লালিত প্রতিশোধটা

লালিত প্রতিশোধটা

মাহিন কাল একটা ফোন পেয়েছে, তার পর হতে বেশ ফুর ফুরে মেজাজে আছে ও। এত দিনের মনে লালিত প্রতিশোধ টা ও নিতে পেরেছে বলে। ফোন টা ছিল ওর প্রাক্তন প্রেমিকার।মেয়েদের ফোন ওর কাছে আর আসে না,প্রথমে বেশ ঘাবড়ে গিয়েছিল ও, পরে কথা শুনে যখন বুঝতে পারল এটি তমালিকা। বেশ অবাক হলেও খুব স্বাভাবিক ভাবে ওর প্রশ্নের উত্তর দিল ভাল আছি।

তুমি কেমন আছ?

ও খুব মায়া ভরা কণ্ঠে বলল ভাল নেই।{ এই মায়া ভরা কণ্ঠটা আজ প্রায় ৪ মাস পর শুনল ও, বেশ ভালোলাগা জড়িয়ে আছে কণ্ঠটাতে}

কেন তোমার আবার কি হল?
অনেক কিছু, শোন আমি আবার তোমার কাছে ফিরে আসতে চাই।

মাহিন বেশ ধাক্কা খেল মনে মনে, কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল এটি আর সম্ভব নয়।

কেন সম্ভব নয় মাহিন?

কারণ আমি আমাকে নিয়ে এখন বেশ আছি। কোন অনিশ্চয়তার মধ্যে আমি আর জড়াতে চাই না।

প্লিজ মাহিন, একটি বার সুযোগ দাও আমাকে?{ এমন করুন শুর ওর কণ্ঠে, এমন হাহাকার, তা বেশ নরম করে দিচ্ছে ওকে, ভাবনার রঙ্গিন জগতে হারিয়ে যাচ্ছে ও। মনে পড়ছে তমালিকার সঙ্গে কাটানো মধুর সময় স্মৃতি গুলি।}

ওর কণ্ঠের হ্যালো শুনছ তুমি, মাহিনকে বাস্তবে ফিরে আনল।

হু শুনছি বল কি বলবা।

আমি আবার তোমার সঙ্গ পেতে চাই, তোমার সঙ্গে ঘুরতে চাই, তোমার ফোন পেতে চাই। তোমার মুখে শুনতে চাই…… I LOVE U.

প্লিজ,প্লিজ আমাকে ফিরিয়ে দিও না।

{ এমন সুকরুন কান্না মিশানো কণ্ঠে মাহিন বেশ নরম হয়ে গেছে ততক্ষণে, ও যেন আবার স্বপ্নের রঙ্গিন ফানুশে উড়ছে।কি বলবে ও, কি করবে ও, বেশ দ্বিধা দ্বন্দ্বে পড়ে গেছে ও। মনের দুই ভাগের এক ভাগ বলছে, মাহিন রাজি হয়ে যা কাছে টেনে নে ওকে। আরেক অংশ বলছে মাহিন খবর্দার না, ও তোকে কেমন নোংরা তেনার মত ছুড়ে ফেলে দিয়েছিল মনে নেই?}

কই কিছু বল, তমালিকার কণ্ঠে আবার ফিরল ও।

হা, মানে কি বলব বুঝতে পারছিনা তো। আর তমাকেই বা কেমন করে বিশ্বাস করবো বলতে পার।এক মাস পরে যদি মনকে তুমি আপডেট দিয়ে আবার বল,প্লিজ চরি( SORRY) । আমি ভাই আর এই চাপ নিতে চায় না।আমি বেশ আছি ঝামেলা হীন জীবন নিয়ে।

বল কি প্রমাণ চাও, কি করলে তোমার বিশ্বাস আবার ফিরে পাব, কি করলে আমাকে আবার তোমার বিশ্বাস হবে? বল।

[যা শালা মেয়ে গুলি এত বোকা কেন? ওদের দুর্বল তাস টা কত সহজে প্রেমিকের হাতে তুলে দেয়। একবারও ভাবে না, ছেলেটিকে যখন “প্লিজ SORRY” বলেছিল তখন ওর কষ্টের কথা, বা ও যে পরে প্রতিশোধ পরায়ণ হতে পারে, এই কথা যেন ভুলে যায় এরা।]

আচ্ছা তোমরা মেরা এত বোকা কেন বলতো?

কেন বলতো?

এই যে তুমি বললা কি প্রমাণ চাও? আর এভাবেই তোমরা ফাঁদে পড়।

কি ভাবে?

ছেলেটি যদি প্রতিশোধ পরায়ণ হয় বা খারাপ হয়, তবে ও তো তোমাদের কে বিভিন্ন ভাবে ফাঁদে ফেলতে পারবে। বলতে পারে আমার সঙ্গে রুম ডেটিং করতে হবে, ……………………………………। ……………………………।।( বুঝে নিয়েন আর কি কি চাইতে পারে) বা বলতে পারে আমাকে কিস করতে হবে, এর পর ধীরে ধীরে অন্য গুলি। কি বুঝতে পারছ?

হা পারছি।

তা হলে বল আমি কোনটা চাইব, কোনটি চাইলে তোমার দিতে সুবিধা হবে?

কি! কি বলছ এ সব। তুমি এসব চাও?

হা চাই, কারণ আমি নষ্ট হয়ে গেছি।

প্লিজ না, এসব কিছুই আমি করতে পারবোনা।

তাহলে আমি তোমাকে বিশ্বাস করবো কি ভাবে। তুমি কি বলতে পারবে আমি কখন যোর করে তোমার হাত ধরেছি, হা শুধু একবার ধরেছিলাম সাভারে। কখন কি কোন খারাপ ইঙ্গিত দিয়েছি?

না তা দাওনি।

কখন কি আমার ব্যবহারে মনে হয়েছে আমার খারাপ উদ্দেশ্য আছে?

না তা মনে হয়নি।

তবে হা কখন কখন আমার চোখে লোভ ফুটে উঠেছে, তুমি কি তা বুঝেছ?

না আমার তা মনে হয় নি।

তা হলে এখন বল, আমি কি ভাবে তোমাকে বিশ্বাস করব?

তুমি কি চাও, কি করলে তোমার বিশ্বাস হবে?

আমাকে কিস করতে হবে।আর তা অবশ্যয় আমার ঠোঁটে।

না এটি সম্ভব নয়। আমি পারব না। তুমি আমার সাথে কয়েকদিন ঘুর, কথা বল, আমাকে দেখ। আমি সত্যিই চেঞ্জ হয়ে গেছি।

শোন বেশি কথা বলতে ভাল লাগছে না । তুমি রাজি কি না?

এই শুন তুমি আমার সাথে কাল দেখা কর, আমি এমন সুন্দর করে সেজে আসব, তোমার পছন্দ হবে।

আমি ভাই এত কথা শুনতে আর রাজি না। YES/NO

যাও কাল এস আমি তোমার হাত ধরব খুব সুন্দর করে।।

কত লোভনীয় কথা যে বলতে পারে মেয়েরা মাইরি। ঐ জন্যই প্রবাদে আছে: মেয়েদের চুরির ঠুন ঠুন আওয়াজে না কি মুনি ঋষিদের ধ্যান ভেঙ্গে যায়।

তবে ভাই আমার ধ্যান ভাঙ্গেনি। শেষে ওকে বললাম শোন তোমার এত প্যাঁচাল শুনতে ভাল লাগছেনা। যদি তুমি রাজি হও তবে নেক্সট টাইম ফোন দিবা আর তা না হলে, প্লিজ আমাকে আমার মত থাকতে দাও।বাই বাই।

মাহিনের এই ভেবে ভাল লাগছে যে, ভাল একটা ডোজ দেওয়া গেছে তমালিকা কে। একটু হলেও প্রতিশোধ টা নিতে পারছে ও।

গল্পের বিষয়:
ছোট গল্প

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত