যত্নবান বউ

যত্নবান বউ

গতকাল রাতে জর এসেছিলো। তাই অফিস তিন দিনের জন্য ছুটি নিয়ে নিয়েছি। এখনি ঘুম থেকে উঠলাম।এখন হয়ত ৯/১০ টা বাজে। বিয়ে করেছি ৬ মাস হলো। চাকরির সুবাদে খুলনায় আমি আর আমার বউ একটা বাড়িতে ভাড়া থাকি। কাল রাতের কথা বলতে একটু ফ্লাশব্যাক এ যাই——–

অফিসে মাথা ব্যাথা করায় তাড়াতাড়ি বাড়ি চলে আসি। এসেই সোজা বিছানায় শুয়ে পড়লাম।
>এই করছ কি। এসেই বিছানায় শুয়ে পড়লে যে??
>ভালো লাগছে না। মাথাটা প্রচণ্ড ব্যাথা করছে।
>আসো! হাতমুখ ধুয়ে খেতে বসবে। মাথা ব্যাথা ঠিক হয়ে যাবে।
ও হয়ত না খেয়ে আছে। তাই মাথা ব্যাথা উপেক্ষা করে হাতমুখ ধুয়ে আসলাম। কিন্তু প্রচুর ক্লান্ত লাগছিলো। তাই আবার শুয়ে পরলাম।
>ওঠো! আমি খাবার রেডি করেছি। একি তোমার গা তো পুড়ে যাচ্ছে।
>হুহ্??? না ও কিছু না। তুমি খেয়ে নাও। আমি খাব না।
>কিছু না মানে?? তোমার তো গায়ে প্রচুর জর। আমি ডাক্তার ডাকছি।
>আরে লাগবে না। এমনি ঠিক হয়ে যাবে।

কে শোনে কার কথা?? আমাদের পাশের ফ্লাটেই একজন ডাক্তার থাকেন। অবনি হয়ত তাকে ফোন করে ডাকবে। (হ্যাঁ,আমার ঐ পাগলী বউ টার নাম অবনি)

কিছুক্ষণ পর ফিরোজ ভাই(ডাক্তার) বললেন তেমন কিছু না। পরিশ্রমের কারনে মাথা ব্যাথা থেকে জর এসেছে। ওষুধ খাইয়ে দুই তিন দিন রেস্ট নিলেই ঠিক সেরে যাবে। সেই থেকেই আমার বউ অগত্যা জোড় করে তিন দিন ছুটি নিতে বলল।
ডাক্তার যাওয়ার পর—–
>এই,,,,উঠে বস। আমি তোমাকে খাইয়ে দিচ্ছি।
>বললাম তো খাব না।
>তুমি খাবে না মানে??? না খেলে ওষুধ কি করে খাবে??(রাগী সুরে))
>কিছুই করার নাই।। নাহলে কান্না জুড়ে দিবে।
আমি খাচ্ছি পরম তৃপ্তিতে। আমার বউ আমাকে খাইয়ে দিচ্ছে। বউএর হাতে খাওয়ার মজাই আলাদা। খাওয়া শেষে ও আমাকে ওষুধ খাইয়ে দিলো।
>তুমি খেয়ে নাও না।
>তোমাকে এত কথা বলতে কে বলেছে?(আবার রাগী সুরে)
আর কিছু বলার সাহস পেলাম না।যদি আবার রাগ করে??

বউ বালিস সরিয়ে দিয়ে বসল। তারপর পরম আদরে আমার মাথাটা ওর কোলে তুলে নিলো। মাথায় বিলি কাটছে। আমি ওর কোমরটা শক্ত করে জরিয়ে শুয়ে আছি। জর হলে যে এত মজা পাওয়া যায় আজ বুঝলাম। আমি আর কিছু বলি নি। ওর হাতটা ধরে কখন যে ঘুমেয়ে পরেছি মনে নেই। আর উঠলাম এখন। এখন একটু ভালো লাগছে। যদিও মাথাটা এখনো ভারী ভারী লাগছে। আওয়াজ শুনে বুঝলাম ও রান্না ঘরে রান্না করছে। আমি ফ্রেস হয়ে চুপি চুপি রান্নাঘরের দিকে আগাচ্ছি। দেখলাম পরিটা ঘেমে একাকার। শারীর আচলটা সযত্নে কোমরে গুজে দিয়েছে। নিজেকে আর কন্ট্রল করতে পারলাম না। আস্তে করে গিয়ে পিছন থেকে ওর ফাঁকা কোমরে হাত দিয়ে জরিয়ে ধরলাম। ঘন খোলা চুলগুলো ভেদ করে গলায় আমার শুষ্ক ঠোটের স্পর্শ একে দিলাম। ও চমকে উঠল।

>এই কি করছ???
>তোমার নেশায় মাতছি।
>দেখছ না কত ঘেমে গেছি??
>ওটাই তো সুভাস ছড়াচ্ছে।
>যা..অসভ্য। কালি জর এসেছিলো আর আজকে অসভ্যতামো করছ।।।
>কী করব??কেউ যে সভ্যতা শেখায় নি।
>রুম এ গিয়ে শুয়ে পর।যখন সুস্থ হয়ে যাবে তখন সভ্যতা শেখাব।
>তাই বুঝি??(বলে কানে আলত করে কামর দিয়ে দিলাম)
>যাও তো!!!!!! (বলে এক ঝটকা দিয়ে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে ফ্রিজ থেকে কী যেন আনতে গেলো))
আহ মুড টাই নষ্ট হয়ে গেলো।কিন্তু সুস্থ হলে, ও কি সভ্যতা শেখাবে তাই ভাব্বার বিষয়।।

গল্পের বিষয়:
গল্প

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত