খুব ভালোবাসি

খুব ভালোবাসি

কাব্য তোর কাছে ৫০০ টাকা হবে? (জুনায়েদ) পকেট হাতিয়ে ১৪৪ টাকার মতো পেলাম,

-এটাই আছে আমার কাছে ৷ (আমি)
-ও আচ্ছা,ওইটা তোরই লাগবে ৷ রেখে দে ৷

রাস্তার পাশ দিয়ে জুনায়েদ, আমি সহ আরো ৫-৬ জন ফ্রেন্ড হেঁটে যাচ্ছিলাম ৷ হঠাৎই লাল রং এর একটা গাড়ি থেকে আব্বু নেমে আসলো ৷

-গাড়িতে বস (আব্বু)
-না আব্বু তুমি যাও,আমি ফ্রেন্ড দের সাথে যাচ্ছি ৷ তাছাড়া সামনে আমার একটু কাজ আছে ৷
– Are you sure?
– হুম ৷

গাড়িটা নিমেষের মধ্যেই সামন থেকে চলে গেল ৷ ওদের দিকে তাকাতেই দেখি ওরা সবাইঅবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ৷ থাকবেই না কেন,ওরা তো জানে না শিল্পপতি রাসেদ মাহমুদের ছেলে আমি ৷ অতি সাধারণ ভাবে জীবনযাপন করার জন্য কলেজে সেভাবে কেউ পাত্তা দিতো না ৷ ভাবতো,গ্রাম থেকে এসেছে বোধহয় ৷

পুরো কলেজ মিলে এই ৪-৫ জনই বন্ধু জুটেছে ৷ তাও জুটত না যদিনা সেদিন এক্সিডেন্টের পর জুনায়েদকে হাসপাতালেনিয়ে যেতাম ৷ সেদিন হয়ত ও বুঝতে পেরেছিল টাকা দিয়ে মানুষকে বিচার করা নির্বুদ্ধিতা ৷ সেদিন রাস্তার পাশে অনেক টাকা ওয়ালা মানুষ দাঁড়িয়ে ওর কাঁতরানো দেখছিল ৷ তাদের কেউ সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসে নি ৷ আসলে এদের কাছে মানুষের জীবনের চেয়েও টাকার মূল্য বেশি ৷ এক্সিডেন্টের পর আমি আর একজন রিকশাওয়ালা জুনায়েদকে হাসপাতালে নিয়ে এসেছিলাম ৷ রিকশাওয়ালা কে দেখে মনে হচ্ছিল এনি আসলেই একজন ধনী ৷ টাকা না থাকুক,কিন্তু মানবতা দিয়ে বিচার করলে অনেক পয়সাওয়ালা লোককে উনি হারিয়ে দিতে পারেন ৷ এক্সিডেন্টের পর থেকে কলেজ টাইমে জুনায়েদ আমার সাথেই থাকত ৷ ও কখনোআমার পারিবারিক পরিচয় জানতে চায় নি ৷ হয়ত ভেবেছিল জিঙ্গাস করলে আমি লজ্জায় পরতে পারি ৷

-কাব্য, এনি তোর বাবা? (জুনায়েদ)
-হুম,কেনো কোন সমস্যা? (আমি)
-না মানে,আমি কিছুই বুঝতে পারছি না
-না বোঝার তো কিছু নেই ৷ উনি রাসেদ মাহমুদ, আমার জন্মদাতা পিতা ৷
-কিন্তু তোকে দেখে তো মনে হয়,,,,,,
-কি মনে হয়,আমি একজন কৃষকের ছেলে? দেখলাম সবাই মাথা নিচু করে আছে ৷
-টাকা থাকলেই যে বিলাসবহুল ভাবে খরচ করতে হবে এর কোন মানে আছে? (আমি)
-তা না, কিন্তু, ,,,,,,,,তোর আব্বুর সাথে কি তোর কোন প্রবলেম হইছে? যার কারণে উনি তোকেটাকা দেন না? (আবির)
-নাহ,আমার বড় ভাইয়া এবং আমাকে প্রতি মাসের শুরুতেই পঞ্চাশ হাজার করে টাকা দেয় আমার আব্বু ৷ এরপরেও টাকা লাগলে উনি কোন প্রশ্ন না করেই টাকা দেন ৷ (আমি)

-তাহলে তুই এত সাধারণভাবে চলাচল করিস কেন? (সুমন)
-ওই যে বললাম,টাকা থাকলেই খরচ করতে হবে এর কোন মানে নেই ৷ আমাদের দেশে এমন অনেক পরিবারই আছে যারা দিনে ১০০ টাকাও খরচ করতে পারে না ৷ সেখানে অনেকে দিনে হাজার হাজার টাকা খরচ করে শুধু মাত্রা আধুনিকভাবে চলাফেরা করার জন্য ৷ আমি সেইসব পরিবারের পাশে দাঁড়ইয়ে মজা পাই ৷ অভুক্ত কোন শিশুকে যখন খাবার খাওয়ানোর পর ও যে তৃপ্তির হাসি দেয় সেটা দেখে আমি মজা পাই ৷ যেটুকু টাকা খরচ না করলেই নয় সেটাকা রেখে আমি বাকি টাকা অনাথ আশ্রমে দিয়ে আসি ৷ (আমি)

-তোর পরিবারের লোকজন এসব জানে? (জুনায়েদ)
-সবাই জানে ৷ মা আর ভাইয়া এসব কাজে খুশি হলেও আব্বু মোটেও এসব পছন্দ করেন না ৷ (আমি) আরও কিছুক্ষণ অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকার পর জুনায়েদ বলল,
-আমরাই তোকে চিনতে পারি নি ৷ আজ থেকে আমরা তোর সাথে আছি ৷ যতটা পারা যায় আমরাও ওদেরকে সাহায্য করব ৷

-থেংকস রে,তোদের মত বন্ধু পাওয়া আসলেই ভাগ্যের বেপার ৷ (আমি) বাসায় এসে ফ্রেশ হয়ে একটা লম্বা ঘুম দিলাম ৷ আজ আমি খুব খুশি ৷ অন্তত কেউ তো আমাকে বুঝল ৷ আমি এতেই সন্তুষ্ট ৷ ঘুম থেকে উঠে দেখি বুশরার ৭টা মিসকল ৷ এই মেয়েটাকে এতবার বলার পরেও কল দেয়া বন্ধ করলো না ৷ আসলে মেয়েটাকে আমার পছন্দ না ৷ কেনো পছন্দ না নিজেই জানি না ৷ তবে মেয়েদের কাছে থেকে সবসময় দূরে দূরেই থেকেছি ৷ প্রেম ভালবাসা আমার লক্ষ্য নয় ৷

জীবনে সবসময় সবার উপকার করার চেষ্টায় ছিলাম ৷ মনে মনে সবসময় ভাবতাম কারোর উপকার করতে না পারলেও অন্তত আমার দ্বারা যেনো কারোর অপকার না হয় ৷ সেজন্য একদিন এই মেয়েটার একটা উপকারে এসেছিলাম, সেদিন থেকেও ও আমাকে জ্বালিয়ে যাচ্ছে ৷ খুব ভালো ভাবেই বুঝতে পারছি ও কি চায়, কিন্তুএসব আমার চিন্তা ভাবনার বাইরে ৷বরাবরের মতোই ওর কল ইগনোর করে বাইরে চলে আসলাম ৷ আজ বেশ সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠতে হল ৷ কলেজে একটা জরুরী কাজ আছে ৷ কলেজ গেটের বাম পাসের বটগাছ টার নিচে দেখতে পেলাম লেডি গেং বসে আছে ৷ আসলে লেডি গেং নামটা কলেজের ছেলেরাই দিয়েছে ৷ লেডি গেং এর সদস্যরা হলো জেরিন,আরোভি,তুবা,নুসরাত আর আদিবা ৷এদের মধ্যে আদিবা লিডার ৷ র্যাগিং এ এরা শীর্ষে ৷ এদের দেখে বোঝার উপায় নেই যে এরা মেয়ে নাকি গুন্ডা ৷ পাহাড় সমান টাকা থাকার কারণে ওদের অহংকারের ও শেষ নেই ৷ তবে আজ পর্যন্ত এদের পাল্লায় পরি নি ৷ হয়ত দয়া দেখিয়ে ছেরে দিয়েছে ৷তবে আজ হয়ত কপালে শনি আছে ৷ আদিবা আমার দিকে কেমন করে যেন তাকাচ্ছে ৷ এই তাকানোর মানে আমি বুঝি,অবঙ্গা ৷

-কাব্য এদিকে আসো ৷ (আদিবা)
-বলো ৷ (আমি)
-আমাকে তুমি করে বলার সাহস হয় কিভাবে? আপনি করে বলবা ৷
-ঠিক আছে, বলুন ৷
-আমাকে কেমন লাগছে বলো তো ৷
-সত্য বলব নাকি আপনার মন রাখার মত মিথ্যা প্রশংসা করবো?
-মানে?
-আপনি যে আপনার চেহারা নিয়ে এত মিথ্যা অহংকার করেন,এই চেহারাটা কি আপনি নিজে বানিয়েছেন?
-কি যা তা বকছো? আমি বানাবো কেনো ৷
-তাহলে কে বানিয়েছে ?
-পাগলের মতো কথা বলছ দেখছি ৷ আল্লাহ্ বানিয়েছে ৷

-তাহলে যে চেহারা আল্লাহ আপনাকে বানিয়ে দিয়েছে সেটা নিয়ে অহংকার করছেন? আপনার তো এখানে কোন ক্রেডিট নেই ৷ আগে নিজে কিছু করুন তারপর সেটা নিয়ে অহংকার করিয়েন ৷

-আরে তুমি বুঝবে কি ভাবে,তুমি তো ভিখারির ছেলে ৷
-রাসেদ মাহমুদকে আপনার ভিখারি মনে হয়?
-আংকেল কেনো ভিখারী হবে?
-ওনার ছোট ছেলের রুমে আপনি ভুল করে ঢুকে পরেছিলেন,মনে আছে? ছেলেটা তখন ঘুমিয়ে ছিলো ৷ ওই চেহারাটা মনে আছে? না থাকলেও অবাক হব না ৷ ওই ফেসটাতে একটা চশমা এড করে কল্পনা করুন তো ৷
-তুমি?

উত্তর দেয়ার প্রয়োজন মনে করলাম না ৷ রুমের দিকে হাঁটা দিলাম ৷ ক্লাশ শেষে বাসায় ফিরে দেখি ফোনে ৪টা মিসকল হয়ে আছে ৷ বুশরা আবার কল দিয়েছিলো তবে ওকেকলেজে দেখলাম না, কেন যেনো ওকে কল দিতে ইচ্ছে হল ৷ কিন্তু কল ধরছে না কেন? এই প্রথম ওর জন্য চিন্তা হতে লাগল ৷ মেয়েটাকে সবসময় অবহেলা করতাম ৷ আজ ৩ দিন হল বুশরার সাথে আমার কোন যোগাযোগ নেই ৷ নো ফোন কল,নো এসএমএস ৷ এই তিনদিন এক মুহুর্তের জন্যও ভালো ছিলাম না আমি ৷ কলেজে ওর বান্ধবীদের কাছেও খোঁজ নিয়েছি ৷ কোন লাভ হয় নি, কিন্তু আমি এরকম করছি কেনো? আমার তো খুশি হবার কথা,তাহলে কি,তাহলে কি ওকে ভালোবেসে ফেললাম ৷ না না,এটা কিভাবে সম্ভব ৷

বুশরার সাথে কথা হয়না পাঁচদিন হয়ে গেছে ৷ আমি কোন কিছুতেই মনযোগ দিতে পারছি না ৷ বুঝতে পারলাম, আমি ওকে শুধু ভালোবাসি না খুব খুব ভালোবাসি ৷ এই কয়দিন নিজের কোন কাজে মনযোগ দিতে পারিনি আমি ৷ ওকে আমার দরকার,আমার লাইফে দরকার ৷ আর কারোরজন্য না,আমার নিজের জন্য হলেও ওকে খুঁজে বের করতে হবে কিন্তু ওকে খুঁজব কোথায়,আমি ওর কিচ্ছু জানি না ৷ কখনো কিছু জানার প্রয়োজন বোধ করিনি ৷ ওর সাথে কলেজের বাইরে বেশ কিছু জায়গায় দেখা হয় তবে সেসসব জায়গায় গিয়ে কি খুব একটা লাভ হবে ৷ লাভ না হোক ক্ষতি তো হচ্ছেনা ৷ সর্বপ্রথম যেতে হবে আটতলা পার্কে কারণ ওর সাথে ওখানেই সব থেকে বেশি বার দেখা হয়েছিল ৷

সাথে সাথে বেরিয়ে পরলাম ৷ পার্কটা বেশি দূরে না ৷ আধা ঘন্টার মধ্যেই পৌছে গেলাম ৷ কিন্তু কই? এখানে তো কিচ্ছু নেই ৷ কিছুটা হতাশ মনে একটা বেঞ্চে বসলাম ৷ সামনে বটগাছ টার নিচে কলেজ পলাতক একটি ছেলে ও মেয়ে চুম্বনে লিপ্ত আছে ৷ কলেজ পলাতক বললাম কারণ ওরা আমার কলেজেই পরেআর ওদেরকে খুব ভালো ভাবেই চিনি ৷ নোংরামির যদি কোন এওয়ার্ড থাকত তবে এরা সেটা অবশ্যই পেত ৷ অন্য সময় হলে কিছু কথা শুনিয়ে আসতাম কিন্তু আজ কেনো যেন এসব ভালো লাগছে না ৷

-আপনি কাব্য ভাইয়া না? (আগন্তুক লোকটি)
-হা কিন্তু আপনাকে তো চিনলাম না ৷
-আমি রাকিব, বুশরার আপুর কাজিন ৷

আমি  আপনাকে চিনি অনেক আগে থেকেই ৷ নিমিষের মধ্যেই মনে হল বুক থেকে একটা পাথরনেমে গেল ৷ বুক ভরে একটা দীর্ঘ নিশ্বাস নিলাম যা গত কয়েকদিনে নিতে পারি নি ৷

-বুশরা আপু আপনার অনেক প্রশংসা করত ৷ আপনি যে এতিম খানা গুলোতে দান করতেন তারমধ্যে আদমজি এতিম খানার কথা মনে আছে? ওইটা খালুর অর্থাৎ বুশরা আপুর বাবার ৷ ওখানেই নাকি আপনাকে প্রথম বার দেখেছিলো ৷ এরপরআপনি আপুকে বিপদের সময় টাকা দিয়ে সাহায্য করেন ৷ আস্তে আস্তে আপনাকে ভালোবেসে ফেলে ৷ কিছুদিন আগে এক অনুষ্ঠানে আমাদের সব আত্মীয় স্বজন এক হয় ৷ ওখানেই আপু আমাদের কাছে এগুলো শেয়ার করে আর আপনার ছবিও দেখায় ৷ (ছেলেটি) এবার আর না হেঁসে পারলাম না,

-পাজি মেয়েটা এখন কোথায় আছে? (আমি)
-হোস্টেলে ফিরে এসেছে আজকে সকালে ৷

ওর কাছে থেকে ঠিকানা নিয়ে হাঁটাদিলাম ৷ আর যে দেরী করতে পারছি না ৷ এই কয়েকদিনেই এত কষ্ট পেয়েছি ,তাহলে মেয়েটা আমার দ্বারা অবহেলিত হয়ে কতটা কষ্ট পেত ৷ আর কষ্ট পেতে দেবো না ওকে ৷ ওর হোস্টেলের সামনে এসে ওকে কল দেয়ার জন্য ফোনটা সবে হাতে নিয়েছি এর মধ্যেই ফোনটা বেজে উঠল ৷ দেখি কল এসেছে ৷ রিসিভ করতেই,

-কেমন আছো? (বুশরা)
-বাইরে এসো ৷ (আমি)
-মানে?
-বলছি তোমার হোস্টেলের বাইরে এসো
-তুমি?
-হুম,বাইরে দাঁড়িয়ে আছি ৷

৩০ সেকেন্ডের মধ্যেই দেখি দৌড়ে আসছে ৷ আমার সামনে আসতেই নিজেকে আর আটকে রাখতে পারলাম না,জরিয়ে ধরলাম ৷

-কোথায় চলে গিয়েছিলে,আমাকে ছেরে (আমি)
-আসলে দাদু মারা গিয়েছিলো ৷ (বুশরা)
-তো একবার বলতে পারতে তো ৷
-আসলে গ্রামের বাড়িতে নেটওয়ার্ক এর খুব সমস্যা আর আমার ফোনটা পানিতে পরে গেছিলো ৷ কিন্তু তোমাকে এরকম দেখাচ্ছে কেন?

-রাকিব আমাকে সব বলেছে ৷ আমি জানতাম না তুমি কি জন্য গিয়েছিলে কিন্তু তোমার এই যাওয়াটা খুব দরকার ছিলো ৷ তোমাকে ছারা থাকা আমার এই সময়টা বুঝিয়ে দিলো আমি তোমাকে কতটা ভালবাসো ৷ অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ৷ ওর চোখ থেকে এক দু ফোটা পানি পরতে শুরু করেছে ৷ কিছু হয়ত বলতে চেয়েছিলো কিন্তু পারলো না ৷ আবার জরিয়ে ধরলাম ৷ জীবনের শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত ইনশাল্লাহ ওর সাথে এভাবেই থাকবো ৷

গল্পের বিষয়:
রোমান্টিক

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত