নীল জামা

নীল জামা

-এই ভাই আর কতক্ষণ ঘুমাবি। এবার ওঠ,,,, সকাল সকাল ছোট বোনটার বক-বকানিতে আসিফের ঘুম দৌড়ে পালালো।

আসিফ: কি হয়েছে বল? এতো চেঁচামিচি করছিস কেন?

মিতু: দেখনা গত মাসে খলিল কাকার দোকানে অনেক গুলো নীল জামা এনেছিলো। আম্মুকে বলেছিলাম কিনে দিতে। আম্মু বলেছিলো এই মাসে কিনে দিবে। তাই আজ বললাম কিনে দিতে আর আম্মু বললো আব্বু নাকি এই মাসে বেতন পায়নি। তাই নাকি এর পরের মাসে দিবে।

আসিফ: তো কি হয়েছে?

মিতু: কচু হয়েছে। এত দিন জামা থাকবে নাকি।

আসিফ: কাঁদছিস কেন। আচ্ছা ঠিক আছে কাল টিউশনির বেতন পাবো তখন কিনে দিবো। কেমন? এখন কান্না বন্ধ করে এখান থেকে যা, আমি একটু ঘুমাবো….

মিতু:আচ্ছা তবে ঘুমা,,,,,

এটা বলেই মিতু আসিফের চুল গুলো হাল্কা টান দিয়ে দৌড়ে পালিয়ে গেলো পরের দিন আসিফ টিউশনিতে যাওয়ার আগে খলিল মিয়ার দোকানে যায় আসিফ। ছোট বোনের পছন্দের জামার দাম ঠিক করে তার ছাত্র পড়াতে বেরিয়ে পরলো।

প্রায় সন্ধার সময় ছাত্র পড়িয়ে সাথে টিউশনির ফি নিয়ে বেড়িয়ে পরলো। মনে মনে ভাবলো সামনে যেহেতু শীত আসছে তাই মায়ের জন্য একটা চাদরও কিনবে আর বোনের আবদার তো রাখতেই হবে।এই ভোবেই রাস্তায় আপন মনে হাটছিলো।

হঠাৎ পিছন থেকে তাকে ডাক দিলো। পিছনে ফিরে তাকাতেই কেউ একজন তার শার্টটা মুচড়ে ধরে তাকে সামনের একটা গলিতে নিয়ে গেলো গলিতে যেয়ে লোকটা তাকে একটা ধাক্কা মারলো। আসিফ ছিটকে গিয়ে পরলো, তার পিঠটা দেয়ালের সাথে গিয়ে লাগলো। হঠাৎ লোকটা তাকে চাকু দেখিয়ে বললো : দেখ চিৎকার করবি

আসিফ: কিন্তু আপনি কে?

লোকটা সাথে সাথে তার এক হাত দিয়ে আসিফের মুখটা চেপে ধরে আরেক হতে চাকুটা আসিফের পেটের সাথে চেপে ধরলো। আসিফ ভয় পেয়ে গেলো। সে বুঝলো ধস্তাধস্তি করে লাভ নেই তাতে পেটে লেগে থাকা ছুরিটা ঐ মাতাল লোকটা ডুকিয়ে দিতে পারে। লোকটাই আসিফের পকেট হতিয়ে সব জিনিস নিয়ে তাকে জোরে একটা ঘুশি মেরে দৌড়ে পলালো। আর আসিফ সাথে সাথে ও মাগো বলে মুখটা চেপে ধরে বসে পরলো।

একটু পর উঠে দাড়িয়ে দেখলো লোকটা আশেপাশে নেই। হঠাৎ মুহুর্তের মধ্যে কি ঘটে গেলো সে বুঝতে পারলো না। উঠে দাঁড়িয়ে সামনের দিকে তাকিয়ে দেখলো তার মোবাইল টা একটু সামনেই মাটিতে পরে রয়েছে। সে বুঝলো লোকটা তাকে ধাক্কা দেওয়ার সময় এটা হয়তো এখানে পরে গেছে

মোবাইলটা হতে নিয়ে সে বাসার দিকে রওনা দিলো, আর ভাবতে থাকলো এটা কি হয়ে গেলো। এখন ছোট বোনকে দেওয়া কথার কি হবে। ভাবতে ভাবতে বাসার কাছে চলে আসলো। বাসার কাছে যেতেই শুনলো ছোট বোনটা মাকে বলছে দেইখো আজ ভাই ঠিকই আমার জামা নিয়ে আসবে। মা তাকে ধমক দিয়ে বললো তুই থামবি সেই কখন থেকে বকবক করছিস।

আসিফ আর দরজার কাছে গেলো না। পিছন ফিরে আবার রাস্তার দিকে হাটা শুরু করলো। কিছুক্ষন পর হতে একটা ব্যাগ নিয়ে দড়জার সামনে এসে দড়জাতে হাল্কা ধাক্কা মারতেই ছোট বোন দৌড়ে এসে দড়জা খুলে দিলো। মিতুর মুখ দেখে মনে হলো এতক্ষন ও এটার জন্যই বুঝি অপেক্ষা করছিলো।

মিতু : (আসিফের দিকে তাকিয়ে দেখলো ওর হতে দুটা প্যাকেট) ভাই আমার কেনটা?

আসিফ: এই বড়টা তোর।

সাথে সাথে আসিফের হাত থেকে এটা নিয়ে দৌড়ে নিজের রোমে চলে গেলো। আসিফ অন্য প্যাকেটটা মার হাতে ধরিয়ে দিতেই বললো এত টাকা কোথায় পেলি?

আসিফ: আম্মা ফোনটা বেচে দিয়েছি।

মা: হঠাৎ ফোন বোচতে গেলি কেনো? আজ তোর বেতন পাবার কথা ছিলোনা? আসিফ সব খুলে বললো তার মাকে।

আমনি পিছন দিক থেকে ছোট বোন বললো দেখতো ভাইয়া কেমন লোগছে। আসিফ তার বোনের দিকে তাকিয়ে দেখলো জামাটায় মিতুকে খুব মানিয়েছে, একদম নীল পরির মতো লাগছে। আসিফ বললো বাহ দারুন লাগছে। কথাটা বলা শেষ হতে না হতেই মিতুর চোখ দিয়ে পানি বের হতে লাগলো। আসিফ মিতুর কাছে গিয়ে বললো কিরে পাগলি কাদছিস কেন? কি হয়েছে?

মিতু: তুই আমার জামার জন্য নিজের মোবাইল বেচে দিলি? আসিফ দু হাত দিয়ে মিতুর চোখের পানি মুছে দিয়ে তাকে কোলে নিয়ে বললো আরে পাগলি তোর ভালোবাসার চেয়ে কি আমার মোবাইল টা বেশি দামি নাকি, তোর জন্য এই রকম হাজার টা মোবাইল আমি বেচতে পারি। তখন মিতু বললো ঠিক আছে কাল আমার জন্য মোবাইল কিনে আনবি।

আসিফ: তুই মোবাইল দিয়ে কি করবি?

মিতু : কেন, তুই আমাকে জামা দিলি আর আমি কিছু দিবোনা এটা কি হয়। আসিফ বড় একটা হাসি দিয়ে পরম আনন্দে তার বোনকে জড়িয়ে ধরলো।

সমাপ্ত

গল্পের বিষয়:
ছোট গল্প

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত