মাজার এর পাশে কবরস্থান টি

মাজার এর পাশে কবরস্থান টি

পাপী তাপী হোসনা পাপী ওরে মন ভোলা
করুনার দ্বার যে তাহার সবসময় খোলা।
ওরে মিছে রে তোর্ টাকা কড়ি মিছে বাহুবল
দিন থাকিতে করে নে তুই যা কিছু সম্বলএকজন খুব মিঠা গলায় গানটা গাইছে মাজার এর বাহিরে।সে কান খাড়া করে শুনছে।
সিগারেট এর তেষ্টায় বুকটা কাঠ হয়ে আছে। তাই বাহিরে এসে দাড়িয়েছে সে ।

মাকে নিয়ে আজকে ইন্দিরা রোড এর এই মাজার এ এসেছে । এই মাজার এ আসা হুজুর এর তাবিজ নেওয়া পানি পড়া এগুলি তার খুব ই অপছন্দ। মায়ের জোরাজুরিতে এখানে আসা।

আমারে নেওয়ার মত কেউ নাই বাবা। আমারে দিয়া তুই চলে আসবি। দুই ঘন্টা পরে আবার নিয়ে আসবি। মার চালাকি যাওয়ার পর বলবে একটু বসনা রে বাবা কি সুন্দর মিলাদ হবে দেখিস। সিগারেট খেতে খেতে আশেপাশে কবরস্থান টা ঘুরে দেখছে। এখানে জায়গা টা বেশ আলো আধারী ধরনের। তাকিয়ে একটা কবরের দিকে দৃষ্টি চলে যায় তার। কবর এর উপরে সাইন বোর্ড এ লিখা একটা মেসেজ

“তোমার যেকোনো দুখ ব্যথা এখানে এসে বল মনটা কে হালকা কর।

সুন্দর হাতের লিখায় আয়াতুল কুরচি লিখা আছে নিচে।

বাহ অদ্ভূত ভারী। চিন্তা করছে কি বলা যায়।

মজা করে ই বলল বিরক্ত লাগছে মায়ের সাথে বুরজক মাজার এ বসে থাকতে। বাসায় গিয়ে খেলা দেখতে চাই। মজা করে হাসতে থাকে ফোন এ এক বন্ধু কে ফোন করে কথা বলা শুরু করলো।

একটা লোক এসে বলে “আপনার নাম কি ভাই। নাম বলাতে বলল আপনার আম্মা আপনাকে ভিতরে ডাকছে।

ভিতরে আসতে মা বললেন তুই এখন বাসায় চলে যা বাবা। আমাকে পরে রিয়াদ এর মা পৌছে দিবে।মায়ের আরেক তবলিগ সহযোগী।

একটু চমত্কৃত হয়ে বাহিরে এসে মাজার এর সামনে বসলো আবার একই কবর এর সামনে। তবে সে মায়ের কথায় রাজি হলনা। মায়ের শরীর ভালো না। যদি অসুস্থ হয়ে যায় সেজন্য মাকে নিয়ে ফিরতে চায় বাসায়।তার একবন্ধু র সাথে ফোন এ কথা বলতে থাকে। পাকিস্তান ইন্ডিয়া র ক্রিকেট খেলা। সে বার বার বলছে খেলা দেখবি না। তার বন্ধু সাপোর্ট করে পাকিস্তান আর সে ইন্ডিয়া। খেলা প্রসঙ্গে কথা বলতে বলতে একপর্যায়ে দুজনের তুমুল তর্ক।

দুইজনে খুব প্রানের দোস্ত জানের দোস্ত। ক্রিকেট খেলা প্রসঙ্গ আসলে দুইজন সবসময় তুমুল ঝগড়া করে। একপর্যায়ে সে রেগে গিয়ে বলে

তোরে থাপ্পর দিয়ে ছাদ থেকে নিচে ফেলে দিব। ফাজিল কোথাকার বলে উত্তেজনায় ফোন কেটে দেয়।

দশ মিনিট পরে আবার সেই বন্ধুর। ফোন ধরতে কথা বলে উঠলো আন্টি। মাহবুব তার বন্ধু না।

আন্টি চিত্কার করছেন হাপিয়ে কথা বলছেন। বাবা আমি কাওকে পাচ্ছিনা কল করার জন্য এম্বুলেন্স ডাকলাম এখনো তো আসেনা বাবা উচ্ছসিত হয়ে কেদে উঠলেন।

কি হয়েছে আন্টি গলা কাপতে থাকে ওর।

বাবা ও ছাদ থেকে পড়ে গেছে একটু আগে। ও আমার মাহবুব। আমি নিচে ওরে নিয়ে এম্বুলেন্স এর জন্য ওয়েট করছি বাবা।

ওহ মাগো লাফ দিয়ে সে উঠে দাড়ায়।

মার শরীর যেই খারাপ।মা যে আর কয়দিন বাঁচে। টেনশন নিয়ে ভাবতে থাকে।

এই প্রথম প্রার্থনা করে মায়ের শরীর এর জন্য মাহবুব এর জন্য। এখনি এখান থেকে পালাই ভাবে । .

মায়ের পাশে বলে বন্ধুর বিপদের কথা এখনি যেতে হবে। মা ও তাড়াতাড়ি উঠে। যাওয়ার জন্য।

উঠতে ঘুরে পরে যায়। মাকে নিয়ে আসতে হলো হাসপাতাল এ বন্ধু কে দেখতে যাওয়ার আগে।

আল্লাহ আমার মাকে বাঁচিয়ে দাও এইবেলায়।মাকে লাইফ সেভের মাস্ক পরিয়ে রাখা হয়েছে দুইদিন হলো।

মনে অস্থিরতা চলে আসে। দৌড়ে আজ আবার আসে একই মাজারে সেই কবর এর সামনে।

চিত্কার করে বলে তোমার ক্ষমতা দেখতে চাই আবার। আমার মাকে বাঁচিয়ে তোলো।

হাতে মাথা রেখে কাদতে থাকে অসহায়ের মত।

এরপরে ও একসপ্তাহ পার হয়েছে। এখনো মনে মনে আশা করছে তার মা শিগ্রী সুস্থ হয়ে ফিরে আসবে। দুর্বল সময়ে আমরা কাওকে বিশ্বাস করতে চাই .আমাদের বেদনা যন্ত্রণা গুলি আরেকজন এর কাধে দিতে চাই যাকে আমার চেয়ে সবল নির্ভরযোগ্য মনে করি কিন্তু আসলে মিরাকেল বা অলৌকিক কতুটুকু অলোকিক সেটা ভাবে।হয়তবা ঘটনা সম্পূর্ণ কাকতালীয় কিন্তু দুর্বল মুহুর্তে মানুষ তাই বিশ্বাস করে যা তাকে সাহায্য করবে বিপদ মোকাবিলা করতে। তার মনে বদ্ধমূল ধারণা হয়েছে সত্যি এই মাজারে অলোকিক ব্যাপার আছে।

গল্পের বিষয়:
গল্প

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত