প্রেম বিসর্জন

প্রেম বিসর্জন

আমি অনি। ঘটনাটা গত বছরের। ১০ই মার্চ। শেষ বিকালে সোনালী রোদ্দুরে খোলা আকাশের নিচে ফেসবুকিং করা একটা অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। গোধুলী লগ্নে নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছি ফেসবুক বিশ্বে। চ্যাটিং করার মতো ছিলো শুধু কয়েকজন মেয়ে ফ্রেন্ড আর ছেলে ফ্রেন্ড। গ্রুপে তাদের সাথে দুষ্টুমি করতেছি অনবরত।

দুষ্টুমি চলাকালীন হঠাৎ মেসেঞ্জারের টুংটাং শব্দ,,,,, কোন অপরিচিত আইডি থেকে এসএমএস।  আইডির নাম ইচ্ছেনদী।- হাই- জী ইচ্ছেনদী বলেন,,,,
– কেমন আছেন?
– আছি কোনরকম আপনি?
– আমিও আছি আপনার মতো।
– তাই?😊😊😊
– হুম। বাই দা ওয়ে,,, আমি নাদিয়া আফরিন নদী।
– দাঁড়ান, দাঁড়ান। তার আগে বলুন তো আপনার নামটা কে রেখেছে?
– কেন? আমার আম্মু।
– এত্ত ধারূন নাম? যাই বলুন না কেন আন্টির চয়েস আছে বলতে হয়। আন্টিকে আমার পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানাইয়েন।😊😊😊
– আচ্ছা দিবোনি। আর আপনার নাম? 
– আমার নাম অত সুন্দর না। অনির্বাণ অনি। 
– কে বলছে সুন্দর না? অনি নামের ছেলেরা খুব কিউট হয় ঠিক আপনার মতো। 
– যাক তোমার তো পছন্দ হলো? 
– হুম। 
– সরি তুমি বলে ফেললাম। 
– না না সমস্যা নাই। বলতে পারেন। 
– আলবাদ সমস্যা আছে। না না আপনিও একবার তুমি বলুন না হয় নিজেকে বুড়া বুড়া মনে হচ্ছে। 
– আচ্ছা ঠিক আছে। চল প্র‍্যাক্টিস করি। কেমন আছো তুমি? 
– আমি ভালো আছি। তুমি?😝😝😝😝

এইভাবে চলতে থাকে আমাদের চ্যাটিং।  কখনও শুয়ে, কখনও বসে। রাত নাই, দিন নাই। অনবরত চ্যাটিং চলতেই থাকে। ক্লাস ফাঁকি দিয়ে পর্যন্ত চ্যাটিং করতাম।  একদিন কী হয় জানেন? বর্ষার দিনে রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে চ্যাটিং করার সময় হঠাৎ কাদায় পড়ে যাই। তারপর বাসায় আসলে সে কী বকা!!!!কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় কী জানেন? টানা এক সাপ্তাহ শুধু চ্যাটিং হয়। ফোনে কথা হয় না। ফোন নাম্বার নেওয়ার সাহস হয় নাই কোনদিন। ১সাপ্তাহ পর ও নাম্বার নিয়ে নিজের থেকে কল দেয় আমায়।এবার চ্যাটিং ছেড়ে অনবরত ফোনে কথা বলতে থাকি। কখনও ভিডিও কল, কখনও অডিও কল।  কিসের সময়, কিসের কী?প্রথম ভিডিও কলে ওকে দেখে আমার বাকরুদ্ধ!! হতভম্ব!!! যেমন ভাবছি তার থেকেও সুন্দর!!! জিজ্ঞাস করলাম, 

– আচ্ছা নদী, স্বর্গ থেকে কীভাবে নামছো? সিঁড়ি দিয়ে নাকি লিফটে করে??? 
– মানে কী? (নদী) 
– মানে খুব সোজা।  তোমার ওই কাজল-কালো চক্ষু, হরিণের মতো নাক, বোম্বাইর নায়কা মাধুরী দিক্ষিতে মতো হাসি , ড্রামা নায়কা মেহজাবিনের মতো চেহারার নকশা৷ না না তুমি সাধারণ কোন রমণী নয়। নিশ্চয়ই স্বর্গ থেকে পালাইছো? সত্যি করে বলতো।  না হয় এক্ষুনি স্বর্গের পুলিশের কাছে কল করে ধরিয়ে দিবো কিন্তু।  এই কথা বলতে না বলতেই নদী কমপক্ষে ৫মিনিট হাসছে।এইভাবে আরও অনেক রোমান্টিক মূহুর্ত কাটে আমাদের মধ্যে। যা বলে শেষ করা যাবে না।

কিন্তু এতদিন কথা বলছি জাস্ট ফ্রেন্ড হিসাবে। এবার আসল কাহিনী,,সেদিন কল না করে হঠাৎ মেসেঞ্জারে নক,,, 
– এই অনি, 
– জি ম্যাডাম,,,  আজ হঠাৎ মেসেঞ্জারে আগমন? 
– একটা কারণ তো আছে। তবে এটা স্পেশাল। 
– তো বলুন দেখি সেই মহা কারণটা? 
– বলবো,, আগে চোখ বন্ধ করো। 
– ওমা!! তুমি মেসেঞ্জারে মেসেজ করছো।  চোখ বন্ধ করলে কী বলছো তা কীভাবে দেখবো? 
– এই ছেলে,,, ঝাঁটা দিয়ে পিটামু।  এত কথা বলো কা? চোখ বন্ধ করো। 
– আল্লাহ!!! আচ্ছা করলাম। এবার বলেন ম্যাডামজি, 
– আই,  – হুম তো? 
– লাভ,, 
– হ্যাঁ হ্যাঁ তারপর,,,, 
– ইউ🙈🙈🙈 আই লাভ ইউ 
– এবার আমি বলি?  প্রায় ৫মিনিট পর নদীর রিপ্লাই । মনে হয় লজ্জা পাইছে, 
– হুম, বলো। (ইচ্ছেনদী) 
– চোখ বন্ধ করো। (Anirban oni) 
– হায় আল্লাহ!! আমার ডাইলগ আমাকে? আচ্ছা করলাম। (ইচ্ছেনদী) 
– আই লাভ ইউ ৩। 
– এই ৩ কেন? 
– আররে গাধা!!! একটা আমি, একটা তুমি, আরেকটা আমাদের হবু মেয়ে তামিশমার জন্য। 
– হা হা হা সত্যি তুমি ছেলেটা অনেক পাগল।এইভাবে শুরু হয় আমাদের নতুন অধ্যায়।তারপর চলতে থাকে এক একটা রোমান্টিক মূহূর্ত্ব। প্রতিটা মূহুর্ত পরিণত হয় স্বর্গ সুখে। আসলে রিলেশন যদি সত্যিকার হয় তাহলে জীবনে দুঃখ জানালা দিয়ে পালায়, আর সুখ দরজা দিয়ে আগমন করে। ও মেয়ে হয়েও প্রতিবার নিজের থেকে কল দিতো। আমি বেকার তাই আমাকে না জানিয়ে মোবাইলে প্রায় এমবি পাঠাতো। কিন্তু কোনদিন স্বীকার যেত না।

আমাদের মধ্যে ভালোবাসার কোন শেষ নেই।  কখনও পুর্ণিমার রাত্রিতে খোলা আকাশের নিচে বসে বসে ২জনে ফোনে এক সাথে গল্প করতাম। আমার বাড়ি চট্রগ্রাম,  আর ওর বাড়ি গাজীপুর হলেও আমরা ২জন সবসময় ২জনকে পাশেই মনে করতাম।তবুও নদী আমাকে সত্যি ভালোবাসে কিনা তা বিভিন্নভাবে পরিক্ষা করি। সব পরিক্ষায় ১০০তে একশ উত্তীর্ণ হয়।কিন্তু, এই গল্পটা শুধু রোমান্টিকতার নয়। ভালোবাসার মধ্যে আছে হাজারো দুঃখ,  হাজারও কষ্ট। জানেন তো,,,, তা চিরন্তন সত্য কথা? এখানেও ঠিক তাই।

প্রায় ২মাস পর,,,,,প্রায় ১৫দিন হঠাৎ চ্যাটিং অফ। ওর এক ফ্রেন্ডের মাধ্যমেজানতে পারি ওর নাকি পেটের মধ্যে সমস্যা। অপারেশন করার পরও সাপ্তাহে ১০হাজার টাকা ওর পিছনে খরচ করতে হয়। ইঞ্জেকশন মারতে হয় সাপ্তাহে ৩বার। ওর এক কাজিন অনেক বড় মাপের ডাক্তার। ছোট থেকেই নাকি নদীকে খুব ভালোবাসতো। কিন্তু  ওই ডাক্তারকে নদীর একদম সহ্য হতো না। কিন্তু ডাক্তারটি এই সময়েও ওর হাত ছাড়ে নাই।  ওর দায়িত্ব নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় ওর বাবা-মাকে। অসহায় বাবা

– মা রাজি হয়ে যায়। বিয়ের প্রস্তাব দেয়,,,,,  নদীর আব্বু-আম্মুকে। রাজি হয়ে যায় সবাই। কিন্তু রাজি হতে পারে নাই নদী।রিং বদলের দিন নদী আমাকে ফোন করে সে কী কান্না!!!

ফ্যামিলিকে আমার কথা জানালে কোন গুরুত্ব দেয় নাই।  আমারও যে করার কিছু নেই৷ ওকে নিয়ে পালালে আমার কাছে চিকিৎসার অভাবে মারা যাবে।  সান্ত্বনা দি তাকে।কিন্তু কে শুনে কার কথা??? ও আমার সাথেই পালাবে। নিজের মনের সাথে যুদ্ধ করে রিং বদল শেষ করলো নদী। শশুড়বাড়ি থেকে প্রচুর গয়না ঘাঁটির আগমন। সেদিনই গয়না ঘাঁটি নিয়ে গাজীপুর চৌরাস্তা মোড়ে পালিয়ে আসে নদী। কল দেয় আমায়,’অনি আমি বাড়ি থেকে পালিয়েছি। প্লিজ তোমার ঠিকানা টা বলো। আমি এক্ষুনি চট্রগ্রামের বাসে উঠতেছি’ কষ্ট হলেও সত্যি। সবচেয়ে নিকৃষ্টতম কাজ করেছি আমি সেদিন। সবচেয়ে নিকৃষ্ট কাজ!!!

ওকে একটু অপেক্ষা করতে বলি। সাথে সাথে ওর এক আত্মিয়ের নাম্বার জোগাড় করে ওকে ঘটনা খুলে বলি। ওর ফ্যামিলিকে  জানালে ওরা চৌরাস্তার মোড় থেকে নদীকে ফিরিয়ে নিয়ে আসে।উড়িয়ে দিলাম ভালোবাসার লাল ঘুড়িটা, বিসর্জন দিয়ে দিলাম নদী-অনির ভালোবাসার বন্ধন, জবাই করে দিলাম এই গভীর ভালোবাসাকে শুধু ওর ভালোর জন্য। এটাই শেষ না,,,,,,,সেদিন রাত্রেই বিষ খায় নদী। কিন্তু ওর বড় ভাই দেখে যাওয়াই দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বেঁচে যায় নদী। আর দেরি না করে এর পরের দিনই বিয়ে হয় যায় নদীর। চলে যায় শশুর বাড়িতে। কষ্টে বুকটা কেঁপে উঠেছে। পাষান কলিজা থেকে ঝর্ণার মতো পানি চোখ দিয়ে অনবরত পড়ছে। সেদিন ফেসবুকে বিভিন্ন গ্রুপে একটা পরামর্শ চেয়ে পোস্ট দিছিলাম। কিন্তু তবুও পারি নাই ভালবাসাকে ফিরিয়ে আনতে।

বিয়ের পরে কিছুদিন কথা হয়েছিলো। প্রতিবারই কান্না করতো। একদিন ওর স্বামী আমার সাথে কথা বলার ব্যাপারটা টের পায়। সাথে সাথে আমার সাথে যোগাযোগের সমস্ত পথ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এখন আর যোগাযোগ হয় না। জানিনা কেমন আছে? কী করতেছে? জানিনা আমাকে মিস করতেছে কিনা। হয়তো তখনও আমাকে ও পাষান বলে গালি দিতো। অথচ তখনও রাতের গভীরে নীরবে চোখের পানিতে বালিশ ভিজাতো। আমি যে পরিস্থিতির শিকার!!!! কারণ আমি যে মর্ধ্যভিত্ত পরিবারের সন্তান!!!

এইভাবে প্রায় ৩মাস যোগাযোগ বন্ধ থাকে।গত ১৪ই ফেব্রুয়ারি । খুব মিস করতেছিলাম নদীকে। অনেক চেষ্টার পর ওর বেস্টফ্রেন্ড সানজিদার ফেসবুক আইডি বাহির করে নক করি।  নক করার সাথে সাথে ও আমার মোবাইল নাম্বার চায়। মোবাইল নাম্বার দিলে সাথে সাথে কল করে,,,,,  – হেয় শালি,,, কী আবস্থা তোমার? সাবেক দুলাভাইকে কী ভুলে গেলে  মজা করে প্রথমেই এই বাক্যটা উচ্চারণ করি। কিন্তু একি। মোবাইলের ওইপাশ থেকে কাঁদোকাঁদো গলায় শুধু একটা আওয়াজ আসলো,, ‘অনি ভাইয়া’।তারপর কান্নার শব্দ আরও বাড়তে থাকে। বুকটা ধড়পড় করতেছে। শরীরটা হঠাৎ কেঁপে উঠেছে। ‘এই সানজিদা!! ঢং করো না তো। স্পষ্ট করে কথা বলো’ আবার কাঁদোকাঁদো গলায় আওয়াজ আসলো- ভাইয়া,,,,এবার শিউর হইছি সত্যি ও কান্না করতেছে। 

– সানজিদা প্লিজ কিছু বলো। কান্না করতেছো কেন?  প্রায় ৩মিনিট পরে একটু স্বাভাবিক হয়ে সানজিদা উত্তর দিলো,,,, 
– ভাইয়া,,,  কই ছিলেন এতদিন? এত চেষ্টা করেও আপনার নাম্বার পায় নাই 
– কাহিনী বাদ দাও। কাঁদতেছিলে কেন ওইটা বলো।  আবারও কাঁদোকাঁদো গলায়,,, 
– ভাইয়া,,, নদী আর বেঁচে নেই।বুকের ভিতরটা মোছড় দিয়ে উঠলো। কাঁপা কাঁপা গলায় জিজ্ঞাস করলাম,,,, 
– নদী বেঁচে নেই মানে? 
– ভাইয়া,,,, ডিসেম্বরের শেষের দিকে সিঙ্গাপুরে নদী মারা যায়। মুখ থেকে একটা আওয়াজও বাহির হচ্ছে না আমার। হৃদপিন্ড কাঁপতেছে। চোখের পানি অঝোর ধারায় পরতেছে। এমন অবস্থায় হাসির অভিনয় করে জিজ্ঞাস করলাম,

-এই সানজিদা, তুমি মজা করছো না? প্লিজ মজা করো না তো। তারপর সানজিদা বললো, ‘ভাইয়া,,, কছম মজা করছি না। ওর বিয়ের পর থেকে প্রতিদিন সে আপনার জন্য কান্না করতো। ঠিক মতো কিছুই খেতো না। শুধু একা একা কান্না করতো আর আমাকে কল করতো। আপনার সাথে যখন ও একদিন কথা বলতেছিলো তখন ওর স্বামী দেখে যায়। হাত থেকে মোবাইল কেড়ে নিয়ে আছাড় মেরে ভেঙে ফেলে। ফেবু আইডি পাসওয়ার্ড বদলিয়ে ডিএক্টিভ করে দেয়।

সেদিন ওর স্বামী হাসপাতালে যাওয়ার পর ঘরের দরজা বন্ধ করে ব্লেড দিয়ে প্রচুর পরিমাণ হাত কাটে। ডাক্তার বলেছিলো তার শরীর থেকে কোন রক্ত বাহির হলেই মারাত্মক ক্ষতি হবে। কিন্তু তখন অনেক রক্ত বের হয়েছিলো। বেহুশ অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে গেলে তার অবস্থা সিরিয়াস বলে জানায়। খুব শিগ্রই বিদেশে নিয়ে গেলে বাঁচতে পারে। টানা ২৪ঘন্টা হুঁশ হওয়ার পর কোন কথাই বলে নি।  দ্রুত তাকে সিঙ্গাপুর নিয়ে যাওয়া হয়। তারপর ৮দিন পর ওইখানেই মারা যায় আমার কলিজাটা’।এই বলে চিৎকার করে কান্না শুরু করলো সানজিদা।আমার মুখ থেকে একটা শব্দও বের হচ্ছে না। সর্বশেষ ৮বছর আগে আব্বু মারা যাওয়ার পর চিৎকার করে কান্না করেছিলাম। তারপর এই কান্না। পাগলের মতো দৌড়াইছি অজানা গন্তব্যের দিকে। হাঁটার মাঝাখানে আছাড় খাওয়া আর চিৎকার করে কান্না।’নদী কেন এমন করলি তুই? কেন এই পাগলামি করলি? তুই না বলেছিলি তুই কখনও মরবি না? যত কষ্ট হোক না কেন তুই আমার জন্য বেঁচে থাকবি? তোর একটা বেবি হবে। ছেলে হলে তার নাম রাখবি অনি, আর মেয়ে হলে অনু। এত বড় মিথ্যুক তুই? নদী,,,,  

কই তুই? আর ঘুমাস না। কল কর এক্ষুনি।  এই কল না করলে আমি কিন্তু আজ সারাদিন কিচ্ছু খাবো না। উঠ তুই। তুই না বলেছিলি,,,

রাত করে বাড়ি ফিরলে আমার সাথে কথা বলবি না? আজ যদি তুই কথা না বলোস তাহলে আমি সারা রাত বাহিরে থাকবো। ড্রিঙ্ক করবো। হুম বলে দিলাম।😭😭😭😭 

এই নদী কল কর। প্লিজ নদী প্লিজ প্লিজ। চল আমরা পালাবো। কছম আমি আর পাষান হব না। শুধু একটা কল কর।’অবশেষে বেকারত্বের কাছে হেরে গেলো ভালোবাসা।

গল্পের বিষয়:
দু:খদায়ক

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত