অপরূপ পুরুষ

অপরূপ পুরুষ

তিলিন বাসা হতে বের হল।পূর্ণিমার পূর্ণ চাঁদ আকাশে।ঝিকমিক করছে অপরূপ আলোয়।
-এইতো সময়।
আশেপাশে কাউকে দেখতে পেল না। কথাটা স্পষ্ট শুনতে পেয়েছে।তবে?
-এইতো সময়।দেরি করিস না।বের হয়ে যা।
এবার খুব বিস্মিত হয়ে গেল। সে বাসা হতে পালাচ্ছে,জানল কিভাবে?কোন দিক হতে কথাটা আসছে বুঝতে পারছে না।ভয় ভয়ও লাগছে।
-কে আপনি?
-কেউ না।
-তবে কথা বলছেন কিভাবে?
-আমাকে দেখবে?
তিলিন মাথা নাড়ল।এই সময় তার সামনে এক গুচ্ছ অদ্ভূত আলোকরাশি খেলা করে।সেই আলোকরাশির মাঝখান হতে সৃষ্টি হল অপরূপ সুন্দর এক পুরুষ।পুরুষ মানুষ যে এত সুন্দর হতে পারে,একে না দেখলে বিশ্বাসই করত না।

-আপনি কে?
অপরূপ পুরুষ হেসে উঠল।বলল-তুমি কে?
-আমি তিলিন।
-তোমার নামই কি তোমার পরিচয়?
-তাইতো।এছাড়া আর কি?
-তাহলে তো বলব আমার কোন পরিচয়ই নেই।
তিলিন বিস্মিত হয়ে বলল-কেন?
-আমার তো কোন নামই নেই।
-আপনার বাবা মা কোন নাম রাখেনি?
-বাবা মা তো নেই।আচ্ছা বাদ দাও।তুমি আত্নহত্যা করতে যাচ্ছ কেন?
-আমার জীবনটা অসহ্য হয়ে উঠছে।
-কেন?
-আমি একজন বেকার ছেলে।বাবা এ নিয়ে রীতিমত কথা বলে।মায়ের সিজোফ্রেনিক অবস্থা দিন দিন আরও বাড়ছে।বড় ভাই বিয়ে করে আলাদা হয়ে গেছে। ভাবী সবসময় গাধা গরু ছাগল বলে।
-তাই বলে জীবনকেই শেষ করে দিবে।
-এটাই ভাল মনে হচ্ছে।
-তুমি একজন শিক্ষিত ছেলে। তোমার মুখে এমন কথা কি মানায়? জীবন হতে পালানো তো আর কোন সমাধান নয়।
তিলিন মাথা নিচু করে।
-কি মাথা নিচু করলে কেন? মাথা উচু কর।জীবন তো একটাই। এইরকম মাথা নিচু করে কাটিয়ে দিলে চলবে?
-আমি কি করতে পারি?
-তুমি কি না করতে পার? তোমার আছে জীবজগতের সবচেয়ে পাওয়ারফুল মাথা। কোটি কোটি নিউরণ গিজ গিজ করছে মাথার ভিতরে। নিউরণের প্রতি পরতে পরতে আছে অসীম সম্ভাবনা।
-ওসব কথার কথা।ওসব মন ভোলানো কথা না বলে অন্য কিছু বলুন।
-তুমি যে মেয়েকে ভালবাস, সেই মেয়েটা সকালবেলায় তোমাদের বাসায় আসবে।চিরদিনের জন্য।তোমার কাছে।
-সে হতে পারে না।তার ইতিমধ্যে বিয়ে হয়ে গেছে।বিয়ের লগ্ন ছিল এগারটা।
-বিয়ে হওয়ার কথা ছিল বলেই যে বিয়ে হবে,তাতো নয়।তোমার মা একদম ভাল হয়ে যাবে।তোমার ভাই ভাবী বাবা মার কাছে ক্ষমা চাইবে।আর তোমার একটা খুব ভাল চাকরি হবে।খবরটা কালকেই পাবে।কি মাথা ধরে আছ কেন?

-আপনার আজগুবি কথা শুনে মাথাটা ব্যথা শুরু করেছে।বেশ কয়েকদিন মাথাব্যথা ছিল না।আবার বুঝি শুরু হল।
-কি আমার কথা বিশ্বাস হচ্ছে না?
-হবে কি করে,এই রকম আকাশ কুসুম কথা বললে?
-তো কি করলে বিশ্বাস হবে?
-আমার মাথা ব্যথাটা সারিয়ে দিন দেখি।
অপরূপ পুরুষ হেসে উঠল।বলল-এই কথা?তবে তাই হবে।

নিমিষেই মাথা ব্যথা সেরে গেল।তখনি একরাশ আলোকরাশি তিলিনের চোখ ঝাঝিয়ে গেল। নিমিষেই মিলিয়ে গেল আলোতে।
-এত ভয় কেন? জীবনের প্রতি পদে পদে যদি এত ভয় নিয়ে চলতে হয়,তাহলে তো জীবন চালানোই দায়।ভয় হতে মুক্ত হও।এগিয়ে যাও সাহস নিয়ে। জীবন তোমারি প্রতীক্ষায়।
তিলিন চারপাশ খুব ভাল করে দেখল।তার আশেপাশে সেই অপরূপ পুরুষটি আর নেই। ডাকল-কই আপনি কই?কই?
কোন সাড়া মিলল না।

গল্পের বিষয়:
গল্প

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত