ফুলকি

ফুলকি

– ফুলকি এই ফুলকি খেতে আয়, কিরে কথা কি কানে যাচ্ছে?
যাইই, বলে গল্পের বইটা সেল্ফে জায়গা মতো গুছিয়ে রেখে, পড়ার বইটা সামনে নামিয়ে রেখে নিচে নামে ফুলকি। আর দশ মিনিট সময় পেলেই গল্পের বইটা শেষ করে ফেলতে পারতো। গরমের ছুটি বা পূজোর ছুটি ছাড়া বড় গল্প বা উপন্যাস পড়ে শেষ করতে পারে না। তবে শরৎচন্দ্র রচনা সমগ্র, রবীন্দ্র রচনাবলীর বেশীটাই পড়ে ফেলেছে সে। এখন পড়ার চাপ খুব, তবু ঐ যে গল্পের বইএর প্রতি একটা তীব্র নেশার থেকে নিজেকে কিছুতেই দূরে রাখতে পারে না। মা কয়েকবার পড়ার বইয়ের মাঝে গল্পের বই পড়া ধরে ফেলে বকাবকি করলেও মাঝেমধ্যে এমনটাই করে ফেলে ফুলকি।

-কি রে এই কটা ভাত খেতেই তো একঘন্টা কভার করে দিবি মনেহচ্ছে, পড়া গুলো রেডি হয়ে গেছে।

-হুমম, অল্প একটু বাকি আছে, খেয়ে গিয়ে সেরে ফেলবো। বাবা কখন আসবে?

-আসবে একটু পরে, তুমি খেয়ে পড়তে বস দিয়ে, যা তো রেজাল্টের ছিরি, কেউ জিগ্যেস করলে বলতে লজ্জা লাগে। নাইনে পড়া মেয়েকে এখনো পড়ার কথা বলতে লাগে, ছিঃ কি নম্বর পেয়েছে সব।

-উফফ্ আবার শুরু করলে তুমি! ধ্যাত ভালো লাগে না।

-তা তো জানি ভালোতো লাগবেই না, ঐ যে বলেনা চোর না শোনে ধর্মের কাহিনী তোর হয়েছে ঐ দশা।
শোন সামনের পয়লা তারিখ থেকে তোকে সোমু পড়াতে আসবে, ওর কাছ থেকে অংক ভালোকরে শিখে নিস, সামনে বোর্ডের পরীক্ষা তাই এখন থেকে জোর দিস পড়াশোনায়।

-কে সোমু! তুমি চেনো?

-না চেনার কি আছে ,ঐ যে বড় রাস্তার পাশে যে তিন তলা বাড়িটা তৈরী হচ্ছে ,সেই বাড়ির ছেলে, চিনিস তো তুই, ভালো গীটার বাজায়,

-ও সোমনাথ দা! বলে দিও যেন না মারে, গায়ে হাত দেওয়া আমি পছন্দ করি না।
-পড়া টা ঠিক করে করলেই ওসবের দরকার নেই, মন দিয়ে পড়াশোনা করিস।
উঠে যেতে যেতে ফুলকি বললো- বাইরের কারো সামনে আমায় ফুলকি ফুলু এসব বলে ডেকো না আবার। একবার স্কুলের ফাংশানে ডেকেছিলে এখনো কেউ কেউ আমায় ফুলকো লুচি, ফুলুরি এই সব নামে ডেকে ক্ষেপায় ।
-ঠিক আছে এখন দয়া করে পড়তে যাও,
হুমম….. বলে পড়ার ঘরে আসে সে।

পয়লা তারিখে ফুলকি কে পড়াতে এলো সোমনাথ দা, কখনো সামনাসামনি কথা হয়নি তাদের, দূর থেকে বা রাস্তা দিয়ে যাতায়াতের পথে দেখা হয়েছে।
সে জিগ্যেস করলো – তোমার নাম কি?

-শুভ্রলীনা মিত্র (ফুলকির পোষাকী নাম। )
-বাহ্ খুব সুন্দর, তো তোমার রেজাল্ট দেখি, কেমন হয়েছিলো আগের বার?
-ওটা তো আমার কাছে নেই, হয়তো বাবার কাছে থাকতে পারে ,ওটার কি দরকার? আপনি আমায় ইংলিশ আর ম্যাথ দেখিয়ে দেবেন, ও দুটোতে আমি খুব কাঁচা, গড় গড় করে কথা গুলো বলে দিলো ফুলকি।

হো হো করে হেসে সোমু বললো- ঠিক আছে তাহলে বই খাতা নিয়ে এসো, অঙ্ক শুরু করি। সোমু মন দিয়ে অঙ্ক শেখাচ্ছে আর ফুলকি একমনে সোমু কে দেখে যাচ্ছে। ক্লিন সেভ করা চকচকে মুখ, পেটানো চেহেরা, গোল গলা স্কিন টাইট গেঞ্জি, ডেনিম ব্লু জিনস, কোনো সিনেমার হিরোর চেয়ে কম নয় তার আকর্ষণ। মুগ্ধ হয়ে দেখতে লাগলো ফুলকি। চোখাচোখি হতেই মুখ নামিয়ে নিলো ফুলকি। অঙ্ক কতটা বুঝলো সেই জানে, তবে সোমনাথ কে তার উপন্যাসের হিরো বানিয়ে নিলো মনে মনে।

প্রতিদিন সে আসার আগে ফুলকি বই খাতা নিয়ে পড়তে বসে যায়। আগের চেয়ে অনেকটা স্বাভাবিক ভাবে টুকটাক গল্প জুড়ে দেয় সোমুর সাথে। সোমু খুব ভালো ছাত্র, জয়েন্ট দিয়ে ইন্জিনিয়ারিং পড়ে। ক্যাম্পাসিংয়ে সিলেক্ট হলে ও কাজের জায়গাটা মনের মতো হয়নি জন্য যায়নি। ফুলকির গল্প বইয়ের নেশা আছে শুনে বললো – বাহ্ এটা তো খুব ভালো, আজকালকার ছেলেমেয়েরা তো দিনরাত মোবাইল, ইন্টারনেট, ফেসবুকে মত্ত, সে জায়গায় তুমি তো সেরা। ভালোকরে পড়াশোনা কর, পরীক্ষা শেষ হলে তোমাকে ক্লাব থেকে ভালো ভালো বই এনে দেব। ও যখন গল্প করে একরাশ মুগ্ধতা ছেয়ে থাকে ফুলকির চোখে। তার চোখ, দাঁত, ঠোঁট থেকে চোখ সরাতে পারে না।

“কি বলছি শুনলে?” সোমুর কথায় নিজের মধ্যে ফেরে ফুলকি। বলে- আপনি গল্পের বই পড়তে ভালোবাসেন? -হ্যাঁ বাসি তবে খুব একটা পড়া হয়না, সময়ের খুব অভাব।

ক্লাস নাইনের প্রথম পরীক্ষা গুলোতে ভালোই নাম্বার পেয়েছে ফুলকি। বাবা মায়ের সাথে সোমু ও খুব খুশি। পাড়ায় তার দুটো বান্ধবী আছে, টুসি দি আর রাই। প্রায় দিন তারা বিকালে ফুলকির কাছে আসে। কখনো লুডো, ব্যাডমিন্টন খেলে তাদের ছাদে। কখনো টুসি দির মোবাইলে নানা রকম নতুন নতুন সিনেমা দেখে। টুসি দির বয় ফ্রেন্ড তাকে কি কি বলে সব দেখিয়েছে, ও গুলো দেখে লজ্জায় তার মুখ লাল হয়ে যায়। তার ও খুব সোমুর কথা বলতে ইচ্ছে করে কিন্তু পারে না। সে জানে না সোমুর মনে তার জন্য কোনো জায়গা আছে কি না!

তারা একদিন ছাদে তখন রাই বললো -এসো এসো দেখো কে যাচ্ছে? তারা দৌঁড়ে এসে বললো – কে রে? একটা মেয়ে কে দেখে টুসি দি বললো- ও এই ন্যাকাটা, ওকে তো আমি রোজই দেখি, ক্লাবের সামনে দিয়ে যায়, নিজেকে মনে করে হিরোইন, ক্লাবের ছেলেগুলো ওকে দেখে ছোকছোক করে ও চলে যাওয়ার পর সোমনাথ মানে তোর মাষ্টার মশাই সোমু বেরিয়ে যায়। এমন ল্যাং খাবে না ওর থেকে, তখন বুঝবে ও কাকে ভালোবাসে।

কি বললো টুসি দি, সোমু ভালো বাসে ঐ মেয়েটাকে? বুকের ভিতর কেমন যেন করে উঠলো ফুলকি! চোখ ভরে এলো জলে। রাই বললো- তোর আবার কি হলো রে ফুলকি দিদি, কাঁদছিস?

-না রে হঠাৎ করে মাথাটা খুব ব্যথা করছে, চোখ টা জ্বালা করছে, তোরা বাড়ি যা এখন, আমি একটু শুয়ে নি, তারপর আবার পড়তে বসতে হবে।

ওরা চলে যেতে কেঁদে ফেলে ফুলকি, সে কি তবে ভালোবেসে ফেলেছে সোমনাথ কে? কিন্তু এভাবে ভালোবেসে কষ্ট পাওয়ার কোনো মানে হয় না, একতরফা ভালোবাসা হয় নাকি? থাক এখন এসব ভাবার সময় নয়, একটু পরে সোমু পড়াতে আসবে।

চোখ মুখ ধুঁয়ে পড়তে বসে ফুলকি, একটু পরে সোমু পড়াতে এলো, ফুলকির কালো মুখ দেখে জিগ্যেস করলো – কি হয়েছে বকা খেয়েছো স্কুলে নাকি মায়ের কাছে? ফুলকি তার দিকে না তাকিয়ে বললে- খুব মাথা ব্যথা করছিলো, এখন একটু কমেছে।

-সোমু বলে মাথার আর কি দোষ বল তো? এতো এতো পড়া মনে রাখা তো সহজ নয়, তাই একটু আধটু মাথা ব্যথা করেই। তো আজ আর পড়াশোনা করতে হবে না তারচেয়ে গল্প কর,মাথাব্যথা কমে যাবে।
ফুলকি বলে- আপনার ফোনটা একটু দেখি?

– ফোন নিয়ে কি করবে তুমি?
-দিন না একটু দেখি, আর আপনার ফোন নাম্বার টা দিন তো যদি কখনো দরকার হয় তো?
নাম্বারটা ফুলকির খাতায় লিখে দিয়ে ফোন টা দিলো সোমু। ফুলকি বললো- আপনার ফোনে ফটো গুলো দেখবো একটু।

-হ্যাঁ হ্যাঁ দেখো। অনেক ফটোর মধ্যে বিকেলের দেখা মেয়েটার ও একটা ফটো ছিল, তা দেখিয়ে জিগ্যেস করলো- এ কে ? সোমু বললো আমার বন্ধু ও, পাশের পাড়ায় থাকে, এবছর কলেজে ভর্তি হয়েছে।

“খুব ভালোবাসেন বুঝি ওকে,” থতমত খেয়ে সোমু বললো- বন্ধুদের তো সবাই ভালো বাসে, তা হঠাৎ ওর কথাই জিগ্যেস করছো যে?

-নাহ্ এমনি খুব সুন্দর দেখতে তো,
-হুমম তা তো ঠিকই, তেমার বন্ধুদের কথা কিছু বলো ,
-আমার তেমন কোনো বন্ধু নেই সোমনাথ দা, যার ফটো মোবাইলে রাখবো, তাছাড়া আমার তো পার্সোনাল মোবাইলও নেই।

-হ্যাঁ এখন বেশী বন্ধু থাকা ভালো নয়, এখন মন দিয়ে পড়াশোনা করার সময়। আচ্ছা ঠিক আছে তুমি আজ বিশ্রাম কর, আমি চলি বলে বেরিয়ে গেল সোমু দা।

দুদিন টুসি দি আর রাই আসেনি ফুলকির বাড়ি, হয়তো সেদিন ওভাবে চলে যেতে বলায় রাগ করেছে হয়তো,বিকেলে সে নিজেই রাইকে ডেকে নিয়ে টুসি দির বাড়িতে গেলো। টুসি দি ছাদেই ছিলো বললো -এখানে চলে আয়, তোর শরীর কেমন এখন?

-ভালো আছে গো, তো তোমরা যাওনি কেন গো?রাগ করেছো নাকি আমার ওপর? টুসি দি বলে- না রে ,মা দিদাকে দেখতে গেছিলো তাই যেতে পারিনি রে। চল ওদিকে ক্লাবের পাশের মাঠে প্যান্ডেল হচ্ছে দেখেছিস?

-কি হবে গো ওখানে?
-ওখানে দিন দশেক পরে একটা ফুটবল টুর্নামেন্ট হবে, আশেপাশের অনেক ক্লাব এখানে খেলতে আসবে, তখন আসিস মাঠে যাবো খেলা দেখতে!

“হ্যাঁ আসবো” বললো ফুলকি।
রাই বললো দেখ ঐ মেয়েটা যাচ্ছে ওদিকে, একটু পরে তোর মাষ্টার মশাই যাবে দেখিস ওর পেছনে।
ঠিক তাই, ফুলকি দেখলো সোমনাথকে বেরিয়ে মেয়েটার পিছন পিছন যেতে।

আজ আর মন খারাপ হলো না ফুলকির, সে নিজেকে বুঝিয়ে নিয়েছে যে তাকে অনেক বড় হতে হবে, নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে।

ক্লাবের মাঠে খেলা শুরু হয়েছে ,লোকে লোকারণ্য। ফুলকি, টুসকি, রাইর সাথে আরো অনেকে গেছে খেলা দেখতে। পাড়ার ক্লাবের ফুটবল টিমে সোমুও খেলছে, কি ভালো খেলে!

ফুলকি জানতোই না এতো ভালো খেলে সোমনাথ দা। সেদিন তারা জিতলো খেলায়, শেষের দিকে অন্য দলের গোল বাঁচাতে গিয়ে খুব চোট পেয়েছে সে।

পরপর ক’দিন পড়াতে এলোনা, বাবা কে ফোন করে জানিয়ে দিয়েছিলো। তার পরের দিন টুসি দি বাড়ি যেতে গিয়ে দেখলো মেয়েটা ফোনে কথা বলতে বলতে তার পাশ দিয়ে যাচ্ছে, সে শুনলো মেয়েটি বলছে আমি বেরিয়ে গেছি, তুমি তাড়াতাড়ি চলে এসো।

কাকে ডাকছে সে, সোমনাথ দা তো অসুস্থ, তবে?
গেট খুলে টুসি দির বাড়ি ঢুকতেই দেখে টুসি দি বেরোচ্ছে, তাকে দেখে বললো -চল না ফুলকি একটু বাজারে যাবো, কয়েকটা জিনিষ নিয়েই চলে আসবো।

ভালোই হলো দেখা যাবে মেয়েটি কোথায় গেলো, বললো- চল তবে।
বাজারে মেয়েটিকে আর দেখতে পেলোনা ফুলকি। সব কেনা কাটা হলে টুসি দি বলে- চল ফুলকি সামনের ঐ রেস্টুরেন্টে যাই, ওখানে দারুণ চিকেন পাকোড়া বানায়, চল খাবো।

চিকেন পাকোড়া ফুলকিরও খুব পছন্দের, সে রাজি হয়ে গেলো। ভেতরে ঢুকেই দেখলো সেই মেয়েটি সেখানে, তার সামনে অন্য একটা ছেলে বসে আছে মেয়েটার হাত ধরে। টুসি দি ইশারায়

দেখালো পেছোনের টেবিলটা ফাঁকা, তারা সেখানে গিয়ে বোসলো যাতে মেয়েটির কথা শুনতে পায়।
মেয়েটি বলছে- এখন তো তোমার চাকরী পাকা হয়ে গেছে, তাহলে আর দেরী করছো কেন? বাড়িতে জানিয়েছো?
ছেলেটি বলে- পাগল নাকি? এখনি কেন? দু এক বছর যাক!

-ও তুমি তাহলে এখন বিয়ে করবে না? তবে আমার সাথে কি টাইম পাস করছো নাকি?
-শোনো তোমায় বলি টাইম পাস করার মতো না আমার হাতে অনেক ছেলে আছে, তুমি বিয়ে না করলে কেটে পড়তে পারো।

ফুলকি চুপিচুপি টুসিকে বললো -ওদের কথা গুলো রেকর্ড করতে। টুসি মোবাইল বের করে ভিডিও রেকর্ডিং করলো।
ওদের কথাকাটাকাটি, মান অভিমান চললো আরো খানিকক্ষণ। বাড়িতে চিন্তা করবে ভেবে তারা উঠে পড়লো।
ফুলকি টুসি কে বললো- তবে যে তুমি বলেছিলে সোমনাথ দা ঐ মেয়েটাকে ভালোবাসে?

– হুমম, বাসেই তো, তবে মেয়েটাই হয়তো বাসেনা বা এমনি টাইম পাস করে, শুনলি তো ছেলেটিকে তেমন জোর দিচ্ছিলো বিয়ে করার জন্য। তো তুই ওদের কথা রেকর্ডিং করতে বললি কেন রে? সোমু কে দেখাবি?

-নাহ্ তা না তাও থাক, যদি কখনো কাজে লাগে!
বাড়ি ফিরতে ফিরতে ফুলকি ভাবলো যাই হোক এটা যদি সোমনাথ দা জানতে পারে তবে বুঝতে পারবে সে নিজের জন্য সঠিক মেয়ে নির্বাচন করে নি। ফুলকি নিজেও চায় না তার মতো কোনো খারাপ মেয়ে সোমনাথ দা বিয়ে করুক।

সোমনাথ দা একটু সুস্থ হতেই তাকে পড়াতে এসেছে। ঠিকমতো পড়াশোনা করা ছাড়া আর কোনো আকর্ষণ ফুলকি আর বোধ করে না। কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমি ফাইনাল করে সোমনাথ দার টিম ফাইনালে উঠেছে। কাল ফাইনাল খেলা, রাতে খেতে বসে বাবা বললেন- কাল যাবি তো মাঠে খেলা দেখতে? মা বললো- হ্যাঁ আমিও যাবো কাল তোমাদের সাথে।

টানটান উত্তেজনা নিয়ে ফুলকি তার বাবা মায়ের সাথে খেলা দেখতে গেছে মাঠে। রাই, টুসি দি সবাই এসেছে। খেলা জমে উঠেছে পুরো। বিপক্ষ দল খুব ভালো খেলছে। গোল সমান সমান। পেলান্টির শেষে দুর্দান্ত দুটো গোল করে সোমনাথ দা জিতিয়ে দিলো শেষ মূহুর্তে। দলে দলে লোক ছুটে গিয়ে সোমনাথ দা কে কোলে তুলে সারা মাঠ ঘোরাচ্ছে।

ফুলকি মাঠে কোথাও মেয়েটাকে দেখতে পেলো না, টুসি দির কানে কানে ফুলকি বলে- সেই মেয়েটি কে তো দেখছি না আজ? সে কিছু বলার আগে রাই বলে তোমরা জানো না, মেয়েটাতো দুদিন আগেই বাড়ি থেকে পালিয়ে গেছে।
যাঃ এটা কি হলো! কৌতূহল চাপতে না পেরে ফুলকি জিগ্যেস করে, সোমনাথ দা জানে? টুসি দি বললো- নিশ্চয় জানে তা না হলে কি এতো ভালো খেলতে পারতো, ওর ঘাঁড় থেকে একটা বোঝা নেমে গেছে যে বলে হো হো করে হেসে উঠলো। কিন্তু ওদের এই হাসিতে ফুলকি সামিল হতে পারলো না। তার চোখ তখন সোমনাথ দার হাসিমুখ খুঁজছে।

গল্পের বিষয়:
ছোট গল্প

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত