ছাদের ভূত

ছাদের ভূত

‘ভূতের গপ্পো মানে? তেনাদের নিয়ে ছেলেখেলা অ্যাঁ? রাম রাম রাম রাম…’

‘আরে বাবা ভূত বলে আবার কিছু আছে নাকি?’

‘আলবাৎ আছে। তুই বাচ্চা ছেলে কী বুঝিস এসব ব্যাপারে…’

‘যত্ত বাজে কথা। ভূত ফুত সব বোগাস।’

‘এহ! বোগাস বললেই হল? আমি নিজে ভূত দেখেছি।’

‘তুমি? ভূত দেখেছ? তুমি?’

‘হ্যাঁ রে বাওয়া হ্যাঁ, আমিই দেখেছি, এই দুই চর্মচক্ষু দিয়ে’, বলে ভারি বিজ্ঞ বিজ্ঞ ভাব নিয়ে নিজের চোখের দিকে আঙুল দেখিয়ে ইশারা করলাম।

বাবুন, টুপুর অবিশ্বাস্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল ড্যাব ড্যাব করে।বাবুন বলল, ‘ঢপ দিচ্ছ না তো মামাইদিদি? তুমি ভূত দেখেছ, কই সেকথা তো আগে কখনও জানাওনি আমাদের।’

‘সব কথা কি আর জানানোর মত রে। ভূত দেখা কি খুব আনন্দের বিষয় যে ঢ্যাঁড়া পিটিয়ে জানাবো?’, আমি বলে চললাম, ‘ভূত খুব বিপজ্জনক জীব। তাঁদের নিয়ে মশকরা করলে কিন্তু তেনারা খুব ক্ষেপে যান।’

কিন্তু বাবুন আর টুপুর নাছোড়বান্দা, ‘মামাইদিদি প্লিজ প্লিজ বলো না আমাদের সেই ঘটনা।’

‘বলতে পারি। কিন্তু তোরা যে বড্ড ছোট। যদি ভয় পাস…’

টুপুর সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদ জানায়, ‘আমরা মোটেও ছোট নই… আমরা এখন এইটে উঠেছি… গল্প তোমাকে বলতেই হবে। প্লিজ বলো না দিদি…’

আদরের ছাত্র-ছাত্রীদুটো এমন করে চেপে ধরলে আর কি অগ্রাহ্য করা যায়? অগত্যা আমি বলি, ‘আচ্ছা ঠিকাচে, এত করে বলচিস যকন শোনাচ্চি। তবে গল্প নয় কিন্তু হ্যাঁ? এ এক্কেরে সত্যি ঘটনা, আমার নিজের চোখে দেখা।’

বাবুন টুপুরের উৎসাহ তখন দেখে কে। আমিও বেশ গুছিয়ে শুরু করলাম –

‘আমিও তখন ইস্কুলে পড়ছি বুইলি? এই তোদেরই বয়সী ছিলাম। যদ্দুর মনে পড়ে ক্লাস সেভেন কী এইট। মামার বাড়িকোন্নগর গেছি মামাতো ভাইয়ের অন্নপ্রাশনে। কোন্নগর স্টেশন থেকে অনেকটা দূরে, একটু ফাঁকা ফাঁকা এরিয়া। সেই কোন ছোটবেলা জন্মেছিলাম সেই বাড়িতে। তারপর আর যাওয়া হয়নি। জ্ঞানত সেই প্রত্থমবার মামাবাড়ি নেমন্তন্ন খেতে যাওয়া। সারাদিন হৈচৈ। দুপুরে গলা অবধি খেয়ে দেয়ে দিদি, মাসি, মাসতুতো দাদা সবার সাথে আড্ডা দিচ্ছি ঘরের দাওয়ায় বসে।’

টুপুর মাঝ পথে থামিয়ে ভ্রু জোড়া উপরে তুলে ঘাড় বেঁকিয়ে জিগাল, ‘গলা অব্দি খেয়ে মানে? গলায় ভাত আটকে ছিল?’

আমি হো হো করে হেসে বললাম, ‘না রে ক্ষেপী, তোরা তো আজকাল কোয়ালিটি বেবি। আমরা খেতাম কোয়ানটিটি। গলা অবধিখাওয়া মানে পেট টইটম্বুর করে খাওয়া। যেন মনে হবে খেতে খেতে খবার গলা অবধি ভর্তি হয়ে গেছে, আর এক দানাও গলাধঃকরণ করার মত জায়গা অবশিষ্ট নেই।’

‘ওওওও আচ্ছা আচ্ছা।’

‘শোন তারপর আর মাঝখানে কথা বলিস না। হ্যাঁ তো যেটা বলছিলাম’, আমি সুবিধা মত একটা পাশবালিশে হেলান দিয়ে বসলাম, ‘আমাদের মধ্যে সবচেয়ে ছোট ছিল ছোটমাসির মেয়ে পুপে। সে ভারী বিচ্ছু মেয়ে। ঘরময় ছুটে খেলে বেড়াচ্ছিল। বাড়িটা একতলাই। হঠাৎ দেখি সে ছাদের সিঁড়ি বেয়ে নেমে লাফিয়ে লাফিয়ে এসে দিদার কাছে ছাদে যাবার বায়না জুড়লো। দিদা তো নানা কথায় তাকে ভুলিয়ে ভালিয়ে ক্যাডবেরি দিয়ে মুখ বন্ধ করে রাখল। কিন্তু ছাদে যাওয়ার বায়নাটা ততক্ষণে আমাদের কয়েকজনের মাথায় চেপে বসেছে।বাড়ির বড়দের জানাতেই সঙ্গে সঙ্গে সে প্রস্তাব নাকচ হয়ে গেল। মামা মামী তো রীতিমত ধমক দিয়ে জানিয়ে দিলেন যে, ‘খবর্দার কেউ ছাদে যাওয়ার বায়না করবে না। ছাদে বড় বড় তালা দেওয়া আছে। আর সেই তালা খোলা বারণ, ব্যাস।’ মাসতুতো দাদা আমাদের আলাদা করে ডেকে জানালো যে এ ছাদের দরজা নাকি আজ প্রায় সাত বছর ধরে বন্ধ। কারণ জিজ্ঞেস করতে আমাদের জানালো, সে ছাদে নাকি অশরীরী প্রেতাত্মার বাস। কাউকে নাকি ছাদে থাকতে দেয় না।’

বাবুন টুপুরের গোল গোল চোখ মুখ দেখে অতি কষ্টে হাসি চাপলাম। গম্ভীর হয়ে জিজ্ঞেস করলাম, ‘দেখ, শুনবি তো সবটা? খুব ভয়ের গল্প কিন্তু।’ ওরাও ততধিক ব্যস্ত হয়ে বলল, ‘একদম ভয় লাগছে না আমাদের, তুমি বলো তো…’

আবার শুরু করলাম, ‘আমার দুই মেসো খুব সাহসী। অশরীরী প্রেতাত্মা আছে শুনে তাঁরা তো ছাদে যাওয়ার ডবল জেদ ধরে বসলেন। তাঁরা নাকি প্রেতাত্মা দেখতে চান। দাদু দিদা তো হাঁউমাঁউ করে তেড়ে এলেন। কিন্তু কে শোনে কার কথা। ছাদে তাঁরা যাবেনই। অগত্যা দিদা নিমরাজি হয়ে ছাদ খোলার পারমিশান দিলেন। টানা সাত বছর পর ছাদের তালা খুলল। আমরাও পিছু পিছু ছাদে গিয়ে উঁকি দিলাম। দুপুরের আড়াইটে তিনটের চাঁদি ফাটা রদ্দুর। তপ্ত ছাদের মেঝেতে পা রাখা দায় তখন। মেজোমামা দেখালেন বাড়ির পশ্চিম আর উত্তর দিক বরাবর গাছ দুটোকে। যাদের মাথাগুলো মিলেজুলে ছাদের ঠিক মাঝ বরাবর একটা ছায়ার স্তম্ভ প্রস্তুত করেছে।সেই ছায়ায় নাকি কেউ বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে বা বসে থাকতে পারে না।কোনও এক অশরীরী আত্মা নাকি সেই ছায়ার মালিক। তাই তার জায়গা কেউ অধিকার করতে এলেই তাকে সেখান থেকে ঠেলে সরিয়ে দেয়।’

‘ও বাবাগো! ঠেলে সরিয়ে দেয়? কিরম করে সরিয়ে দেয়?’ টুপুর চোখগুলো বড় বড় করে জিজ্ঞেস করল ।

‘তুই থাম না পুঁটিমাছ। তুই এত বকলে দিদি গল্পটা বলবে কী করে?’ বাবুন ধমকে ওঠে।

আমি বলি, ‘আচ্ছা গল্পটা শোনাচ্ছে কে? আমি নাকি তোরা?’

‘তুমি… তুমি দিদি। টুপুরের কথা ছাড়ো… তুমি বলো প্লিজ…’

‘দুজনেই মুখে আঙুল দে। হ্যাঁ, এবার ঠিক আছে।’ আবার শুরু করি, ‘তো সেই কথা শুনে তো আমাদের গায়ের লোম খাড়া হয়ে গেল। আমরা সবাই লাফ দিয়ে ছায়া থেকে সরে এলাম। বড় মেসো ভারি সেয়ানা, চোখ সরু করে মেজোমামাকে ঠিক এই প্রশ্নটাই করলেন, ‘সরিয়ে দেয় কীভাবে শুনি? ভূতে ঠেলে তুলে দেয়?’ বড়মামা বললেন, ঠিক তাই। অনেক বছর আগে দাদু নাকি একবার ছাদে শুয়েছিলেন। সেই সময় গরম কালে রাত বিরেতে ছাদে শুয়ে থাকাটাএমন কিছু আশ্চর্যের বিষয় ছিল না। অনেকেই শুতেন। দাদুও মাঝে মাঝে রাতে ছাদেই ঘুমিয়ে পড়তেন। একদিন রাতে দাদু এক অদ্ভুত স্বপ্ন দেখলেন। সেদিন ছাদের মাঝ বরার সেই শীতল ছায়ার ওপরেই শুয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। স্বপ্নে কে যেন এসে দাদুকে ভয় দেখিয়ে আদেশ দেন দাদু যেন সেই ছায়া থেকে উঠে পড়েন। ছায়ার মালিক সেই আত্মা। সেই বীভৎস স্বপ্ন দেখেদাদু পড়ি কী মরি করে সেখান থেকে উঠে সোজা নীচে। পরদিনই ছাদের গেটে তালা পড়ে। মামা বলেন, সেই থেকে আজ অবধি…’

‘আমরা কিন্তু কথাগুলো দিব্বি গিলছিলাম। সত্যি বলতে কী তখন আমিও তো তোদের মতই ছোট, তাই ভূতের গল্প টল্প বইয়ে পড়েছি কিন্তু ভূত বলে যে কিছু থাকতে পারে আদৌ তা কিছুতেই বিশ্বাস হত না। তবে মামার মুখে দাদুর সেই ঘটনা শুনে একটু একটু ভয় করছিল তখন। কিন্তু আমার সেই ভয়কে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে বড় মেসো হো হো করে হেসে উঠলেন। বললেন, ‘যত্ত সব গাঁজাখুড়ি গপ্পো। বাবার যথেষ্ট বয়স হয়েছে, তাই ভুল ভাল স্বপ্ন দেখেছেন। আর শুধুমাত্র স্বপ্নের ভিত্তিতে ভূতের অস্তিত্বকে মেনে নেওয়া তো চরম বোকামি। শুধু এই কারণে একটা এতো সুন্দর ছাদ বছরের পর বছর বন্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে? ফুঃ! আমি এসব বিশ্বাসই করি না।’ সেই মুহূর্তে ছোট মেসো, মা, মাসিরাও সায় দিয়েছিলেন। তারাও বিষয়টাকেহালকা ভাবে উড়িয়ে দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু দাদু দিদা আর মামাদের অমন ভয়ে কচু হয়ে থাকা মুখগুলো দেখে বড় মেসোর আরও জেদ চেপে গেল। ভূতের গল্পটাকে স্রেফ নস্যাৎ করার জন্য তিনি তখন প্রমাণ খুঁজতে মরিয়া।’

এতটা বলে আমি বোতল থেকে জল খেলাম ঢকঢক করে।এতক্ষণ একটানা বকে বকে গলা শুকিয়ে আসছিল। তবে তার চেয়েও বেশি শুকনো এখন বাবুন আর টুপুরের মুখদুটো। ওদের চোখেরতারায় গল্পের পরবর্তী অংশ শোনার জন্য ছটফটে ভাব ফুটে উঠেছে।সেই চাঞ্চল্যকে আরেকটু উস্কে দিতে আমি গলা খাঁকারি দিয়ে বললাম, ‘এইবার ভূতদর্শন পর্ব বুঝলি তো? এবার কিন্তু খুব সাবধানে শুনবি।ভূতের গল্প শোনার নিয়ম কিন্তু এগদম ভয় পেলে চলবেনি হমমম… তেনারা যদি বুঝতে পারেন যে তোমরা ভয় পেয়েছ তবেই কিন্তু ঘ্যাঁক করে ঘাড় মটকে দেবেন। আর এ গল্প তো গল্প নয়, খাঁটি বাস্তব ঘটনা… আমার জীবনের অন্যতম সেরা ভূত দর্শন… হু হু বাওয়া…’

বাবুনটা বেশি বিচ্ছু। কেমন ফিক ফিক করে হাসছে দেখো।  ভাবটা এমন যেন আমি আষাঢ়ে গপ্পো শোনাচ্ছি। মনে মনে ভাবি, দাঁড়াতো এবার এমন ভয় দেখাব না তোদের, আর কোনওদিন ভূতের গল্প শুনতে চাইবি নে। আমি এবার সোজা হয়ে বসে গম্ভীর ভাবে গল্পের শেষটুকু বলা শুরু করলাম, ‘মামাবাড়িতে তখন হুলুস্থুলু কাণ্ড।বড়মেসো সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছেন যে সেই রাতে তিনি ছাদে শোবেন।ভূতফুতের সাহস থাকলে তাকে সেখান থেকে নাবিয়ে দেখাক। ব্যাস! আর যায় কোথায়। দাদু দিদা তো কান্নাকাটি জুড়ে দিল। বড়মাসি তো বরাবরই একটু ভীতু প্রকৃতির। তিনিও খুব ভয়টয় পেয়ে গেলেন।সবাই বোঝালো বড়মেসোকে যে ভূত না থাকুক, ছাদে রাত বিরেতে চোর ডাকাত তো আসতে পারে। কী দরকার এসব রিস্ক নেওয়ার।কিন্তু মেসো শুনলে তবে তো? মেসো প্রমাণ করেই ছাড়বেন যে ভূত বলে কিচ্ছু নেই। আর এত বছর ধরে বাড়িতে যে ধারনাটা চলে আসছে সেটা সম্পূর্ণ ভুল।’

‘তাই সবার নিষেধ কান্নাকাটি বকাঝকা সব অগ্রাহ্য করে রাতে খেয়ে দেয়ে মেসো মাদুর আর বালিশ বগলে নিয়ে চললেন ছাদে শুতে। গরমকাল, চাঁদনিরাত আর ফুরফুরে হাওয়া আহা! মেসোকে ঠেলে নামায় কোন ভূতের ব্যাটা? এদিকে নীচে আমরা প্রায় জেগে শুয়ে। কারো চোখে ঘুম নেই। দিদা আর বড়মাসি তো পালা করে কেঁদে চলেছেন। একসময় আমারও চোখে ঘুম জড়িয়ে আসে। রাত তখন অনেক। হঠাৎ রাস্তার কয়েকটা কুকুরের কান ফাটানো চিৎকারে ঘুম চোটে চৌচির। রাতের অন্ধকারের বুক চিরে কুকুরের তারস্বরেচিৎকার ভেসে আসছে। সব ঘরে সবাই উঠে পড়েছে ততক্ষণে। সব ঘরের আলো টালো জ্বলে গেছে। ছাদের উপর অদ্ভুত সব ধুপধাপ শব্দ হচ্ছে। আচমকা মনে হল ওপর থেকে ভারি কিছু একটা বাড়ির পেছনের বাগানে ঝুপ করে পড়ল। কুকুরগুলোও গেটের বাইরে থেকে সেদিক লক্ষ্য করেই তীব্র চিৎকার করে ছুটোছুটি করে চলেছে। বেশ বুঝতে পারছিলাম যে কিছু একটা গোলমেলে ব্যাপার ঘটেছে।মেজোমামা আর এক মুহূর্তও সময় নষ্ট না করে বড় দরজা খুলে বাড়ির বাইরে বেরলেন। সঙ্গে সঙ্গে আমরাও সবাই হুড়মুড় করে বাইরে বেরিয়ে এলাম। দুই মামা টর্চ নিয়ে বাগানের দিকে ছুটলেন।তারপর কয়েক মিনিটের মধ্যেই তারা মাদুরে মোড়া বেশ ভারি আর বড়সড় একটা কিছু টানতে টানতে নিয়ে এলেন আমাদের সামনে।বিস্ফারিত চোখে দেখলাম বড় মেসোর শরীরটাকে কে বা কারা যেন মাদুর সমেত পায়ের দিক থেকে গুটিয়ে গুটিয়ে মাথার উপর তুলে একটা পিণ্ড বানিয়ে ফেলেছে। সে দৃশ্য চোখে দেখা যায়না। সেই বীভৎসতা দেখে দিদা আর মাসিতো আর্তনাদ করে উঠলেন। মেসোর শরীরটাকে হাত পা মাথা সব থেঁতলে গিয়ে হাড়গোড় ভেঙেচুরে একটা দলা পাকানো কী যেন তৈরি করেছে, যা কোনও শরীরী মানুষের পক্ষে করা অসম্ভব। প্রাণটা তখনও গোঁ গোঁ শব্দ করে যাচ্ছিল…’

‘আর শুনবো না আর শুনবো না… বাবাগো কী সাংঘাতিক…’ টুপুর প্রায় চিৎকার করে কেঁদে ওঠে। বাবুনকে দেখে মনে হচ্ছিল এতক্ষণ দম আটকে বসে শুনছিল। টুপুরের চিৎকারে সেও চমকে উঠে বুকে হাত দেয়। জোরে জোরে শ্বাস ফেলে বলে, ‘উফফফ! কী বীভৎস গো। তারপর কী হল? মেসোকে বাঁচানো গেল?’

আমি গম্ভীর হয়ে বললাম, ‘আমিও তখন ভয়ের চোটে চোখ বন্ধ করে পাশের ঘরে ছুটে চলে গেছিলাম মা মাসিদের সাথে। মেসোকে তক্ষুনি স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। ডাক্তার ঐ দৃশ্য দেখে নিজেই অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছিলেন প্রায়। খানিকক্ষণ চেষ্টা ফেস্টা করে তারপর মেসোকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঐ দুমড়ে মুচড়ে যাওয়া শরীরটা কি আর সোজা হয়? অতএব…’

আমার বিচ্ছু দুটি ছাত্র ছাত্রীর মুখ এখন শুকিয়ে আমসি হয়ে গেছে।আমি ভুরু নাচিয়ে বল্লুম, ‘কী রে? ভয় পেলি নাকি?’ টুপুর সঙ্গে সঙ্গে হাত তুলে সায় দিল, ‘আমি পেয়েছি বাবা ভয়।’ বাবুন ব্যাটা ভাঙবে তবু মচকাবে না। সে একটু আমতা আমতা করে জবাব দিল, ‘না ভয় ঠিক পাইনি। তবে ভূত কিন্তু দেখতে পারোনি। শুদু ভৌতিক ঘটনা দেখেছ। যাই হোক, তবু গল্পটা হেব্বি ছিল দিদি। বুকটা এখনও কেমন যেন ধড়াস ধড়াস করছে।’

আমি বললাম, ‘হম! তোদের ধরাশায়ী করার ক্ষমতা আমার নেই বাপু। সে স্বয়ং তেনাদেরই আছে। আশীব্বাদ করি কোনোদিন তেনারা তোদের দেখা দিন…’

‘দরকার নেই বাবা দর্শনের। গল্প শুনেই আমাদের যথেষ্ট শিক্ষা হয়েছে’, সমস্বরে দুজনে হাত নেড়ে  বলে উঠল।

‘তবে তো ল্যাঠা চুকেই গেল। আমার গল্পও ফুরোল, নটে গাছও মুড়োল।’

গল্পের বিষয়:
ছোট গল্প

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত