দুষ্ট ছেলে

দুষ্ট ছেলে

—বাসার পাশের দোকানে বসে আড্ডা দিতেছিলাম। টপিক ছিল মেসি বনাম রোনালদো। আমার বান্দর টাইপের বন্ধু গুলা বাঘের মতো গর্জন করে তর্ক করতেছে। আমাদের তর্ক শুনে দোকানদার মামা কি বুঝল জানি না, সেও আমাদের সাথে তালমিলিয়ে বলে উঠল, হ মামা আপনি ঠিকি বলেছেন আওয়ামিলিগ বি এন পির নেতা গুলো কিছু পারে না শুধু শুধু মাটে নেমে গন্ডগোল করে।

—-দোকানদার মামার কথা শুনে আমরা সবাই অট্ট হাসিতে মেতে উঠলাম। দোকানদার মামা মনেকরেছে মেসি আর রোনালদো,আওয়ামিলিগ এবং বি এন পির, দুইজন দুই নেতা। হটাৎ করে অট্টহাসি নীরব হয়েগেল সবাইমিলে আমার দিকে তাকিয়ে আছে, আমি বললাম কিরে কি হয়েছে।

—-আমার এক বন্ধু চোখের ইশারায় আমাকে পিছনে তাকাতে বললো। পিছনেতাকিয়ে দেখি সুরাইয়া কোমরে হাতদিয়ে হিংস্র হায়নার মতো তাকিয়ে আছে, মনেহচ্ছে এখনি আমাকে খেয়ে ফেলবে। এই মেয়েটাকে আমি জমের মতো ভয়পাই। আমাদের উপর তলায় থাকে।

—-মাস তিনেক আগে প্রপোজ করেছিলাম একবস্তা গালিতো দিছেই, বনাস হিসাবে দুইটা থাপ্পরও দিছে। এর পরথেকে এই মেয়েকে দেখলেই আমার ভয় করে। আমি যতবড় মহত কাজি করিনা কেন, এই মেয়ের চোখে পরবে না চোট্ট একটা ভুল করলেই সারছে, সারাদুনিয়ার রাগ আমার উপর ঝারবে বদ মেয়েটা।

—-কিন্তু এখন আবার কি করলাম হায়নার মতো দাঁড়ায়া আছে ক্যান।

সুরাইয়া:-আপনার লজ্জাকরে না হুম, টাকা কামানোর তো মুরদ নাই বাপের টাকায় সিগারেট খাবেন আবার সেই সিগারেট মানুষের গায়েও ফেলবেন, পাইছেনটা কি আপনি হুম।

ডালিম:-যাহ্ সালা যেখানে বাঘের ভয় সেখানেই রাত হয়, এই মেয়েটার কাছ থেকে যতই বেচে চলার চেষ্টা কিরিনা কেন, ভুল গুলো তার সমানেই বেশি হয়। তর্ক করতে করতে কোথাই যে সিগারেট ফেলছি খেয়ালি নেই।

—পরছে তো পরছে একেবারে হায়নার পায়ের কাছে। এখন যে আমার কি হবে আল্লায় জানে। পাক্কা সারেসাত মিনিট আমাকে ঝারলো, শুধু এখানেই শেষ নয় এখন বাসায় যাবে বাসায় গিয়ে প্রিয়ার কাছে বলবে (প্রিয়া আমার ছোট বোন) তারপর দুজন মিলে আম্মার কাছে একহাত বাড়িয়ে বাড়িয়ে বলবে আমি কি কি করেছি।

—-বাসার সবাই যখন আমাকে ইচ্ছে মতো ঝারবে তারপর এই বদ মেয়েটার শান্তি হবে। মাঝে মাঝে মনেহয় প্রিয়া আমার বোন না, সুরাইয়ার বোন, ছোটকালে হয়তো সুরাইয়ার আব্বা আম্মার কাছথেকে ধার আনছে, নয়তো আমাকে রেখে সারাক্ষন সুরাইয়ার চামচামি করবে কেন।

—রুমে বসে (ঝিক্নু নাকুড় নাক্কুনাকুড়) গান শুনছিলাম প্রিয়া এসে ঠাস করে পিসিটা বন্ধ করেদিল “কিরে এটা কি হলো? “ভাইয়া তুমি যে বসে বসে গান শুনছ খবর কিছু জানো? “কি হয়েছে? “কালকে সুরাইয়া আপুকে পাত্রপক্ষ দেখতে আসবে, সেই খবর কি তোমার আছে?। প্রিয়ার কথাশুনে আমার মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পরল।

—-আমি জানতাম প্রিয়া আমি পাব না, কি করে পাব যে মেয়েটা আমাকে দেখতেই পারে না তাকে পাওয়ার আসা কেমন করে করি। তবে সুরাইয়ার ঝারি গুলো ভীষণ মিস করব, প্রতিদিন ঝারি শুনতে শুনতে অভ্যুস্ত হয়েগেছি। “ও তাইনাকি ভালই তো ওনেকদিন কোন বিয়া খাওয়া হয় না।

—-“ভাইয়া তুমি কি মানুষ না অন্য কিছু। সুরাইয়া আপু তোমাকে এতো ভালবাসে আর তুমি কি না বলতাছ, ভালই ”
-কি বলিস প্রিয়া, সুরাইয়া আমাকে ভালবাসে? ”
-ভাইয়া তুমি আসোলেই বোকা, সুরাইয়া আপু ঠিকি বলে তুমি একটা গাধা।

—-তোমাকে না ভালবাসলে এমনি এমনি তোমাকে শাসন করে। সারাদিন তোমাকে ঝারির উপর রাখে কেন?। যাতে তুমি বাজে ছেলেদের সাথে আড্ডা না দাও, ঠিকমত চলাফেরা কর, বাজে কোন নেশা না কর, এই জন্য তোমাকে সবসময় চোখে চোখে রাখে। আর তুমি কি না কিছুই বুঝ না।

—-আসলেই কি আমি বোকা? আমার কি বুঝা উচিত ছিল। সুরাইয়ার ঝারির মাঝেই কি তার ভালবাসার বহিপ্রকাশ ছিল। নাহ্ কিছু ভাবতে পারছি না মাথাটা কেমন যেন গুলিয়ে যাচ্ছে। “ভাইয়া এখনো সময় আছে কিছু একটা কর। আমি সুরাইয়া আপুকেই ভাবি হিসাবে চাই, অন্য কোন মেয়েকে আমি ভাবি হিসাবে মানতে পারব না।

—-প্রিয়ার কথাশুনে যা বুঝার বুঝেগেলাম। সুরাইয়াদের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছি, সুরাইয়া দরজা খুলে আমারদিকে তাকিয়ে আছে। সুরাইয়াকে দেখে কিছুটা অভাক হয়ে গেলাম। যে সুরাইয়া আমাকে দেখারপর সবসময় তার চোখে মুখে রাগি রাগি ভাব চলে আসতো কিন্তু আজ তার কিছুই হলো না।

—-উলটো তার চেহারা অভিমানে কালো হয়েগেল।

সুরাইয়া:–কি জন্য এসেছেন?

ডলিম:–বিয়ার দওয়াত নিতে এসেছি। আমার কথাশুনে সুরাইয়ার চোখ ছল ছল করে উঠল, সুরাইয়ার অভিমান রাগে পরিনিত হলো।

—-আর আমিও এটাই চাচ্ছিলাম। সুরাইয়া মনেকরেছিল আমি তাকে প্রোপজ করব, বিয়াকরতে নিষেদ করব। কিন্তু আমি তার কিছুই করলাম না উলটো কাটা ঘায়ে লবণ ছিটিয়েদিলাম

সুরাইয়া:–আপনি আর কোনদিন আমার সামনে আসবেন না, আমার সাথে কথাও বলবেন না। আমি কোন গাধাকে আমার বিয়ার দওয়াত দিব না, বিদায় হন এখানথেকে

ডালিম–ওই হ্যালো ম্যাডাম, আমি তোমার সামনে আসি না তুমিই সারাদিন আমাদের বাসায়গিয়ে পরে থাক।

—-সুরাইয়া এবার চোখের জল ধরে রাখতে পারল না। সুরাইয়ার অজান্তেই দুফোটা জল গরিয়ে পরলো, খুব সাবধানে জলটা লুকিয়েনিল। মুখ কঠর করে বললো যাবনা আর কোনদিন আপনাদের বাসায়, আর কাউকে বলবো না বাজে ছেলেদের সাথে মিশতে, কোনদিন কাউকে ঝারিও দিব না।

—-আপনি এখন যান এখানথেকে।

ডালিম:–যাব মানে, আমি কি তেমার কাছে আসছি নাকি ফাজিল মেয়ে। ভদ্রতা শিখনাই কোন মেহেমান আসলে তাকে ভীতরে নিয়ে বসাতে হয়, রাস্তাছারো। একপ্রকার সুরাইয়া ধাক্কাদিয়েই ভীতরে চলে আসলাম।

—-সোফায় বসে পায়ের উপর পা রেখে নাচাতে নাচাতে বললাম, আন্টি কোথায় আন্টিকে ডাকো। সুরাইয়া আমার আচরণ দেখে অভাক হয়েগেল। অভাক তো হবেই যে ছেলে তারসামনে কথা বলতে গেলে হাঠু কাপতো সেই ছেলে আজ তাকে ঝারিদিচ্ছে।

সুরাইয়া:–এই আপনি আমাকে ঝারিদিচ্ছেন কেন?

ডলিম:–তো কি করব, আদর করব আদর করার মতো কিছু করেছ, সারাজীবন তো ঝারির উপর রাখছ। এখন তর্ক না করে আন্টিকে ডাকো। আমার কথাশুনে সুরাইয়ার চেহারাটা দেখার মতো হয়েছে। আমার যে কি খুশি খুশি লাগছে বলে বুঝাতে পারবা না। এতদিন পর বদ মেয়েটাকে সায়েস্তা করার সুযোগ পাইছি, কিন্তু বদ মেয়েটা বুঝে গেছে আমার উদ্দেশ্য আমি কেন আসছি।

—-আন্টিকে আর ডাকতে হয়নাই আমার চিল্লানি শুনেই চলে আসছে কিরে ডালিম কি হয়েছে চিল্লাচ্ছিস কেন? “আন্টি কালকে নাকি সুরাইয়াকে দেখতে আসবে “হ্যাঁ, কিহয়েছে? ফোনকরে তাদের কে আসতে মানা করে দেন “কেন কি হয়েছে? “কাল সকালে আব্বু আম্মু আসবে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে “কার জন্য? সেটা আসলেই বুঝতে পারবেন কার জন্য। সুরাইয়ার দিকে তাকিয়ে দেখি চোখ বড় বড় করে আমার দিকে তাকিয়ে আছে, আর ঠোঁট দুইটা দুইদিকে লম্বা হয়েগেছে যাকে বলে মুচকি হাসি। আন্টিকে আরকিছু বলার সুযোগ না দিয়ে বাসাথেকে বেরহয়ে আসলাম। অপরদিকে প্রিয়া হয়তো আব্বু আম্মুকে এতক্ষণে রাজিকরে ফেলেছে, কারণ প্রিয়া কে আব্বু আম্মু অনেক পছন্দ করে।

—- সিড় দিয়ে নামতেছিলাম পিছন থেকে সুরাইয়ার ডাক

সুরাইয়া:– এই দাঁড়ান, আমি কি একবারো বলেছি, আমি আপনাকে ভালবাসি হুম

ডালিম :– না

সুরাইয়া:– তো আমাকে প্রপোজ না করে বিয়ার প্রস্তাব দিলেন কোন সাহসে হুম।

—-আর আপনাকে কে বললো কাল আমাকে দেখতে আসবে।

ডালিম :– তোমার গাধী ননদ বলছে

সুরাইয়া:– এই খবরদার আমার ননদ কে গাধী বলবা না, তুমি গাধা, ছাগল, বান্দর।

ডালিম:– হা হা (ফকলা হাসি)

সুরাইয়া:– হাসবা না বলেদিলাম তোমার হাসি দেখলে আমার গা জলে।

—-আর যদি কোনদিন সিগারেট মুখে দিছো তো,তোমার একদিন কি আমার একদিন হুহ্,,,গাধা কী মনে করছেন সুরাইয়া আমাকে সত্যি গাধা বলছে ? আরে না এটা তো ছিল কাল্পনিক বালকেরকল্পনা।

—–আমার জীবনে কোন পেত্নীর আগমন হয়নি এখনো।

সমাপ্ত

গল্পের বিষয়:
রোমান্টিক

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত