লাল শাড়ির ভালবাসা

লাল শাড়ির ভালবাসা

তুমি এখানে?

মিহিনের কথায় আমি কিছু বললাম না।একটু চুপ করেই রইলাম।লাল শাড়িতে যে মেয়েটাকে এতটা সুন্দর লাগে হয়তো আজ না দেখলে জানতামই না।অবশ্য লাল শাড়িতে অন্য মেয়েদেরও সুন্দর লাগতে পারে কিন্তু এতটা সুন্দর হয়তো লাগবে না।আমি মিহিনের দিকে আরও একটু এগিয়ে গেলাম।আশেপাশে এত লোকজনের মাঝে আমার এরকম আচরন হয়তো মিহিন ভাবতেও পারেনি।যেটা ওর চোখ, মুখ দেখে স্পষ্টই বুঝতে পেরেছি।কিন্তু মেয়েটাকে কেমন যেন খালি খালি লাগছে।মিসিং জিনিসটা ধরতেই পারছি না।তবে এটা বুঝতেও আমার বেশি সময় লাগলো না।আমি হাতটা বাড়িয়ে মিহিনের খোঁপা করা চুলের ক্লিপটা খুলে দিতেই চুলগুলো ছড়িয়ে পড়লো।

আমার এরকম অদ্ভুত আচরন মিহিনকে যতটা না অবাক করেছে তার থেকে বেশি অবাক হয়েছি আমি ওকে খোলা চুলে দেখে।মেয়েটাকে খোলা চুলে যে এতটা ভাল লাগবে এইটা আমি আগেই বুঝতে পেরেছিলাম।তাই আর দেড়ি না করে চুল গুলো ছড়িয়ে দিয়ে একটু পেছনে পা বাড়ালাম।এত কাছ থেকে ওর সৌন্দর্যটা ঠিক বুঝতে পারছিলাম না।

লাল শাড়ি,ঠোটে লাল লিপস্টিক, কপালে লাল টিপ আর খোলা চুলে মেয়েটাকে দেখতে অসম্ভব সুন্দর লাগছে।অবশ্য এইটা যদি আমি এখন মিহিনকে বলি তাহলে মেয়েটা বিশ্বাস না ও করতে পারে।তাই এটা না বলাটাই বেটার হবে।আমার চুপ থাকা দেখে মিহিন আমার দিকে এগিয়ে এসে আবারও বললো,

-তুমি এখানে?
-কেন,আসতে মানা?
-কথা না পেচিয়ে যেটা জানতে চেয়েছি সেটা বলো।
-আচ্ছা।ওই যে বরটা কি আরামে বসে আছে,উনি আমার ভাই,ফুফাতো ভাই।কিন্তু তুমি?
-কনে আমার ফ্রেন্ড।

কথাটি বলে মিহিন আর দাঁড়ালো না।সবাই প্রায় খাবার টেবিলে বসে গেছে।মিহিনও সেদিকেই পা বাড়ালো।কিন্তু মেয়েটার এভাবে খুড়িয়ে হাটা আমার চোখ এড়ালো না।আমি এগিয়ে গিয়ে মিহিনের হাতটা ধরে আমার পাশের চেয়ারেই বসিয়ে দিলাম।অবশ্য এতে মিহিন যে রেগে যাবে আমি বুঝতে পারিনি।ওর ফ্রেন্ড গুলাও দেখছি আমার দিকে হা করে তাকিয়ে আছে।সত্যি বলতে মিহিন ওদের সাথেই বসতে চেয়েছিল।কিন্তু এভাবে ধরে যে মিহিনকে আমার পাশে বসিয়ে দেবো এটা হয়তো মিহিন নিজেও ভাবতে পারেনি।

ভেবেছিলাম মেয়েটা রাগ দেখিয়ে উঠে যাবে কিন্তু মিহিন উঠলো না।তবে ওর মুখটায় বেশ রাগি ভাব দেখা যাচ্ছে।আমি এবার মিহিনের কানের কাছে মুখ নিয়ে বললাম,লাল শাড়িতে তোমাকে বেশ লাগছে।

আমার কথায় যে মিহিন খুশি হয়নি এটা ওর মুখ দেখেই বোঝা গেলো।অবশ্য এটা আমি আগেই বুঝেছিলাম।এইতো দু দিন আগের কথা।

রাত প্রায় দশটা বেজে ত্রিশ মিনিট।টিভি দেখে রুমে আসতেই ফোনটা বেজে উঠলো।বেজে উঠলো বললে ভুল হবে,বলতে হবে কেপে উঠলো।আমি ফোনের স্ক্রিনের দিকে শান্ত চোখে তাকালাম।এই সময়টা যে মিহিনের জন্যে বরাদ্দ এইটা ওর সাথে রিলেশনের পরেই বুঝেছিলাম।আমি ফোনটা ধরতেই মিহিন বললো,

-তোমাকে যে একটা শাড়ির ছবি দিলাম,তুমি তো কিছু বললে না।
-কোন শাড়িটা?
-বিকেলে যে দিলাম,এখনই ভুলে গেছো?
-ও আচ্ছা।ওই কটকটে লাল শাড়িটা।সত্যি বলতে এই শাড়িটাতে তোমাকে একদমই মানাবে না।
আমার কথায় মিহিন কিছুক্ষন চুপ করেই রইলো।হয়তো বেশ বড় কিছু বলবে তাই কথাগুলা গুছিয়ে নিচ্ছে।কিন্তু মেয়েটা কিছু না বলে হুট করেই ফোনটা কেটে দিল।নিজেও কিছু বললো না আমাকেও কিছু বলতে দিল না।অবশ্য এরপর বেশ কয়েকবার ওকে ফোন দিয়েছি কিন্তু ধরেনি।

আজ ওকে এখানে দেখে ভেবেছিলাম হয়তো আমার সাথে এখানেও কথা বলবে না।এড়িয়ে যাবে।কিন্তু মেয়েটা সেটা করেনি,তবে রাগটা ঠিকই মনের মধ্যে পুষে রেখেছে।আসলে সেদিন আমিই ভুল ছিলাম।লাল শাড়িতে মেয়েটাকে সত্যি ই বেশ ভাল মানিয়েছে।

আমি যখন আরও একবার প্লেটে বিরিয়ানি বেড়ে নিচ্ছিলাম তখনি মিহিন আমার ধরে থামিয়ে দিল।আমি মিহিনের দিকে তাকাতেই মেয়েটা রাগি গলায় একটু আস্তে করে বললো,
-এটা কি হচ্ছে?
-কোই,কি হচ্ছে?
-তিন প্লেট বিরিয়ানি শেষ করে আবার নিচ্ছ কেন?
-তুমি যেটুকু কম খাবে ওটুকু তো আমাকেই খেতে হবে তাই না।
-ওদিকে দেখো,ওই যে ভিডিও হচ্ছে।আর এদিকে দেখো আমার ফ্রেন্ডরা কিভাবে তাকিয়ে আছে।
-তাকিয়ে আছে কেনো?
-এভাবে এত কেও খায়!ওরা নিশ্চিত আমাকে বলবে,ওটা তোর বয়ফ্রেন্ড নাকি বিরিয়ানির।
-তার মানে তুমি বলতে চাচ্ছ আমি বিরিয়ানি না খেয়ে তোমাকে খা…
-হয়েছে আর বলতে হবে না।
-আচ্ছা তাহলে এটুকু শেষ করি।

আমার কথায় মিহিন কিছু বললো না।আমি যেভাবে ওকে ধরে চেয়ারে বসিয়ে দিয়েছিলাম ঠিক মেয়েটাও ওভাবে আমাকে চেয়ার থেকে টেনে তুলে একটু দূরে এসে দাঁড়ালো।

মিহিনের এমন আচরনে আমি একটুও অবাক হলাম না।।ও চায়নি আমাকে নিয়ে অন্য কেও হাসাহাসি করুক।তাহলে আমার থেকে ওই বেশি কষ্ট পেতো।যাক মেয়েটার রাগটা তাহলে ভেঙেছে। আমি মিহিনের দিকে তাকিয়ে বললাম,
-সরি,আমিই ভুল ছিলাম।
-তো ঠিকটা কি?
-তোমাকে লাল শাড়িতে অসম্ভব সুন্দর লাগছে।
-মিথ্যা বলবা না।তুমিই বলেছিল মানাবে না লাল শাড়িতে।

-তখন তো দেখেনি,তাই মনে হয়েছিল।কিন্তু এখন তো লাল পরীটাকে একদম সামনে থেকেই দেখছি।
আমার কথায় মিহিন কিছু বললো না।আমার দিকে এগিয়ে আসতেই মেয়েটা পড়ে যাচ্ছিলো।আমি না ধরলে হয়তো পড়েই যেত।আমি মিহিনকে ধরে বললাম,

-পায়ে কি হয়েছে।
-ফোসকা পড়ে গেছে।খুব ব্যাথা পাচ্ছি।
মিহিনের কথায় আমি ওর পা থেকে জুতা খুলে হাতে নিয়ে বললাম,
-চলো তোমাকে বাসায় নামিয়ে দেই।
-হুম।কিন্তু জুতা হাতে নিচ্ছ কেন,কেও দেখলে কি ভাববে?
-যাই ভাবুক,অন্তত তোমাকে তো খুড়িয়ে হাটতে হবে না।

আমার কথায় মিহিন কিছু বললো না।আমাকে শক্ত করে ধরে বাইকে চেপে বসলো।আমি মিহিনের দিকে না তাকিয়ে ই বললাম,

-কোথায় যাব?
-কেন আমাকে নিয়ে পালিয়ে যাবার ধান্ধা আছে নাকি?
-না মানে,লাল শাড়ি,কালো পাঞ্জাবি,বিয়েটা আজকে করলেই ভাল হতো না।
আমার কথায় মিহিন এবার একটু শব্দ করেই হেসে উঠে বললো,
যাও তো।

একটু এগুতেই আমি বললাম,
-এই পথ যদি না শেষ হয় তবে কেমন হতো তুমি বলো তো?
আমার কথায় মেয়েটা মুচকি হেসে বললো,
পথ শেষ হলেও আমাদের ভালবাসা শেষ হবে না।কোন ভাবেই না,কোন মতেই না।

গল্পের বিষয়:
ছোট গল্প

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত