পাগলী বউ

পাগলী বউ

(আমি আব্দুল্লাহ আল নোমান। অনার্স শেষ করে যেই নাহ আব্বুর বিজনেস দেখাশুনা করছি সেই থেকেই আব্বু-আম্মু বিয়ের জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। সাথে ছোট বোন বিথী টা ও, ওর নাকি একটা ভাবি চাই সময় কাটানোর জন্য।) সব মিলিয়ে রাজি হয়ে গেলাম।

তো মেয়ে দেখতে যাওয়ার সুবাদে অফিস থেকে বিকাল ৩ টার মধ্যেই আসতে হলো। ফ্রেশ হয়ে গাড়ি নিয়ে আব্বু-আম্মু,বিথী সবাই রওনা হলাম। পথিমধ্যে জানতে পারলাম মেয়েটা আব্বুর বন্ধুর মেয়ে।

যাই হোক আংকেলের বাড়ি এসে পৌঁছলাম (আব্বুর বন্ধু হওয়ার সুবাদে আংকেল)। আব্বু-আম্মু, আনটি-আংকেল সবাই কথা বলতেছে।এই পাকে বিথী টা ও মেয়ে দেখতে চলে গেছে ভিতরের রুমে।

আমি পুরো একা, অনেক নার্ভাস ফিল করছি।তারপর হালকা নাস্তা খেয়ে মেয়ে দেখার অপেক্ষায় আছি( যদিওবা আব্বু-আম্মু, বিথী সবারই দেখা আছে আগে থেকেই)।

তো মেয়ে টা আসলো সবাইকে সালাম দিলো, কেমন আছি এই সেই।বড়রা সবাই কথা বলতেছে, আমাকে আর মেয়েটা কে আলাদা ভাবে কথা বলার জন্য পাঠানো হলো। আমি এই প্রথম অচেনা একটা মেয়ের সামনে দাড়িয়ে কথা বলার জন্য এক বুক সাহস নিয়ে।

আমি- আপনার নাম টা তো জানা হলো না।
মেয়ে- নাজমা সুলতানা তুলি।
আমি- আমি আব……
মেয়ে- বলতে হবে না বিথী আমাকে সব বলেছে।
আমি- ও বাদর টা তাইলে সব আগেই বলে দিয়েছে?
তুলি- হুম।
আমি- তো কিসে পড়তেছেন?
তুলি- অনার্স থার্ড ইয়ার।
আমি- ও গুড।

আচ্ছা যাই হোক কিছু কথা বলার ছিলো বলি, আমাদের ফ্যামিলি অনেক হ্যাপি ফ্যামিলি। পরিবারের সুখ টা ই এইখানে মুখ্য। আমি জানি, আপনার মনে প্রশ্ন জাগতেছে যে আপনাকে এই সব কেন বলতেছি? কারণ টা হচ্ছে আমি জানি আমার পরিবার আমার জন্য আপনাকে চয়েজ করে রাখবে তাই এসব বলা।আমি আপনার রূপ-গুণ কিচ্ছু চাই না, শুধু পরিবারটা কে খুশি রাখা টা ই চাই,পারবেন?

তুলি- ইনশাল্লাহ, চেষ্টা করবো সবসময়।
আমি- আপনার কিছু বলার আছে?
তুলি- হুম,তবে এখন না বাসর রাতেই বলবো( বলে দৌড়ালো)।

তারপর আর কি, আব্বু- আম্মু ৫ দিনের মাথায় বিয়ে ঠিক করলো। আজ হলুদ, সবাই মজা করতেছে। আর আমি বেচারা বসে বসে দেখতাছি।দেখতে দেখতে হলুদ বৌ-ভাত শেষ হয়ে কান্নাকাটি করে তুলিকে নিয়ে আসলাম।সবাই ওকে দেখতে আসছে, আর গিফট দিচ্ছে। রাত ১১ টা বাজে, আম্মুর ডাকে বন্ধুদের সাথে আডডা শেষে তুলির কাছে গেলাম।দরজা অফ করতে ই সালাম দিলো আমি বুকে টেনে নিলাম।

আমি- যাও, ড্রেস চেঞ্জ করে ফেলো।
তুলি- আচ্ছা, আপনিও।

১০ মিনিট পর,,

আমি- তোমার না কি কথা আছে আজকের রাত টা তে?
তুলি- হুল,বলি।আমি চাই যে, আপনিও আমার সব কিছুতে পাশে থাকেন,আমার ইচ্ছে গুলোর মূল্য দেন, মাঝে মাঝে সবাইকে নিয়ে ঘুরতে যান, স্পেশাল দিন গুলোকে স্মরণীয় করে রাখেন, সর্বোপরি আমাকে অনেক ভালোবাসুন।
আমি- হুম,যেমন আদেশ মহারাণী।
তুলি- চলেন আজকের রাত টা চাঁদ দেখে কাটিয়ে দি।
আমি- হুম চলো,আর আপনি আপনি না করে তুমি করেই বলবা।
তুলি- ওকে, তো এখন তোমার কোলে মাথা রাখি?
আমি- হুম কেন নয়।

তারপর থেকেই আমদের দাম্পত্য জীবন শুরু। আর ওর লড়াই টা। ওর লড়াই হলো যে কোনো ভাবে পরিবারের সুখ।এরপর থেকেই ওর ডাকে ঘুম ভাঙতো। নামাজ পড়ে তার সাথে একটু হাটাহাটি। তারপর সকালের নাস্তা তৈরি, আম্মুকে একটা কাজ ও করতে ন দেয়া,আব্বুর ঔষধ খাওয়ানো, বিথীর পড়ালেখায় সাহায্য, আমার অফিস এর কাগজপত্র গুছিয়ে দেয়া,টাই টা বেঁধে দেয়া সব কাজ গুলো ও নিরর্ধিদায় করতো আর বিনিময়ে পেতো পরিবারের সবার আদর, স্নেহ আর ভালবাসা। এমন একজন স্ত্রী সবাই চায়। বেঁচে থাকুক আমাদের ভালবাসা আর হ্যাপি ফ্যামিলি। দোয়া করবেন সবাই।

সমাপ্ত

গল্পের বিষয়:
রোমান্টিক

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত