নীল শাড়ি পড়ে শোভা

নীল শাড়ি পড়ে শোভা

অলিন্দ হাত ধরল শোভার। শোভা হাতটা সরিয়ে নিল না।
-শোভা তোমার চুলে একটি পোকা হাটছে।
শোভা চিৎকার দিয়ে উঠল। অলিন্দ মনে মনে হাসল । মেয়েটা পোকার কথা শুনলে এত ভয় পায় কেন, বড় বেশি ছেলেমানুষ।
-পোকাটা এখনও আছে?
-হু।
মেয়েটা আবার চিৎকার দিল। এবার আর হাসি থামিয়ে রাখতে পারল না।
-কি তুমি হাসছ কেন?
-পোকাটা হাসল তাই।
-দেখ সবসময় ফাজলামি করবে না। এবার পোকাটা মাথা হতে তাড়াও।
এই বলে শোভা মাথাটা এগিয়ে দেয়।
-না আমি পারব না।
-কেন?
-কী ভয়ানক? কেমন বড় বড় করে আমার দিকে তাকাচ্ছে।
-উঃ তোমাকে দিয়ে কিছু হয় না।
এই বলে মাথায় হাত দিল।
-কই,পোকা কই?
-উড়াল দিছে। ঐ যে দেখ তোমার পেছনে।

শোভা ঘুরে তাকাল।কিছু দেখতে না পেয়ে অলিন্দের দিকে তাকাল। দেখল,অলিন্দ মুখ চেপে রেখেছে হাসি ঢাকার জন্য।শোভার বুঝতে বাকি রইল না যে অলিন্দ আবার তাকে বোকা বানিয়েছে। মনে মনে ভাবে সে এত গবেট কেন?তার কান্না পাচ্ছে।
-শোভা একটা ভাল খবর আছে।
-বল।
-বাসা হতে বাবা আমার বিয়ে ঠিক করে ফেলেছে।
-দেখ সবসময় ফাজলামি করবে না।অন্তত এসব সিরিয়াস বিষয়ে।
-বিশ্বাস করা না করা তোমার ব্যাপার।মেয়ে অত্যন্ত রূপবতী ও গুণবতী। আমিও রাজি হয়ে গেছি।এমন মেয়ে-তো সবসময় পাওয়া যায় না।
শোভা অলিন্দের দিকে বড় বড় করে তাকাল।
-কি প্রেম করছ এক মেয়ের সাথে আর বিয়ে করবে আরেক মেয়ে?
অলিন্দ শোভার ডান হাতটা দু হাতের তালুতে নিয়ে বলল-আমি নিরুপায়।
শোভা হাতটা ছাড়িয়ে নেয়। ছেলেটা এমনভাবে কথা বলে যে কোনটা সত্য কোনটা মিথ্যা কিছুতেই ধরতে পারে না।
-আমার দিকে তাকাও।
অলিন্দের শোভার মুখের দিকে তাকাল।যেকোনো সময় মেয়েটা কেঁদে দিবে।
-একদম আমার চোখে চোখ রেখে বল।
-মেয়েটা ডাক্তার।বাবার বন্ধুর মেয়ে।
-তাহলে আমার সাথে এতদিন?
-জাস্ট টাইম পাস।
-মানে?
-বয়সের দাবি। আশেপাশের বন্ধুরা সবাই প্রেম করে,তাই দেখে। খুব খুব একা লাগত।
এবার মুখটা শক্ত করে বলল-এত অভিনয় করতে পার?
-সে আমি ছোটবেলা হতেই পারি। যাত্রাপালা অভিনয় করা যে আমার রক্তে মিশে।
এবার শোভা উঠে দাঁড়াল।
-এটা তুমি করতে পার না আমার সাথে।
অলিন্দ হেসে উঠে।
-মানুষ পারে না এমন কিছু আছে।
-তুমি একটা জানোয়ার,অমানুষ।
-এত দেরি হল বুঝতে।
-আমি যে এত-বড় গবেট,আগে জানতাম না।আজ পুরোপুরি বুঝতে পারছি।
-একটু চালাক হ।চোখ কান খোলা রাখ। নইলে আবার আমার মত অন্য কার কাছে
কথা শেষ না হতেই মেয়েটা বলল-চুপ একদম চুপ।

বলার কঠোরতায় অলিন্দ ভয় পেয়ে যায়।মেয়েটাকে এত কঠোর হতে কখনও দেখেনি। মেয়েটা উড়না দিয়ে মুখ ঢেকে হাটা শুরু করল।অলিন্দ ডাকল-এই শোভা,এই শোভা।

শোভা ফিরে তাকাল না।তার চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি পড়ছে।অলিন্দের বুকটা ধক ধক করে উঠে।এতটা করা বোধহয় ঠিক হল না। শোভা বাসায় চলে গেল।শোভা বাসায় ঢুকতেই তার মা বলল-কিরে কখন হতে কল দিচ্ছি?কল ধরছিস না কেন?
-মোবাইল সাইলেন্ট ছিল।
-তাড়াতাড়ি গোসল করে শাড়ি পড়।
-কেন?
-অলিন্দ তোকে কিছু বলেনি।ওর বাবা মা তোকে দেখতে এসেছে।
এই সময় মোবাইলে রিং বেজে উঠল।অলিন্দ কল করেছে।
-কল দিয়েছ কেন?
-প্লীজ আমাকে মাপ করে দাও।
-তোমাকে আমি কোনদিন মাপ করতে পারব না।
-প্লীজ।মা বাবার সাথে ভালভাবে ব্যবহার কর।
-তাদের বাসা হতে বের করে দিব।
-প্লীজ।

এইসময় লাইন কেটে দিল শোভা।খুব জ্বালিয়েছে ছেলেটা।এখন থেকে তার পালা।কয়েকদিন কথা বলা তো দূরের কথা কলই ধরবে না।অলিন্দ আকাশের দিকে তাকায়।একদম পরিষ্কার আকাশ।সে জানে,তার বাবা মার সামনে শোভা শাড়ি পড়ে যাবেই।তাও নীল রংয়ের।নীল রং তার খুব প্রিয়।

গল্পের বিষয়:
গল্প

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত