রোমান্টিক বউ

রোমান্টিক বউ

-ঠাসসসসস! ঐই তোর কি লজ্জা করেনা প্রতিদিন আমার হাতে চড় খাস? ?[রসনি] প্রতিদিনের মতো আজকেও গালে হাত!কারন একটাই; রসনির হাত ধরেছিলাম! কি ভাবছেন? আমি ছেলেটা খারাপ?আরে নারে ভাই! রসনি হলো; আমার বউ! ও আর আমি একি কলেজে পড়ি! তবে ও আমার দুইবছরের সিনিয়র! তাইতো এতো সমস্যা!

আর চড় খাওয়ার কারন হলো;কলেজে এসে আজকেও ওর হাত ধরতে চেয়েছিলাম! আর তার ফলসরূপ একটা চড় উপহার পেলাম! কি আর করার!প্রতিদিনের মতোআজকেও চশমাটা খুলে,চোঁখের জলগুলোকে মুচে, ক্লাসে চলে গেলাম! জানি আজকেও ভালো লাগবে না ক্লাসটা!তাই ক্লাস থেকে বের হয়ে মাঠের দিকে যেতে লাগলাম![কলেজের সামনেই মাঠ!] মাঠের এক কোনেআনমনে বসে রসনির কথা; ভাবছি আর এদিক-ওদিক তাকাচ্ছি! হঠাৎ করেই মাঠের কোনে;চোঁখ পড়তেই দেখলাম রসনি তার বান্ধবীরা মিলে মাঠের পশ্চিম পাশে একটা গাছের নিচে বসে আড্ডা দিচ্ছে! আমিও হাঁটতে হাঁটতে ওর কাছে গেলাম! ওকে দেখেই বুঝতে পারলাম; আমি এখানে আসবো ও এটা আশা করেনি! আমার দিকে রাগী চোঁখ নিয়ে তাকিয়েই বললো-

-কি চাই এখানে[রসনি]
-শুনোন না!

আমার খুব খারাপ লাগছে! চলুন না বাসায় চলে যায়![মাথা নিচু করে] আমার কথা শুনে রসনির সব ফের্ন্ডরা হো হো করে হেসে দিলো! আমি মাথা নিচু করেই দাড়িয়ে আছি! রসনি কিছু বললো না বলে- আমি আবার জিঙ্খেস করলাম;

-কি হলো যাবেন না?[ভয়ে ভয়ে]
-ছোটলোকের বাচ্ছা যা এখান থেকে!

আর একবার যদি কিছু কথা বলতে আসিস তো তোর হাত-পা ভাঙ্গানোর ব্যবস্থা করবো! [রসনি] রসনির কথা শুনে চোখের জলটাকে ধরে রাখতে পারলাম না! আমি জানতাম;ও আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করবে! তবে এতোটা করবে ভাবিনি! কি করেছিলাম আমি?শুধু তো একসাথে বাসায় যেতে চেয়েছিলাম! তাই বলে; এতো অপমান! আর একমুহুতো দাড়ানো ঠিক না এখানে! কোনো জবাব না দিয়েই বাসায় চলে আসলাম! এসেই দিলাম একটা লম্বা ঘুম! ঘুম থেকে ওঠলাম সন্ধায়! কিন্তু রসনিকে দেখলাম এখনো আসিনি!তাই চাচার কাছে গিয়ে জিঙ্খেস করলাম;

-চাচা[কাজের লোক]রসনি এসেছিলো?[আমি]
-না বাবা ম্যাডাম তো আসেনাই![চাচা]
-ঠিক আছে চাচা[আমি]

কি ব্যাপার ও আজ এতো দেরি করছে কেনো? একটা ফোন করে দেখিতো কোথায় আছে ও! “আপনি যেই নাম্বারে ফোন করেছেন সেটি এখন বন্ধ আছে”! ওর ফোনও তো দেখছি সুইচ অফ! রুমে গিয়ে আবার শুয়ে পড়লাম!কিছুক্ষন শুয়ে থাকার পর দরজা ধাক্কার শব্দ শুনলাম! ইচ্ছা না থাকা সত্বেও দরজাটা গিয়ে খুলে দিলাম!

-কি ব্যাপার আজ এতো দেরি করে এলে কেনো?[রসনিকে উদ্দেশ্য করে] রসনি কেনো জবাব না দিয়েই ওর রুমে চলে গেলো! [আমরা আলাদা আলাদা রুমে থাকি] আমিও ওর পিছন পিছন গেলাম!

-কি হলো কথা বলছো না কেনো! এতোক্ষন কোথায় ছিলে?[আমি]
-ঠাসসসসসস-ঠাসসসসসসস! ঐই ছোটলোকের বাচ্ছা তোর কাছে এর জবাব দিতে হবে নাকি! আমার যখন ইচ্ছা তখনি আসবো![রসনি] মাথা নিচু করে দাড়িয়ে আছি! ওর উওরের পাল্টা জবাব; দেবার মতো অবস্থা আমার নেই!

-কি হলো দাড়িয়ে আছিস কেন? যা বের হো! অশ্রুভেজা চোখে ওর রুম থেকে বের হয়ে গেলাম! দেখতে দেখতে এভাবেই কেঠে গেলো দুটি মাস! রসনি এখন আগের চেয়ে বেশি খারাপ আচরন করে আমার সাথে! প্রতিদিন রাত করে বাড়ি ফেরে! আমি কিছু বললে নানারকম হুমকি দেয়! তবুও নিরবে সহ্য করে যাচ্ছি! যতই হোক আমার স্ত্রী। আজকে আমাদের প্রথম বিবাহ বার্ষিকী! কিন্তু আজও পযর্ন্ত ওকে স্পর্শ করিনি! প্ল্যান করেছি বিবাহ বার্ষিকি উপলক্ষে ওকে কিছু একটা গিফট দেবো! কিন্তু কি দেয়া যায়? অবশেষে ঠিক করে ফেললাম কি দেবো! প্ল্যান অনুযায়ী সব ঠিক করে রাখলাম! তারপর রসনির কাছে গিয়ে বললাম;

-গুড মর্নিং! আজকে তো আমাদের বিবাহ বার্ষিকী! আজকে কি কলেজে না গেলে হয়না?[ভয়ে ভয়ে]
-ঠিক আছে!

যাবোনা![ঘুম ঘুম চোঁখে] রসনির কথা শুনে অনেকটা অবাক হয়ে গেলাম! আমি কখনো কল্পনাও করিনি ও আমার কথায় রাজি হয়ে যাবে! আজ আমার অনেক খুশি খুশি লাগছে! ইচ্ছে করছে চিৎকার দিয়ে হাসতে! কিন্তু এটা করা ঠিক হবেনা কেউ একজন বলেছিলেন; “যতই বেশি হাসিবে ততই বেশি কাদিবে!” আমিও রসনির রুম থেকে বের হয়ে মার্কেটে আসলাম! আজ নিজেকে অনেক খুশি খুশি লাগছে! রাস্তা দিয়ে খুশি মনেই হেঁটে যাচ্চি এমন সময় দিপুর ডাক![দিপু আমার ছোটবেলার বন্ধু] কিরে পাভেল কই যাস?[দিপু]

-এইতো দোস মার্কেট থেকে ফিরছি![আমি]
-কি ব্যাপার আজ এতো খুশি খুশি লাগছে কেনো তোকে?[দিপু]
-অনেকদিন পর রসনি আমার সাথে ভালোভাবে কথা বলেছে দোস! [খুশি হয়ে]
-বলিস কি? তাহলে কিন্তু পার্টি দিতে হবে দোস! [দিপু]
-আচ্ছা ঠিক আছে দেবো! এখন যাই দোস! অনেক লেট হয়ে গেছে![আমি]

-ঠিক আছে যা! আর পার্টির কথা মনে থাকে যেনো![হেসে হেসে] বন্ধুদের মাঝে যেটা খুব সচরাচর দেখা যায় তা হলো; কিছু একটা হলেই তাদেরকে পার্টি দিতে হবে নয়তো ট্রিট দিতে হবে! দিপুর কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বাসায় আসলাম। এসে দেখি রসনি রুমে নেই! তাই ফোন দিলাম!

-কোথায় তুমি?[আমি]
-কলেজে কেনো? আর তোকে না; না করছি ফোন দিতে আমাকে?[রাগী স্বরে]
-সকালে না বললে আজ কলেজে যাবে না![আমি]
-ঘুমের মধ্যে কি সব বলেছিলাম ওসব মনে নেই! ফোনটা রাখ![রসনি]
-আমি কলেজে আসছি তোমাকে নেয়ার জন্য!

তুমি ক্যাম্পাসেই থেকো![ফোনটা কেঠে দিয়ে] তারপর একটা রিক্সায় করে কলেজের সামনে গিয়ে নামলাম! ক্যাম্পাসে ঢুকতেই দেখলাম রসনি ও তার বান্ধবিরা কয়েকজন ছেলেদের সাথে আড্ডা দিচ্ছে! আমিও সোজা ঐ খানে চলে গেলাম!

-কি ব্যাপার কিছু না বলেই চলে এলে যে! চলো বাসায় যায়[রসনির হাত ধরে]
-মানে!

ঐ তোর কত বড় সাহস আমার হাত ধরে টানছিস! মোস্তফা[রসনির ফের্ন্ড] ওকে আচ্ছা করে শিক্ষা দিয়ে দে তো।[আমাকে দেখিয়ে] আমি কিছু বলার আগেই একটা ছেলে আমাকে; ঘুসি দিয়ে ফেলে দিলো! তারপর কয়েকটা মিলে ইচ্ছামতো কিল ঘুসি দিতে লাগলো! এতো গুলো ছেলের সাথে পেড়ে ওঠা আমার কাম্য নয়!শুধু শুনতে পাচ্ছি রসনি বলছে; “মার ইচ্ছামতো মার ওরে”আমার হাত ধরা কত বড় সাহস!” তারপর আর কিছু মনে নেই! যখন ঙ্গান ফিরলো তখন দেখি আমি হসপিটালে! পাশে কয়েকজন বন্ধু বসা!

-তোকে কত বার বলছি ওকে ডিবোর্স দিয়ে দিতে! তুই আমার কথা শুনলি না এখন দেখ![হৃদয়]
-উচিত শিক্ষা হয়েছে!

বউ যা এখন বউ বউ কর গিয়ে![নাঈমা] বন্ধুদের কথা শুনে কিছুই বলতে পারছি নাশুধু চোখের জল ফেলে যাচ্ছি!ঠিকি তো বলেছে ওরা। নিজের বউয়ের হাত ধরা কি অপরাধ?যাকে এতো ভালোবাসি সেই কিনা….! অনেক সহ্য করেছি এবার আমার পালা! বন্ধুরা চেয়েছিলো রসনির আব্বু-আম্মুকে সবকিছু খুলে বলার জন্য। কিন্তু আমিই না করে দিয়েছি! এমনকি আমার আব্বু-আম্মুকেও![আব্বু-আম্মু কানাডা থাকে] বন্ধুদের কেয়ারে আলহামদুলিল্লা অল্প কয়দিনেই সুস্থ হয়ে গেলাম হসপিতাল থেকে ছাড়া পেয়ে সোজা বাসায় গেলাম!দেখলাম রসনি বাসায় নেই। আশ্চর্য বা অবাক হলাম না।কারন এই ঘটনার পর বাসায় না থাকারি কথা!

-চাচা রসনি কোথায়।[চাচাকে উদ্দেশ্য করে]
-বাবা ম্যাডাম তো কাপড়-ছোপড় গুছিয়ে দুইদিন আগে বাবার বাড়ি চলে গেছে। যাওয়ার আগে এটা আমাকে দিয়ে গেছে![একটা কাগজ সামনে তুলে ধরে] কাগজটা হাতে নিয়ে পড়তে লাগলাম! <পাভেল জানি আমাকে কতটা খারাপ ভাববে! কিন্তু বিশ্বাস করো আমি জানতাম না!> পুরোটা পড়ার আগেই কাগজটাকে একটানে ছিড়ে ফেললাম! রুমে এসে আয়নার সামনে নিজেকে একবার ভালোকরে নিলাম? চশমাটাকে হাত থেকে ফেলে দিয়ে ভেঙ্গে ফেললাম! নিজেকে আজ থেকেই পরিবর্তন করে ফেলবো বলে! অনেকদিন পর কলেজে যাচ্ছি! তবে আগের পাভেল না! নতুন পাভেল হয়ে! বাইকটা নিয়ে একেবারে কলেজে ঢুকে গেলাম![আগে থেকেই বাইক চালাতে জানতাম] সবাই আমার দিকে অবাক হয়ে হা করে তাকিয়ে আছে! বাইকটা নিয়ে একেবারে ক্যাম্পাসে ঢুকে গেলাম! রসনিকে দেখলাম তার কয়েকজন বন্ধুবান্ধব নিয়ে বসে আড্ডা দিচ্ছে! আমাকে দেখেই অনেকটা অবাক চোঁখে তাকিয়ে রইলো! আমি দেখেও না দেখার ভান করে ক্লাসে চলে গেলাম! ক্লাসে গিয়ে বসলাম নাঈমার[বেস্ট ফের্ন্ড] পিছনের টেবিলে!

-কিরে পাভেল হারামী না তুই?[নাঈমা]
-হ দোস কেনো? তোদের ক্ষেত গাইয়া পাভেলকে আজ চিনতে পারছিস না?[মুচকি হেসে]
-তুই কি সত্যিই পাভেল?[অবিশ্বাস ের চোঁখে] বিশ্বাস না করারি কথা! যে পাভেল জীবনে কোনদিন শার্টের বোতাম খুলে হাঁটেনি! চোঁখে মোটা ফ্রমের চশমাটা পড়া থাকে সর্বদা! আর আজ সেই পাভেল কিনা শার্টের বোতাম খোলা রেখে কলেজে এসেছে!

-তোকে তো পুরাই হিরো লাগছে দোস[নাঈমা]
-হু আর এখন তোকে আমার হিরোইন সাজতে হবে! [আমি]
-দেখ পাভেল ফাজলামো করবি না! কি সব উল্টাপাল্টা বলছিস? যা বলার স্পষ্ট ভাবে বল![নাঈমা]
-ঠিক আছে ক্লাস শেষ হলে ক্যাম্পাসে একটু অপেক্ষা করিস সব বুঝিয়ে দেবো![আমি]
-ঠিক আছে দোস! [নাঈমা] ক্লাস শেষ হতেই নাঈমাকে নিয়ে ক্যাম্পাসে গেলাম! হু বল কি বলবি?[নাঈমা]

-তোকে একটু প্রেমের নাটক করতে হবে আমার সাথে! [নাঈমার দিকে তাকিয়ে]
-শোন পাভেল! তুই যা ভাবছিস এতে বিপরীতও হতে পারে! এক কাজ কর! আমি যে ভাবে বলি এভাবে কাজ করে যা![মুচকি হেসে]
-কি কাজ দোস?[অবাক হয়ে] তারপর নাঈমা আমাকে একটি প্ল্যানের কথা বললো!

-আইডিয়াটা মন্দ না! ঠিক আছে! এভাবেই চলে দেখি কি হয়![মনে মনে]
-ওকে আমি এখন যাই দোস![নাঈমা]

নাঈমাকে বিদায় দিয়ে বাসায় না গিয়ে ক্যাম্পাসেই বসে বসে বই পড়ছিলাম! হঠাৎ করেই সামনে কারো উপস্থিতি টের পেলাম! মাথা তুলে তাকাতেই একটা ঝাটকা খেলাম! রসনি আমার সামনে দাড়িয়ে আছে! ওকে দেখেই ওঠে চলে যেতে লাগলাম!

-প্লিজ পাভেল আমাকে ক্ষমা করে দাও! ঐ দিন মাথা ঠিক ছিলোনা!বিশ্বাস করো তখন আমার কি হয়েছিলো নিজেও বুঝতে পারিনি![কাদো কাদো গলায়]
-আর কিছু বলবে?[রসনিকে উদ্দেশ্য করে]
-প্লিজ আমাকে ক্ষমা করে দাও প্লিজ![হাত জোর করে] রসনির কথার উওর না দিয়েই বাইক র্স্টাট করলাম!
-যেওনা প্লিজ!

পাভেল পাভেল![পেছন থেকে ডেকে ডেকে] ওর কথা শুনেও না শুনার ভান করে বাইক নিয়ে চলে আসলাম ব্রিজের কাছে[মন খারাপ করলে এখানে আসি]! বাসায় যেতেও ইচ্ছেকরছে না! বাইকটা এক পাশে দাড় করিয়ে সন্ধা পর্যন্ত ব্রিজের ওপর বসে রইলাম!তারপর বাসায় গেলাম সন্ধায়!

বাসায় গিয়ে রুমে ঢুকতেই অনেকটা অবাক হয়ে গেলাম! অগোছালো রুমটা এতো গোছালো হলো কি করে? নিশ্চয় এটা চাচার কাজ! কাধ থেকে ব্যাগটা বিচানার ওপর রেখে বাথরুমে গেলাম হাত মুখ ধোয়ার জন্য। বাথরুমে ঢুকতেই কারো সাথে জেনো ধাক্কা খেয়ে তার ওপর পড়ে গেলাম!চোখ মেলে তাকাতেই অনেক বড় একটা ক্রাশ খেলাম! মনে হচ্ছে আকাশ থেকে কোনো পরী এসে আমার বুকের ওপর শুয়ে আছে! ভালোকরে তাকিয়ে দেখলাম এটা রসনি! ও হোঁচট খেয়ে আমার বুকের ওপর পড়ছে! আমি ওর চোখের দিকে তাকিয়ে রইলাম! রসনিও আমার চোখের দিকে তাকিয়ে রইলো! লজ্জায় কোনো কিছু বলতে পারছি না! না আর এভাবে থাকা যাবেনা! আর কিছুক্ষন এভাবে থাকলে ওর প্রেমে ফিদা হয়ে যাবো! তাই ওকে বুকের ওপর থেকে সরিয়ে দিলাম!

-তুমি এখানে!

কি চায়?[রাগী স্বরে] রসনি কিছু না বলে মাথা নিচু করে দাড়িয়ে রইলো! চুলগুলো ভেজা এলোমেলো!চুলের ওপর থেকে পানি পড়ছে! ভেজা চুলে মেয়েদের সুন্দর দেখায়এটা অনেকের মুখ থেকে শুনেছি! কিন্তু আজ তা স্বচোখে দেখলাম! ওর দিক থেকে চোঁখ ফেরাতেই পারছিলাম না!ইচ্ছে হচ্ছে ওকে ঝরিয়ে ধরে ওর কপালে একটা চুমু খায়ওর গোলাপী টোঠ গুলোকে ভিজিয়ে দিই! কিন্তু মন বলছে “পাভেল এতো সহজে ওকে ছেড়ে দিবি! ওকেও একটু কষ্ট অনুভব করতে দে”! তাই অনেক কষ্টে নিজেকে সামলে নিয়ে বললাম-

-কি হলো কথা বলছো না কেনো?[ধমক দিয়ে]
-তুমিকি এখনো আমার ওপর রাগ করে আছো পাভেল?

[আমার চোখের দিকে তাকিয়ে] রসনির কথার কেনো জবাব না দিয়েই বাসা থেকে বের হয়ে গেলাম! রাস্তায় হাঁটছি কিন্তু বার বার ওর চেহারাটা আমার চোখের সামনে ভেসে ওঠছে! বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়ে বাসায় ফিরলাম রাত ১টায়! চাচাকে[কাজের লোক] দেখলাম দরজার সামনে হেলান দিয়ে শুয়ে আছে!

-চাচা এতো রাতে এভাবে শুয়ে আছেন কেনো? রুমে গিয়ে ঘুমিয়ে যান![আমি]
-কে পাভেল বাবা! ম্যাডাম[রসনি] তোমার জন্য না খেয়ে কাঁদতে কাঁদতে টেবিলের ওপর ঘুমিয়ে গেছে![অশ্রুশিক্ত চোখে]
-আমি দেখছি চাচা!

আপনি গিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন যান! চাচাকে রুমে দিয়ে আমিও রুমে আসলাম! এসে দেখলাম রসনি খাবারের পাশে ঘুমুচ্ছে। চোখগুলো ফোলা ফোলা।সম্ভবত কেঁদেছে! ঘুমন্ত অবস্থায় ওকে বাচ্চাদের মতো লাগছে।আস্তে আস্তে ওর কাছে গেলাম! খাবারের পাশে দেখলাম একটা খাম! খামটা হাতে নিয়ে ছিড়লাম! তারপর পড়তে লাগলাম!”পাভেল আমাকে ক্ষমা করে দাও! সত্যি আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি! সত্যি পাভেল সত্যি! আমি ইচ্ছা করে এসব করিনি! আমাকে ক্ষমা করে দাও তুমি! আর কখনো তোমাকে কষ্ট দেবোনা! কথা দিলাম!

পাগলিটাকে কষ্ট দিতে যে আমারও ভালো লাগেনা! আস্তে করে পাগলিটার ঠেটো একটা চুমু খেলাম! তারপর কোলে তুলে বিচানায় মধ্যে নিয়ে গেলাম! রসনিকে কোলে করে বিচানায় নিয়ে গেলাম! রসনির মুখটা আমার কাধের ওপর! না খেয়ে পাগলিটার মুখটা শুকিয়ে গেছে! বিচানার ওপর পাগলিটাকে শুইয়ে দিয়ে পাগলিটার কাজলকালো চোঁখগুলোর দেখি তাকিয়ে আছি! রসনিকে যতই দেখছি ততই দুর্বল হয়ে যাচ্ছি ওর প্রতি! পাগলিটা আজ সাজুগুজু করেছে দেখছি! টোঁঠে গাঢ় করে লিপস্টিক দেয়া! খুব ইচ্ছে করছে ওর লিপস্টিকে আমার টোঠগুলোকে রাঙ্গাতে! কিন্তু পাগলিটার ঘুম ভেঙ্গে যাবে বলে মনের ইচ্ছাটাকে মনেই পুষে রাখলাম! এইরে ভুলেই গেছি পাগলিটা যে না খেয়ে ঘুমিয়ে গেছে! পাগলিটাকে না খেয়ে ঘুমোতে দেয়া যাবেনা! তাই ডাক দিলাম!

-রসনি,রসনি! কিছু খেয়ে নাও![শরীরে ধাক্কা দিয়ে] না পাগলিটার ঘুম ভাঙ্গছেই না দেখছি! তাই আবার ডাক দিলাম!
-বউ ও বউ কিছু খেয়ে নাওনা[হাতে হাত রেখে] এইতো পাগলিটার ঘুম ভেঙ্গেছে!
-কি হলো খাবেনা?  পাগলিটা কিছু না বলেই অশ্রুশিক্ত চোখে আমাকে ঝরিয়ে ধরলো! আমিও পাগলিটাকে শক্ত করে ঝরিয়ে ধরলাম!
-আমাকে ক্ষমা করেছো তো তুমি? [কাদতে কাদতে]
-হু পাগলি করেছি! তবে একটা শর্ত আছে![শর্ত বলতে কিছুই নাই চুমু  খাবো এই আরকি]
-কি শর্ত?[কাদো কাদো চোখে] দুষ্টুমির একটা হাসি দিয়ে রসনির দিকে তাকালাম! ও আমার চোখের দিকে তাকিয়েই বুঝে ফেললো আমি কি চায়!
-বুঝতে পেরেছি তুমি কি চাও! তবে এখন না![রসনি]
-তাহলে কখন? [আমি] রসনি লজ্জায় কিছু বলতে পারলো না! আমিও কিছু না বলেই ওর পাশে শুয়ে পড়লাম!
-পাভেল শুনোনা![রসনি]
-হু জানু বলো!
-কিছু খেয়েছো![রসনি]
-না! তুমিও তো খাওনি?[মন খারাপ করে]
-হু[রসনি]

আস্তে আস্তে বিচানা থেকে নেমে খাবারের টেবিল থেকে খাবারগুলো এনে বিচানায় রাখলাম! তারপর পাগলিটাকে খেতে বললাম!

-ওঠো জান খাবে![রসনির কপালে হাত রেখে]
-খেতে পারি আমারও একটা শর্ত আছে!
-এ!তোমার আবার কি শর্ত?[আমি]
-আগে কথা দাও পাভেল তুমি আমার কথা রাখবে! [রসনি]
-ঠিক আছে! কথা দিলাম![হাতে হাত রেখে]
-কাল থেকে তোমার সাথে আমি কলেজে যাবো! এবং আমাকে স্ত্রীর অধিকার ও মর্যাদা দিতে হবে! পারবে না পাভেল?[অশ্রুশিক্ত চোখে]

-দূর পাগলি কাদেনা!আমিতো তোমাকে স্ত্রীর অধিকার আগে থেকেই দিয়ে রেখেছি! পাগলিটা আমাকে ঝরিয়ে ধরে কাদতে লাগলো! আমি পাগলিটার চোখের জলগুলো মুচে দিয়ে খাইয়ে দিতে লাগলাম! পাগলিটাও আমাকে খাইয়ে দিতে লাগলো! খাবার খেয়েই পাগলিটাকে নিয়ে শুয়ে পড়লাম! হঠাৎ করেই পাগলিটা আমাকে পিছন থেকে ঝরিয়ে ধরে বললো

-তোমার কাছে একটা আবদার করবো দিবে কি পাভেল?[রসনি]
-পাগলিটার জন্য এই পাভেল সব করতে পারে! বলো কি আবদার?[রসনিকেও ঝরিয়ে ধরে]
-আমি একটা বেবি নিতে চায়! আমি মা হতে চায়! দিবে কি আমাকে একটা বেবি গিফট?[কানের কাছে মুখ এনে]

রসনির কথা শুনে নিজের কানকেই বিশ্বাস করতে পারছি না! বাবা হতে কে না চায় বলুন! পাগলিটাকে শক্ত করে ঝরিয়ে ধরে বিচানার মধ্যে আবদ্ধ হলাম! ডিম বাতির আলোতে পাগলিটার লজ্জামাখা মুখটা দেখতে পাচ্ছি! কম্বলটাকে শরীরের ওপর টেনে দিয়ে পাগলিটার টোঠে টোঠ মিশিয়ে দিলাম! তারপর আর কি! আপনাদের পাভেল ভাই অনেকদিন পর আপনাদের রসনি ভাবির সাথে বিড়াল মারলো!

গল্পের বিষয়:
রোমান্টিক

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত