উদার মনের মানুষ

উদার মনের মানুষ

আমি উদার মনের মানুষদের খুবই পছন্দ করি। আমি এমন এক মেয়েকে ভালোবাসতে চাই যার মন অনেক বড়, বর্তমানে যদিওবা এমন উদার মনের মেয়ে খুবই কম পাওয়া যায় তবুও কিন্তু আমি হাল ছাড়তে চাইনা।

ভার্সিটির সাদিয়া নামের মেয়েটি সেইদিন ফিল্ডে বসে টিফিন খাচ্ছিলো! তখনই একটি কুকুর এসে সাদিয়ার খাবারের দিকে তাকিয়ে ঘ্যাউ,ঘ্যাউ করতে লাগলো।

সাদিয়া সাথে,সাথে তার টিফিনের সব খাবার কুকুরটিকে দিয়ে দেয়। এতে বুঝা যায়যে সাদিয়া অনেক বড় মনের মানুষ।

সাদিয়ার এই উদারতা দেখে আমি তাকে পছন্দ করে ফেলি, তাই আর দেরি না করে সাদিয়ার জন্যে একটি সেন্টার ফ্রুট আর একটি গোলাপ নিয়ে সাদিয়াকে প্রপোজ করতে যাই।

সাদিয়ার হাতে সেন্টার ফ্রুটটা দিয়ে অন্যহাতে গোলাপটা বাড়িয়ে দিয়ে সাদিয়াকে প্রপোজ করি,

” আই লাভ ইউ, ডু ইউ লাভ মি? ”

সাদিয়া হাতে গোলাপটি নিয়ে হ্যাঁসূচক মাথা নাড়লো।

আমার তখনই সাদিয়ার হাতের আমার দেওয়া সেন্টার ফ্রুটটা খুব করে খেতে ইচ্ছে করছিলো তাই সাদিয়ার কাছে সেন্টার ফ্রুটটা চাই। সাদিয়া সাথে,সাথে সেন্টার ফ্রুটটা কিছু না বলেই দিয়ে দেয়। আমার সাদিয়ার মন অনেক বড়।

একদিন ভার্সিটির ক্লাসে একটি ছেলে বৃষ্টিতে ভিজে এসেছিলো। আমার সাদিয়া তার কাছে গিয়ে নিজের গায়ের উড়না দিয়ে ছেলেটার মাথাটা মুছে দেয়। মুছে না দিলেযে ছেলেটার সর্দি লেগে যেতো। আমার সাদিয়ার মন অনেক বড়।

অন্য একদিন রাতে সাদিয়াদের বাসার সামনে একটি ছেলে বেশি মদ খেয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়ে থাকে। সাদিয়া ছেলেটাকে দেখে নিচে গিয়ে ওই ছেলেটাকে নিজের রুমে নিয়ে আসে। নিচে ছেলেটাকে অনেক মশা কামড়াচ্ছিলো, তা দেখে সাদিয়া আর নিজের রুমে বসে থাকতে পারেনি। আমার সাদিয়ার মন অনেক বড়।

সাদিয়ার সাথে একটি পার্কে দেখা করতে গেলাম। সাদিয়া একটি ছেলের সাথে পার্কে এসেছে। সাদিয়ার গায়ে ছিলো বেনারসি আর ছেলেটার গায়ে ছিলো শেরওয়ানি। সাদিয়া আমার কাছে এসে আমাকে বলে,

” ছেলেটি গতকাল এসে আমাকে প্রপোজ করে আর ও বলে আমাকে না ফেলে আত্নহত্যা করবে। কি আর করবো? এই ছেলেকেতো আর মরতে দিতে পারিনা। তাই আজ কাজী অফিসে গিয়ে আমার বিয়ে করে আসি। তুমি টেনশন করিওনা আমাদের বিয়েটাও খুবই শীঘ্রই হবে। ”

আমার সাদিয়ার মন অনেক বড়। আমার সাদিয়া একজন উদার মনের মানুষ, আর এইটাই তার সবচাইতে বড় প্রমাণ।

গল্পের বিষয়:
ছোট গল্প

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত