বড়ভাই

বড়ভাই

মেয়েটার ঠোঁটে চুমু খেতে যাবে ঠিক এমন সময় একটা কল এলো রিদানের। সে একটা পার্টিতে আছে। তার সাথে যে মেয়েটা দাঁড়ানো তার পরনের কাপড়-চোপড়ের যথেষ্ট ঘাটতি আছে বলা যেতে পারে। মিনি স্কার্ট পড়ার কারণে হাঁটুর উপর পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে। আর উপরে যেটা পড়া আছে সেটাকে কোনোভাবে বিকিনি বললেও ভুল হবে না। মেয়েটার নাম এ্যানি, আমেরিকার নাগরিক। অন্য পরিচয় হলো রিদানের গার্লফ্রেন্ড। এক বছর হলো রিদান তার গ্রাজুয়েশন কমপ্লিট করেছে আমেরিকান একটা ইউনিভার্সিটি থেকে। বর্তমানে আমেরিকায় সে ভালো একটা জব করছে। সেলারির পরিমান টা লিখতে গেলে ছয়টা ডিজিট ব্যবহার করতে হয়। রিদান তার। ফোনের স্ক্রিনে তাকিয়ে বুঝলো বাংলাদেশ থেকে তার বড় ভাই মারুফ ফোন করেছেন। অনেকটা বিরক্তি নিয়ে সে ফোনটা রিসিভড্ করলো! কর্কশ গলায় সে বললো:- হ্যাঁ…বলেন ভাই! শুনছি।

কাঁপা কাঁপা গলায় ওপাশ থেকে তার ভাই বললো:- তোর শরির টা ভালো রে, রিদান? অনেক দিন ধরেই তুই কোনো কল করিস না। সবকিছু ঠিকঠাক তো? হ্যাঁ..ভাই ভালো। আপনার কি অবস্থা? ভালো নারে ভাই! খুব খারাপ!..ডাক্তার দেখিয়েছিলাম। ডাক্তার সাহেব অনেকগুলো টেস্ট দিয়েছেন। এগুলো করাতে হাজার দশেক টাকা লাগবে। বলছিলাম, তুই কি কিছু টাকা পাঠাতে পারিস? আমার অবস্থা তো জানিস, সংসার চালাতেই তো হিমশিম খেতে হচ্ছে। চিকিৎসা কিভাবে করবো? দ্যাখেন ভাই গতমাসে আমি টাকা দিয়েছিলাম, আমার হাতে এখন কোনো টাকা-পয়সা নেই। আপনি আপাতত কোথাও থেকে টাকা ম্যানেজ করে চিকিৎসা করিয়ে নেন। আচ্ছা আমি এখন গুরুত্বপূর্ণ একটা কাজে আছি পরে কথা হবে রাখলাম। কথাটা বলেই রিদান হুট করে কলটা কেটে দিলো। সে বিরক্ত মুখে বিড় বিড় করে বলতে লাগলো..আমি মনে হয় এখানে টাকার গাছ লাগিয়েছি, খালি টাকা.. টাকা আর টাকা। এগুলো আমার পরিশ্রমের টাকা। ওদের না। তারপর রিদান এ্যানির দিকে তাকিয়ে বললো:- স্যরি বেবি, লেটস্ ইনজয় দ্যা পার্টি। কথাটা বলেই সে এ্যানিকে চুমু খেতে লাগলো।

হুট করে ফোনটা কেটে যাওয়াতে রিদানের ভাই মারুফ বুকের মধ্যে কেমন যেন এক সুঁচের মতো ঘা অনুভব করতে লাগলেন। উনার মনে হচ্ছে বুকের ভেতরটায় কেমন যেন অপ্রাপ্তির একটা ঝড় বয়ে যাচ্ছে। না চাইতেই দুটো চোখে জলে ভরে গেল। উনার খুব কষ্ট হচ্ছে। এমন কষ্ট আরো কখনো হয়েছিল বলে তিনি মনে করতে পারছেন না। ও হ্যাঁ, মনে পড়েছে। উনার বাবা যেদিন মারা যান সেদিন একবার এমন কষ্ট হয়েছিল। তখন উনি অনার্স প্রথম বর্ষে পড়েন। খুব ভালো ছাত্র ছিলেন। গ্রাজুয়েশন টা কমপ্লিট করে জীবনে ভালো কিছু একটা করার খুব ইচ্ছে ছিল। মাথা উঁচু করে সমাজে বাঁচার ইচ্ছে ছিল। কিন্তু সম্ভব হলো না। বাবার মৃত্যুর পর পুরো সংসারের দায়িত্ব পড়লো উনার উপর। পড়ালেখাটা ছেড়ে দিলেন। সংসারে ছোট ভাই, মা আর নিজেকে নিয়ে বাঁচার সংগ্রাম শুরু করলেন। জীবনের সকল শখ, ইচ্ছে, কে বিসর্জন দিয়ে পুরোটা সময় সংসারকে ভালো রাখার জন্য ব্যয় করলেন। নিজে লেখাপড়া না করতে পারলেও নিজের ছোট ভাই রিদানকে লেখাপড়া করালেন। তাকে কখনোই কোনো কষ্টের আঁচ পেতে দেন নি। ঝিনুক যেরকম করে মুক্তাকে আগলে রাখে ঠিক তেমন করে রিদান কে আগলে রেখেছেন। আজ সেই ভাই ই কি না উনার এই বিপদের সময় মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে?

মারফ আকাশের দিকে তাকালেন। টুকরো মেঘগুলো সাদা বকের মতো উড়ে যাচ্ছে। আকাশটা ধবধবে সাদা। কিন্তু ওনার ধবধবে আকাশ ভালো লাগছে না। কাজল কালো আকাশ হলে ভালো লাগতো। ধুম করেই বৃষ্টি নামতো। বৃষ্টিতে ভেজা যেতো। নিজের চোখের জলগুলোকে বৃষ্টির জলের আড়ালে লুকোনো যেত। শরিরটা অনেক দূর্বল। কি রোগ হলো কে জানে? খালি ঘুম পায়। সারাদিন মৃত লাশের মতো শুয়ে থাকতে ইচ্ছে করে। এখনো ঘুমানোর ইচ্ছে করছে। চোখগুলো ঘুমের তীব্রতায় অবশ হয়ে আসছে।

রিদান দেশে ফিরেছে। বাড়ির অবস্থা খারাপ। তার মা মরার মতো সারাদিন মারুফের ঘরে বসে থাকেন। কারো সাথে কোনো কথা বলেন না। আর তার ভাবীর অবস্থা আরো খারাপ। তিনি একটু পর পর গলাফাটানো চিৎকারে মরাকান্না কাঁদছেন, অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছেন, জ্ঞান ফিরলে আবার মরাকান্না শুরু করছেন। মারুফ সাহেবের ছেলে-মেয়েরা অবশ্য ঠিক আছে, বাবা মারা যাওয়াটা কি জিনিস তারা এখনো বুঝতে পারছে না। সে বুঝ তাদের এখনো হয়নি, যেদিন হবে সেদিন কাঁদতে কাঁদতে বালিশ ভেজাবে। মারুফ মারা গেছে আজ আট দিন হতে চললো। ওনার কি রোগ হয়েছিল টাকার অভাবে সেটা পরিক্ষা করে দেখা হয় নি। শেষ অবস্থায় কিছু খেতে পারতেন না, শরির হয়ে গিয়েছিল কঙ্কালের মতো, খালি ঘুমাতেন আর ঘুমাতেন। আর এখন তিনি চিরতরে ঘুমিয়ে গেছেন।

ভাইয়ের অসুস্থতার খবর জানিয়ে অনেকেই রিদানকে ফোন করে দেশে আসতে বলেছিলো, কিন্তু সে আসেনি। নানা ব্যস্ততার কারণ দেখিয়ে সে বিদেশেই থেকে গেছে। মারুফ মৃত্যুর কিছুদিন আগে শেষবারের মতো তার সাথে কথা বলেছিলেন। তিনি কাঁদো কাঁদো গলায় তার ভাইকে বলেছিলেন:- ভাইরে, আমার শরিরটা খুবই খারাপ হয়ে গেছে। আমি মনে হয় বেশিদিন আর বাঁচবো না। কতদিন তোকে দেখি না। তোকে জড়িয়ে ধরি না। ভাত খাইয়ে দেই না। বলছিলাম কি, তুই একবার দেশে আসবি? তোকে খুব দেখতে ইচ্ছে করছে। তুই আসলে টক দিয়ে পুঁটি মাছের ঝোল আর শাকভাজি দিয়ে দুই ভাই একসাথে ভাত খাবো। মাষ্টার বাড়ির সেই পুকুরটাতে দুই ভাই মিলে গোসল করবো, সাঁতারের প্রতিযোগিতায় নামবো। আচ্ছা যা, মায়ের আঁচল পুরোটাই তোর। ঘামে ভেজা মুখটা শুধু তুই ই মুছিস। তবু ও একবার দেশে আয়, শেষমেষ একবার তোর শরিরের ঘ্রাণ টা নেই। ঐদিন ভাইয়ের কথা শুনে রিদানের মনে হলো তার দেশে ফেরা উচিত। দেশে ফিরলো। কিন্তু মারুফ সাহেবের সাথে তার আর দেখা হলো না। অপূর্ণতার একটা বড় আকাশ বুকে নিয়ে তিনি মারা গেলেন।

রিদান তার ভাইয়ের ঘরে গেল। ভাই নেই, কিন্তু তার ঘরটা আছে। এই ঘরে দুই ভাইয়ের অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে। ছোট বেলায় সে ভাইয়ের সাথে এই ঘরটায় থাকতো, হাসাহাসি করতো, খুনসুটি করতো। বিদেশ চলে যাওয়ার পর থেকেই রিদান কেমন জানি স্বার্থপর হয়ে গেল। স্থানের দূরত্বের সাথে সাথে মনের দূরত্বটাও কেমন জানি বেড়ে গেল। ভাইয়ের প্রতি সেই আগের টান টাই আর থাকলো না। তার হঠাৎ করেই কেমন যেন মন খারাপ লাগছে, মনে হচ্ছে অর্থের মোহে সে অন্ধ হয়ে গিয়েছিল। আর সেই অন্ধত্ব তার কাছ থেকে তাই ভাইয়ের ভালোবাসাটা কেড়ে নিয়েছে। সে এত নিষ্ঠুর কি করে হলো? যে ভাই তাকে লেখাপড়া করিয়ে আজ জীবনের ভালো একটা অবস্থানে নিয়ে গেল। সেই ভাইয়ের বিপদের সময় সে তার হাতটা শক্ত করে ধরলো না। তার লাখ লাখ টাকা সেলারির দশটা হাজার টাকা কি তার ভাইকে দেয়া যেতো না? ইস্ সে আর কটা দিন আগে কেন দেশে ফিরলো না? কেন সে শেষবারের মতো তার ভাইকে জড়িয়ে ধরলো না।

পুরোনো ট্রাঙ্কের ভেতর তার ভাইয়ের ফটো খুঁজতে গিয়ে একটা ধুলোমাখা ডায়েরি পাওয়া গেল। ডাইরের কটা পাতা উল্টাতেই একটা লেখা চোখে পড়লো:”দুদিন পর ঈদ। বাবার কাজের অবস্থা খুব একটা ভালো না, সেটা বুঝতে পারছি। সবার জন্য নতুন কাপড় কেনার টাকা বাবার কাছে নেই। আম্মু আর আমি বাবাকে কিছু না বললেও রিদান বারবার নতুন কাপড়ের কথা বলছে। কাল কিনে দিবো..কাল কিনে দেবো বলে বাবা সময় পার করছেন। এছাড়া অবশ্য অন্য কোনো পথ ও খোলা নেই। আমি ভাবছি ঈদের দিন রিদান কে নতুন কাপড় ছাড়া কিভাবে মানানো যাবে? সবাই নতুন কাপড় পরে ঈদ করবে, আর আমার ভাই কাঁদবে সেটা কি করে হয়। কলেজে প্রতিদিন কালো প্যান্টটা পরে যাই। প্যান্টের অবস্থাও খুব একটা ভালো না। দুই জায়গায় সেলাই করা। অন্য আরেক জায়গায় ছিড়বে ছিড়বে অবস্থা। অনেক কষ্ট করে কিছু টাকা জমিয়েছিলাম প্যান্ট কিনবো বলে। থাক্ যেটা আছে সেটা দিয়ে কোনোরকম বছরটা না হয় পার করে দেবো। জমানো টাকা দিয়ে রিদানের ঈদের কাপড় কিনে দিলে সে অনেক খুশি হবে। অন্য সব ছেলদের মতো সেও নতুন কাপড় পড়বে, ঈদের খুশিতে হাসবে। রিদানের হাসিটা খুব অতি সুন্দর। সে যখন হাসে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকতে হয়। আমিও তাকিয়ে থাকি, আর ভাবি সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টি এতো সুন্দর কেন?

ডায়েরির মাঝের পাতায় লেখা:-বাবা মারা গেলেন আজ তিন মাস হলো। আর আমি লেখাপড়া ছেড়েছি হলো দুই মাস। খুব ইচ্ছে ছিল পড়ালেখাটা শেষ করবো। কিন্তু হলো না। প্রকৃতি সবার সব ইচ্ছে পূরণ করেন না। পুরো সংসারের দায়িত পড়লো মাথার উপর। আম্মার ঔষধ, রিদানের পড়ালেখা, সংসারের ভরণপোষণ সব মিলিয়ে সংসারটা চালাতে একটু কষ্টই হচ্ছে। কিছু করার নেই, কষ্ট করতে হবে। আমি ছাড়া তাদের আর কেউ ই নেই। তবুও দিনশেষে যখন রিদান আর মায়ের মুখে হাসি দেখি তখন আমার সব কষ্ট ঘুচে যায়। রিদান লেখাপড়ায় খু্ব ভালো, আমার চাইতেও ভালো। আমি জানি, একদিন আমার ভাই অনেক বড় হবে। তখন আর আমাদের কোনো কষ্ট থাকবে না। পুরো ঘরটাতে আনন্দের বন্যা বইবে। সেই বন্যার স্রোতে আমার সবাই গা ভাসাবো।

কয়েকটা পাতা পর লেখা আজ রাত্রীর বিয়ে। মেয়েটা আমায় খুব ভালোবাসতো। আমিও তাকে খুব ভালোবাসতাম। বিয়েটা আমারি করার কথা ছিল। কাজ করে কিছু টাকাও জমিয়ে ছিলাম। ভেবেছিলাম জমানো টাকা আর আমার মোটামোটি কাজ দিয়ে দুজনের সংসারটা চলে যাবে। বিয়েটা করা হলো না। কিছুদিন আগে রিদান খবর নিয়ে এলো সে স্কলারশিপ পেয়েছে। অতি আনন্দের সংবাদ। মা, আমি খুশিতে আত্মহারা। কিন্ত পরে শুনলাম স্কলারশিপ পেয়ে বিদেশ যাওয়ার জন্য যে টাকা লাগবে তার কিছু অংশ আমাদের ও বহন করতে হবে। কি করবো বুঝতে পারছিলাম না। অপরদিকে রিদান সারাদিন মন খারাপ করে বসে থাকে। ঠিকমতো খায় না গোসল করে না। খেয়াল করলাম আমাদের সহায়-সম্বল বলতে যা আছে তা হলো, বাবার রেখে যাওয়া তিনটে জমি, আর আমার জমানো কিছু টাকা। জমি বিক্রি করে আর আমার জমানো টাকা দিয়ে রিদানকে বিদেশ পাঠালাম। রাত্রীকে আমার আর বিয়ে করা হবে না সেটা আগে থেকেই বুঝতে পারছিলাম। সহায়-সম্বলহীন একটা ছেলের কাছে কার মা-বাবাই বা তার মেয়েকে তুলে দিতে চায়? আজ খুব কষ্ট হচ্ছে, রাত্রীর হাত ছুঁয়ে বলেছিলাম” তুমি আমারি হবে”। কিন্তু তা আর হলো না। নীল আকাশ, নদের পাড়ের জারুল, আর রক্তজবা ফুলগুলো ঠিকই আছে কিন্তু সে নেই। রাতে হঠাৎ করে চোখ ভিজে উঠে। এই ভেজা চোখ কি আমি কাউকে দেখাতে পারি? সে যাই হোক আমার ভাইটা তো এখন খুশি, সে লেখাপড়া করতে পারছে, ঠিকমতো ঘুমাতে পারছে, খেতে পারছে। ওর দিকে তাকিয়ে, কষ্টগুলো চাপা দিয়ে বলতে পারি” আমিও ভালো আছি”!

ডায়েরির শেষের দিকে লেখা:-শরিরের অবস্থাটা খুব খারাপ, জীবনের শেষ শক্তি সঞ্চয় করে লিখতে বসেছি। রিদানকে খুব দেখতে ইচ্ছে করছে। অনেক খোঁজ দেবার পরও সে আসতে চাচ্ছে না। আমি কি দোষ করলাম বুঝতে পারছি না। আমার দোষটা বলে যাবার জন্য যদিও সে একবার আসতো, তবুও হতো। তবে স্বপ্নে আজকাল প্রায়ই রিদানকে দেখি। সেদিন দেখলাম সে দেশে ফিরেছে। আমাকে জড়িয়ে কান্না করছে। আমিও কাঁদছি। কেন কাঁদছি বুঝতে পারছি না, অনেকদিন পর ভাইয়ের সাথে দেখা। আমার তো আনন্দে হাসার কথা, উল্টো কাঁদছি কেন? রিদানই বা কাঁদছে কেন?

ডায়েরিতে আর কিছু লেখা নেই। খুব সম্ভবত এটাই মারুফ সাহেবের শেষ লেখা। রিদানের দুচোখে বর্ষার বৃষ্টি শুরু হয়ে গেছে। বুকে কেমন জানি একটা শূন্যতার কালবৈশাখি বইছে। তার মাথাটা কেমন জানি করছে। সবকিছু উল্টাপাল্টা লাগছে। তার কি করা উচিত বুঝতে পারছে না। কোনো রকমে “ও ভাইরে” বলে চিৎকার দিয়ে দৌড়ে মারুফ সাহেবের কবরের সামনে দাঁড়ালো। তার খুব ইচ্ছে হচ্ছে মারুফ সাহেব কে একটিবার দেখতে। একটিবার জড়িয়ে ধরে বলতে, ভাইরে আমায় ক্ষমা করে দিন..আমি এমন নিষ্ঠুর কি করে হলাম? কেন আর কটাদিন আগে দেশে ফিরলাম না? কিন্তু সে সুযোগ আর নেই। মারুফ সাহেবের চুপচাপ কবরে শুয়ে আছেন। কয়েকটা কচি ঘাস তার কবরের উপরের মাথা নাড়া দিয়ে উঠছে। রিদানের কান্নার অশ্রু সেই ঘাসের উপর ফোঁটায় ফোঁটায় পড়ছে। এমন সময় মারফ সাহেব বেঁচে থাকলে হয়তো বলতেন “বোকার মতো কাঁদছিস কেন রে রিদান, আয় বুকে আয়”!

গল্পের বিষয়:
দু:খদায়ক

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত