বাচ্চা ভূতের থাপ্পর

বাচ্চা ভূতের থাপ্পর

ছেনু মিয়া সন্ধ্যা বেলায় প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে গিয়ে বিপাকে পড়ল। সে অনুধাবন করতে পারলো কেউ তাকে চপেটাঘাত করেছে। কিন্তু কে করেছে তাকে সে দেখতে পাচ্ছেনা। টয়লেটে এই অন্ধকারে কেউ ঘাপটি মেরে আছে কিনা তাও বোঝা যাচ্ছেনা। যদি সত্যি থাকে তাহলে তো লজ্জার ব্যাপার। তাই সে নিজের কাপড় গুটিয়ে নিলো আর চিৎকার জুড়ে দিল এই বলে যে কেউ টয়লেটে তাকে মারধর করছে। চিৎকার শুনে শত মানুষের ভিড়। অজ্ঞান অবস্থায় ছেনু মিয়াকে ভেতর থেকে বের করা হল। কিন্তু ভেতরে কাউকে পাওয়া গেলনা। অনেকেই হেসেই খুন, ‘এমন সাহসী ছেনু মিয়া মিছে ভয়েই অজ্ঞান’। কিন্তু নিন্দুকদের কথায় ছেনুর মার আসে যায়না। সে ধরে নিলো তার ছেলেকে ভূতে মেরেছে। কারণ তার মাথার এক পাশ ভূতের চাটি খেয়ে অসম্ভব রকম ফুলে গেছে।

পর দিন ভর দুপুরে ছেনু মিয়ার বাড়ির উঠানে বৈঠক বসল ভূত তাড়াবার। তাই আক্কেল আলী তার মস্ত বড় ঝোলা থেকে কি সব বের করে অদ্ভুত সব কাজ করা শুরু করেছে। মাঝে মধ্যেই চিৎকার দিয়ে উঠছে। গত কালের নিন্দুকেরা মনে মনে চিন্তা করছে কোন মতেই যেন ভূত না আসে। আসলে ছেনুর মা তাদের এক হাত দেখবেন বলেছেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই নিন্দুকদের ভয় সত্যি হল। ছেনু বাচ্চাদের মতো মাটিতে হাপুর পারা শুরু করেছে। আক্কেল আলী শুকনো পোড়া মরিচ তার নাকে ধরে ভূতকে বাইরে বেড়িয়ে আসতে বলছে। কিন্তু ভূত বের হবেনা বলে গো ধরেছে। অনেক ধস্তা ধস্তির পর ছেনু মিয়া শান্ত হল। কিন্তু ভূতের কথা বলা শেষ হচ্ছিল না। ছেনুতো এবার অজ্ঞান তবে ভূত কথা বলছে কোথা থেকে। সবাই নিজের কাপড় ঝাড়তে লাগল। অবশেষে ছেনুর মায়ের মাথার উপরে লাউ গাছে একটা না দুই দুটো ভূত দেখা গেল। দেখে সবাই বুঝলো এরা ‘বাচ্চা ভূত’ কারণ এদের পরনে পোশাক নাই।

আক্কেল আলী জেরা করা শুরু করল। একটা ভূত কথা বলতেই রাজি না, সে বারবার ছিনুকে তেড়ে মারতে যাচ্ছে। সবাই বলল, দেখছতনি ভূতের কি সাহস। ভূত শুনে রেগেই খুন। সেও বলল, “ভূতের সাহস হইবো না তো তোগ হইব, মাইনষ্যের বাচ্চা জানি কোনডাইকার”। আক্কেল আলীর সামনে এত বড় সাহসের কথা বলায় সে রেগেই খুন। তাই সিপটির ডাল দিয়ে বাচ্চা ভুতদের মারতে লাগল আর বলতে লাগল, “বল ক্যান তোরা ছিনুরে মারছত?”

আক্কেল আলীর মার সহ্য না করতে পেরে একটা ভূত মুখ খুলল। নাকি কণ্ঠে বলতে লাগল, “আমরা সকাল বেলায় বাবলা গাছের তলায় পাইপগান ছাড়ার অপরাধে ছিনুর উপর ভর করি। ভাবছিলাম আইজ্যকা সারাদিন চিমটি চিমটি খেইলা দিন ডা ভালাই কাটব। কিন্তু এত নিষেধ করার পরেও সে ঢাকা গেলই গেল। সেই সকাল ৯টা থাইকা দুপুর একটা পর্যন্ত বাসের মধ্যে। তারপর ব্যাংকের এসির মধ্যে আমাদের শীতে মারা যাইবার উপক্রম। আমাদের গায়ে তো পোশাক নাইগা। তারপর আবার বাসে। সুপ্রিম কোর্টের সামনে সুপ্রিম জ্যাম। এই যে বইয়া রইছি। ড্রাইভার বাসটারে উড়ায় নিতে পারেনা। এক জায়গায় আইসা দেখি উড়াল সড়ক বানাইতাছে। আমি হাইসাই খুন, মাইনষ্যের নিচ দিয়া যাইবার ব্যবস্থা না কইরাই আকাশ দিয়া যাওনের রাস্তা বানায়। জ্যাম হইবো না তো কি হইবো। আর এই মাইনষ্যের বাচ্চাগো লাইগে এই ছিনু মিয়া সাড়া দিন মিছিল করে। মনে করছিলাম সন্ধ্যার পর তারে একলা পাইয়া চিমটি চিমটি খেলমু, কিন্তু হইলো কই। রাস্তার এক ইফতারি ওয়ালার থাইকা ফাও ইফতারি খাইয়া এই যে বইছে, আর কী গন্ধ। হারাম মাল কি হজম হয়। তাই আমার দোস্ত নিতু ভূত সহ্য করতে না পাইরা, সারাদিন নষ্ট করার অপরাধে চিপায় পাইয়া চান্দি বরাবর চপেটাঘাত করছে”।

অতঃপর সকলেই মাথা নাড়িয়া কহিল, বাচ্চা ভূত উচিত কাজই করিয়াছে।

গল্পের বিষয়:
গল্প

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত