অনিশার আর্তনাদ

অনিশার আর্তনাদ

অনিশার আর্তনাদ

অনিশার চুল এলোমেলো।চোখে মুখে প্রচণ্ড অস্থিরতা।মা তনিশা এসে মেয়ের পাশে বসল।
-এখন কেমন লাগে মা?
-মা আসছে।
-আসলে আসতে দে,তাতে সমস্যা কি?
-মা ওরা ভয়ানক।একসাথে অনেকজন।
-ভয় নেই।আমি থাকতে ওরা তোর কেউ কিছু করতে পারবে না।
-আমাকে নিয়ে নয়।ওরা বলেছে সবার আগে ভাই,বাবা,এরপর তোমাকে মারবে।সবশেষে আমাকে।
তনিশা মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়।বলল-এবার কিছুক্ষণ ঘুমা মা।
-না মা,কিছুতেই না।চোখ বন্ধ করলে ওরা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠে।কী ভয়ানক চোখ,বিশাল ভয়ানক লম্বা লম্বা হাত।মা আমার ভয় করছে।আমাকে ধর।ওরা বলছে এখনি আসবে।
মেয়ের পাগলামি দিন দিন বেড়েই যাচ্ছে।কবে যে মেয়েটা ভাল হবে,কে জানে?এমন সময় দরজায় বেশ জোরে ধাক্কার শব্দ হল।
-মা ওরা এসে গেছে।তাড়াতাড়ি তুমি বাবা আর ভাই সহ বাসা হতে পালিয়ে যাও।
-আরে এমনে কেউ হয়তো এসেছে।দাড়া দরজাটা খুলি।
-না মা দরজা খুলবে না।ওরা এসে গেছে।তাড়াতাড়ি পালাও।আমি এদিক সামলাব।
-এসব কি বলছিস?
এমন সময় দরজাটা ভেঙ্গে প্রচণ্ড ঝড়ো বাতাস রুমের ভিতর ঢুকল।
-অনিশা?
-তোমরা চলে যাও।
-চলে যেতেতো আসি নি।
-তোমরা কি চাও?
-তোমার পরিবারের সবার রক্ত।
এমন সময় তার ভাই মা আর বাবার মাথা মটকে দিল শয়তানরা।চুমুক দিয়ে রক্ত পান করতে লাগল।অনিশা প্রচণ্ড জোরে চিত্কার দিল।
এমন সময় কে এসে যেন মাথায় হাত ভুলিয়ে দিল।বলল-এই অনিশ ,এই অনিশ?
অনিশা চোখ মেলে তাকায়।সামনে তার মা।সকালের মৃদু আলো উকি দিচ্ছে রুমে।
-কিরে কি হয়েছে?
অনিশা নিজেকে সামলে নিয়ে বলল-না মা,কিছু হয় নি।
-তাড়াতাড়ি গোসল কর।কলেজের সময় হয়ে গেছে।
এই বলে তনিশা রান্না রুমে যায়।এখনো বেশ কয়েকটা আইটেম বাকি।অনিশা এমন স্বপ্ন দেখল কেন,ভাবতে থাকে।কাল রাতে একটা ভৌতিক মুভি দেখছিল-সে জন্যই হয়তোবা।মুভিটার নাম যেন কী,কিছুতেই মনে পড়ছে না।

গল্পের বিষয়:
গল্প

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত