গল্পটা হৃদয়ের

গল্পটা হৃদয়ের

শ্রাবণী এসব কি শুনতেছি আমি?
–কি শুনেছিস
–তোর নাকি বিয়ে
–ঠিক ই শুনেছিস
–এখন কেন বিয়ে করতেছিস অনার্স টা কি কমপ্লিট করে বিয়ে করলে হতো না।
–তোর এতো মাথা ব্যথা কেন আমাকে নিয়ে
–তার মানে নিজের ইচ্ছাতেই বিয়ে টা করে নিচ্ছিস?
–ধর সেরকম ই
–আচ্ছা ভালো থাকিস তাহলে বর কে নিয়ে সুখে থাকিস।

এই বলে চলে আসলাম ক্যাম্পাস থেকে। শ্রাবণী পিছন থেকে অনেক বার ডেকেছিলো শুনিনি। আমি শ্রাবণ অনার্স সেকেন্ড ইয়ারে পড়তেছি হিসাববিজ্ঞান বিভাগে। আর শ্রাবণী আমার ক্লাসমেট, বলতে গেলে পুরো ক্যাম্পাসে আমার বান্ধবী একটাই। বাবার সরকারি চাকুরীর কারণে শহরে বেড়ে উঠা। প্রাইমারি স্কুল পাস করে যখন হাইস্কুলে আসি ক্লাস সেভেন থেকে আমাদের ঘনিষ্ঠতা। শ্রাবণী ভালো স্টুডেন্ট সবসময় ক্লাসে টপে থাকতো। শ্রাবণীর সাথে সবসময় পড়াশুনায় কম্পিটিশনে যাওয়ার চেষ্টা করতাম কিন্তু পেরে উঠতাম না।

ক্লাস এইটে ফাইনাল পরীক্ষার পরে আমাদের ঘনিষ্টতা আরও বৃদ্ধি পায়। এর মধ্যে শ্রাবণীরাআমাদের পাশের প্লেটে উঠেছে।ক্লাস নাইনে ওঠার পর থেকে শ্রাবণীদের ঘরে আসা যাওয়া টা বেড়ে গেলো। স্কুল থেকে ফেরার পর দুজনে নানারকম খুনসুটিতে ব্যস্ত হয়ে পড়তাম। কিশোর বয়সে nআমার একমাত্র সাথী ছিলো শ্রাবণী। ক্রিকেট খেলা কি তা বুঝতাম না। পাড়ায় অবশ্য কিছু ছেলে ব্যাট দিয়ে খেলতো।ভাবতাম গাছ গুলো দিয়ে কিভাবে মারে লাল একটা জিনিস কে। বাসা থলেতে বের হওয়া নিষিদ্ধ ছিলো। শ্রাবণী দের ঘরে গেলে বাংলাদেশের খেলা চললে শ্রাবণী আমাকে সব বুঝিয়ে দিতো। বল মাটি কামড়ে গেলে বাউন্ডারি পার হলে চার, উড়ে বল সীমানার বাইরে গেলে ছক্কা। বল সরাসরি স্ট্যাম্পে আঘাত হানলে বোল্ড আউট। উড়ে ফিল্ডারের হাতে পড়লে ক্যাচ আউট। ধীরে ধীরে শ্রাবণী থেকে ক্রিকেট খেলা টা বুঝে নিলাম।

দুজনের খুনসুটি তয় জীবনে দুইজনের দুইটা বছর কেটে গেলো। আমি আর শ্রাবণী একসাথেএসএসসি পরীক্ষা দিতে যেতাম। আবার আসতাম ও একসঙ্গে। এসএসসি পরীক্ষার সময় শ্রাবণী কে অনেক ছেলে উত্যক্ত করতে চাইতো। তবে আমার জন্য পারতো না। আঠার মতো শ্রাবণীর সাথে লেগে থাকতাম। কলেজ জীবনে পা দেওয়ার সাথে সাথেশ্রাবণীর লাভণ্যময়ীতা আরও বাড়তে থাকলো। আমার ভয়টা ও ধীরে ধীরে বাড়তে থাকলো। ততোদিনে শ্রাবণী মনের মনিকোঠাঁয় ঠাঁই করে নিয়েছে।আমাদের চলাফেরা ঘনিষ্টতা এমন ছিলো যে কেউ দেখলে ভাবতো আমরা যুগলবন্দী প্রেমিক প্রেমিকা। ক্যাম্পাসে আড্ডা দেওয়া, ক্যান্টিনে একসাথে বসে নাস্তা করা। এককথায় দুজন দুজনকে ছাড়া থাকতেই পারতাম না। কাকতালীয় ভাবে শ্রাবণী ও থাকতে পারতো না। একবার ভাবছিলাম বলে দিবো। বরাবরের মতোওও সাহস টা করে উঠতে আর পারিনি। তারপরও ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারে থাকতে একদিন ডেকে একটা পার্কে নিয়ে গিয়েছিলাম।

–বর্ণী তোকে কিছু কথা বলতে চাই [(শ্রাবণী কে ছোট করে বর্নী ডাকতাম, কেন জানি এই নামটায় অনেক ভালোবাসা মিশ্রিত আছে,ওর প্রতি টান অনুভব করতাম ]
–কি কথা বল
–আগে চল ঐদিকে টায় হেটে আসি।

[ঐ দিকে যাওয়ার উদ্দেশ্য হলো শ্রাবণী কে কিছু কাপল দেখাবো, যা দেখে শ্রাবণী বুঝে নিতে পারে। ] কিছুদুর আসতেই দেখি একটা ছেলে আর মেয়ে প্রচুর পরিমানে ঝগড়া করতেছে। ঝগড়ার ধরন টা ছিলো এমন

–তুই আমার সাথে আজ থেকে আর কথা বলবি না (মেয়েটাটা)
–প্লিজ বাবুনি বুঝার চেষ্টা করো
–খবরদার আমাকে বাবুনি বলে ডাকবি না
–তুমি যা দেখেছো ওটা সত্যি নয় প্লিজ আমার কথা টা শোনো
–নিজের চোখ কে অবিশ্বাস করতে পারিনা , তুই আমাকে আজ থেকে মেসেজ কল কোনটাই দিবি না। থাক তুই তোর মতো করে গেলাম আমি।
=মেয়েটা হণহণ করে চলে গেলো।
ছেলেটা আগের জায়গায় বসে রইলো।
–কি রে এভাবে হাবাগোবার মতো দাড়িয়ে আছিস কেন চল
–হ্যাঁ হ্যাঁ চল।

ছেলে আর মেয়েটার ঝগড়া দেখে আজও শ্রাবণী কে প্রপোজ করার ইচ্ছা হা আরজেগে উঠলো না। সাহস যা সঞ্চয় করেছিলাম তা হাওয়া হয়ে গেছে। কিছুদূর  আসতেই শ্রাবণী বললো

–কি যেন বলবি বলেছিলি শ্রাবণ এখন বল আর হাঁটতে পারবো না?
–না কিছুনা চল ফুসকা খাবো
–তুই খাবি ফুসকা, শ্রাবণ তোর কি হয়েছে বল তো
–কেন ফুসকা খেতে কি আমি পারিনা
–জানি তো কত পারিস, নাকের পানি চোখের পানি তো এক করে ফেলিস।
–এতো কথা না বলে চল আগে খাই।

ফুসকা খাওয়া শেষ। মাত্র দুইটা ফুসকা খেয়েছি, বরাবরের মতোইই ঝাল আমার অসহ্য লাগে। তাই আমার প্লেটের গুলো শ্রাবণী সাবাড় করলো। খাওয়া শেষে আবার একিই প্রশ্ন করে বসলো

–এই শ্রাবণ কি হয়েছে তোর কেন হঠাৎ করে পার্কে নিয়ে আসলি বলবি তো
–কিছুনা তোকে নিয়ে হাঁটতে ইচ্ছে করছিলো তাই, নিয়ে আসলাম। তারপর শ্রাবণী বিড়বিড় করে কি যেন বলে উঠলো। বুঝতে পারিনি।

<<আসলে শ্রাবণী কে প্রপোজ করিনি ঐ ছেলেমেয়ে দুটোর ঝগড়া দেখে, কেননাশ্রাবণী কে ছাড়া একটা মুহুর্ত ও আমি কাটাতে পারিনা। যদি আমাদের ও  এমন ঝগড়া হয় তো। যেমনি আছি তেমনি ভালো। এভাবে পড়াশোনা খুনসুটি ঘোরাঘুরি আড্ডা দেওয়াতে সময় কইই দিয়ে যে চলে গেলো বুঝতেই পারিনি। কলেজ লাইইফ টা ও পার করলাম।

ভার্সিটিতে ভর্তি হয়ে একবার পিকনিকে গিয়েছিলাম বরিশালের কুয়াকাটা। স্মরণীয় কিছু মুহুর্ত্ব আছে যা চাইলে ও জীবনে ভুলতে পারবো। লঞ্চে আমি আর শ্রাবণী পাশাপাশি বসেছিলাম। চাঁদনী রাত ছিলো, শ্রাবণী আমার কাঁধে মাথা দিয়ে পুরো রাত কাটিয়ে দিয়েছিলো, সেদিন এক অদ্ভুত মায়ায় আকৃষ্ট হয়েছিলাম। অনুভূতি ছিলো অপ্রকাশ্য। শ্রাবণীর মাদকতায় সারাক্ষণ আমাকে ব্যাকুল করে তুলতো। মধ্য রাতের দিকে শ্রাবণী ঘুমিয়ে পড়ে। আর আমি সারা টি রাত তাকিয়ে ছিলাম মায়াবতীর দিকে। দিন কে দিন এতো সুন্দর আর স্নিগ্ধতা বেড়েই চলেছে। মেয়েদের মধ্যে রাতে রুপের দিক প্রবলভাবে বৃদ্ধি পেতে থাকে তা শ্রাবণী কে না দেখলেই বুঝতাম ই না। এই যেন নবযৌবনা ললনা।

শ্রাবণী কে এই অবস্থায় দেখে ঘুমানোর বৃথা চেষ্টা আর করলাম না। ঘুরে বসলাম শ্রাবণীর চাহনির দিকে। তাকিয়ে আছি যেন এই অমৃত পানে। যা আমাকে প্রতিনিয়ত তৃষ্ণার্ত করে তুলতেছে। মায়াবী শ্রাবণীর দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে কখন যে সকাল হলো বুঝতে পারিনি।দুজনের সকালের সূর্যোদয় টা হলো কুয়াকাটা। দুজনের হাত দুটো অধর মুঠোবন্ধী। সকালে স্নিগ্ধ বাতাস মোহনীয় বাতাস। প্রকৃতির রুপ টা ঝর্ণা ধারার মতো ছুটে চলেছে এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে। যেখানে যাই সেখানে দুজন একসঙ্গে যাই। কেউ কাউকে একমিনিটের জন্য একা ছাড়িনি। স্মৃতিময় অনেক কিছু ফেলে রেখে এসেছি কিছু সাথে করে নিয়ে এসেছি। কুয়াকাটা থেকে আসার পর আরও দূর্বল হয়ে গেছি। রাতে যখন ঘুমোতে যেতাম শ্রাবণীর ভাবনায় বিভোর হয়ে যেতাম। শ্রাবণীর বিয়ের কথা শুনে মাথাটা প্রচুর ব্যথা করতেছে। মনে পড়ে গেলো দুদিন আগের কথা। শ্রাবণী কে একটা ছেলের সাথে কথা বলতে দেখে পরে জিজ্ঞেস করছিলাম

–ছেলেটা কে রে
–কোন ছেলেটা
–যেন কিছুই জানিস না, যেভাবে বলতেছিস
–তিনতলায় যার সাথে কথা বলেছি।
–ও ওটা আমাদের সিনিয়র ব্যাচের ভাইয়া একটা
–কি কথা বলেছিলো তোর সাথে
–তোকে কেন বলবো?
–মানে
— বলতেছি তোকে কেন বলতে যাবো ও কি বলেছে আমাকে। It’s my personal issue
–Oh Really, আজকাল তাহলে আমি তোর কথা শুনতে পারি না বুঝি
–না পারিস না, আজ থেকে আমার পারসোনাল লাইফ নিয়ে কোন ইন্টারফেয়ার করবি না?
–মানে কি, তারমানে তোকে ঐ ছেলেটা প্রপোজ করেছে
–হ্যাঁ করেছে তোর কোন সমস্যা
–তুই রাজি হয়ে গেছিস
–হুম।
–আচ্ছা ভালো থাকিস তাহলে।

ক্যাম্পাস থেকে বাসায় চলে আসলাম। অনেক সময় নিয়ে গোসল করলাম। তারপর বের হয়ে আম্মুকে ডাক দিলাম

–আম্মু এদিকে এসো তো
–কি বল
–আম্মু আমি নানুর বাড়িতে যাবো
–কেন
–আমার এখানে ভালো লাগতেছে না কিছুদিন ওখান থেকে ঘুরে আসি।
–একলা যেতে পারবি তো
–আমি কি এখনো খোঁকা আছি
–তুই আমার কাছে সারা জীবন ই খোকা হয়ে থাকবি।
–আচ্ছা কাপড় গুলো একটু গুছিয়ে দাও।
–কদিন থাকবি (কাপড় গুছাঁতে গুছাঁতে)
–জানিনা তবে অনেক দিন থাকতে পারি।
–আচ্ছা দেখে শুনে যা গিয়ে ফোন দিবি কিন্তু।
–ও হ্যাঁ ভালো কথা, আমি সিম চেঞ্জ করবো, কাউকে আমার নাম্বার দিবে। তোমাকে রাতে কল দিবো।
–ঠিক আছে যা বাবা (কপালে চুমু দিয়ে)

জানিনা শ্রাবণী ছাড়া আমার দিন কিভাবে কাঁটবে। থাকবো কিভাবে। স্বার্থপর তুই শ্রাবণী, কখনো আমার নেশা টা বুঝিস নি। তোর মাদকতায় তো আসক্ত ছিলাম রে। কখনো তো বাজে কিছু করিনি। তারপরও কেন আমাকে দুরে সরিয়ে দিলি। না আসবো না তোর সামনি আর। তুই বিয়ে করে বরের বাড়ি চলে যাবি। আর আমি থাকবো পড়ে কোন চিলেকোঠার রৌদ্দুরে। ফিরবো না আর তোর মনের আঙিনায়। তোর স্মৃতিগাঁথা জায়গা থেকেই চলে যাবো। চলে যাবো বহু দুরে। ভালো থাকিস তুই সব সময়। চলে আসলাম নানুর বাড়ি। মামাতো ভাই আছে একটা সমবয়সী। সারাদিন এখানে সেখানে ঘুরে বেড়াতাম। কিন্তু রাত হতেই শ্রাবণীর সাথে কাঁটানো মুহুর্ত্ব গুলো চোখের সামনেই ভাসতে থাকে।

এই সব স্মৃতি চোখের সামনে আসতেই মাথা ব্যথা টা বাড়তে থাকে। আচ্ছা শ্রাবণী তুই কি শুনতে পাচ্ছিস তোর ব্যথায় কাতর হয়ে মূমুর্ষ রোগীর মতো যে কাতরাচ্ছি। আমাকে এভাবে দুরে সরিয়ে না দিয়ে মেরে ফেলতি তাও শান্তি পেতাম। মামাতো ভাইয়ের সাথে নদীর পাড়ে ঘুরতে আসলাম। নানুদের গ্রামের ওপর দিয়ে বয়ে গেছে শীতলক্ষ্যা নদী। বড্ড ইচ্ছে ছিলো পূর্ণিমা রাতে শ্রাবণী কে নিয়ে এই নদীতে নৌকা চালাবো। আমি মাঝি হয়ে গান শুনাবো। একজোড়া নুপুর পড়িয়ে দিবো। দুজনে জোৎস্না বিলাস করবো। তোর উষ্ণতায় আমি হারিয়ে যাবো প্রেমের সাগরে। সত্যিইই মানুষের সব চাওয়া পূরণ হয় না। সব মানুষ আবার আপন হয় না। রাতে আম্মুকে কল দিয়ে কিছুক্ষণ কথা বললাম। ভালোমন্দ জিজ্ঞেস করে রেখে দিলাম। বড্ড জানতে ইচ্ছে করছিলো শ্রাবণী কেমন আছে। কেন জানি করতে পারিনি জিজ্ঞেস আম্মুকে। থাকা খাওয়া ঘোরাঘুরির মাঝে মাঝে পনের দিন কেঁটে গেলো। বিকেলে কেরাম খেলতেছিলাম মামাতো ভাই আহনাফ বললো

–শ্রাবণ বিয়েতে যাবি
–কার বিয়ে
–আমার কাজিন মানে খালাতো বোন
–না রে তোরা যা আমি যাবো না
–কেন
–এমনিই
–আচ্ছা তুই হঠাৎ করে এভাবে আসলি কেন বলতো, বাসায় কোন গন্ডগোল করিস নি তো
–তোর ফুফির সাথে কথা বলে দেখ
–তুই তো এতোদিন কোনবার থাকিস নি তাই বললাম।
–ও
–আচ্ছা অন্য কোন কারণ নেই তো
–আছে বলা যাবে না।
–আচ্ছা চল মাঠের দিকে যাবো খেলা দেখবো টুর্নামেন্ট এর
–হ্যাঁ চল
–শ্রাবণ
–হুম
–সত্যি করে বলবি কি হয়েছে। আসার পর থেকে লক্ষ্য করতেছি কেমন যেন মনমরা হয়ে থাকি।কাহিনী কি বলতো

–না কিছুনা এমনি
–ঠিক আছে বাসায় গেলে আম্মুকে বলবো নে এই কথাটা
–আহনাফ খবরদার মামি কে এসব কিছু বলবি না
–তাহলে ঘটনা কি আমাকে বল
–আচ্ছা বলছি, আসলে একটা মেয়েকে ভালোবাসি, কখনো বলতে পারিনি।
–ধুর বোকা এই জন্য মন খারাপ করা লাগে নাকি
–ওর বিয়ে হয়ে গেছে
–কবে
–বিয়ে ঠিক হয়েছে শুনেছি, তারপর এখানে চলে এসেছি
–আহারে চন্ডীদাস।
–মজা নিতেছস তুই।
–আচ্ছা আমার সাথে বিয়েতে চল।

অনেক জোরাজুরির পর বিয়েতে আসলাম। মামি মামা আসেনি। কালকে আসবে। আমি, আহনাফ, মামাকো বোন আহিয়া চলে আসলাম। বাড়িটা অনেক সুন্দর করে সাজানো হয়েছে। হরেক রকমের লাইইট জ্বলতেছে। মনে হচ্ছে অনেক গুলো জোনাক পোঁকা একসাথে ঝাঁক বেঁধে অন্ধকারে খেলা করতেছে। বাড়ির পুকুরে একটা ঝর্ণা বসানো হয়েছে। তারওপর ম্যাজিক লাইট দেওয়া হয়েছে। পুকুরের পাশে গাছ গুলো তে ফানুস এর মতো লাইট বেঁধে দেওয়া হয়েছে। যেন চাঁদঝুলতেছে গাছে। বাড়ির পরিবেশ টা ও উৎসব মুখর। শত মানুষের আনাগোনা। পিচ্চি পিচ্চি ছেলেমেয়েদের কোলাহল। রাত বাড়ার সাথে সাথে গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান শুরু হলো। বাহারী রকমের জিনিস দিয়ে সোফাসেটের টে টেবিল টা কে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। পুরো অনুষ্ঠান ভিডিও করা হচ্ছে। একে একে সবাই বিয়ের কণ্যাকে হলুদ অনুষ্ঠানে কেক খাওয়াতে লাগলো। আহনাফের অনুরোধে আহিয়া কে নিয়ে স্টেজে উঠি। হলুদ অনুষ্ঠান হাতে মেহেদী অংকন করার মাধ্যমে সমাপ্ত করা হলো।

ফজরের আযানের পরপর ই ঘুমিয়ে পড়লাম। বিয়ের দিন অনেক মজা করলাম। আহনাফের কিছু কাজিন দের সাথে ও পিক তুললাম। গ্রাম্য মানুষের একটা অসাধারণ একটা গুন অপরিচিত মানুষ কে সহজে আপন করে নেয়। আদর সমাদর যত্নে কোন ত্রুটি রাখে না। যা আহনাফের কাজিনের বিয়েতে এসে বুঝেছি। বেশ উপভোগ করেছি। বিয়ে শেষ হলো। সবাই মিলে নানুর বাড়িতে চলে আসলাম। রাতে খাওয়াদাওয়া করে ঘুমিয়ে ছিলাম। মোবাইলের শব্দে চোখ খুললাম। হাতে মোবাইল নিয়ে দেখি অপরিচিত একটেল নাম্বার থেকে কল দিয়েছে। রিসিভ করে কানের পাশে ধরে রাখলাম। অনেক্ষণ হ্যালো হ্যালো করলাম। কোন সাড়া শব্দ পেলাম না। কল টা কেটে দিলাম। আবার ফোন দিলো, রিসিভ করতেই আগের মতো নিশ্চুপ। এভাবে পাঁচবার দিলো, শেষ বারের মতো কড়া কথা শুনাতে যাবো অমনি বলা শুরু করলো

+–খুব ভালোই তো আছিস কুত্তা
-+কে আপনি (যদিও ছিনেছি)
–ও এখন আমাকে ও ভুলে গেছিস, ভুলবি না তো কি করবি, নতুন মেয়েদের সাথে লুকুপুতু শুরু করেছিস?

–আশ্চর্য কে আপনি (না চেনার ভান করে)
–চুপ চুপ একটা কথা বলবি না, নাম্বার কেন চেঞ্জ করেছিস বল
–হ্যালো পরিচয় দিলে আমি উত্তর দিবো নাহলে রাখি (রাগানোর জন্য)
–তুই যদি এখন কল কাটিস তো আমি নিজেকে শেষ করে দিবো
–মানে
–কুত্তা শ্রাবণী বলতেছি
–ও
–ও মানে
–কিছুনা কেমন আছিস, তোর বর কই
–তুই কোথায় আছিস বল আমি আসতেছি
–আমার উত্তর পেলাম না কিন্তু
–চুপ একটা কথা ও বলবি না কোথায় আছিস বল
–না বলবো না, আর তোকে বলবো কেন
–দেখ শ্রাবণ আমাকে রাগাবি না, এমনিতে অনেক কষ্ট দিয়েছিস এই কদিন
–তোকে আমি কষ্ট দিলাম, হাসালি দাড়া হেসে নিই।
–বল তুই কই আছিস তোর হাসি আমি বের করতেছি।
–বলবো না
–আমি কিন্তু এখন বাসা থেকে বের হয়ে যাবো বলে দিলাম। (শ্রাবণী)
–আচ্ছা আচ্ছা শোন আমি নানুর বাড়িতে আছি , আর আমাক খোঁজার দরকার টা কি তোর?
–কাল সকালেই দেখবি কি দরকার রাখছি এখন।

কিছুই বুঝলাম না, হঠাৎ শ্রাবণী এমন আচরণ করার মানে কি। আম্মুকে কত করে বললাম কাউকে নাম্বার না দিতে, তারপরও দিয়ে দিলো। আছ অনেক দিন পর শ্রাবণীর কণ্ঠ শুনলাম। বুকের ভেতর টা আবার মোচড় দিয়ে উঠলো, বুকটা চিনচিন ব্যথা করতেছে। শ্রাবণী কে নিয়ে ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়লাম। সকালে ভারি কিছু আমার ওপর পড়েছে টের পেয়ে চোখ খুললাম। ফুফিয়ে ফুফিয়ে কান্না করতেছে। পারফিউমের গন্ধ টা পেয়ে বুঝলাম শ্রাবণী ছাড়া আর কেউ হবেনা। কিন্তু শ্রাবণী এখানে কি করে। ছিনলো কিভাবে। নড়েচড়তে কোন মতেইই পারতেছিনা। ঝাপটে ধরে শুয়ে আছে। অদ্ভুত অনুভুতি। কিন্তু শ্রাবণী অন্যের বৌ মনে পড়তেই ঝটকা দিয়ে সরিয়ে দিলাম। দেখলাম চোখ দুটো লাল হয়ে আছে।

–কেন এসেছিস এখানে, মামি মামি
–কি রে কি হয়েছে চিৎকার কেন করছিস (মামি)
–ও আমার রুমে ডুকতে কে দিয়েছে
— ও তো খুব ভোরে এসেছে, বলতেছে তোর তোরা পালিয়ে বিয়ে করেছিস, ফ্যামিলি থেকে মেনে নিবেনা তাই, কিন্তু আফা তো এরকম না তুই বাসায় জানাস নি কেন
–বিয়ে করেছি মানে তোমাদের যা বলেছে বিশ্বাস করলে ফেললে
–মেয়েটা কান্না করতেছিলো তাই আর না করে পারিনি।

–আচ্ছা যাও তোমরা, আসতেছি আমি, ঐ শাকচুন্নি এখানে কেন এসেছিস বল, তোর বর কই
–আমার বর আমার পাশেই আছে (শ্রাবণী)
–মাইইর খাবি, তোর বরের নাম্বার দে এসে নিয়ে যেতে বলি তার পাগল বৌ কে
–নে তাহলে ০১৭……৬৬
–ওটা আমার আমার তোর বরের নাম্বার চেয়েছি
–ওটাই আমার বর হবে
–মানে কি তোর না বিয়ে হয়ে গেছে, সেদিন ক্যাম্পাসে বিয়ের কার্ড দিলি
–গাঁদা ওটা বিয়ের কার্ড নয়, আমার ভাই আহাদের জন্মদিন কার্ড ছিলো, তুই কার্ড খুলে দেখিস নি
–না ফেলে দিয়েছি রাস্তায়
–তাই তো বলি তুই হাওয়া হয়ে কেন গেছিস
–কিন্তু তোর বয়ফ্রেন্ড আছে ক্যাম্পাসে ওই দিন বলেছিলি
–সেটা নাটক ছিলো, তোকে জেলাস ফিল করানোর জন্য।

–তার মানে শ্রাবণী তুই আমাকে ভালোবাসিস
–কে বলেছে
–তাহলে এখানে কেন আসলি
–তুই তো বজ্জাত মেয়েদের নিয়ে পিক তুলে এফবিতে দিয়েছিস, দেখে সহ্য করতে পারিনি, আন্টি থেকে ঠিকানা নিয়ে চলে আসি
–আমি কোন পিক আপলোড করিনি
–ওই ট্যাগ করেছে, এখানে এসে দেখি ওই মেয়েটা আছে নাম আহিয়া বললো তোর মামাতো বোন
–না ও আমার বৌ
–আরেক বার বল (খাটে পেলে দিয়ে বুকের ওপর বসে)
–বৌ
–আবার বল (রাগে ফুসতে ফুসতে) এখন অবস্থা বেগতিক দেখা যাচ্ছে আর বলা যাবে না। এর মধ্যে মামি নাস্তা নিয়ে আসলো। আহিয়া শ্রাবণীর কাছ ঘেঁষে বসলো।
–কি রে এই তাইলে তোর রজকিনী (আহনাফ) কথা টা শুনেই মামি চলে গেলো। শ্রাবণী লজ্জামিশ্রিত মুখখানা নিচের দিকে নামিয়ে ফেললো।

–আচ্ছা বিয়ে কবে করছিস বল (আহনাফ)
–আরও দুবছর
–বললেই হলো (কর্কশ কণ্ঠে শ্রাবণী)
–কবে করতে চাচ্ছেন ভাবী (আহনাফ)
–এক মাসের মধ্যেই করবো (শ্রাবণী)
–ভাবী আর তর সইছে না বুঝি (আহিয়া)
–তোমার ভাই বজ্জাতের হাড্ডি আবার লজ্জায় মেয়েদের থেকে ও বেশি দশবছরে ও ভালোবাসি কথা টা বলতে পারেনি (শ্রাবণী) মামি আসায় সবাই খাওয়ায় মন দিলাম। নাস্তা শেষ করে সবাই আবার আড্ডায় মেতে উঠলাম।

শ্রাবণী সাথে থাকায় আহনাফ আর আহিয়াকে সঙ্গে নিয়ে বের হলাম ঘুরতে। সবাই মিলে নৌকায় উঠলাম, পানি নিয়ে দুষ্টুমি করতে করতে হঠাৎ শ্রাবণী নদীতে পড়ে যায়। আহনাফ হা হয়ে তাকিয়ে আছে, আমার ভয় হচ্ছে নদীতে কখনো সাঁতার কাটিনি, তবে সাঁতার জানি। ঝাঁপ দিয়ে নেমে গেলাম পানিতে অনেক নিচে চলে গিয়েছিলো, কোন মতে ধরে নদীর পাড়ে নিয়ে আসলাম সমস্যা একটাই শ্রাবণী জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে। কিকরবো বুঝতে পারছিনা। ছেলে মানুষ তাই কিছু করতে ও পারছিনা। আহিয়া পেটে চাঁপদিয়েছিলো, কিন্তু পানি বের হচ্ছেনা। পরে আহনাফ আর আহিয়াকে তিতা লতা খুজতে পাঠিয়ে দিলাম, মুখে তিতা কিছু দিলে হয়তো জ্ঞান আসতে পারে। কোন উন্নতি না দেখে কোলে নিয়ে হাঁটা দিলাম। ওজন টা অনুমান করতে পারছিনা। কিছুদূর এসে কাঁধে নিলাম। বাসায় আসার পর আহিয়া কাপড় চেঞ্জ করে দিলো। বেশ কিছুক্ষণ পরে শ্রাবণী জ্ঞান ফিরে। তাকিয়ে হকচকিয়ে যায় চারপাশ। ছোট্ট করে ডাক দিলো আমাকে

–শ্রাবণ
–হু
–আমি এখানে কিভাবে
–কেন কোথায় থাকার কথা
–আমি নৌকা থেকে পড়ে গেছি আর কিছু মনে নাই
–সে অনেক কথা শুনিস না। এখন কেমন আছিস বল
–ভালো আছি, আমার কাপড় চেঞ্জ কে করেছে
–আমি (মিথ্যে বললাম)
–কিহহহ কুত্তা তুই আমাকে
–ভাবি রাগ করেনা কাপড় আমি চেঞ্জ করেছি (আহিয়া)
–…….(শ্রাবণী স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললো)
–নাও এই দুধ টা খেয়ে নাও আম্মু দিয়েছে?
–হ্যা হ্যাঁ শুধু ওকে খাওয়া, আমি তো তোদের কেউ না, আসুম না আর তোদের এখানে?
–এতো জ্বলছিস কেন, তোর বৌ রে ই তো খাচ্ছে আর এতো দিন ধরে তো খাইছিস মনে ভরে নি (আহিয়া)
–আপু তুমি যাও তো ওকে খাওয়াচ্ছি? (শ্রাবণী) আহিয়া মুচকি একটা হাসি দিয়ি চলে গেলো। শ্রাবণী দুধের গ্লাসে একটা চুমুক দিয়ে বললো
–শ্রাবণ দেখতো দুধে মনে হয় লবণ দিয়েছে কড়া কড়া লাগতেছে।  কই দেখি, বলেই একটা চুমুক দিলাম। নাহ দুধ তো ঠিক ই আছে। শ্রাবণী মুহুর্ত্বে গ্লাস টা নিয়ে এবার নিজে খাওয়া শুধু করলো।

–কি হারামি এমন করলি কেন?
–তোর চুমু খেতে ইচ্ছে করছিলো এমনি তো খেতে পারবো না
–কেন পারবি না আয় দিই চুমু
–চুপ অসভ্য চুমুটুমু বিয়ের পর হবে?
–আহ আয় তো দিই
–চুপ বেয়াদপ
–কিহহ আমি বেয়াদপ ওয়েট দেখাচ্ছি মজা । বলেই শ্রাবণী দিকে আগাতে থাকলাম
–শ্রাবণ আগাবি না চুপ করে বসে থাক
–কেন মহারাণী কি হবে আগালে (আস্তে আস্তে আগাতে আগাতে)
–খবরদার কাছে আসবি না বলতেছি ! মুহুর্তেই শ্রাবণী কে দেওয়ালের সাথে চেঁপে ধরবো এমন সময় দরজায় শব্দ হলো। তাকিয়ে দেখি আহিয়া, আমি কিছু বলার আগেই
–ভাইয়া কি করছিস এইস
–দেখতে পাসনি
–অসভ্য কোথাকার, বিয়ের পরে করে এসব
–তুই কিভাবে জানিস
–মুভি তে দেখে জেনেছি। আচ্ছা শোন আম্মু ডাকতেছে তোরা কি থাকবি না চলে যাবি? শ্রাবণীর দিকেই তাকাই দেখলাম লজ্জায় মাথা নিচু করে দাড়িয়ে আছে।
–আচ্ছা তুই যা আমরা আসতেছি, আর মামি কে বলে দে রাতেই চলে যাবো।
–আচ্ছা।

মামি থেকে বিদায় নিয়ে দুজনে রাতে রওনা দিলাম চট্টগ্রাম শহরের উদ্দেশ্যে। কাউন্টার থেকে যথা সময় টিকেট ও পেলাম। গ্রীন লাইন। দুজনে গাড়িতে বসে আছি, যেতে ঘণ্টা খানেক সময় লাগবে।

–বর্ণী কিছু খাবি
–না বস তুই
–মোবাইল টা দে আম্মুকে ফোন দেবো
–লাগবে না, আমি আগেই বলে দিছি তারপর দুজনে কিছুক্ষণের জন্য চুপ হয়ে গেলাম। সামনের দিকে তাকিয়ে আছি শ্রাবণী বলে উঠলো

–শ্রাবণ আমি সরি
–কেন সরি কেন
–ঐ নদীতে ইচ্ছে করে পড়ে গিয়েছিলাম
–কিহহহ যদি কিছু হয়ে যেতো
–কি হতো মারা ইই যেতাম
–চুপ আর একটা কথা বলবি না, মরার কথা বললে আমিই মেরে ফেলবো তোকে? সাতার জানিস না ঝাপ কেন দিলি?
–কে বলেছে সাতার জানিনা। সুইমিং পুলে সাঁতার শিখেছি আমি
–তারমানে ইচ্ছে করে তুই পানিতে ডুব মেরে ছিলি
–হুম, দেখছিলাম তুই কি করিস। আমি নদীর পাড়ে খ বেহুঁশ ছিলাম না ভান করে ছিলাম। কাপড় কে চেঞ্জ করেছে ওটা ও বলতে পারি।
–আর কি কি জানিস
–তোর গলা জড়িয়ে ধরে পুরো রাস্তা তোর কোলে করে আসতে
–আর তোর কাঁধে যখন চড়ছিলাম। যদিও পেটে ব্যাথা হয়েছে।
–আরও কিছু হয়েছে তো
–চুপ বেয়াদপ, পাড়ে যেটা করেছিস না বিয়ের পর উসুল নিবো নে, হারামী বজ্জাত শয়তান তুই আমাকে
–কি কি বল
–লজ্জা লাগছে
–আহারে আমার লজ্জাবতী রে (বলেই জড়িয়ে ধরলাম)
–ঐ সবাই দেখবে। ছাড় এখন।

তোর মুখের অমৃত টা বেশ মধুর লেগেছে ? বলেই বুকে মুখ লুকালো। রাত দশটায় বাসায় এসে ফ্রেস হয়ে নিলাম।। শ্রাবণী কে আম্মু যেতে দেয় নি। শ্রাবণীর কাছ থেকে আম্মু সব শুনে নিলো। আর বললো সামনের শুক্রবারে ঘরানা পর্যায়ে বিয়ে দিবে। তারপর বেশ কিছুক্ষণ আম্মু আর শ্রাবণী গল্প করলো। আমি চলে আসলাম আমার রুমে। পরদিন ভার্সিটি থেকে শ্রাবণী টানতে টানতে পার্কে নিয়ে আসলো

–কি রে এভাবে টানা হেচড়া করতে করতে কেন নিয়ে আসলি?
–চুপ থাক গাঁধা
–আচ্ছা চুপ আমি
–এবার প্রপোজ কর (আমার দিকে ফুলের তোড়া এগিয়ে দিয়ে)
–এটা কোথ থেকে আনলি
–সেটা তোর জানার দরকার নেই। প্রপোজ কর?
–কিভাবে করবো জানি না তো।
–আমিও জানিনা, প্রপোজ কর
–ধ্যাত এই সময় কোন কবিতা ও মনে আসতেছে না।
–কি রে প্রপোজ করবি না
–করছি তো কিছু মনে এনে নিই বেশ কিছুক্ষণ পরে শুরু করলাম ওগো মায়াবতী কন্যা, বয়ে চলেছে তোমার রুপের ঝর্না, সেই ঝর্ণা ধারায় আমি ভিজতে চাই, দিবে কি তোমার রূপের ঝর্ণায় গোসল করতে, হাঁটবে চাঁদনী রাতে ঝিঁঝিঁ পোঁকার সাথে তাল মিলিয়ে। মাঝরাতে জোৎস্না বিলাস করার সঙ্গী হবে, এক চাদরে শিশিরভেজা কুয়াশা মোড়ানো ঘাসে খালি পায়ে হাটার সঙ্গী হবে, হবে আমার টুইন বেবীর আম্মু, থাকবে বুকের বা পাজরে শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত, আগলে রাখবে আমাকে শত মান অভিমান ঝগড়ার সামাল দিয়ে “*

–হুম সাহেব হবো তোমার সব কিছুর অংশীদার। কিন্তু আসল কথা টাই তো বললে না
–কোন কথা
–যে টা শোনার জন্য অপেক্ষা করতেছি
–কি মনে পড়ছে না তো সবই তো বললাম
–বুদ্ধু আলাভিউ কে বলবে
–ও এটা, আলাভিউ শ্রাবণী, বলেই চট করে ঠোঁটে ছোট করে একটা কিস করে দিলাম।
–সাহস তো অনেক বেড়ে গেছে, কিস পর্যন্ত করে বসছো
–সবে তো শুরু মেড্যাম
–তাই
–হুম
–আচ্ছা আজ থেকে তুই করে বলা বাদ, তুমি করে বললো? যদি ভুলেও তুই বলেছো তো চড় খাবে আমার হাতে? তবে আমি রেগে গেলে তুই করে বললো, মেনে নিতে হবে কিন্তু।
–জ্বী মেম সব মেনে নিলাম
–চলো তাহলে স্বপ্ন সাজাই তাহলে দুজনে।

হাঁটতেছি আপন মনে, গুন গুন করে গান গাইতেছি “এই পথ যদি না শেষ হয় তবে কেমন হতো তুমি বলো তো, যদি পৃথিবী টা স্বপ্নের দেশ হয় তবে কেমন হতো তুমি বলোতো “”

সমাপ্ত

গল্পের বিষয়:
রোমান্টিক

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত