পরিবর্তন ২

পরিবর্তন ২

বাবা আজ আমার ৫০০০ টাকা লাগবে, বিকাশে পাঠায়ে দিও ত।

হাসান সাহেব শুধু ছেলে রাহাতের দিকে তাকালো তারপর আবার নাস্তার দিকে মনোযোগ দিলো।

আম্মি, কি করো এটা?? এই কয়েকদিন মিনু আসেনি আর এই অবস্থা নাস্তার?? জুস টাও কেমন যেনো, ধুর ভাল্লাগে না।

খাবার টা ধাক্কা দিয়ে, রাহাত উঠে চলে গেলো।

জাহ্নবী বেগম হাসান সাহেবের দিকে৷ অসহায়ভাবে তাকালো।

হাসান হাসেব জাহ্নবী বেগম কে চোখের ভালোবাসায় আতস্থ করলেন।

মিনুর কি হয়েছে??(হাসান)

জানি নাগো (জাহ্নবী)

মেয়েটাকে কয়েকদিন দেখলাম খুব ভয়ে ভয়ে আছে। আজ ৩ বছর বাসায় কাজ করছে, হাসিমুখে। কত মিষ্টি মেয়েটা। হঠাত এমন আচরন করলো কেন?? আর আজ কয়েকদিন আসছেই বা না কেন?? ( হাসান সাহেব)

জাহ্নবী বেগম কাচুমাচু করে, তোমার অফিসের দেরি হয়ে যাচ্ছে না??

দেয়াল ঘড়ির দিকে তাকিয়ে, ওহো। তাড়াতাড়ি ব্যাগ টা দাও। আর তুলি কই?? ওর কলেজ ত লেট হয়ে যাবে।

বাবা, লেট হবে না। চলো, আমি রেডি।(তুলি)

আমার সোনা আম্নু বলে তুলির কপালে হাসান সাহেব একটা চুমু দিলেন।

তারপর ২ জন বেরিয়ে গেলো একসাথে।

তুলিকে কলেজে নামায়ে দিয়ে হাসান সাহেব অফিসে যান প্রতিদিন। কিন্তু আজ আর অফিসে না, আগে মিনুদের বাসায় যাবে।

২য় দৃশ্য

আজ কয়েকদিন হলো, কামে যাস না কেন মিনু??(বিলকিস বেগম)

মিনু(২১ বছর) মায়ের দিকে তাকালো মিটমিট করে।

তোর চোখের নিচে কালি পড়ছে কেন রে?/ আর ৯ দিন পরে তোর বিয়ে। বরপক্ষ ত আমারে কইবো আপনাদের মেয়েরে কি রাত্রিরেও কাম করান নাকি??

মিনু চুপ করে থাকে।

বিলকিস বেগম আরো কিছু কথা শুনায়ে বাহিরে চলে গেলেন।

বমি আসছে অনেক্ষণ আগেই। মায়ের জন্য এতক্ষণ চেপে রাখছিলো বমিটা। মায় যাওয়ার সাথে সাথে মিনু কলপাড় গিয়েই বমি করে দিলো।

চোখ দিয়ে পানি টপটপ করে পড়ছে। কেনো ওইদিন ভয়ে ও কিছু বলেনি?? বললে নিজের এই অবস্থাতো হতো না। এখন আমি কি করবো?? রুমের ভিতরে এসে, বালিশের নিচ থেকে, কাপড়ের গোছাটা বাইর করলো মিনু। গুনতে ত পারে না। তয় রাহাত সাহেব কয়ছিলো পুরো ২৫০০০ আছে বলে।

একদিকে মিনুর চোখ উজ্জ্বল হয়ে উঠে, মায়ের দুঃখ ত একটু কমলো। মায়ের কষ্ট কমানোর লাইগাই ত কাম করতে গেছিলাম রাহাত সাহেবের বাসায়।

রাহাত ভাইয়ারে নিজের ভাই মনে করছিলাম। কিন্তু রাহাত ভাই আমারে এমন করবো, ছিহ, ওইদিনের কথাটা মনে আসতেই টাকাটা ছুড়ে ফেলে দিলো মেঝেতে। ঘৃন্না হচ্ছিলো ওর নিজের প্রতি আর রাগ হচ্ছিলো রাহাতের উপর।

মেঝে থেকে টাকা টা কুড়িয়ে নিয়ে, মিনুর সামনে বসলেন হাসান সাহেব।

বড় সা, সার আপনে??(মিনু)

হাসান সাহেবের চোখে পানি,

আমায় ক্ষমা করে দে মা।

তারমানে বড় সাহেব কি সব শুনে ফেলেছেন?? বুঝে গিছেন উনি??(মিনু)

এতদিন তুই কাজে যাস নাই, নিজের কাজের চাপে আমি ভুলেই গেছিলাম রে মা তোর কথা। আমার আরো আগে আসা উচিত ছিলো।

মিনু একটু বড় করে শ্বাস নিলো।, তারমানে বড় স্যার শোনেনি,বোঝেও নি।

আরো কিছু সময় কথা বলে বড় সাহেব, মিনুর বিয়ের যাবতীয় খরচ বহন করবেন বলে গেলো বিলকিস বেগমের কাছে। ততক্ষণে বিলকিস বেগম চলে আসছেন।

মা,বিলকিস বেগমের আনন্দে চোখে পানি চলে এলো। এই মেয়েটার জন্যিই এত কষ্টের পরো বেচে আছে। একা হলে কবেই ত ট্রেনের নিচে ঝাপ দিতো সে।

কয়েক বছর আগে..

বরটারে খাইলি, শশুড়বাড়ি ত্তে তোরে বাইর কইরা দিলো এখন আবার এখানে আসছোস কে?/ তোর দায়িত্ব ছিলো আমাগোরে, বিয়া দেউয়া। দিছিলাম, এহুন আর কোন দায়িত্ব আমাগোরে নাই, যা ইহান তে,(বিলকিসের বড় ভাই)

ভাইজান, কি কউ?? মেয়ে মিনু তখন ১১ মাস বয়স, কোলেতে নিয়ে, এই মাইয়া ডারে নিয়া আমি কোনে যাবো কউ??(বিলকিস)

যেনে ইচ্ছা সেনে যা। আমার কি, (ভাই)

বিলকিস বেগম যখন দেখলো যে এভাবে ত আর হচ্ছে না তখন,

আমার ভাগ টুকু আমায় দেউ। আমি সেখানেই থাকুমনে।(বিলকিস)

কিসের ভাগ চাস তুই??(ভাই)

আমার বাপের বাড়ির জায়গাতে খালি তুমাগোরে অধিকার আছেনি। আমার নাই??(বিলকিস)

হা হা হা, হেই জমি বিক্রি কইরায় ত তোর বিয়া দিছিলাম রে, মাথায় কিছু আচেনি?/(ভাই)

বিলকিস বেগমের মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়লো। কি বলেন এ গুলো??

হ, যা কইছি সত্যি কইছি এহুন যা ইহান তে।যাহ…

বিলকিস বেগম বাহিরে চলে আসলো।

পাগলের মতো কান্না করতে লাগলো, কি করবে সে এখন?? মেয়েটারে প্যাকেটের দুধ খাওয়ানো হইনি আজ ৩ দিন।

নিজেও কিছু খেতে পারেনি আজ ৩ দিন, সামনের পেট শুকায়ে একদম পেছনের পিঠে লেগে গিছে।

মাইয়াডার মুখের দিকে তাকালেই মায়া হই, সেই মায়ায় বিলকিস বেগম এতদিনো বেচে আছে।

৪র্থ দৃশ্য

সজিব ওর টিউশনি টা শেষ করে বাজার দিয়েই আসছিলো। হঠাত বাজারের মধ্যে হরগোলের শব্দে সেদিকে রওনা দিলো। অনেকগুলো লোক এক জায়গা জমায়েত হয়েছে কাউকে ঘিড়ে। হইতো কারোর কিছু হয়েছে। ভিড় ঠেলে ভিতরে গিয়ে দেখে, মিনু পড়ে আছে। জ্ঞান নেই ওর।

সজিব সবাইকে কয়েকটা কথা শুনায়ে দিলো। কেমন মানুষ আপনারা, মেয়েটার চোখেমুখে একটু পানি ছিটায়ে দিতে পারেন নি??

তারপর পাশের দোকান থেকে বোতলে করে পানি এনে মুখে দিলো। কিন্তু তাতেও কিছু হলো না। কি করবে কিছু বুঝে উঠতে পারলো না। ছেলে হলে প্রব্লেম ছিলো না,কিন্তু মেয়ে জন্যই সজিব কিছু করতে পারছিলো না। তারপরেও আশেপাশ থেকে কয়েকজন মহিলাকে নিয়ে এসে, একটা অটো তে মিনুকে তুলে নিকতস্থ হাসপাতালে নিয়ে৷ এলো। কিছু পরীক্ষার পরে সজিব রিপোর্ট দেখে থ হয়ে দাঁড়িয়ে গেলো।
এ, এটা কিরে মিনু??(সজিব)

মিনুর ততক্ষণে জ্ঞান ফিরেছে। চুপ করে মুখ অন্যদিকে করে নিলো।

তোর বিয়ে ত আগামী শুক্রবার। ত, বি, বিয়ের আগেই। ছিহ

মিনু এবার কেদে দিলো।

সজিবের পা ধরে, ভাইজান আমারে আপনি ঘৃন্না কইরেন না। মিয়াভাই, আমার কোন উপায় ছিলো না।

নিজের সম্ভ্রান্ত হারিয়েছিস?/ ইচ্ছা না থাকলে কেউ তোকে টাচ করতে পারে??(সজিব রেগে)

ভাইজান, পারে গো পারে। যাদের জন্য কাম করি তারাই পারে। খালি পারে না, তার জন্যি টাহাও দেয়, সাথে কাম করতে যাইতে বারন করে দেয়( মিনু কাদছে)

সজিব একটু ঠান্ডা হয়ে মিনুকে সব খুলে বলতে বললো।

মিনু এই ১ম ওইদিন রাত্রের কথা কাউকে বললো যাকে নিজের বড়ভাই হিসেবে ভালোবাসতো।

সব শুনে সজিবের চোখ থেকে পানি পড়লো। তার সাথে রাগটাও হলো সেই মানুষটার উপর। হাসপাতাল থেকে মিনুকে বাড়িতে নিয়ে গেলো সজিব।

৫ম দৃশ্য

খবরের কাগজ গুলোতে বড় বড় হেডলাইনে এসেছে,

বিশিষ্ট ধনপতি হাসান সাহেবের একমাত্র সন্তান রাহাত সাহেব কে কিডন্যাপ করেছে ঘাতকরা। তবে এখন অবধি তারা কোন দাবি জানান নি। বা কোন ফোন ও আসেনি। একমাত্র ছেলের এই অবস্থাতে রাহাত সাহেবের মা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। বাবা হাসান সাহেব নিজেও ব্যাকুল হয়ে পড়েছেন ছেলেকে ফিরে পাওয়ার জন্য।

অন্ধকার ঘরে ভ্যান্টিলেটরের আলোতে নিউজ টা পড়লো সজিব।

তারপর রাহাতের কাছে গিয়ে রাহাত কে দেখালো ফোনের ফ্লাস অন করে।

রাহাতের মুখ ফুলে গিছে, ঠোঁটের কোনায় কেটে রক্ত জমাট বেধে আছে।

সজিব ভালোভাবেই বলেছিলো,

রাহাত, ভাই আমার। তুই আমার ছোট ভাইয়ের মতো। আমার বোনটার সাথে এমন টা কেন করলি??

আচ্ছা, যা করছিস ওইটা ত আর ফিরে আসবে না। কিন্তু এটার সমাধান ত একটা আছে, বল করবি তুই??

আপনি কে??আর কি বলছেন এগুলো??

আমি কে তোর না জানলেও হবে। শুধু কাজ টা করবি, আর এখনি কথা দিবি

কি করতে বলছেন আপনি??(রাহাত)

মিনুকে বিয়ে করবি, আর ওর প্রাপ্য সম্মানটুকু তুই ওকে দিবি।

পাগল হয়েছেন?? পেছনে বাধা হাত কচলাতে লাগলো, আমায় ছেড়ে দিন। আর আমিতো স্বিকার করছি আমার ভুল হয়েছে। আর এর জন্য আমি মিনুর থেকে ক্ষমা চেয়েছি। আর বাচ্চা এবরশনের জন্য টাকাও দিয়েছি(রাহাত)

থাপ্পড় টা তখনি মারে সজিব। আর এক থাপ্পড়েই ঠোঁটের কিনার দিয়ে রক্ত ছুটে বেরোয়।

কি করছেন আপনি?? আমাকে ছেড়ে দিন ভাই(রাহাত)

ক্ষমা চেয়েছিস কার কাছে??মিনুর কাছে??

আচ্ছা ভালো। মিনু ত তোকে ক্ষমা করে দিলো, কিন্তু তার কাছ থেকে কি তুই ক্ষমা চেয়েছিস তোর এই নোংরা কাজের জন্য?? আর তুই কি মনে করেছিস তোর কাজ সে তোকে ক্ষমা করে দিবে??(সজিব)

কি, কি বলতে চান??(রাহাত)

তোদের শাস্তির কথা মনে আছে??(সজিব)

শাস্তি, ক, কোথায়??(রাহাত)

যিনাকারীর শাস্তির কথা জানিস না??(সজিব)

জ, জানি…কাচুমাচু করে বললো রাহাত

কতটুকু জানিস জানি না, তবে বলছি শোন, ব্যাভিচার পুরুষ ও মহিলা, ২ জনি জাহান্নামে উলঙ্গ অবস্থায় জলতে থাকবে।

রাহাত সজিবের দিকে তাকালো।

আমি ওই শাস্তিটার কিছুটা তোকে দিবো।

ম, মানে?? ভাই আপনার পায়ে পড়ি, কেঁদে দিয়েছে রাহাত।

সজিব সবুজ কে ডাকলো, সবুজ একটা টিনের পাত্রের মধ্যে কিছুটা জলন্ত আগুন নিয়ে এলো।

রাহাত তখন থেকে বলেই চলেছে ভাই আমায় ক্ষমা করেন আমার ভুল হয়েছে।

হাত, পা আগের চেয়ে শক্ত করে বেধে দিলো, মুখে কাপড় বেধে দিলো তারপর ২ জন মিলে রাহাত কে টিনের আগুনের উপর তুলে দিলো।

যেই ছেলেটা জীবনে কখনো তার বাবা মায়ের মুখের বকা অবধি খায় নি, তাকে এই শাস্তি পেতে হচ্ছে।

রাহাত চিংকার করছে, চোখ থেকে অঝরে পানি পড়ছে। প্রায় ৫ মিনিট পড়ে ওকে ওখান থেকে নামানো হলো।

ভাঙ্গা চেয়ার টাতে বসায়ে, পায়ে লেগে থাকা আগুনের টুকরো টা সজিব নিজ হাত দিয়ে ফেলে দিলো। রাহাতের তখন মনে হচ্ছিলো ও দুনিয়াতে নেই, জাহান্নামের শাস্তির মধ্যে ডুবে ছিলো, কান্না করেই যাচ্ছে। কিন্তু একটু পরে রাহাত বুঝতে পারলো ওর পায়ে কিছু পড়ছে, তাকিয়ে দেখে সজিব এখনও ওর পায়ের কাছে বসে আছে,

ততক্ষণে রাহাতের মুখ থেকে কাপড় সড়ানো হয়েছে, কাপড় সড়ানোর পরে প্রথম কথাই ছিলো আমি মিনুকে বিয়ে করবো।

কিন্তু এখনও সজিব কেনো বসে আছে,

ভাই, (রাহাত)

সজিব তাকালো,

একি আপনার চোখে পানি?? আ, আপনি কাঁদছেন??(রাহাত)

ভাইরে, আমিও এই শাস্তি পেয়েছি। তাই জানি তোর কষ্ট টা কেমন হয়েছে।

আমায় ক্ষমা করিস ভাই। এটা ছাড়া তুই বুঝতি না দুনিয়ার শাস্তিই এমন। আখিরাতের শাস্তি তাইলে কেমন হবে।

আপনি শাস্তি পেয়েছিলেন কেনো ভাই??,(সজিব)

বাবা মা, শখ করে পাঠাইছিলো মাদ্রাসা তে। তাদের ১ম কথা ছিলো আমাকে নিজের দ্বীন সম্পর্কে জানতে হবে। যার জন্য ছোট থেকেই নরমেল পড়াশোনার পাশাপাশি আমি মাদ্রাসাতেও পড়তাম। ওখানে ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা এক সাথে হুজুরের কাছে ইলম বা, আরবি শিক্ষা নিতো। টুম্পা নামের মেয়েকে আমার অনেক ভাল্লাগতো। মজার ব্যাপার ছিলো, যে ১৪, ১৫ বছরেই এই অবস্থা। হেসে দিলো সজিব।

হাসা থামিয়ে,

হুজুরকে বলেছিলাম কথাটা,

হুজুর আমাকে তখন কিছু বললো না। বাচ্চাদের কথা ভুলভাল মনে করে চুপ থাকলেন।

২য় বার বলেছিলাম। ২য় বারো চুপ থাকলো, কিন্তু ৩য় বার বলাতে,

মাদ্রাসার প্রতিটি ছাত্রছাত্রীর সামনে আমার ২ হাতের উপর আগুন দিয়ে শাস্তি দিয়েছিলো। আর বলেছিলো,

১) তুমি ১মে ভুল করেছো টুম্পার উপর খারাপ নজর দিয়ে।

২) তোমার মনেতে অন্য কোন বাসনা কে প্রশ্রয় দিয়েছো যেখানে আমি প্রতিদিন এর বিরুদ্ধে তোমাকে শিক্ষা দিয়েছি।

৩) তোমার ভেতরের এই নষ্টামো আকাংখা টা দূর করতে এই সামান্য আগুনি যথেষ্ট।

হুজুর ঠিকি বলেছিলো। ওইদিনের পর থেকে আমি অন্য কোন মেয়ের দিকে তাকায়নি একমাত্র মিনু ছাড়া। আমার বোন নেই, ওকে আমার বোন হিসেবেই দেখেছি সবসময়। ওই এক টুকরো আগুনি আমাকে সাহায্য করেছে। আমার চোখ খুলে দিয়েছে।

রাহাতের চোখ থেকে পানির শেষ ফোটাটুকু পড়লো….

৬ষ্ট দৃশ্য

আজ ৩ মাস হলো মিনুকে বিয়ে করেছে রাহাত। ১ম ১ম অনেক কথা শুনেছে। বন্ধু বান্ধব, আত্নীয় স্বজন, সবাই।
তবে কোন কথাই ওকে ওর লক্ষ্য থেকে দূরে রাখেনি।
বাবা মায়ের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিয়েছিলো রাহাত। জাহ্নবী বেগম, হাসান সাহেব খুশিই হয়েছিলো। কারন ওদের ছেলে ভুল করেছে কিন্তু ভুলের প্রাইশ্চিত্ত টা করেছে।

বাবা মা, মিনু, বিলকিস, সজিব ছাড়া আর কেউ জানতো না রাহাতের ভুল কাজ টার ব্যাপারে।

একদিন,

রনিঃ কামের বেডির মাঝে কি পাইছিলিরে দস্ত??

রাহাতঃ চুপ করে আছে,

জিসানঃ যেই সাইজ মালের, মামা মনে হয় ঠিক থাকতে পারে নাই রে, তাই বিয়ে কইরালছে হা হা হা

রাহাত বসা থেকে উঠে সজোরে জিসান কে থাপ্পড় বসিয়ে দেয়, মিনু আমার স্ত্রী। ওকে নিয়ে কোন বাযে কথা বলবি না।

এখনও মাঝে মাঝে রাহাত ঘুমের মধ্যে কান্না করে উঠে, মাঝরাতে ঘুম ভেঙে গেলে, বেলকুনিতে গিয়ে একা এক কান্না করে, আর আল্লাহ কে মনে মনে বলে, মালিক, আমায় ক্ষমা করে দাও। আমার পাপের শাস্তিটুকু দুনিয়াতেই দিয়ে দিয়ো, আখিরাতে আমার জন্য কোন শাস্তি রেখো না।

গল্পের বিষয়:
ছোট গল্প

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত