আলোরা হারিয়ে যায়

আলোরা হারিয়ে যায়

আকুল কান্নায় ভেঙে পড়েছে সোহিনী। পাড়াপড়শি, আত্মীয়স্বজন কেউ ধরে রাখতে পারছে না। সান্ত্বনার তো ভাষাই নেই। ছোট্ট রিনি অবাক হয়ে মামণিকে দেখছে। অত ভিড় ঠেলে মামণির কাছে পৌঁছতেও পারছে না। এদিকে সে পুরো ভিজে গেছে। শীত করছে খুব। রিনি চেঁচিয়ে ‘মামণি’ বলে সোহিনীকে ডাকলেও অত লোকের গলার স্বরে তার আওয়াজ গিয়ে পৌঁছল না।

অথচ রিনির খুব কষ্ট হচ্ছে মামণির কান্না দেখে। সে ব্যাপারটা ঠিক বুঝতেও পারছে না। মামণি তো সবসময় বলে, ‘রিনি আমার সোনা, আমার চাঁদের কণা, তুমি আমার কাছে থাকলে আমার জগৎ আলো-আলো, খুশি-খুশি।’ সে তো মামণির কাছেই আছে! তাহলে মামণি এত কাঁদছে কেন!

‘ওই তো নিয়ে আসছে,’ সবার ফিসফিসে গলার আওয়াজে রিনি দেখে বাবাই একটা ছোট্ট মেয়েকে দুহাতে করে কোলের মধ্যে নিয়ে আসছে। এনে মামণির কাছে শুইয়ে দিল। রিনি ভাবে, কে ওই মেয়েটা?

ভিড় ঠেলেঠুলে কাছে আসতেই তার সব মনে পড়ে গেল। আর নিজে এবার ঝরঝর করে কেঁদে ফেলল।
আজ সকালে পার্থকাকু তাকে বেড়াতে নিয়ে যাবে বলে বাড়ির পিছনে বাগান সংলগ্ন পুকুরধারে নিয়ে যায়। এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখে কাকু। কেউ কোথাও নেই। তারপরেই হঠাৎ যেন রাগে আগুন ছোটে কাকুর চোখ দিয়ে। বলে, ‘জানিস, মাত্র দশ হাজার টাকা ধার চেয়েছিলুম তোর বাপের কাছে। নাহয় আমি আপন ভাই নই। কিন্তু সম্পর্কে তো ভাই। কিন্তু তোর বাপ একটা টাকা তো ঠেকালোই না, উল্টে যা নয় তাই বলে অপমান করল। কিন্তু আজ এর পরিণামে যা হবে, তার জন্যে তোর বাপই দায়ী থাকবে, আর তার জন্যে সারাজীবন তাকে চোখের জল ফেলতে হবে।’
রিনি ভয়ে ভয়ে বলে, ‘কী হবে কাকু?’
কাকু বলল, ‘দেখবি? তবে দ্যাখ্‌।’

তার কথা শেষ হবার সঙ্গে সঙ্গেই কাকু তাকে টেনে নিয়ে দৌড়ে পুকুরের জলে নেমে পড়ে। আর সজোরে তার মাথাটা জলের মধ্যে…

‘মামণি গো, আমার খুব কষ্ট হয়েছে। আমি যে তখন শুধু তোমাকেই ডাকতে চেয়েছি। তোমার কাছে ছুটে আসতে চেয়েছি। তবে তুমি দুঃখ কোরো না মামণি। আমি আবার ফিরে আসব তোমার কাছে। তোমার আলো-আলো, খুশি খুশি হয়ে…’

গল্পের বিষয়:
ছোট গল্প

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত