সই,কেমনে ধরিব হিয়া

সই,কেমনে ধরিব হিয়া

সমুদ্র রূপার পাশে বসে আছে।রুপার এলোমেলো চুল।হালকা বাতাসে উড়ছে।রূপা মৃদু হেসে বলল-এই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারলে,তুমি যদি বল তোমাকে আজ বিয়ে করতে হবে,তাই করব।

-সত্যিতো?
-একদম সত্যি।
-তাহলে বল।
-সই,কেমনে ধরিব হিয়া
আমার বধূয়া আন বাড়ি যায় আমরি আঙিনা দিয়া।বলতে হবে কার রচনা?
সমুদ্র একগাল হেসে বলল-ও এটা কোন ব্যাপার হল?এটা টুয়ের বাচ্চাও পাড়বে।
-তাহলে বলে ফেল।
-আরে এটা বলার কি আছে?এটা কে না পারে?
-বলে ফেল।
সমুদ্র খুব আস্থা সহকারে বলল-কবিগুরু।
-এই জন্যইতো বলি তোমার নলেজ টুয়ের বাচ্চার নিচে।
-হয়নি,তাহলে নজরুল শিউর।
-বাহ,তোমার মুখে তো উত্তর রেডিই থাকে।
-এটাও হল না?
-না।
-ভাবলাম বিয়েটা বুঝি আজই হয়ে গেল।
-তাহলে আর কি দিবাস্বপ্ন দেখতে থাক?উত্তর তো আর দিতে পারলে না।।
-এটা কেমন কথা,একটা উত্তরের জন্য বিয়ে আটকে যাবে।এটা ঠিক হচ্ছে না।
-এই পৃথিবীতে অনেক কিছুই ঠিকঠাক মত হয় না।

মিনিট বিশেক পর ।সমুদ্র রুপার হাতটা নিজের হাতে নিয়ে খুব বড় বড় করে হাতের দিকে তাকাল।রূপা খানিকটা বিরক্ত হয়ে বলল-এটা হচ্ছেটা কি?হাত ছাড়?
এই বলে হাতটা ছাড়িয়ে নিল।
-জান,তুমি কত বড় ভাগ্যবান মেয়ে?তাড়াতাড়ি হাত দাও,দেরি সইছে না।তোমার ভাগ্যে যা আছে গড় গড় করে বলে দিব।
এই বলে সমুদ্র রূপার হাত তার হাতের উপর রাখল।আবার বড় বড় করে তাকাল।মিনিট পাচেক হয়ে গেল,অথচ সমুদ্র সেই একই কড়া দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।রূপা কিছুটা রেগে বলল-এই বান্দরামি ছাড়বে?
সমুদ্র হু হু করে হেসে উঠল।
-বুঝেছি তোমার পাগলাগারদে যাওয়ার সময় হয়ে গেছে।
-আরে দেখ না তোমার হাতে কি মজার কথা লেখা আছে?তোমার মাথায় সমস্যা আছে।সেজন্যই তো সবসময় আমার সাথে এমন কর।
-কি, এমন কথা লেখা আছে?
-বিশ্বাস না হলে নিজে দেখ।
-দেখ এসব আজেবাজে কথা বলবে না।
-আচ্ছা বলব না।তবে একটা ভাল কথা বলি।
-বল।
-তোমার একটি ছেলে হবে।ছেলেটি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হবে।
-সত্যি সত্যি তোমার মাথা গেছে।তোমার সাথে থাকতে থাকতে সত্যি সত্যি কোনদিন পাগল হয়ে যাব।
সমুদ্র হেসে বলল-ভালই হবে।পাগল আর পাগলী মিলে সংসার সাজাব।
রূপা তার হাত দুটি দিয়ে সমুদ্রের গাল ধরে বলল-উহ,কেন যে আমার মরণ হয় না?
-হবে কেমন করে,তাহলে আমাকে কে দেখবে?
-তুমি জাহান্নামে যাও।আমি গেলাম।
এই বলে রূপা উঠল।
-রূপা একটু বস,একটা ভাল খবর আছে।
-বলে ফেল।
-চল বিয়ে করি।
-এটা কোন কথা হল?তোমার ভাল খবরটি কি বল?
-এটায় ভাল খবর।
-তোমাকে একটা ভাল বুদ্ধি দেয়,তাড়াতাড়ি কোন সাইকিক দেখাও।অসহ্য।
এই বলে রূপা হাটতে শুরু করে।
-সই,কেমনে ধরিব হিয়া
আমার বধূয়া আন বাড়ি যায় আমরি আঙিনা দিয়া।
রূপা ফিরে তাকায়।
-দ্বিজ চণ্ডীদাস।
এই বলে উঠে গিয়ে রূপার সামনে দাঁড়ায়।চোখে চোখ রেখে বলল-এবার?
-কি?
-তাহলে আজ আমার বিয়ে।
রূপা সমুদ্রের হাত ধরে বলল-চল।
-কোথায়?
-বিয়ে করতে।
-খেপেছ নাকি? আমিতো মজা করছিলাম।
রূপা ধরে সমুদ্রকে একেবারে কাজী অফিসের সামনে নিয়ে এল।কিন্তু বেটা কাজীকে দেখা যাচ্ছে না।কাজী কখন আসে কে জানে? সমুদ্রের খুব খুব অস্থির লাগছে।

গল্পের বিষয়:
গল্প

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত