ছবি

ছবি

হঠাৎ, খালার নাম্বার থেকে হোয়াট’স অ্যাপ এ টুপ করে একটা ছবি আসল আমার কাছে।

সময় নষ্ট না করে ছবি টা দেখতে লাগলাম। কিন্তু আমাদের যে নেট সমস্যা তাতে ছবিটা আসতে দেরি হচ্ছে। দেখে মনে হচ্ছে একটা ছেলের ছবি হবে।

কি ব্যাপার আমার জন্য ছেলে দেখছেন নাকি খালা। তাইত বলি, বাবা মা এত চুপিচুপি কি কথা বলেন কিছুই বুঝি না। আমি কাছে গেলে-ই চুপ। আহা, এত দিনে আমার বাবা মার চোখ খুলল। এত দিনে বড় হলাম তাদের কাছে।

কত স্বপ্ন দেখে রেখেছি বিয়ে নিয়ে। বউ সাজব, কেউ একজন আমাকে নিতে আসবে। ইশ, ভাবতেই ভালো লাগে। তার মধ্যে বান্ধবীর কল।

— কি রে, কোথায় আছিস আজ না তোর আমাদের বাসায় আশার কথা? (বান্ধবী)
— ইশ, এখন আসব কিভাবে? লজ্জা করে না আমার!
— কেন রে তোর আবার লজ্জা পাওয়ার কি হল? কনে’দের মত!
— লজ্জা করে বলব না। পরে বলব।
— প্রেম এ পরেছিস নাকি?
— প্রেম কেন করব? একদম বিয়ে ই করব। আচ্ছা রাখি। পরে কথা বলব। কাজ আছে।

কাজ আবার কি ঐ ছবি টা দেখব আরকি। তার তারমধ্যে মা আসলেন।

— কি তোর খালা ছবি পাঠিয়েছে? দেখেছিস কেমন?
— কি মা, এভাবে বলছ আমার লজ্জা করে না বুঝি।
— এ যুগের মেয়ে হয়ে লজ্জা। আমাদের সময় হলে এক কথা ছিল। তুই না বললি দেখবি।

— আচ্ছা, দেখে নিব।

এরই মধ্যে নানুবাড়ির মামাতো বোনদের কে গ্রুপের মধ্যে বলে দিয়েছি পাত্রের ছবি দেখছি। সে এক হুলস্থুল কান্ড। আমার তো খুব লজ্জা লাগছে।

কিন্তু ছবি টা এখনও ঝাপসা ডাউনলোড হচ্ছে। দেখতে বোঝা যাচ্ছে ভালই হবে।

বাবা আসলেন..
— তোর খালা ছবি দিয়েছে? দেখি তো। আমার মোবাইলে দিল না।
— আমার মোবাইলে কেন দিলেন। আমার লজ্জা করে তো বাবা।
— আরে, এখানে লজ্জার কি আছে। সবসময় আমাদের সাথে থাকবে লজ্জা পেলে হবে নাকি।
— ছবি কোথায়?
— ওহ, বাবা নেট স্লো। আসছে না।

সন্ধ্যা হয়ে গেল! ছবি টা ডাউনলোড ই হচ্ছে। ইচ্ছে করছে মোবাইল টা ভেঙে ফেলি। নাহ, তাহলে তো আমার হবু বরের ছবি দেখা হবে না।

ওমা, এ কি?? এমবি নাই ! তাইত ছবি আসছে না..! কি করব এখন..!

দিলাম খালাতো বোন কে কল। ছেলের ছবি টা মেসেন্জার এ দেওয়ার জন্য বললাম।
— এই ছেলের পিক দেখে তুমি কি করবে? — কি বলে মেয়ে! আমার হবু বরের পিক দেখব না.?
— কি..? তোমার মাথা খারাপ নাকি? তোমার বরের পিক?
— হ্যা, খালা তো দিলেন বাট এমবি না থাকায় দেখিনি। বাবা মা ও তো ছেলের ছবি দেখতে চাইলেন!

— দাড়াও। দিচ্ছি।

একটু পর খালার কল।
— রিমি, তোর মাকে ফোন দে তো..
— দিচ্ছি. ( আমাকে বললে সমস্যা কি) মনে মনে।
— হ্যা, বল রেহানা ( মা)
— ছেলেকে পাঠিয়ে দিয়েছি এক্ষুণি পৌছে যাবে।

মোবাইল লাউড স্পিকারে থাকায় আমি সব শুনলাম। এক মুহূর্তে আমি নার্ভাস হয়ে গেলাম। আবার আনন্দ লাগছে। এত দিন পর ইচ্ছা পূরন। নাচতেও মন চাইছে।

হালকা একটু সেজে নিলাম। আকাশী কালারের ড্রেস পরলাম।
— এত সাজের কি হল?
— মা এসব কি বলেন। একটু সাজব না। ছেলে আসছে।

চা টা নিয়ে আয় রিমি ( বাবা)
হাত কাপছে। কি হবে! — এ কি!

রিমি ইনি আমার অফিসের নতুন কর্মচারী মানে আমার পি.এ। তোমার রহিম চাচা। আজকে নতুন। তুর খালু পাঠিয়েছে। ছবি দেন নি। তাই তোর মোবাইলে দিয়েছে পরে। রোজ টিফিন ও নিয়ে যাবে এসে। তোর কষ্ট করা লাগবে না।

আমি কি বলব বুজতেছি না! কি ভাবলাম আর কি হল! ঝাপসা ছবির এই অবস্থা!

— চাচা, আপনার কোনো ছেলে আছে..?
— আরে, তোর চাচা তো বিয়ে ই করেনি। ( বাবা)

এ জীবন আমি আর রাখব না।

গল্পের বিষয়:
ছোট গল্প

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত