হঠাৎ বাসর

হঠাৎ বাসর

বাসর ঘরে ঢুকেই দেখি বউ আমার বই হাতে নিয়ে বসে আছে। আমাকে দেখেই বলল, দেখুন দুদিন পর আমার এক্সাম আজ সকালে নিপা বলল এক্সাম ডেট আগায় দিছে তাই ১৫ দিন পরের এক্সাম দুদিন পর হবে। বিয়ের প্যারায় কিছুই পড়া হয় নাই। তাই এখন বিরক্ত না করলেই খুশি হবো। পরে পরিচিত হওয়ার অনেক সময় পাব । আর হ্যা Thank you।

আমাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে আবার বইয়ে মন দিল আদ্রিতা। ওহ হ্যা আমার বউয়ের নাম আদ্রিতা। আর আমি তৌকির। কিছু না বলে ওর দিকে পিঠ করে শুয়ে পরলাম। একটু আজব লাগছে। কিছুক্ষন আগেও যাকে চিনতাম না তার সাথে বিছানা সেয়ার করছি। একেই বলে নিয়তি। কখন কি হয়ে যায় বলা যায় না। আর কার সাথে কখন কার বিয়ে হয় সেটাও কেউ বলতে পারে না। এই যেমন আজ যদি আদ্রিতার বর লাস্ট মোমেন্টে পালিয়ে না যেত তাহলে কি আদ্রিতার সাথে আমার বিয়েটা হতো। প্রথম থেকেই বলি। আদ্রিতার বাবা আতিক আংকেল আমার বাবার পারসোনাল সেকরেটারি। সেকরেটারি বললে ভুল হবে আপন ভাইয়ের চেয়ে কম নয় দুজনের সম্পর্ক। তবে তার যে এত বড় একটা মেয়ে আছে এবং মেয়েটার যে বিয়ে তা আমি জানতাম না।

তাই বাবা যখন বলল আতিক আংকেলের একমাত্র মেয়ের বিয়ে তখন বেশ অবাকই হয়েছিলাম। তারপরের ঘটনা খুবই সাধারন। আদ্রিতার বর আই মিন না হওয়া বর বিয়ে ছেড়ে পালিয়ে গেল। আর আতিক আংকেল তো এই যায় সেই যায় অবস্থা। তাই দেখে বাবা আমাকেই বলি কা বাকড়া বানিয়ে দিলেন। আমি আর কি করব বাবার অনুরোধ আর আংকেলের অবস্থা দেখে রাজি হয়ে গেলাম। সব একরকম হঠাৎ করেই হয়ে গেল। বিয়ের আগে বউকে দেখার ও সুযোগ হয়নি আমার। কিন্তু বিয়ের পর যখন আয়নায় ওর মুখটা দেখেছি কি বলব পুরাই ক্রাশিত হয়ে গেছি। তাই বাসরের জন্য আর তর সইছিল না। মনে মনে ঐ বেটাকে হাজার শুকরিয়া দিচ্ছিলাম। কিন্তু বাসর ঘরে ঢুকে পুরাই টাস্কি খেয়ে গেলাম। আজ এত বড় ক্রাইসিস হয়ে গেল তবুও বউয়ের আমার কোনো ভাবান্তর নাই। সে আছে তার এক্সাম নিয়ে ভাবা যায়। কি আর করা বাধ্য হয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম।

সকালে কারো মিষ্টি কন্ঠে ঘুম ভাঙল। চোখ খুলে বোঝার চেস্টা করলাম কই আছি। না আমি তো আমার রুমেই আছি তাহলে এই সুন্দরি রমনি আসল কোথা থেকে। ও হ্যা মনে পরেছে ওর সাথে কাল হঠাৎ করেই আমার শুভ বিবাহ সম্পুর্ণ হয়েছে। চোখ কচলে ভালো করে বউয়ের দিকে তাকালাম। আবার ওর উপরে ক্রাশ খেলাম। উফ ওর ভেজা চুল আর বাসন্তি কালারের শাড়ি দেখেই ঘোরে চলে গেলাম। ঘোর কাটলো ওর মিষ্টি কন্ঠেই। তাড়াতাড়ি উঠে ফ্রেস হয়ে নিন। নাস্তার টেবিলে বাবা বসে আছে। ওর কথা শুনে বুঝলাম ইতিমধ্যেই  বাবার সাথে ওর ভাব জমে গেছে। এবার বাবা একটু সস্তি পাবে। মা মারা যাওয়ার পর থেকেই এই সংসার টা নারীহীন ধ্বংস হচ্ছিল এখন আদ্রিতার ছোয়ায় আবার সেটা জীবন ফিরে পাবে।

ফ্রেস হয়ে টেবিলে গেলাম বাবা বললেন আজ সব রান্না আদ্রিতা করেছে। শুনেই জিভে জল চলে এল। প্রায় হামলে পড়লাম খাবারের উপর। আহা খাবার তো নয় অমৃত। বুঝলাম বউ আমার রুপেই নয় বরং গুণেও অসাধারন। খাবার টেবিলেই বাবা বললেন রিসেপশন এক সপ্তাহ বাদে দিবেন। আদ্রিতার এক্সাম এর জন্য। আদ্রিতা খুব খুশি হয়ে বাবাকে জড়িয়ে ধরে Thank you বলল। বাবাও ওর মাথায় হাত বুলিয়ে চলে গেলেন। খাওয়া শেষে আমরাও রুমে চলে এলাম। আজ একমাস হলো আমাদের বিয়ের কিন্তু এখনো আদ্রিতা আমার সাথে স্বাভাবিক হতে পারেনি। প্রতিদিন ভারাক্রান্ত মন নিয়ে বাসায় ফিরি। কিন্তু বউআমার এ বাহানা সে বাহানায় রাত কাটিয়ে দেয়। কেউ একজন যে তার জন্য ছটফট করছে সেদিকে ওনার কোনো খেয়ালই নেই। একদিন অফিস থেকে বাসায় এলাম।

বিয়ের পর বাবা অফিসের সব দায়িত্ব  আমার ওপর দিয়ে নিজে গায়ে হাওয়া লাগিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। কাল আবার সাতদিনের ট্যুরের জন্য বেরিয়েছে আতিক আংকেল থুক্কু শশুর বাবা কে নিয়ে। তো বাসায় ঢুকতে গিয়ে দেখি মেইন ডোর খোলা। ভয়ে ভয়ে ভেতরে ঢুকলাম। পুরো বাড়ি অন্ধকার। আমি আবার ছোটবেলা থেকেই ভুতে ভিষন ভয় পাই। তাই অন্ধকার দেখে ভুতের কথা মনে পড়ে গেল। হঠাৎ করে কে যেন মেইন ডোর আটকে দিল। আমি ভয়ে চিৎকার দিয়ে পিছনে ফিরলাম। অন্ধকারে একটা নারী মুর্তি দেখে বুঝলাম এটা ভুত না পেত্নি। আমি কাপা কাপা গলায় বললাম, পে পেত্নি আন্টি আ আমাকে মারবেন না। মাত্র একমাস হলো বিয়ে হয়েছে এখনো বাসর ও করি নাই। আমি বিনা বাসরে মরতে চাইনা প্লিজ আমাকে মারবেন না।

আমার কথা শুনে পেত্নিটার মন গলল কিনা বুঝলাম না তবে সে সাথেসাথেই খুব জোরে হেসে উঠল আর আমার দিকে এগিয়ে এসে আমার গলা জড়িয়ে বলল, আমার বরটা যে এত ভিতু জানা ছিলনা তো। কথা শুনে বুঝলাম আজ বউয়ের সামনে ইজ্জতের ফালুদা হয়ে গেছে। কি বলব বুঝতে পারছিনা। এমন সময় বউ আবার বলল, চিন্তা করোনা বাসর ছাড়া আজ তোমার সাথে কিছুই হবে না। শুনে মনটা খুশিতে ভরে উঠলো। আমার জীবনে এভাবে হঠাৎ করেই হচ্ছে কেন সব। হঠাৎ বিয়ে আর এখন হঠাৎ বাসর।

গল্পের বিষয়:
রোমান্টিক

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত