ভার্চুয়াল প্রেমিকা

ভার্চুয়াল প্রেমিকা

পাশের বাসায় দিলবার দিলবার গান টা সেই সকাল থেকে শোনা যাচ্ছে। সচরাচর নিয়ম অনুসারে ভেবে নেওয়া যায় তারমানে পাশের বাড়িটা শুধু বাড়ি না আপাতত বিয়ে বাড়ি । কিন্তু নিমন্ত্রণ আসেনি। আসলেও আমি জানিনা। তিন বছর আছি এই বাসাটাই তাও পাশের বাসাতে কে কারা আছে তেমন জানিনা। দাওয়াতের আসা করাটা বোধহয় কল্পনা। বিনা নিমন্ত্রণে বিয়ে বাড়ি খাওয়ার ভিতরে একটা পৈশাচিক আনন্দ আছে ; ( মু হা হা হা হা টাইপ)
যারা এই মহান কাজ জীবনে কখনো করেননি তারা এর স্বাদ পেতে পারেন বন্ধুর পকেট থেকে টাকা মেরে সেই বন্ধুরেই ট্রিট দিয়ে। অনেক মজার একটা ব্যাপার স্যাপার।

আমার সাবেক বন্ধু নাম সাবিন। সাবেক বন্ধু এ কারণে বলেছি যে ২ বছর আগেও তার সাথে আমার দুধ চায়ের মতো সম্পর্ক ছিলো। এখন তা চিনি বাদে চা হয়ে গেছে । যাই হোক সাবিন এ সব লিজেন্ডারি কাজে সিদ্ধ হস্ত ছিলো। তার সাথে থাকা মারফত আমিও টুক টাক শিখেছিলাম কিভাবে বিনা নিমন্ত্রণে দাওয়াত খেতে হয়। হাই স্কুলের প্রিন্সিপ্যাল স্যার কেও ছাড়েনি ও। আজো মনে পড়ে এডভোকেটের মেয়ের বিয়েতে গিয়ে এমন খাওয়া খেয়েছিলো পরে আর টয়লেট খুঁজে পাইনা। হা হা।

তবে সে সব ছোট বেলার কথা। এখন সাবিনের চিন্তার সাথে সাথে বয়সটাও বেড়েছে। বেড়েছে প্রেকিকা, হয়েছে সাবেক প্রেমিকাও। সাবিন কাল রাতে ফোন করে বলেছে দেখা করতে আজ বিকালে। অনেক দিন বাদে দেখা সাবিনের সাথে। অনেক কথা হলো । তবে তার শেষ কথা শুনে আমার চোখ ডিম ডিম হয়ে গেছে। সাবিনের সাবেক এক প্রেমিকা নাম কি জানি প্রিয়া তার নাকি বিয়ে। কথাটা এ পর্যন্ত হলে আমার চোখ ডিম হতো না। কথাটা এরকম যে সাবিন তার বিয়েতে যাবে তাও নিমন্ত্রণ ছাড়া। এই পর্যন্ত হলেও পাড়ত জিনিশ টা। কিন্তু না সে এখন তার সাথে আমাকে নিয়ে যাবে। (ভয়ানক বিষয়)।

ফর্মালিটি অনুযায়ী আমি আরে ধুর, না নাহ, পাগল নাকি এসব বলা শুরু করলেও মনে মনে কিন্তু কিঞ্চিত রোমান্সকর কিছু অনুভাব করছিলাম। সাবেক প্রেমিকার বিয়ে, আমার যাচ্ছি দুই বন্ধু তবে তুলে আনতে না বিয়ে খেতে। বাংলা সিনেমার কাহিনী কেও হার মানাবে। হা হা।

রাতের ট্রেন ৯.১৫ তে সাগর দাড়ি এক্সপ্রেস। সকালের আগেই পৌছে যাবো আমরা রাজশাহী। মজা মজা ভাব। আমাদের কাছে ভাবা সমান সমান কাজ। ট্রেনে উঠে বসলাম। চ ৬৭, ৬৮ নাম্বার সিট। প্রথমে উঠেছলাম জ কামড়াতে পরে আস্তে আস্তে সীট খুজে নিয়ে বসে পড়লাম। এখান কার সার্ভিসিং মোটামুটি ভালোই। আজ মাত্র ৩ঘন্টা লেট ছিলো ট্রেন। (মাত্র)

যাইহোক বুকের ভিতর ধপাস ধপাস করছে আমার। তাহলে সাবিনের কি করছে? ধপাস ধপাস স্কয়ার? হা হা
সবাই তো মাথাতে চুল নিয়ে ঘুরে আমি কল্পনা নিয়ে ঘুরি। তাই কল্পনা করতে করতে কখন ঘুমিয়ে গেছি বুঝতে পারলাম না। সকালে সাবিন ডাকছে বুঝলাম চলে এসেছি হয়ত। তাড়াহুড়া করে ব্যাগ নিয়ে নেমে পড়লাম।
স্টেশনে বসলাম। সাবিন আমার মুখের দিকে তাকিয়ে আছে; এই তাকানো আমি চিনি। কনো ঝামেলা পাকালেই সাবিন শুধু এভাবে তাকাই। সাবিইইইইন……

সাবিন: ভাই?

আমি: প্যাকেট খুলে বল কি করেছিস?

সাবিন: প্রিয়ার বাড়ি রাজশাহী

আমি: হা, আর আজ তার বিয়ে আমরা পেটে হাতি নিয়ে খাবো।

সাবিন: বাড়ি খোঁজা লাগবে। ফেসবুকে তো শুধু রাজশাহী লেখা ছিলো ; উত্তেজনার বসে অন্য কিছু খেয়াল করে দেখিনি।

আমি : প্রেমিকার বাড়ি রাজশাহী। তারপরের টুকু সাবিন জানে না গুগোল ও জানে না। শুধু প্রেমিকা জানে।

গল্পের বিষয়:
ছোট গল্প

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত