অসমাপ্ত

অসমাপ্ত

বর্তমান সমাজে বিয়ে এবং ডিভোর্স একটা খেলা হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্মার্ট হতে গিয়ে মানুষ এতটা নিচে নেমে গেছে যে, বন্ধন নামক শব্দটা বড় তুচ্ছ তাদের কাছে। তবে বাক্য দুটো সবার ক্ষেত্রে খাটে না।কেউ কেউ মুখে ডিভোর্স শব্দটি উচ্চারণ করলেও মনে মনে আতংকে থাকে। তাদের মধ্যে একজন নেহা।উগ্র মেজাজের মেয়ে।বিয়ের পর থেকে জাহিদের সাথে কিভাবে আছে সে নিজেও জানেনা।

– এই পানি দেও।[চেঁচিয়ে]
– পারবোনা।
– গলায় ভাত ঠেকছে।
– তো মরো।তোমায় বিয়ে করে হয়েছে যত জ্বালা।সারাদিন বান্দির মতন খাটতে হয়।একটু শান্তি পাইছি বিয়ের পর?

জাহিদ বুঝতে পারছে,কোনো এক কারণে বউ রেগে আছে।তাই সে খাট থেকে নেমে টিপটিপ পায়ে রান্নাঘরের সামনে গেলো। ভেতরে নেহা গ্লাসে পানি ঢালছে।শাড়ির পাশ থেকে নরম সাদা কোমড় দেখা যাচ্ছে।দেহ জুড়ে ক্লান্তির ছাপ।এই অবস্থায় অদ্ভুত মায়াবী লাগছে তাকে। ফলস্বরূপ নিজেকে আটকাতে না পেরে আস্তে করে রান্না ঘরে ঢুকে গেলো জাহিদ।নেহা তখনো কিছু টের পায়নি। অতঃপর সুযোগ বুঝে নেহার পেছন থেকে জড়িয়ে ধরলো। আচমকা স্পর্শে নেহা চমকে উঠেছে।

– এই কি হচ্ছে এসব?
– ভালবাসা আদানপ্রদান।
– তোমার না গলায় ভাত ঠেকছে?
– হুম।
– তাহলে চুপচাপ পানি পান করে রুমে যাও।
– উঁহু।
– উঁহু কি?

জাহিদ কোনো জবাব দিলো না।এমন মুহূর্তে খুব কম লোক কথা বলতে পছন্দ করে। নেহা উত্তর না পেয়ে নিজেকে ছাড়াবার বৃথা চেষ্টা করলো। তবে জাহিদ কম কিসে? সে আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরে ঘারের কাছে মুখ নিয়ে পাপ্পি দিলো। ভালবাসার এ এক অদ্ভুত ছোঁয়া।বাঙালি নারী এমন ভালবাসা পেতে ব্যকুল।ভাববার বিষয় তা বোঝে কয় জন? জাহিদ নেহার ঘারে মুখে ঠোঁটে অনবরত পাপ্পি দিয়ে যাচ্ছে। নেহা প্রথমে কিছুটা রিয়েক্ট করলেও একসময় নিজে ডুবে যায় ভালবাসার অতল সাগরে।তারপর জাহিদের দিকে ঘুরে খুব শক্ত করে জড়িয়ে ধরে তাকে। জাহিদ তখন কানের কাছে ফিসফিস করে বললো “বেবি প্লানিং কি হবে?” নেহা লজ্জায় লাল হয়ে গেছে।সে মাথা হালকা নাড়িয়ে জবাব দিলো “হুম।”

জাহিদের সাথে নেহার ইদানীং বিন্দুমাত্র বুনছে না।অনবরত ঝগড়া লেগে থাকছে।একপর্যায়ে সে ঝগড়া বিকট রূপ ধারণ করে।এবং ফলাফল এসে দাঁড়ায় “ডিভোর্সে।” তারপর ধীরেধীরে এগিয়ে আসে ডিভোর্সের দিন। ঝগড়ার পর থেকে এই দিন পর্যন্ত দুজনের মাঝে কোনো কথা হয়নি।তবে নেহার আজ নিজেকে নীরব রাখতে পারলো না।যার জন্য সে কোমল শুরে ডেকে বসলো “জাহিদ।” আওয়াজটা কান পর্যন্ত পৌছাতে জাহিদ নেহার দিকে তাকিয়ে বললো “হুম।”

– শরীর খারাপ লাগছে।
– আমি কি করবো?
– সত্যি খুব খারাপ লাগছে।
– তো কি?
– আমি মনেহয় বাঁচবো না।
– মনগড়া কাহিনী বলে লাভ হবে না।
– জাহিদ..জাহিদ।

এরপর নেহা চোখ বুজে ফেললো। হঠাৎ নেহার এমন অবস্থা দেখে জাহিদের বুক ধরফরিয়ে ওঠে।সে নেহার হাত ধরে কয়েকবার ডাকাডাকি করে।কিন্তু না,কোনো কাজ হয়নি। অবশেষে অশ্রু চোখে নেহাকে কোলে তুলে জাহিদ ছোটে হাসপাতালের উদ্দেশ্যে।এ যেন এক মায়াবী দৃশ্য। দৃশ্যটা প্রমাণ করে “সময় বুঝিয়ে দেয় ভালবাসা কি?” জাহিদ এখন খুশি এবং দুঃখের মাঝামাঝি অবস্থানে। চোখ বেয়ে অনবরত অশ্রু ঝরছে। নেহা মা হতে চলেছে।কিন্তু মেয়েটা ডিভোর্স সত্যি দিয়ে দিবে কি না তা নিয়ে কনফিউশনে আছে। অপরদিকে জাহিদের চোখে অশ্রু দেখে নেহা কাছে ডাক দিলো।

– কান্না করছো কেন?
– এমনি।
– লজ্জা করে না ছেলে হয়ে কান্না করতে।
– এটা কান্না না।
– তাহলে কি?
– হুম।
– ডাক্তার কি বলছে শুনছো?
– তুমি আম্মু হবা।
– আর তুমি?
– আমি আব্বু হতাম।কিন্তু তুমি তো ডিভোর্স দিয়ে দিবা।
– ধুর পাগল।
– ডিভোর্সের পর আর একটা বিয়ে করবা?
– আর একটা বিয়ে করলে তোমায় সামলাবে কে?
– আমায় তো তোমার সহ্য হয় না।

– কে বলছে?বেশি বুঝো সবসময়।প্রেগন্যান্সির প্রথম প্রথম মেজাজ বিগড়ে থাকে।তাই তোমার সাথে এমন ব্যবহার করে ফেলছি।প্লিজ সরি জান।আমি না জেনে আবলতাবল বলছি।তাছাড়া কি ভাবছো,ডিভোর্স দিয়ে দিতাম?হুহ্,এত সোজা না।জন্মেছি বাবা মায়ের তরে,বাঁচবো তোমায় ঘিরে।তুমি মেরে কুচিকুচি করে কেটে ফেললেও তো ডিভোর্স দিবো না।

নেহার কথা শুনে জাহিদের মুখে হাসি ফুটলো। জাহিদ নেহাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বললো “আই লাভ্ ইউ,আই লাভ্ ইউ সো মাচ।” নেহা হাসি চেপে রেখে জবাব দিলো “লাভ্ ইউ টু।এখন ছাড়ো।বাবু ব্যথা পাচ্ছে তো।” জাহিদ তারাহুরা করে ছেড়ে দিয়ে বললো “ওহ্ সরি সরি।আই এম সরি।আই এম সো সরি।” জাহিদের এমন অবস্থা দেখে নেহা হাসিতে কুপোকাত।ছেলে পাগল,অনেক বড় ধরনের পাগল। তবে পাগল ভাল না বাসলে ভালবাসার মর্ম বোঝা যায় না। বর্তমান সমাজে কিছু মেয়ের ভালবাসা এটা প্রমাণ দেয়, না মেয়েরাও ভালবাসতে জানে।

গল্পের বিষয়:
দু:খদায়ক

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত