চিরতরুণ ফুল ফল নদীর দেশে

চিরতরুণ ফুল ফল নদীর দেশে

মোহিতা রাতের আকাশের দিকে তাকিয়ে থমকে গেল।আকাশে কয়েকজন মানুষ উড়ছে। সবাই তার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসছে। মোহিতার খুব ভয় করছে।বুকটা খুব কাপছে। এর মধ্যে একজন তার কাছে নেমে এল।মোহিতা চিৎকার করবে কিন্তু মুখ দিয়ে কোন শব্দ হচ্ছে না।
-ভয় পেয় না।
-আপনি কে?
-তুমি কাপছ কেন?
-খুব ভয় হচ্ছে।
-কেন?
-জানি না।
-আমাকে চিনতে পারছ?
-না।
-ভাল করে তাকিয়ে দেখ।
-না।
-মনে আছে তুমি আমি হাত ধরে হাটতাম। ইচ্ছে হলেয় ভিজতাম ঘোর বরষণে।
-না না,এমন কারও সাথে হয় নি।
-এত সহজে সব ভুলে গেলে। তোমার আমার গাঢ় নিঃশ্বাস,দেহের উপর দেহ,কত উত্তেজনা!
-এসব আমাকে বলছ কেন? তোমার কোথাও ভুল হচ্ছে।
-আমার কোন ভুল হচ্ছে না। তুমি সব ভুলে গেছ। না না তোমাকে সব ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।আমার সাথে যত স্মৃতি ছিল সব তোমার ব্রেইন হতে মুছে দেওয়া হয়েছে।

-প্রমাণ।
-তোমার নাভির সাথে একটা জন্ম দাগ আছে।
-এটা জানলে কি করে?
-এটা শুধু না,তোমার দেহের সব আকবাক আমার জানা।
-না না কোথাও ভুল হচ্ছে।
-ভুল হচ্ছে না। তোমাকে যে বিয়ে করেছে সে অতি ঠান্ডা মাথার মানুষ। একটি গভীর পরিকল্পনায় আমাকে হত্যা করে।অথচ সবাই মনে করল আমি সুইসাইড করেছি।ছয়তালা হতে লাফ দিয়েছি।
-কেন করল?
-সেও তোমাকে ভালবাসত।আমাকে সরিয়ে দিতে পারলেই যে রাস্তা পরিষ্কার।
-এরপর।
-আমাকে ধাক্কা দিল।আর আমি শেষ হয়ে গেলাম।
-তাহলে এখন আপনি কি?
-আমি আমারি ছায়া। কিছু কাজ বাকি। তাই আজও পৃথিবীতে আছি।
-কি কাজ?
-শয়তানটাকে মেরে ফেলব।
-কবে?
-আজকে।
-এটা কর না প্লীজ।
-তা হয় না।তাকে মরতেই হবে।
-তুমি চলে যাও। আমার সংসার শেষ করবে না। আমরা সুখে আছি।
-ও একটা আস্ত শয়তান। তোমাকে আজ মারতে চাইছে। পরিকল্পনাও করে ফেলেছে।ছাদ হতে ধাক্কা দিবে। আমাকে মেরেছে দুঃখ নেই,কিন্তু তোমাকে মারতে চেয়েছে বলে ওকে মরতে হবেই।

-কেন আমায় মারবে?
-কারণ শয়তানটা আরেকটা বিয়ে করেছে। তোমার জন্য অসুবিধা হচ্ছে।
-কি?
-শয়তানটা আসছে।
মোহিতা মোহিতা ডাকতে ডাকতে নীলিত ছাদে এল। মোহিতা কাপছে। মানুষটার আসল রূপ দেখে খুব ভয় হচ্ছে। মোহিতা কোন জবাব দিল না।নীলিত এসে হাত ধরল মোহিতার।
-কি করছ মোহিতা?
-এইতো আকাশ দেখছি।
-তোমার জন্য চা বানিয়ে এনেছি।ধর।
মোহিতা চা হাতে নিল।মুখে দিবে এমন সময় ছায়া বলে উঠল-সাবধান।
-কেন?
-চায়ের সাথে ঘুমের ওষুধ মিশানো আছে।যাতে ঘুমিয়ে যাও।তাহলে ফেলে দিতে কোন সমস্যা হবে না।ঠিক এইভাবে আমাকে মারার পরিকল্পনা করেছিল।
নীলিত অস্থির হয়ে উঠছে।
-কি চা মুখে দিচ্ছ না কেন?
-চা খেতে ইচ্ছে করছে না।
-ওকে ফাইন।খেয়ো না।চল দুজনে আগায়।
দুজনে এগোতে থাকে।নীলিত ভালভাবে দেখে নিচ্ছে ধাক্কা দিলে পড়বে কি পড়বে না।ধাক্কা দিল।কিন্তু মোহিতা একটুও নড়ল না।ছায়া মানুষ দেখে ভয়ে পিলে চমকে গেল।
-কি?
-তুই এখানে কিভাবে এলি?তোকেতো কত আগেই মেরেছি?
-আমাকে মেরেছিস,কিছু বলনি,মোহিতাকে মারবি,সেটাতো সহ্য করব না।
ছায়া এগোতে থাকে নীলিত পেছনের দিকে যায়।ছাদের শেষ সীমানায় যাওয়ার পর ছায়া বলে-এবার তুইও বিদাও।
-না না প্লীজ আমাকে মারিস না।
মোহিতা নিঃস্তব্দ হয়ে দাড়িয়ে থাকে।
-আমার সাথে যাবে মোহিতা?
-কোথায়?
-চিরতরুণ ফুল ফল নদীর দেশে।
মোহিতা কি করবে বুঝে উঠতে পারছে না।ছায়া মানুষ গভীর ভালবাসায় তার দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়েছে।

গল্পের বিষয়:
ছোট গল্প

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত