প্রতিশোধের প্রতিশোধ

প্রতিশোধের প্রতিশোধ

রাস্তাার পাশে টঙে বসে চা পান করছিল রিফাত। মাস খানেখ না কাটানো দাঁড়ি মুখে । চোখে জীবনের লেশ মাত্র নাই। কিছু মানুষ জীবনের উদ্দেশ্য হারিয়ে ফেলে। তার চোখে সে রকম আভাস।

চা পান করে শেষ করে রিফাত টাকা দিতে গিয়ে একটা বিষয় চোখে পড়লো। দুই জন তরুণ তরুনী মোটর সাইকেলে চড়ে যাচ্ছে। এই দৃশ্য দেখে হঠাৎ প্রতিশোধ জেেগ উঠলো।

এখন সে ভার্সিটিতে পড়ে। ফার্স্ট ইয়ারে পড়ে। একটা মেয়ের সাথে তার ঘনিষ্ঠতা হয়। মেয়েটার নাম ছিল সুমি। রিফাত প্রতিদিন মোটর সাইকেলে করে তাকে বাসা থেকে ভার্সিটিতে পৌঁছে দিত। তাদের মধ্যে প্রথমে বন্ধুত্ব ছিল । পরে ধীরে ধীরে প্রেম হয় । তারা মাঝে মাঝে মোটর সাইকেলে করে বিভিন্ন জায়গায় বেড়াতে যেত। সুমির হাত থাকত রিফাতের কাঁধে। কি, সামান্য ছোঁয়া, এতেই রিফাতের মনে সিহরণ জাগত। এভাবেই তাদের ভালই চলছিল।

এই প্রেম ছিল বছর খানেক। তার পর হঠাৎ আবিষ্কার করল সুমি শুধু রিফাতের সাথে নয়, আরো অনেকের সাথে প্রেম করে। রিফাত প্রচন্ড দুঃখ পেল। হারিয়ে গেল তার পরিচয়। ভার্সিটি আর শেষ করা হল না তার। ভার্র্সিটি গেলে তাকে দেখতে হবে এবং রিফাত কষ্ট পাবে। এই কষ্ট মৃত্যুর চেয়ে

ভয়ংকর । রিফাত পড়ালেখা ছেড়ে দিল। বন্ধু সাথে একটা ব্যবসা শুরু করল।

এসব আগের কথা

রিফাতের মনে প্রচন্ড প্রতিশোধ জাগল এই রকম অনুভুতি তার আগে কখনো ঘটেনাই। এই অনুভুতি খুব বিষাক্ত। মানুষ মারা অনুভুতি। এর পর থেকে রিফাত ভালভাবে ঘুমাতে পারে না। শুধু প্রতিশোধের জ্বালা তার মনে উল্কার মত জ্বলছে। এভাবে কয় একদিন কেটে গেল । তাঁর পর সে খুনের সিন্ধান্ত নিল। কাকে ? সুমিকে। হ্যাঁ। প্রতিশোধের জ্বালা তাকে মিটাতে হবে।

যদিও তাদের ব্রেকআপ হয়েছে। রিফাত জানে সুমি কোথায় থাকে । রিফাত এটাও জানে সুমি এখন বিবাহীত তবু রিফাতকে প্রতিশোধ নিতে হবে। সে তার বন্ধুকে বলল, দোস্ত একটা নাইন মিলিমিটার লাগবে। বন্ধু জিঙ্গাসা করল কেন ? রিফাত বলল, এমনি একজনকে ভয় দেখাব । বন্ধুটি  পিস্তলের ব্যবস্থা করে দিল।

রিফাতের কোমরে এখন পিস্তল । সে মোটর সাইকেলে করে যাচ্ছে যেটাতে নাকি সুমিকে নিয়ে ঘুরে বেড়াতো। সুমির বাসার সামনে রিফাত মোটরসাইকেল দাঁড় করাল। অনেক কনফিউসন তার মনে কাজ করছিল। একটা মার্ডার ! তাও দিন দুপুরে। নির্ঘাত ধরা খাবে রিফাত। একটু মায়া ও ভয় কাজ করছিল তার মনে।

এসব ভেবে সে পুনরায় নিজের বাসার দিকে রওনা হল। মোটর সাইকেল চালাচ্ছে আর আনমনে পুরনো প্রেমের কথা ভাবছে। হঠাৎ মোটর সাইকেল প্রচন্ড ধাক্ক খেল কোন কিছুর সাথে। রিফাত ছিটকে পড়ল। তেমন কিছু হয় নাই তার। সামনে তাকিয়ে দেখে মাথায় কোঁকড়ানো, জটা চুল, পড়নে ময়লা লুঙ্গি, গায়ে সেন্ড গেঞ্জি পরিহিত একলোক দাঁড়িয়ে আছে। আশে পাশে বারি খাওয়ার মত কিছুই নেই। ওর হুন্ডুার সামনের চাকা একেবারে বাঁকা হয়েগেছে। লুঙ্গি পড়া লোকটি এগিয়ে আসল । রিফাত পড়েছিল রাস্তায় ওকে টেনে তুলল। রিফাত বিস্ময় নিয়ে জিজ্যাসা করল, আচ্ছা দেখছেন আমি কিসের সাথে ধাক্কা খাইছি। লোকটা হেঁসে বলল, আমার সাথে। রিফাতের বিস্ময়ের সীমানা নাই। এটা কিভাবে সম্ভব! লোকটা যেন মনের কথা যানে এভাবে বলল, এই পৃথিবীতে সবকিছু সম্ভব । রিফাত মোটর সাইকেলটা উঠিয়ে অনেক চেষ্টা করে সামনের দিকে নেওয়ার চেষ্টা করল। তখন লোকটা বলল আমাকে যদি এককাপ চা আর গোল্ডলিফ সিগারেট খাওয়ান তবে আমি আপনার মোটর সাইকেল সামনের গেরেজে নিয়ে যেতে সাহায্য করব। রিফাত রাজি হল। লোকটা গায়ে অমানুষিক শক্তি খুব দ্রুত মোটর সাইকেলটা গেরেজে পৌঁছে দিল। গেরেজের পাশে চা সিগেরেটের দোকানা। ওরা যেয়ে বসল। লোকটা একহাতে চা পান করছে অন্যহাত দিয়ে খুব যতœকরে সিগেরেট পান করছে। লোকটা এক দৃষ্টিতে রিফাতের দিকে তাকিয়ে আছে। রিফাত অস্বস্তি বোধ করছে। হঠাৎ লোকটা বলল আমি আপনার সমস্যা সমাধান করে দিত পারব, কেউ জানবেনা শুধু ও মারা যাবে। রিফাতের হৃতপিন্ড কেপে উঠল । লোকটা কি ভাবে জানল ? লোকটা বলে উঠল আমি শয়তান পুজারী, অনেক কিছু জানি। তবে এই পথে ফলাফল সবসময় ভাল হয় না।তবু যদি চান ব্যবস্তা করে দতিে পারব। রিফাত খুব উৎসাহ বোধ করল । ও প্রশ্ন করল কি ভাবে করা যায় ? লোকটা বলল আমাকে আরো দুইটা সিগেরাট দিতে হবে। রিফাত দিল লোকটা হঠাৎ বাতাসে হাত মেরে একটা ছোট্ট পা নিয়ে আসল। পা টা অনেক ছোট যেন পাখির পা লোকটা বলল এই পা যার কাছে সাত দিন থাকবে সে মারা যাবে। রিফাত আগ্রহ নিয়ে পা টা নিল। লোকটা উঠে পড়ল তাঁর পর উদাস মনে হেঁটে চলে গেল।

রিফাতের মোটর সাইকেল ঠিক হয়েছে। সে আবার সুমির বাসার দিকে রওনা হল। কাঁপা কাঁপা হাতে কলিং বেল টিপ দিল। দীর্ঘ পাঁচ বছর পর দেখা হবে। চিন্তে পারবে তো ? দরজাটা খুলে দিল হাঁসি খুশি মুখ । শুধু বুক দুইটা বড় হয়েছে আগের চেয়ে।

-কিরে তুই ?
– চিন্তে পারছিস তবে।

তোকে চিনব না।

আয় বাসায় ঢুক।

রিফাত বিমহিত হয়ে ঢুকে পড়লো। তাঁরা অনেক কথা বলল। রিফাত জানল তার স্বামী অনেক ভাল মানুষ । খুব আদর করে সুমিকে। ওরা সুখে আছে। রিফাতও বলল তার বিরহের কথা ।

এইসব কথার পর সুমি বলল, এই যা এত দিন পর দেখা একটু চা বিস্কুট না দিলে কেমন হয়। রিফাত বলল না থাক। তবু সুমি উঠে গেল কিচেনের দিকে। রিফাত আশে পাশে তাকাতে থাকল কোথায় পা টা রাখা যায়। এমন সময় চোখে পড়ল একটা ভ্যানিটি ব্যাগ। রিফাত দ্রুত পা টা ব্যাগে ডুকিয়ে দিল।

কিছুক্ষণ পর সুমি আসল নাস্তা নিয়ে । রিফাতের হঠাৎ খুব মায়া হল সুমির প্রতি। আলোচনা শেষে রিফাত অপ্রাসঙ্গিক ভাবে বলে উঠল, আচ্ছা সুমি তোর ভ্যানটি ব্যাগটা আমাকে দিবি, খুব সুন্দর লাগছে। সুমি অস্বিকার করল ভদ্র ভাবে । রিফাত কিছুটা আনন্দ ও দুঃখ পেল মনে।

সাত দিন পর সুমি রক্ত বমি করে মারা গেল। সংবাদটা রিফাতের কানে আসল। সে পাশবিক আনন্দ পেল। কিছুদিন পার হল। রিফাত বাসা থেকে বের হল দোকানে যাওয়ার উদ্দ্যেশ্য। হঠাৎ বৃষ্টির মত কাকের পায়খানা তার সারা গা ভরিয়ে দিল । সে উপরে তাকিয়ে দেখে কোন কাক নাই। অগত্যা বাসায় ঢুকে ফ্রশে  হল । ফ্রশ হওয়ার পর আবার বাসা থেকে বের হল। একি কান্ড আবার ঘটল। এরক কয়েক বার হল। তার পর থেকে রিফাত আর বাসা থেকে বের হতে পারে না।

গল্পের বিষয়:
গল্প

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত