শুকনো পাতা

শুকনো পাতা

আজকে আমার একমাত্র প্রাক্তন ক্রাশ ওরফে গার্লফ্রেন্ডের বিয়ে। গতকাল আমাদের ব্রেকআপ হইছেতো তাই প্রাক্তন বললাম। এ নিয়ে প্রায় ৭ জন প্রেমিকার বিয়ে হলো। আমার প্রথম গার্লফ্রেন্ডের বিয়ে হয়ে একটা ছেলেও হয়েছে এবং সে আমায় খালু বলে ডাকে। কিন্তু আফসোস,আমার কপালে বিয়ে নাই। তবে লাভের বিষয় একটাই ফ্রিতে বিরিয়ানি খাওয়া। এছাড়া আমার মত সিঙ্গেল বেকার পোলাপানের কাম কি।

মারিয়ার বিয়েতে যামু কিছু টাকার দরকার। আম্মাকে বললাম….

–আম্মা টেকা দেও?

-ক্যান?

–বিয়ে খাইতে যামু।

-কার বিয়ে?

–তোমার বউ মার।

-মানে?

–আমার গার্লফ্রেন্ডের বিয়ে।

-হারামজাদা ফাইজলামি করস আমার লগে?

–মোটেও না, বিয়ে খেতে যাব টাকা লাগবে দেও।

-পারুমনা।

–কেন দিবানা।

-আমি জানি তরে টাকা দিলে তুই টাকা দিয়া আকাম-কুকাম করবি, দিমুনা ভাগ।

অবশেষে বহুত জোরাজুরি করার পর আম্মা আমার বিশ টাকার এক পুরাতন নোট বাইর কইরা দিলো। কি আর করার বিশ টাকা পকেটের চিপায় রেখে বিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্য যাচ্ছি। আমার সাথে ছোট ভাই সাইফ উল্লাহ আছে। রাস্তায় গিয়ে মনে হলো ফ্রেন্ডকে ফোন করা দরকার। গার্লফ্রেন্ডের উপর টাকার উসুল করমু। হারামজাদি আমার বহুত টেকা খাইছে। আমাদের ফ্রেন্ড সার্কেলে সবচেয়ে বড় খাদক হলো নাজমুল (Najmul) দিলাম ফোন। সাথে আরো সবাইকে আসতে বললাম।

সবাই মিলে বিয়ে বাড়িতে এসেছি। অনেক মানুষ, যে যার মত করে খাচ্ছে। মন চাচ্ছে একেক জনকে বিরিয়ানি মধ্যে মাথা ঠেসে ধরি। কিন্তু নাহহ! নিজের রাগকে কন্ট্রোল করলাম। মনে মনে বললাম….

‘রুবেল কুল, রুবেল কুল কুল’।

মারিয়াকে (আমার গার্লফ্রেন্ড) দেখলাম সেলফি ওঠায় ব্যস্ত। ফ্রেন্ডের সাথে সেলফি উঠছে। মুখ ভেটকাইয়া, চোখ গরুর চোখের মত বড় বানিয়ে সেলফি উঠছে। সাথে থাকা ওর বান্ধবিরা কেউ কেউ জিহ্বা বের করে ছবি উঠছে। একেক টাকে প্রতিবন্ধী কার্ড দেওয়া উচিৎ ছিলো, খাবিশ মাইয়া। খারাও সেলফি ওঠা ছুডামু।

মারিয়া আমাকে দেখে ভ্রু-কুঁচকে তাকালো। বিনিময়ে আমি ফকলা হাসি দিলাম। মারিয়া বলল….

–তুমি এখানে কেনো?

-বিরিয়ানি খেতে এসেছি।

–জীবনেও বিরিয়ানি খাওয়ানি?

-না খাইনি, আজকে খামু।

–দেখো তুমি কোন গন্ডগোল করবানা বলে দিলাম। নইলে কিন্তু ভালো হবেনা।

-ওকে, বিরিয়ানি খেয়ে চলে যাব।

–কথাটা মনে থাকে যেন।

-ওকে হারামজাদি।

–কিছু বললা?

-না।

মারিয়া চলে গেলো। আমরা সবাই খেতে বসলাম। যে যার ইচ্ছেমত পেট পুরে বিরিয়ানি খাচ্ছে। নাজমুল তো অলরেডি ৫ প্লেট খেয়েছে। আমি খেলাম তিন প্লেট। আর সাইফুল্লার কথা কি বলব। ওর নাম সাইফুল্লা না হয়ে বিরিয়ানিফুল্লা হলেই ভালো হতো। খাওয়া দাওয়া শেষ। পেটের চিপায়-চাপায় যত জায়গা আছে সব ভরে গেছে। মনে হচ্ছে জীবনের প্রথম এভাবে বিরিয়ানি খেলাম। যাইহোক অর্ধেক টাকা উঠছে। এখন বাকি অর্ধেকক। মারিয়া কাছে গিয়ে বললাম….

-তোমার হাজবেন্ড কোনটা?

–কেনো কি করবা?

-একটু কথা বলতাম আরকি।

তারপর মারিয়া ওর হবু হাজবেন্ডের সাথে আমাদের পরিচয় করিয়ে দিলো। দেখতে ছোট খাটো হাতির বাচ্চার মত মোটা। পেট ফোলা, যথেষ্ট ভুড়ি আছে। আমি কোলাকুলি করব তা আর হলোনা। বুক ঠেকাতে পারলাম। মনে মনে বললাম….

“শালা জাম্বুরার ছাও খাইয়া খাইয়া খালি মোটা হইছোস। হাতির নাতি…”

আমি মুচকি হেসে বললাম…..

-কি অবস্থা টেপা জাম্বুরা ভাই?

–হোয়াট?

-কোন কোম্পানির চাউল খান এহেরে হাতির ছাওয়ের (বাচ্চা) মত ফুলছেন খালি।

–……..(চুপ)

-জিতছেন ভাই জিতছেন।

-ক্যারে মটকু কথা কও ক্যান? (সাইফ)

–রুবেইল্ল্যাআআআআ….. (মারিয়া)

-চুপ কর হারামজাদি।

আমার এক ধমোকে মারিয়া ভয়ে চুপসে গেলো। ওর হাজবেন্ড ভ্রু-কুঁচকে তাকালো। ঠিক তখন-ই প্রচণ্ড জোরে চিল্লানির শব্দ শুনতে পেলাম। ঘটনা পর্যবেক্ষণ করার জন্য গিয়ে দেখলাম নাজমুল এক মেয়ের মাথা বিরিয়ানিতে ঠেসে ধরছে। আর সবাই চিল্লাচ্ছে। লক্ষ করে যা বুঝলাম মেয়েটা মারিয়ার বান্ধবী এবং নাজমুলের প্রাক্তন প্রেমিকা। মেয়েটা নাজমুলকে ধোকা দিয়ছিলো যার প্রতিশোধ নিচ্ছে নাজমুল। সবাই নাজমুলকে পাগল ভাবছে, কেউ কাছে যাওয়ার সাহস পাচ্ছে না। ওদিকে মেয়েটি জোরে জোরে বলছে….

–কে আছো বাচাও, এই পাগল আমাকে… উ…উ…উমাউ…উইইই…

-হারামজাদি খা বিরিয়ানি।

এমন কাণ্ড দেখে সাইফুল্লাহ শিস বাঁজাচ্ছে। আমি তো অবাক। যেখানে আমার প্রতিশোধ নেওয়ার কথা, সেখানে নাজমুল সব করছে। একেই বলে প্রকৃত বন্ধু। নাজমুল মাথা উঠিয়ে টেবিলে থাকা রোস্ট ছুরে মারলো। রোস্ট গিয়ে লাগলো মারিয়া হবু হাজবেন্ডের মুখে। সাইফুল্লা দৌড়ে গিয়ে এক লাফ দিয়ে মারিয়ার হাজবেন্ডের কোলে উঠলো। তারপর মুখে থাকা রোস্ট ঠেসে ধরে বলল….

-মটু রোস্ট খা, বিরিয়ানি খা, জাম্বুরা হ…

মারিয়া হাজবেন্ড মোটাসোটা মানুষ। নড়তে পারছেননা। বিয়ে বাড়ির লোকজন ছোটাছুটি করছে। কেউ কেউ দৌড় সামাল দিতে না পেরে উপুত হয়ে পরছে। অবশেষে নিজের জানের আশা বাদ দিয়ে মারিয়ার হাজবেন্ড একটা দৌড় দিলো। সাইফুল্লা কোল থেকে ধপাসসসস করে পরে গেলো। মারিয়া হাজবেন্ড পেট খিঁচে মাগোওও বলে উড়াধুরা দৌড়। তার পিছে পিছে সাইফুল্লা দৌড়। এদিকে নাজমুলে এক হাত দিয়ে ওর প্রাক্তন কে বিরিয়ানির প্লেটে ঠেসে ধরে আছে। আরেক হাত দিয়ে সবার উদ্দেশ্যে রোস্ট ছুরে মারছে। আজকে যে বড় ধরণের একটা সমস্যা হবে তা বুঝতে পারছি। চোরের মত বিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে আসলাম। বাসায় যাওয়া যাবে না।

বলছি কারো বাসায় কয়েকদিনের জন্য থাকার জায়গা হবে। এই মনে করেন গা ঢাকা দিয়ে থাকতে হবে আরকি। বোঝেনিতো কি বিপদের মধ্য আছি।

গল্পের বিষয়:
ছোট গল্প

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত