সুখী পরিবারের মুলে নেককার বউ

সুখী পরিবারের মুলে নেককার বউ

হ্যালো আপনে কোথায়?? ক্রিকেট খেলি, কেনো? এ বয়সে ক্রিকেট খেলা,দাঁড়ান আম্মাকে বলতেছি। এইয় না বলবা না আমি এখন আসতেছি,কিন্তু কেনো?? আম্মা ডাকতেছে হুম।

এতক্ষণ যার সাথে কথা বলছে সে রিহানের বউ ইফতি আক্তার নুসরাত।নুসরাত অল্পকিছু দিনে পরিবারের সবার মন জয় করে নিছে সেজন্য পরিবারের সবাই তার কথায় সার্ফোট করে,বিশেষ করে তার শ্বাশুড়ি আম্মা।রিহানের মা নাকি নুসরাত এর বন্ধু তাই সব কষ্টের কথা তার সাথে শেয়ার করে।রিহানের মা,ও তাকে খুব ভালোবাসে কারণ নুসরাত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে সকালে কুরআন তেলয়াত করে কখনো মিথ্যে বলে না,সেজন্য নুসরাতকে খুব ভালোবাসে ও তার সব আবদার সে রাখে তার দেওয়া সব বিচার রিহানের মা করে দেয়।রিহান ক্রিকেট খেলা রেখে বাড়িত এসে বলে??

মা ওমা কি হইছে? কিছু হয় নাই, তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে আয়,আমাকে আমার আমার বাবার বাড়িত দিয়ে আয় অনেকদিন হইছে গেছি না।নুসরাত একপাশে দাঁড়ায় কেমন জানি উদাস মনে ভাবতেছে। শ্বাশুড়ি দেখে বুঝতে পারছে তার মেয়ে তারজন্য মন খারাপ, কারণ শ্বাশুড়ি কে ছাড়া থাকতে পারে না,শ্বাশুড়ি বলে? নুসরাত তুমি চলো আমার সাথে যাও রেডি হয়ে আসো।মুচকি হাসি দিয়ে বলে জ্বি আম্মা এখন আসতেছি।

নুসরাত শ্বাশুড়ি মায়ের সাথে বেড়াতে যাবে,তাই রেডি হইতেছে একদম হিজাব পরে মুখে মুখোশ লাগিয়ে।তার ফেভারিট কালার কালো তাই রিহানকে বলতেছে কালো শার্ট গায়ে দিতে, রিহান বলে না আজকে সাদা শার্ট গায়ে দিবো।এ বলতে না বলতে শ্বাশুড়ি আম্মাকে বিচার দিলো? দেখছেন আম্মা আপনার ছেলেকে বলছি কালো শার্ট গায়ে দিতে সে গায়ে দিতেছে না।রিহানের মা বলে? রিহান বউমা যখন বলতেছে গায়ে দেয় না, রিহান আবার মায়ের কথা মতো চলে, তো আর কি করা গায়ে দিতে হলো নুসরাত এর ফেভারিট কালার কালো শার্ট।সবাই পোঁছে গেলো আত্মীয়র বাড়িত, দুপুরের খাবার খেয়ে বিকেল বেলায় যখন হয় রিহান বলে?চলো মা চলে যাবো সন্ধ্যা হয়ে যাবে, রিহানের মামারা রিহানকে বলে তুই না থাকলে চলে যাহ আমার বোন আর বউমা থাকবে।কিন্তু নুসরাত থাকতে পারলো না চলে আসতে হলো, স্বামীর বাড়িত কারণ রিহানের ছোট ভাই আছে তারজন্য রান্না করতে হবে না হয় রিহান আবির কোথায় খাবে,এজন্য চলে আসতে হলো নুসরাতকে।বাড়িতে চলে এসে নুসরাত রান্না করে, এশার এর নামাজ পড়ে অপেক্ষা করতেছে রিহান এর জন্য, রিহান বাড়িতে আসলে এক সাথে খাবার খাবে।কিছুক্ষণ পরে রিহান বাড়িতে আসলো এর পরে আবির পড়ার টেবিল এ ছিলো তাকে বলে?আবির খেতে এসো ভাবীর ডাক শুনে তাড়াতাড়ি খেতে আসলো আবির।নুসরাত বলে?? আবির তুমি এশারের নামাজ পড়ছো?? না ভাবী পড়ি নাই ভাত খেয়ে পড়বো। না তা হবে না আগে নামাজ পড়ে আসো, তোমার জন্য আমরা অপেক্ষা করতেছি।

কি আর করা ভাবীর কথা না শুনলে আবার মায়ের কাছে বিচার দেওয়া হবে তাই ভাবীর কথা মতে নামাজ পড়ে আবার রান্না ঘরে আসলো আবির। সবার সাথে খাবার খেয়ে চলে গেলো আবির ঘুমাতে। নুসরাত, রিহান ও ঘুমাতে গেলো রাত যখন ৩ টা বাজে নুসরাত শ্বাশুড়ির কাছে ফোন দিলো?? আসসালামু  আলাইকুম আম্মা কেমন আছেন? ওয়ালাইকুমসালাম হ্যাঁ মা ভালো তুমি কেমন আছো? ভালো,আম্মা তাহাজ্জুদ নামাজের টাইম হয়ে গেছে উঠে নামাজ পড়ে নেন। ওকে নুসরাত তুমিও পড়ে নাও।

নুসরাত প্রতি রাতে তার শ্বাশুড়ি ডাক দিয়ে দেয় কারণ সে জানে তার শ্বাশুড়ি আম্মা তাহাজ্জুদ এর নামাজ পড়ে,এদিকে নুসরাত রিহানকে বলে তাহাজ্জুদ এর নামাজ পড়তে।কিন্তু রিহান উঠবে বলে আবার ঘুমিয়ে গেছে।নুসরাত নামাজ শেষ করে দেখতেছে রিহান ঘুমাচ্ছে কিছুক্ষণ পরে ফজরের আজান দিলো। নুসরাত আবার রিহান আর আবিরকে ডাক দিলো নামাজ পড়তে কিন্তু তারপরেও উঠতেছে না। দুই, ভাই ঘুমাচ্ছে, নুসরাত দেরি না করে ফোন দিলো শ্বাশুড়ি মায়ের কাছে?? হ্যালো আম্মা আপনার কথা মতো আপনার ছেলেদের নামাজে পড়তে ডাক দিছি কিন্তু তারা না উঠে ঘুমাচ্ছে। বউমা ফ্রিজে কি ঠাণ্ডা পানির অভাব আছে নাকি, না উঠলে ঠাণ্ডা পানি গায়ে ঢেলে দাও। যদি আমাকে কিছু বলে?? আমি জিবিত থাকতে আমার বউমা কে কি বলবে তার এমন সাহস এখনো হইছে নাকি হুম, তারা কিছু বললে আমার কথা বলবা।

নুসরাত শ্বাশুড়ি মায়ের কথা মতো ঠাণ্ডা পানি ঢেলে দিলো রিহানের গায়ে, রিহান বলে?ঠাণ্ডা পানি না দিলে কি হতো হুম একবার ডাকছো শুনি নাই আবার ডাক দিতা।নুসরাত বলে আম্মার কথা পালন করছি এখন উঠে নামাজ পড়ে আসেন।এদিকে ঠাণ্ডা পানি ঢালতে যাইতে আবির এ রুমে, রিহান দৌড় দিয়ে গেলো আবির এর রুমে আর বলে?ছোট ভাই তাড়াতাড়ি উঠ নাইলে বিপদ হবে।আবির আর বুঝতে দেরি হলো না তার ভাবি তাকে নামাজ পড়ার জন্য ডাকতেছে।রিহান নুসরাতকে খুব ভালোবাসে ও সম্মান করে কারণ নুসরাত পরিবারের সবাইকে ভালোবাসে কখনো কষ্ট দেয় না,তাই নুসরাত এর সব আবদার সে পূরণ করে।আবির ও তার ভাবীকে খুব ভালোবাসে কারণ আবিরকে ছোট ভাইয়ের মতো নুসরাত ভালোবাসে আদর করে।দুই ভাই উঠে দাঁত ব্রাশ করে নামাজ পড়তে রুমে দিকে যাইতেছে,নুসরাত বলে?? আপনারে কোথায় যাচ্ছেন? কেনো ভাবী নামাজ পড়তে। নামাজ পড়তে গেলে ঘরে কেনো, মসজিদ এ জামাতে কে পরবে হুম? ভাবী কালকে মসজিদ এ যাবো আজকে ঘরে পড়বো। না না তা হবে মসজিদ এ নামাজ পড়তে হবে জামাতের সাথে,জামাতে পড়লে সওয়াব বেশি।

রিহান ছোট ভাইকে বলে?চল ভাই চল না হয় মাকে বিচার দিবে। নামাজ পড়তে গেলো মসজিদ এ এদিকে নুসরাত নামাজ পড়ে কুরআন তেলোয়াত করে, রিহান আবির জন্য নাস্তা রেডি করে বসে আছে।রিহান আবির নামাজ পড়তে গিয়ে বুদ্ধি করছে তারা নামাজ পড়ে দেরি করে বাসায় আসবে।যদি নুসরাত তাদের জন্য অপেক্ষা করে সত্যি সত্যি তাদের খুব ভালোবাসে।সকাল ৮ ট বাজে দুই,ভাই ঘরে আসলো দেখতেছে নুসরাত থালা বাসন পরিস্কার করে,নুসরাত তাদের দেখে বলে?চা নাস্তা রেডি চলেন এক সাথে নাস্তা করবো আবির বলে? ভাবী তুমি এখনো নাস্তা করো নাই?? ওমা তা কি করে হয় তোমরা নাই আমি কি করে একা একা নাস্তা করি।আবির নুসরাত এর কথা শুনে ভাইয়ের হাত ধরে বলে??

ভাইরে তোর কাছে কিছুই চাই না শুধু ভাবীর মতো এমন একটা নেককার মেয়েকে আমার জিবনে এনে দিছ, যে মেয়েটা আমাদের পরিবারকে জান্নাতের মতো করে রাখবে!!! সুখী পরিবার কাকে বলে?? একটা ছেলে একটা মেয়ে জন্ম দেওয়াকে সুখী পরিবার বলে না এটা আমাদের সমাজরে কথা। সুখী পরিবার হলো এ গল্পের মতো মানুষ গুলো যারা সবসময় মহান আল্লাহকে স্বরণ করে তারা হলো। নুসরাতের মতো বউ হলো নেককার বউ।

ধন্যবাদ

গল্পের বিষয়:
ছোট গল্প

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত