির সব গল্প। আপু কিন্তু লেখেলেখি করেন। মানে ছন্মনামে কবিতা লেখেন আপুর লেখার ফ্যান প্রচুর। আগামী মাসে আপুর বই বের হবার কথা চলছে। সম্ভবত হয়ে যাবে। আপু সারাদিন বই পড়ে আর কবিতা লেখে। সেসব নিয়েও কথা হলো! আমাকেও উৎসাহ দেন এসব লিখতে আমি বলি এতো নিমগ্নচিত্রে বসেবসে ভাবার মতো সময় আমার কাছে নেই। সন্ধায় গোধূলি নেমে এলো ধরণীতে, আমি গীটার হাতে আপুদের বাসার ছাদে বসে আছি,

–টুংটাং করে সুর তুলছি, ভোকাল খারাপ না গান গাওয়া যায়। তাতে আশেপাশে দু চারজন থাকলে কেউ হয়ত বলবে খারাপ না। বসে মিনারের দেয়ালে দেয়ালে গান টা করছিলাম। কানে হেডফোন আর হাতে গীটার। আপু কখন আসছে খেয়াল করিনি। তারপর যখন আপু আমার কান টেনে বলল।

-আপু– এই বদ তুই গান কবে শিখলি আমাকে তো বলিস নি…
— শিখছি কই গাচ্ছিলাম।
— বাহঃ ভালোই তো গাচ্ছিলি থামলি কেন??
— পুরো গাইলে কত দিবি??
— একটা ছেড়া দুই টাকার নোট!
— হাহাহাহা, যাহ এইটা তোর গিফট কফি আনার জন্য গানটা ফ্রী। চোখ বন্ধ কর তাহলে ফিল করতে পারবি।
— চলছে কভার বাই ক্লাউডস প্রেজেন্টস দ্য সং দেয়ালে দেলালে বাই মিনার অর্জিনাল ভোকাল।
আপু পুরো শুনে বলল যা এই গান শুনে আমি মুগ্ধ তোকে ৫০০ টাকা গিফট দিলাম। আহা আরেকটু দে না আপু তোর বাসায় এলাম।
— হাহাহা আমাকে হার্ট করা হচ্ছে তাই না।
— হিহিহিহি আপু একটা কবিতা শুনাবি…..
— হুহ ওয়েট আমি ডাইরী টা নিয়ে আসি।
— আর টাকাটা নিয়ে আসিস। পকেটে টাকা থাকলে মন ভালো থাকে ছেলেদের।
–আপু যখন ডাইরী নিয়ে ফিরল তখন আমাকে এক হাজার টাকার ৪টা নোট হাতে দিলো আমি আপুকে একটা থ্যাংস দিলাম। আপু হইছে বলে একটা কবিতা শুনালো।

অসাধারণ লেগেছিল। লতা এতো ভালো কবিতা বলতে পারে আগে ভাবিনি।

–এরপরে আপুর সাথে নানান গল্প করে কেটে যাচ্ছিল দিনকাল। একদিন আপু বলল পাশের বাসায় তাদের এক প্রতিবেশী কাব্য সাহেবের বাসায় দাওয়াত আছে। তাই আমি আর আপু গেলাম চুজ করে গিফট কিনতে। দুজন মিলে একটা সুন্দর গিফট কিনলাম। তারপর বাসায় ফিরলাম সন্ধায় যেতে হবে বলে তারা ইনভাইটেশন কার্ড দিয়ে গেছেন। আপু আমাকে ড্রেস চুজ করে দিলো। আর আপু তো মুখ বেধে শুধুমাত্র চোখ ছাড়া আর কিছুই দেখা যায়না। তাই আপুকে বেশি। সাজুগুজু করতে হয়না। এরপর দুজন মিলে গেলাম সন্ধায়।

–সেখানে আয়োজনের আড়ম্বর ছিলোনা। গান চলছে সবাই হেলেদুলে নাচছেন। কেউ বা বসেবসে গল্প করছেন হাসছেন। আপুকে বললাম, আপু চল ছাদে যায় ওখানে অনেক ফাকা। তারপর ওয়েটার কে বললাম শুরু হলে আমাদের জানাতে আমরা ছাদে যাচ্ছি। আপু আর আমি মিলে ছাদে উনাদের ফুলের গাছের পাশে দাঁড়িয়ে আছি। মিষ্টি ঘ্রাণ আসছে। ওখানকার ওসবের থেকে আমার প্রকৃতি প্রেমিকা আপুর সাথে ফুলের ঘ্রাণ অনেক ভালো। দুজন মিলে সামনে আগাচ্ছি। সামনে যেতেই চোখে পড়লো ঠিক আপুর মতো এক মেয়েকে। চোখ বাদে আর কিছুই দেখা যাচ্ছেনা। আমি আপুকে কেনুই দিয়ে গুতা দিয়ে বললাম আপু চোখ দুটো দ্যাখ পুরো হরনীর বাচ্চা। আপু হেসে দিলো। বলল চুপ! তারপর তার সাথে আপু নানান কথা বলল, আমাকেও পরিচয় করিয়ে দিলো। তখন জানলাম তার নাম মায়া, সে কলেজে পড়ে। আপুকে কানেকানে বললাম আপু এর নাম্বার টা নিয়ে দিলে আজীবন ফ্রী কাজ করে দেবো আর একটা টাকাও নেবোনা। আপু আবার হেসে দিলো। বলল দুষ্টু হচ্ছিস!!
তারপর আপু আর মেয়েটি অনেক গল্প করছিল। আপু আড়চোখে কিয়েকবার তাকে দেখলাম। মাঝারী গড়ন আর আপুর মতো উচ্চতা। এতো মায়াবী চোখ যে রাতের হাল্কা আলোতে তা জ্বলজ্বল করছে। যেন ডুবে যাওয়ার অপেক্ষায়, যেন প্রবাহমান নদী। ভাসিয়ে নিয়ে যাবে আমাকে। স্থিত পলকহীনভাবে তাকিয়ে থাকলে অনায়াসে কয়েক ডজন কবিতা লেখা সম্ভব। আপুর ইচ্ছাটা পূরণ হবে। আর আমার মতো ভবঘুরের গৃহটুকু হবে। দিনশেষে ওই নদীতে ডুব সাঁতার দিতে পারব।

—ওয়েটার ডেকে গেলো আমাদের। সবাই মিলে গেলাম সেখানে। তারপর চলছিল সবকিছু আমি আর আপু পাশাপাশি বসে সেসব দেখছিলাম। খাবার খেলাম সেখানেই। তারপর আপু আর আমি বাসায় চলে এলাম। আমাদের আসার সময় দেখলাম মায়া আমার দিকে তাকিয়ে বলল ভালো থাকবেন আপু। আবার দেখা হবে। খুশিতে আমার অবস্থা গদগদ। আমি আপুকে বললাম, আপু আবার দেখা হবে?? আপু বাড়বার হাসে আর বলে হ্যা আবার দেখা হবে সেদিন তুই যখন গীটার বাজাচ্ছিলি তখন মেয়েটি জানালা দিয়ে তোকে দেখেছিল তাই বলছিল তুই ভালো গান পারিস। আমি বললাম আপু আমি সারাজীবন তোর বাসার ছাদে গান করব। প্রয়োজনে তোর বাসার ছাদে মিনার ভাইয়া কে ডেকে টুগেদার পারফর্ম করব শুধু তার জন্য। আমি কান টেনে বলল খুব পেকেছিস তাইনা।

—-তারপর স্বাভাবিক ভাবে যাচ্ছিল আমার আর আপুর দিন। আপু একদিন মেয়েটিকে আমাদের বাসায় আসতে বলে মেয়েটি জানতে এখানে কেউ থাকেনা তেমন আর ভাইয়া বাসায় নেই। তাই বোরখা পড়ে আসেনি। এই প্রথম আমি মেয়েটিকে দেখছি আমি স্থব্ধ। এতোমা মায়াবী একটা মেয়ে কিভাবে হতে পারে?? তার দিকে তাকিয়ে বুঝলাম তার ঠোঁটের নীচে একটা আচিঁল আছে। আর সেটা আমাকে প্রচন্ডরকম আকর্ষণ করছিল। আমি যেন সেই ডাকে সাড়া দিচ্ছিলাম। নানান গল্পের শেষে তার সাথে আমিও গল্প করছিলাম। আমি তার দিকে তাকাতে লজ্জা পাচ্ছিলাম বেপার টা মায়া বুঝতে পেরে মুচকি হাসছিল। তারপর বিকালে আমরা ৩জন মিলে ছাদে গল্প, কবিতা, গান এসব করছিলাম। মেয়েটি দেখলাম শুধুই শুনলো। তারপর মুচকি হাসি দিয়ে বাসায় চলে গেলো।

—সারারাত আমার দুচোখে ঘুম এলোনা। ভাবনাযুক্ত মন নিয়ে ভেবেই চলেছি। আপু একটা মেসেজ দিলো, কিরে ডাইরী আর কলম দিয়ে যাবো নাকি?? আমি হাসলাম আরে এই নাহলে আপন বোন!! সব বুঝতে পারে।

—এখন আপু থাকুক আর না থাকুক আমার নিত্যদিনের কাজ হলো ছাদে গিয়ে গীটার বাজানো। আর তাকে দেখার জন্য অপেক্ষা। আগে সে জানালায় এসে দাঁড়িয়ে থাকতো এখন সে বিকালে তাদের ছাদে বা বেলকনিতে এসে দাঁড়াই। তারপর যখন টুংটাং শব্দ শুনে ছাদে আসে আর পিটপিট করে আমার দিকে তাকাই সেই চাহনি যেন আমার বুকে এসে বাধে। আর আমি তাকিয়ে থাকি তার আচিঁলের দিকে। কেবলমাত্র ওই আচিঁল আমাকে খুব কাছ থেকে ডেকে যায় আর আমাকে কানেকানে কী যেন বলে যায়। যখন তার সাথে আমার একটু চোখাচোখি হয় দুজনি গোধূলির রঙে রঙিন হয়ে ওঠি।

–সপ্তাহ খানেক কেটে গেলো। আপুকে বললাম,
আমি– আপু তুই ব্যস্ত??
— না বল, কিছু লাগবে??
— হুম।
— কী লাগবে বল..
— অনুমতি!
— মানে?
— আপু আমি মায়াকে ভালোবাসি।
কথাটা শুনেই আপুর মুখে এতো আমি আমি আগে কখনওই দেখিনি।তারপর বলল,
— আরে বোকা এরজন্য অনুমতির কী আছে? যা মায়াকে বলে দে হয়ে যাবে।
— কিভাবে বলবো?

— শোন তুই ওকে ছাদে ডাকেক কাল তারপর রাতভর একটা গান লিখবি এরপর সেই গানে আমরা সুর বানাবো, সকালে তুই প্রাকটিস করবি। বিকালে তাকে গেয়ে শুনিয়ে সোজা ওর চোখের দিকে তাকিয়ে বলবি ভালোবাসি, বা তোমার আচিঁল টা দেখার অধিকার দেবে সারাজীবনের জন্য… দেখবি মেয়ে পটে হালুয়া হয়ে গেছে।
শুনে আপুকে জড়িয়ে ধরে বললাম, আসলেই তুই আমার মায়ের পেটের বোন রে….

—আপুর কথামতো বিকালে আসতে বললাম, তারপর একটা গান যেটা আপুই আমাকে লিখে দিয়েছিল। কারণ আমি সাহিত্য ভালো বুঝিনা। এসব সবার দিয়ে হয়না মন লাগে অন্যরকম যা সবার থাকেনা। তারপর রাতভর জল্পনাকল্পনা। সকালে গানের জন্য গরম পানি দিয়ে গলা আওড়ানো। বিকালে তার জন্য সাজিয়ে রাখলাম ছাদটা বসার জাইগা। ফুল দিয়ে সাজানো টেবিল। সবমিলিয়ে ছাদ টা পুরো অন্যরকমভাবে সাজানো হলো।

—তারপর যখন মেয়েটি আমার কাছাকাছি এলো আমি যা যা ভেবেছিলাম সব গুড়েবালি। এখন দেখি কিছুই মনেনেই। যাহ খোদা প্রপোজ করব কিভাবে। তারপর আজকে আর গানও গাইতে পারছিলাম না। চুপচাপ অনেক টা সময় চলে গেলো মায়া আমার এই চুপচাপ থাকা দেখে বলল, এই নূপুর টা আমাকে পড়িয়ে দেবেন?? আমি এইবার যেন বুকে সাহস পেলাম। তারপর বললাম তার চোখের দিকে তাকিয়ে, ভালোবাসি তোমায়। তোমার ওই আচিঁল টা দেখার অধিকার দেবে আমায় আজীবনের জন্য??
মায়া মৃদ্যু হেসে বলল, হুম এই আচিঁল টা আজ থেকে আপনার।

—-পরেরদিন বিকালে আমি আর মায়া মিলে গেলাম একটা নার্চারিতে সেখানে যেয়ে এক ভ্যান নানানরকম ফুলের গাছ কিনে নিয়ে এলাম বাসায়। তারপর আমি আর মায়া মিলে সেগুলো সাজিয়ে রাখলাম। সন্ধায় যখন আপু এলো এসব ফুলগাছ আর নতুন ফুলের ঘ্রাণ নিয়ে বলল, তোদের ভালোবাসা এই ফুলের মতো পবিত্র হোক আর দুজন দুজনকে সারাজীবন ধরে রাখিস এই দোয়া করি।

তারপর চলতে থাকে আমার মায়ার আচিঁল কে যত্ন নেওয়া আর তাকে ভালোবাসা, আর চলে শেষ বিকালে সবাই মিলে নতুন ফুলের ঘ্রাণে দূরন্ত সব গল্প নিয়ে আড্ডাবাজি। ভালোবাসি মায়া তোমায় বড্ড বেশি।

গল্পের বিষয়:
গল্প

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত