তোকে ভালোবাসি

তোকে ভালোবাসি

লিমা: কি রে কি করিস ..??

জীবন: চ্যাটিং করি।

লিমা: কার সাথে রে…??

জীবন: তোকে সব বলতে হবে না কি..??

লিমা: ঠিকি তো আমাকে কেন বলবি।আমি তোর কেইবা হই।ওকে থাক তোর চ্যাট নিয়ে আমি গেলাম।

জীবন: যা ভাগ।

লিমা:

জীবন: যা যা

দুজনই রেগে উধাও।পাঁচ মিনিট পর,,,,,

লিমা: কিরে কই তুই।কি করোস..??

জীবন: চ্যাটিং করি।

লিমা: আবারও।

জীবন: হুম।

লিমা: কার সাথে..??

জীবন: তোর সাথে।

লিমা: তাই.??

জীবন: হুম।

লিমা: তখন কে ছিলো রে..??

জীবন: পাগলি তখনও তুই।এইখনও তুই।তুইই থাকবি সারা জীবন।

লিমা: শয়তান ছেলে তাহলে তখন বলিস নি কেন..??

জীবন: তোর রাগ দেখার জন্য।

লিমা: তো কি দেখলি..??

জীবন: দেখলাম আমার পাগলিটা রাগ করে নাক, গাল লাল করে বসে ছিলো।

লিমা: তারপর।

জীবন: মনে মনে কেঁদে দিলো।

লিমা: তারপর..??

জীবন: তারপর মেসেজ দিলো গালি দেওয়ার জন্য।কিন্তু সেটা আর হলো না।এখন রাগ করতেছে সে।আর ভাবতেছে আমি তার কথা গুলো বলতেছি কিভাবে.?

লিমা: হুম তাই তো।তুই কিভাবে বলতে পারছিস।

জীবন: সত্তি বলবো..??

লিমা: মিথ্যা বললে তোর পা কেঁটে হাতে ধরিয়ে দেব।

জীবন: জানালার পাশে আয়।তারপর দেখ একটা বাঁদর ঝুলে আছে।

লিমা: হোয়াট তুই এসব কি বলতেছিস।

জীবন: সেই বাঁদরটা কে জানতে চাবি না..??

লিমা: কে সেই বাঁদর।

জীবন: তোর বাঁদর। লিমা তারাতারি জানালার কাছে যায়। গিয়ে দেখে সত্তিই জীবন জানালার গ্রীল ধরে ঝুলে আছে।আর এক হাত দিয়ে মেসেজ টাইপ করতেছে।

লিমা: তুই এত রাতে।রাত ১২ টা বাঁজে। আমাদের বাসায়..?পাগল হইলি না কি।

জীবন: হুম রে তোর পাগল।তোকে দেখতে মন চাচ্ছিলো তাই তো চলে আসলাম।

লিমা: দেখা হয়েছে।তাহলে যা তারাতারি নইলে পড়ে যাবি তো।

জীবন: আগে মিষ্টি খাওয়া।

লিমা: এত রাতে মিষ্টি কোথায় পাবো..??

জীবন: নাহ্ অন্য মিষ্টি।যেটা শুধু তোর কাছেই আছে।

লিমা: যাহ্ কুত্তা একদম ফাইজলামি করবি না।

জীবন: তোকে ভালোবাসি।আর তুইও ভালোবেসে দে না রে।

লিমা: হুহ্ ভালোবাসে প্রফোজ করেছিস..??

জীবন: ওকে ওয়েট। জীবন তার পকেট থেকে কয়েকটা ক্যাডবেরি চকলেট।ও আইসক্রিম বের করলো। এবং ওইগুলো লিমার দিকে বাড়িয়ে বললো।

জীবন: আই লাভ ইউ।আমি তোকে ভালোবাসি।তুই এই চকলেট আইসক্রিম খাওয়ার অধিকার নিবি..??কথা দিচ্ছি প্রতিদন এভাবে এসে তোকে দিয়ে যাব।

লিমা: জীবন তোর প্রোফোজটা বেষ্ট ছিলো রে।জানিস তোর মতো এভাবে বাচ্চাদের মতো কেউ প্রোফোজ করে নি। (চকলেট আইসক্রিম হাতে নিয়ে।)

জীবন: তাহলে কি করবি এখন..??

লিমা: রিজেক্ট।

জীবন: থ্যাংকস। (কেঁদে নেমে যাচ্ছিলো।)

লিমা: এই শোন।

জীবন: হুম বল।

লিমা: একটু কাছে আয়।

জীবন: হুম তারপর.??

লিমা: চোখ বন্ধ কর।

জীবন: তারপর। উম্ম্ম্ম্মাহ উম্ম্ম্ম্মাহ

লিমা: হুম যা এবার বাসা চলে যা।আব্বু ভাইয়া জানলে তোকে শেষ করে দেবে।

জীবন: আচ্ছা শোন।

লিমা: নাহ্ আর কিচ্ছু শুনতে চাই না।এটাই প্রথম এবং এটাই শেষ।যদি ভাগ্যে লেখা থাকে তুই আমার আর আমি তোর। তাহলে বিয়ের পর যত ইচ্ছা মিষ্টি খাস। এখন না।

জীবন: সেটা না।একটু কাছে আয়। লিমা কাছে আসে।জীবন তার ঠোট লিমার দিকে এগুতে থাকে।লিমা ভাবে জীবন ওর ঠোটে কিস করে দেবে।ফলে লিমা চোখ বন্ধ করে ফেলে।কিন্তু জীবন লিমার কপালে আলতো করে চুমু দেয়।লিমা কেঁপে উঠে চোখ খুলে দেখে জীবন নেই। একটা মেসেজ আসলো জীবনের নাম্বার থেকে।লিমার কাছে।

জীবন: চকলেটের প্যাকেটের ভিতর কিছু একটা আছে দেখতো পাস কি না।

লিমা সাথে সাথে প্যাকেট গুলো দেখতে থাকে।একটা প্যাকেট দেখে সামান্য ফুটো। সেটা খুলে দেখে।লিমা একটা চিরকুট পায়। চিরকুট,,,,, (লিমা আমি জানি তুই এখন চমকে গেছিস। কারন তোর কপালে চুমু দিয়েই নেমে পড়েছি।আজকের তারিখটা জানিস।আজকের এই দিনে তোর আর আমার দুজনেরই জন্মদিন। হ্যাপি বার্থ ডে টু ইউ লিমা।আর একদিন তোর সাথে জন্মদিন নিয়ে ঝগড়া লেগেছিলো কে বেশি সারপ্রাইজ দিবে তা নিয়ে।এখন বলতো সারপ্রাইজ কে দিলো আমি না কি তুই।) লিমা চিরকুটটা পড়ে কেঁদে দিলো।কারন জীবনের সাথে প্রচুর ঝগড়া হয় এই বিষয়টা নিয়ে।জীবন লিমার সাথে ঝগড়ায় না পারলেও বিশাল একটা কাজ করে ফেললো। কিন্তু জীবন তো জানে না তার জন্য কত বড় সারপ্রাইজ অপেক্ষা করছে। পরেরদিন সকালে,,,,লিমা তার পরিবারে কাছে আবদার করলো যে আজকে রাতে পার্টি দিতে হবে বাসায়।ধনি পরিবার হওয়ায় রাজি হয়ে গেলো সবাই।লিমা সব বন্ধু বান্ধবিকে ফোন করে বললো। সবার শেষে জীবনকে কল করলো।

জীবন: হুম বল আমার জান।

লিমা: আজকে বাসায় পার্টি আছে সন্ধ্যায় চলে আসিস।

জীবন: আমার কাজ আছে আসতে পারবো না। (মধ্যবিত্ত তাই বাহানা।)

লিমা: অত বাহানা করতে হবে না।তোর কোনো গিফ্ট দিতে হবে না।শুধু তুই চকলেট আইসক্রিম নিয়ে আসবি।আর একটা কথা শুনে রাখ তুই না এলে কিন্তু কেক কাটবো না।বাই। সন্ধ্যায় সবাই চলে আসলো কিন্তু এখনও জীবনআসছে না ফোনও বন্ধ।লিমা প্রায় কাঁদার অবস্থা।ও কেক কাটতে রাজি হচ্ছে না জীবনকে ছাড়া।অবশেষে সবার জুড়াজুড়িতে রাজি হলো।কিন্তু মোমবাতি নেভানোর আগে।

জীবন: কি রে আমাকে ছাড়াই মোমবাতি নিভাচ্ছিস.?? লিমা তাকিয়ে দেখে জীবন।লিমা ঠিক থাকতে না পেরে দৌড়ে যায় জীবনের কাছে।কিন্তু শাড়ির সাথে পা আটকে পড়ে যেতে থাকে।ঠিক তখনই জীবন লিমাকে ধরে ফেলে।আর লিমা জীনের ঠোটে নিজের ঠোট মিশিয়ে দেয় সবার সামনে। লিমা ওর বাবার কাছে গিয়ে,,,

লিমা: বাবা আমার জন্মদিনের গিফ্ট কিন্তু দাওনি এখনও।তাই আমি তোমার কাছ থেকে জীবনকে গিফ্ট চাই।বলো বাবা তুমি আমাকে দিবে।বলো বাবা প্লিজ।(কাঁদতে কাঁদতে।) তখন অনুষ্ঠানের সবাই বলতে থাকে এত করে যেহেতু অনুরোধ করছে দিয়ে দিন না।

লিমার বাবা: জীবন একটু এদিকে আসো তো। লিমার বাবা জীবনকে তার পরিবারে কে কে আছে জানতে চাইলো।এবং ফোন করে আসতে বললো।

লিমার বাবা: লেডিস এন্ড জেন্টেলম্যান। আপনাদের সকলের উপস্থিতিতে আমার একমাত্র মেয়ে আমার কাছ থেকে সামান্ন উপহার চেয়েছে সেটা কি আমি ফেলতে পারি।আজকে এই পার্টিতেই জীবন এবংলিমার ইংগেইজমেন্ট ঘোষনা করা হলো। ইংগেইজমেন্ট এর কিছুদিনপর ওদের ধুম ধাম করেই বিয়ে হয়ে গেলো আজকে বাসর রাত।

জীবন: সত্তিই তুই আমাকে বড় সারপ্রাইজ দিয়েছিস রে।

লিমা: দেখতে হবে না বউটা কার।

জীবন: হুম।তুই কিন্তু কথা দিয়েছিলি বিয়ের পর মিষ্টি খাওয়াবি।কিন্তু এখনও খাওয়াস নাই।

লিমা: ওরে আমার জান বাবুটারে এত সখ কেন মিষ্টি খাওয়ার।

জীবন: না খাওয়ালে নাই।যাচ্ছি অন্য কোথাও পাই কি না।

লিমা: কুত্তা আমাকে কি তোর চোখে পরছে না..??

জীবন: মানে..??

লিমা: সবকিছু কি তোকে মুখ দিয়ে বলে দিতে হবে।জোর করে খেতে পারিস না।

জীবন: ও তাই বলো।

অতঃপর ইতিহাস।

(সমাপ্ত)

গল্পের বিষয়:
রোমান্টিক

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত