অন্যরকম বিকেল

অন্যরকম বিকেল

– হাই, আমি রাহি। আপনি?
লেকের ধারে বসে ছিলাম তখন একটা মেয়ে এসে উপরের কথাটি বলল।
– হ্যালো। আমি নাইমুর।
– এখানে আমি প্রতিদিনই আসি প্রথম দিন থেকে আপনাকে দেখছি কেমন যেন উদাসিন হয়ে বসে থাকতে দেখি তাই কৌতুহল বসত আপনার সাথে পরিচয় হতে আসলাম।
– প্রতিদিন বিকালে আমি এখানে আসি অনেক দিনেরই অভ্যাস বলতে পারেন মূলত এখানে বিকাল টাকে উপভোগ করতে আসা হয়।
– হুম… আমিও এই সময় টাই ফ্রি থাকি তাই আসা।
– কি করেন আপনি?
– ঢাবিতে পদার্থ বিজ্ঞান নিয়ে পড়ছি এবার লাস্ট ইয়ার আর আপনি?
– আমি বলতেন পরেন টো টো কম্পানিতে চাকরি করি এক কথায় বেকার।
– এইতো আর কয়দিন তার পর আপনার কম্পনিতেই চাকরি করব মানে বেকার হয়ে যাব।

তার কথা শুনে এমনিতেই হাসলাম কি ছেলে মানুষি কথা।

– আমি কি হাসির কথা বলেছি।
– না প্রথম শুনলাম তো, মেয়েরাও বেকার হয়।
– কেন আপনি পড়া শেষ করে চাকরির জন্য ঘুরছেন তেমন ভাবে আমার ক্ষেত্রেও সেটা প্রজেয্য নয় কি
– মেয়েরা বেকার হয় না.. মেয়ে যদি সুন্দরী আর ভাল সাবজেক্টে Graduated হয় তবে চাকরি ক্ষেত্রে দাম আছে। তাদের চাকরি সহজেই হয়ে যায়। তাছাড়া মেয়েরা বেকার বসে থাকে না। পড়ালেখা শেষে তাদের জন্য অনেক ভাল ভাল বিয়ের প্রস্তাব আসে, তারা এদের মধ্যে ভাল টার ঘারে ঝুলে পড়ে।
– আপনাদের এই দৃষ্টিকোণটাই বদলাতে হবে  মেয়েদের মন আচে, তারও চায় ছেলেদের মত নিজের পায়ে দাঁড়াতে। কিন্তু তার আর হয় না শুধু মাত্র সমাজের এই দৃষ্টি কোণের জন্য।
– আমি কিন্তু মেয়েদের চাকরির ব্যাপারে বিরোধী। কারণ টা জানেন কি মেয়েরা সংসারের লক্ষি, তারা যদি সংসারে সময় যদি না দেয় স্বামিকে সময় না দিয়ে সে চাকরি করে, নিজেই ক্লান্ত পড়ে তাহলে সে সংসার টাকা থাকলেও আমার মতে সুখ হয় না। আর মেইন কথা তাদের সন্তান কে অনেক কষ্ট পেয়ে বড় হতে হয়।
– আপনার কথায় সামান্য হলেও যুক্তি আছে কিন্তু স্বামি-স্ত্রি মিলে চেষ্টা করলে সব দিক থেকে সব কিছু করা যায় এমন কি সন্তানকে সময় দেওয়া ফেক্ট না

লক্ষ করে দেখলাম অন্য সব সব সুন্দরি মেয়েদের মত এই মেয়েটারও নিজের কথার ফলাতে চাইছে, কথাটা যতই অমূলক হোক না কেন। তার মাঝে নারীবাদীতার লক্ষণ আছে।

– আমরা কি এসব কথা বলে সুন্দর সময় কে পার করব।
– না তানা।

তারপর আমাদের মাঝে তেমন কথা হয়নি সন্ধ্যার সময় সে চলে গেল আর আমিও বাড়িতে ফিরলাম তার কিছু ক্ষণ পর, তার পর খাওয়া দাওয়া করেই ঘুম।

আজকেও লেকের পাড়ে ঠিক এই জায়গাই বসে ছিলাম মেয়েটার কথা মনেই ছিল না, আজকেও দেখছি। সোজা আমার কাছেই এস বসল তারপ। তারপর আরকি মাঝে মাঝে কথা বার্ত-বলা আর প্রকৃতি উপভোগ করা।

রাহির সাথে পরিচয়ের মাঝেখান দিয়ে ৮ টি মাস চলে গেছে। রাহি সাথে সেই প্রথম পরিচয় তার পর দুজনে মিলে প্রকৃতি উপভোগ করা তার আপনি থেকে তুমিতে আসা নাম্বার আদান প্রদান সব কিছু দ্রুত ঘটে গেচে।

– তোমার চাকরির কি অবস্থা? (রাহি)
লেকের পাড়ে দুজনে বসেছিলাম, হঠাৎ রাহি কথাটি বলে উঠল।
– কি অবস্থা হবে  চলছে।
– কি চলছে?
– খোঁজা চলছে।
– আর কত বেকার বসে থাকবে?
– কেন সমস্যা? এখন মুক্ত আছি তাছাড়া মেইন কথা বিকালে এই প্রকৃতি এই ভাবে দেখা হবে না।
– কে বলেছে দেখা হবে না অবশ্যই আমরা দেখব এমন কি মধ্যে রাতে চাঁদও।
– কেমনে তুমি কি এখানে মধ্যেরাত থাকবা নাকি  আশে পাশে ভূত থাকতে পারে। সমস্যা নাই আমি ভূত চাচুকে বলে দিব নে সে যেন তোমাই না জালাই।
– তোমাকে কে বলল আমি এখানে মধ্যে রাত পর্যন্ত থাকব?
– তুমি তো বললা।
– যাহোক তুমি তোমার পরিবারের কথা ভেবেও তো একটা সামান্য বেতনের চাকরি জোগাড় করতে পারো?
– তুমি আমার চাকরির পিছেনে লাগলে কেন বলত?
– বাড়িতে আমার বাবা আমার বিয়ের জন্য উঠে পড়ে লেগেছে/
– তুমি বলেছিলে না পড়ার পর চাকরি করবে আর তাছাড়া তোমার বিয়ের সাথে আমার চাকরির কি সম্পর্ক?
– সম্পর্ক আছে।
– কিভাবে?
– এতবড় হয়ে হয়েও বুঝতে পার না বুঝি?
– আমি যা ভাবছি সেটা না তো?
– হলেও হতে পারে।
– আর যদি না হয়?
– আমি কি না বলেছি?
– হ্যাঁ ত আর বলনি।
– সব কথা কি বলে দিতে হয়?
– মা কয়েক দিন থেকে বিয়ে কর বিয়ে কর করে পাগল করে দিচ্ছে। এবার বিয়েটা তাহলে সেরে ফেলি?
– তার আগে চাকরির কথা ভাবেন।
– সেটা নাহয় সময় বলে দিবে।

সে দিন বিকাল টা একটু হুহ না একটু না পুরোটাই অন্যরকম কেটেছিল। দুজনের মাঝে শূন্য জায়টা আর ছিল না আমার ঘাড়টাতে কারো মাথার স্থান হয়েছিল আর হাতের মধ্যে ছিল নরম স্নিগ্ধ কমল হাত আর মনের মধ্যে ছিল একরাশ না বলা কথা আর ভাল লাগা।

তারপর ঘটনা সব দ্রুত ঘটে গেছে আমার আর তার বিয়ে হয়েছিল যখন সে জানতে পেরেছিল আমি অনেক আগেই চাকরি করতাম তখ্ন সে শুধু এটুকু বলেছিল মিথ্যা বলার ফল আমি পরে উশল করে তুলে নেব। আজ সে ঠিকই উশল করে তুলে নিচ্ছে আমার বুকটাকে নরম হাতের গরম স্পর্শ চালিয়েছিল কিছূক্ষণ তারপর তারপর তার সাথে সাদে মধ্যে রাতে চাদ দেখা আর বাকিটুকু শুধু ভালবাসা।

চরম সত্য কথা কি জানেন মেয়েরা স্বার্থবাদী হয়। চাকরী ছাড়া ছেলেকে বিয়ে করতে চায় না। আগে চাকরি কর তার পর আমায় বিয়ে কর এটাই তাদের মূর বক্তব্য। তারা দুঃখের সময় সাথী হতে চায় না কিন্তু সুখের সাথী ঠিকই হতে চায়।

গল্পের বিষয়:
ছোট গল্প

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত