আজকেও কাঁদালে

আজকেও কাঁদালে

ধিরে ধিরে ওর আর আমার সম্পর্কটা অনেক গভির হইতেছে। দেখতে দেখতে ২ বছর পেরিয়ে গেলো তার সাথে প্রতিটা দিনেই যোগাযোগ রেখেছি কারন আমি জেনে গেছি ওকে ছাড়া একদিনো বাঁচতে পারব না। তবে সে ও আমাকে এতটা ভালোবাসে যা বোঝাতে পারব না। আমাকে ছাড়া কিছুই বোঝে না পাগলিটা।

প্রতিদিন সকাল ৬টায় মেচেছ দিবে যদি রিপেলে না দেই রাগ করে ফুলে ভিম হয়ে থাকে পরে যখন ফোন দিয়ে ছরি বলে সাথে কেঁদে ফেলে আর বলে তুমি আমাকে ভুলে যাইতেছো আমি মেচেছ না দিলে মেচেছ দেও না, আর আমি যে তোকে ছাড়া বাঁচব না সেটা কেন বুঝিস না তখন আমারো একটু খারাপ লাগে মনে মনে ভাবি সত্যি তো আমি ওকে মেচেছ দেই না। তখন ওকে বলি সোনা তোকে ছাড়া আমিও বাঁচব না। তখন ও বলে আমি আছি তো।

যাই হোক আসল কথায় আছি সামনে আমার পাগলিটার এসএসসি পরিক্ষা। সব প্রেমিক তাদের প্রেমিক প্রেমিকাকে এসএসসি পরিক্ষায় অনেক কিছু গিফট দিয়ে থাকে। আমার পাগলিটাও আমাকে অনেক কিছু দিয়েছিলো। এবার পাগলিটা পরিক্ষা দিবে ওকে তো কিছু গিফট দিতে হবে। কিন্তু আমার কাছে গিফট কেনার মত টাকা ছিলো না কি করব কিছু ভেবে পাইতেছিলাম না। ওকে বলেছি সোনা কি নিবা বলো আমি গিফট কিনব তো ও বলেছে আমার কিছু চাই না আমার শুধু তোকে চাই তোকে পেলেই আমার জীবন ধন্য। অনেক্ষন জোরাজোরি করলাম তবু বলতেছে না লাগবে না। তখন বললাম একটা কলম বক্স, কলম,স্কেল,রাবার,পেন্ছিল কিনব ও কিছু না বলে ফোন অফ করে রাখলো।

টাকা তো আমার কাছে নাই তবে যে করেই হোক কিনতে তো হবেই। বাড়িতে মায়ের কাছে টাকা চাইলাম মা বলতেছে এখন নেই পরে নিস। মাথাটা খারাপ হয়ে যাইতেছিলো পরের দিন সকালে বাড়ির পাশে রাস্তায় দারিয়ে আছি। একজন এসে বললো আমাদের কাজ করবি ভুট্টা গারব আমি বললাম ঠিক আছে বাড়ি এসে ভাত খেয়ে ভুট্টা গারতে গেলাম। সারাদিন রোধের মধ্যে ভু্ট্টা গারতেছি দুপুর বেলাম পাগলিটা মেচেছ দিছে কি করতেছো আমি তো ভুট্টা গারতেছি সেটা তাকে বললাম না। ভু্ট্টা গারতে গারতে মেচেছ করলাম কাজ শেষে বাড়ি এসে টাকা নিতে গেলাম অবশেষে তিনি আমাকে ২৫০ টাকা দিলো। তখন মনটা আনন্দে ভরে গেলো যাই হোক এবার তো গিফট কিনতে পারব।

পরের দিন বিকালে মায়ের কাছে ১০০ টাকা নিয়ে বাজারে গেলাম মোট ৩৫০টাকা ছিলো। বাজারে গিয়ে একটা দোকানে গেলাম কলম বক্স নিতে। দোকানদার কে বললাম আংকেল ক্যালকুলেটর আলা কলম বক্স দেন তো তিনি বের করে দিলেন বক্সটা দেখে ভালো লাগলো দাম করে ১২০ টাকা দিয়ে নিলাম। তিনি একটা পলিথিনে ভরে দিলেন ঠিক তখনি চোখে পড়লো আর একটি বক্স দোকানদার কে বললাম ওটা দেখান তো ওটা এনে দিলেন ওটা দেখে অনেক ভালো লাগলো যেটা নিয়েছিলাম সেটার চাইতেও বড় আর সুন্দর। তখন ওটা ২৫০ টাকা নিয়ে কিনলাম। তারপর স্কেল, রাবার, পেন্ছিল,কলম কিনলাম সব মিলিয়ে ৩৩০ টাকা খরচ হলো ওগুলো নিয়ে বাড়ি চলে আসলাম।

পরেরদিন ওকে মেচেছ দিয়ে বললাম সোনা আমি গিফট কিনছি কবে নিবা বলো ও বললো নিব না আমি বললাম সোনা নিও বলতেছে নিব না মানে নিব না। এক পর্যায়ে ঝগড়া শুরু হয়ে গেলো। তখন রাগ হয়ে ফোন অফ করে রাখলো। পরের দিন আবার বললাম সোনা নিও অনেক আশা করে কিনছি তখন সে বললো তুমি তো জানোই বাড়িতে তোমার আর আমার ব্যাপারটা জানে অনেকদিন আগে দুল দিয়েছিলা সেগুলো দেখে মা বলতেছে ওই ছেলেটার জিনিষ কেন নিছিস মা আমাকে সন্দেহ করে আমি ওগুলা নিতে পারব না। তখন ওকে আর জোর করলাম না।

মনে মনে ঠিক করলাম পরশুদিন তো ওদের স্কুলে ওদের বিদায় সংবর্ধনা দিবে ওখানে গিয়ে দিব ঠিক নিবে। দেখতে দেখতে সেই দিন টা এসে গেলো। সকাল বেলা মেচেছ দিয়ে বললো তারাতারি আসবি কতদিন থেকে তোকে দেখিনি বললাম ১২ টায় যাব বলতে আসিও মনভরে দেখব। গোসল করে ১২ টায় স্কুলে গেলাম গিয়ে দেখতেছি ওদের সবাইকে একটা রুমে বসিয়ে স্যার তাদের সাথে কথা বলতেছে। অার এদিকে সবাই ঘুরাঘুরি করতেছে। আমি দারিয়ে আছি আর ও আমায় দেখা পেয়ে মাথা দরজার কাছে এনে দেখতেছে আমি দেখতে মুচকি হাসি দিয়ে মাথা ঘুরিয়ে নিলো। তারপর আবার অনেকবার দেখেছে আমিও মনভরে দেখেছি।

ক্লাশ থেকে বাইরে আসলো আমি ওর কাছে গিয়ে একটু কথা বলে গিফট গুলা ওর হাতে দিলাম ও নিয়ে দু একটা কথা বলে বিদায় অনুষ্ঠানের মন্চের কাছে গেলো। আমি যে ওর সাথে কথা বললাম আর ওকে ওটা দিলাম ওর ছোট ভাই দেখে ফেলছে। একটুপর ওর ভাই ওকে গিয়ে বলতেছে আজ তোর খবর আছে আসিফের সাথে কথা বললি আর গিফট নিলি তখন ও কেঁদে ফেলছে। তারপর গিফটগুলা ওর বান্ধুবিকে দিয়ে বলেছে পরে দিস আমাকে। তারপর আমাকে সে মেচেছ দিয়ে সবকিছু বললো তখন বলছি ওগুলা পরে নিও। সেদিন সারাদিনটায় ওকে মন ভরে দেখেছি।

পরের দিন কথা বললাম সে আমাকে বললো আমার জন্য দোয়া করিও আমি বললাম দোয়া তো করে আসলাম আজ শুক্রবার নামাজ পরে খোদার কাছে চাইলাম যেন ভালো রেজাল্ট হয়।তারপর ওকে বললাম সোনা গিফটগুলা নিও বলতেছে না সোনা নেওয়া যাবে না বাড়িতে সমস্যা হবে তখন আমি বললাম নিলে অনেক খুশি হবো সে বললো নিব না মানে নিব না। তখন বললাম নিতে হবে না কাল পরিক্ষা পড়া পরো সে বললো রাগ করলা বলাম না বাই পরে কথা হবে তখন সে বললো আজকেও রাগগ দেখালি তারপর বললাম কিছু নিতে হবে না তখন সে কেঁদে কেঁদে বললো আজকেও কাঁদালি। একটুপর ওকে বললাম আমি কি কাঁদতে বলছি সে বললো রাগ দেখালে কাঁদব তো। তখন ছরি বলে বললাম তোকে ছাড়া আমি বাঁচব না তুই যে আমার সব।তখন ও বললো আমি মরে গেলে কাকে রাগ দেখাবে তখন ওকে বললাম না বাজেকথা বলবি না তুই আমার মিষ্টি বউ কাল পরিক্ষা ভালো করে পড়া পড়ো ও বললো পরতেছি তো।

এভাবেই প্রতিনিয়ত দুষ্টু মিষ্টি ঝগড়া লেগেই থাকে আমাদের ও একটুতেই কেঁদে ফেলে । আসলে ভালোবাসার মধ্যে ঝগড়া না থাকলে যেন ভালোবাসাটা জমেই না ঝগড়া হলেও কেউ কাউকে ছেড়ে যেতে চাইনা।

গল্পের বিষয়:
দু:খদায়ক

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত