মধ্যেরাতের প্রেম

মধ্যেরাতের প্রেম

আমি ফাইলটা নিয়ে ইভানার ডেক্সে যাব কি যাব না এটা নিয়ে একটু চিন্তা করতে লাগলাম। এই মেয়ে যা রাগী। ভাবলাম পিয়নকে দিয়ে ফাইলটা ওর টেবিলে পাঠিয়ে দেই। কিন্তু পরে তো সামনা সামনি হতেই হবে, সুতরাং না গিয়ে উপায় নেই। অবশ্য ফাইল গুলা তো আমাকেই বুঝিয়ে দিতে হবে কিভাবে তৈরি করেছি। এত চিন্তার কোন কারন নেই যা হবার হবে। আমি ইভানার ডেক্সের দিকে পা বাড়ালাম…

“কেমন আছেন? ওর ডেক্সে এসে চেয়ারটায় বসে জিজ্ঞেস করলাম ভাল আছে কিনা। ইভানা এই কথার উওর না দিয়ে চুপ করেই ছিল। আমার দিকে একবারো তাকালো না। আমি যে ওর টেবিলের সামনে এসে বসেছি মনে হচ্ছে ও যেন কিছুই বুঝতে পারে নি। আমি ফাইলটা টেবিলে রেখে এহেম এহেম করে কয়েকটা কাশি দিলাম।

“কাশির লক্ষ্যন কিন্তু ভাল না। ঔষধ খেয়ে নিবেন। আমি ওর কথাটা ঠিক বুঝলাম না। কাশির লক্ষ্যন ভাল না মানে? আমি কিছু বলতে যাব ইভানা আবার বলল….

“তা কতদিন ধরে চলছে?
“স্যরি কিছু বুঝি নি।
“না বুঝার কি আছে? এইসব আদান প্রদান কত দিন ধরে চলছে?

যে কথাটার জন্য মনে মনে ভয় হচ্ছিল সেই কথাটাই জিজ্ঞেস করলো। যদিও আমি কথাটা বুঝতে পেরেছি ও কিসের ইঙ্গিত করেছে। তারপরো বললাম..

“কিসের আদান প্রদানের কথা বলতেছেন? একটু ক্লিয়ার করে বলবেন?
“না কিছু না। আমি বলতে চাচ্ছিলাম আর কি, আপনার গলার সাথে আপনার কাশির সম্পর্ক কতদিন।

মেয়ে মানুষ বড় চালাক। কথা ঘুড়িয়ে প্যাচীয়ে ভালই বলতে পারে। মেয়েরা এক কথা দিয়ে অন্য কথার মাঝে হিট লাগাতে পারে। যেন কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা দেওয়ার মত। আসলে আমি প্রতিদিনের মত ঠিক টাইমেই অফিসে আসি। আজকে ১৫ মিনিট আগে আসি। কয়েকজন ছাড়া এখনো অনেকে অফিসে আসে নি। এসেই আমার চেয়ারে কিছুক্ষন বসে ছিলাম। এমন সময় অহনা আমার টেবিলের সামনের চেয়ারটায় বসে। অহনা আমাদের অফিসেই কাজ করে। দেখতে শুনতে ভালই। তবে এই মেয়ের একটা কাজ আমার ভাল লাগে না। ছেলেদের মত প্যান্ট শার্ট পড়ে আসে। এই জিনিসটা আমার একদম পছন্দ নয়। আমি কিছুক্ষন অহনার দিকে তাকিয়ে থেকে বললাম….

“কিছু বলবেন?
“বলতে তো অনেক কিছু চাই। সব কথা কি বলা যায়? বুঝে নিতে হয়।

আমি একটু মাথায় হাত দিয়ে চুল চুলকালাম। আরে এই মেয়ে বলে কি? আমার চুপ থাকা দেখে অহনা বলল…

“আমার দিকে একটু ভাল করে দেখুন তো। কেমন লাগছে আজকে আমায়?
“আপনি যেমন ছিলেন তেমনি আছেন। আপনাকে বরাবরের মতই সুন্দর লাগছে।
“উহু আপনি একটা জিনিস ভাল করে খেয়াল করেন নি। আমি আজকে একটু ডিফারেন্ট ভাবে অফিসে এসেছি। একটু ভাল করে দেখে বলুন।

আমি কি বলব কিছু বুঝতে পারছি না। এই মেয়ের কথা বার্তা আমার কাছে মোটেও সুবিধা লাগছে না। একটু খেয়াল করে তাকালাম। আসলেই অহনাকে আজকে একটু ডিফারেন্ট লাগছে। আজকে শাড়ী পড়েছে।

“আজকে আপনাকে বাঙ্গালী মেয়ে মনে হচ্ছে। বাঙ্গালী মেয়েদের কিন্তু শাড়ীতেই মানায়।
“আজ বাঙ্গালী মেয়ে মনে হচ্ছে, এর আগে কি সানি লিউন মনে হত? হি হি হি।

আমি কি বলব না বলব কিছুই ভেবে পাচ্ছি না। কোন প্রকৃতির মেয়েকে নিয়ে টান দিলরে বাবা। এই মেয়ে কি বলে, না বলে কথার কোন আগামাথা নেই। একটু স্বাভাবিক হয়ে হাসি দিলাম।

“এইখানে হাসার কি আছে? আমাকে নিশ্চয় সুন্দর লাগছে না। তাই হাসতেছেন।
“সত্য বলতেছি আপনাকে শাড়ি পড়াতে খুব মানিয়েছি। এরপর দুজনেই একটু চুপ করে রইলাম। অহনাই নিরবতা ভেঙ্গে বলল..

“গোলাপ আপনার অনেক পছন্দ তাই না?
“কেন বলুন তো?
“না তেমন কিছু না।

আমার টেবিলের উপরে একটা মগ আছে ঐটাতে একটা গোলাপ ফুল গতকাল রেখেছিলাম। ফুলটা এখনো অনেকটা তাজা অবস্হায় আছে। থাকবেই তো মগে পানি ঢেলে ঐটাতে রেখেছি। ফুলটা ইভানার জন্য কিনেছিলাম কিন্তু আর দেওয়া হয় নি। আমি লক্ষ্য করলাম অহনা বার বার ফুলটার দিকে তাকাচ্ছে। ওর এই রকম তাকানো দেখে বুঝতে পারলাম আমি যেন ওকে ফুলটা দিয়ে দেই। ভাবলাম আজকে শাড়ী পড়ে এসেছে ফুলটা দিয়ে দেই খুশি হবে। আর ঝামেলা বাজল ঠিক তখন, যখন আমি ফুলটা অহনাকে দিচ্ছিলাম ঐ দৃশ্যটা ইভানা অফিসে ঢুকতে না ঢুকতেই দেখে ফেলে। আমি অনেকটা ভয় পেয়ে গিয়েছি ইভানা কি না কি মনে করে। আর যে সন্দেহটার জন্য মনে মনে ভয় হচ্ছিল সেই সন্দেহটাই ঠিকঠাক জায়গায় লেগে গেল। আমাকে সোজাসোজা না বলে ঘুড়িয়ে বলেছে, কতদিন ধরে চলছে কাশি। মেয়েরা ঘুড়িয়ে কথা বলাতে অনেক স্পার্ট। আমি আর কিছু না বলে ইভানার টেবিল থেকে চলে আসলাম। ভাবলাম এখন রেগে আছে। রেগে না থাকলে কেউ খুচিয়ে খুচিয়ে কথা বলে না। ঠিক করলাম ইভানার রাগটা কমে কমে গেলে পরে বুঝিয়ে বলব। এখন কিছু বললেই বিষধর সাপের মত ফুস করে উঠবে।

“আমি কারো জন্য অপেক্ষা করতে পারব না। অন্য রিক্সা করে যেন চলে যায়।

প্রায় বিকেল হয়ে আছে। আমার কাজ কর্ম অনেক আগেই শেষ। বসে বসে টাইম পাস করতেছিলাম আর ঠিক তখন ইভানা আমার দিকে না তাকিয়েই কথা বলে চলে গেল। এই মেয়ের রাগ এখনো কমে নাই। আমি তো জানি মেয়েদের মন নরম হয়। কিন্তু এই মেয়ে তো দেখি উল্টো। আরে দুর কি মেয়ে মেয়ে বলতেছি ইভানা আমার বউ। একি অফিসে কাজ করি। তবে আমরা যে স্বামী স্ত্রী সেটা অফিসের কেউ জানে না। অবশ্যই এই বিষয়ে ইভানা কাউকে বলতে নিষেধ করেছে। ও চায় বিষয়টা অফিসের কেউ না জানুক। আসলে অফিসে যদি স্বামী স্ত্রীরা এক সাথে একই অফিসে কাজ করে তখন কাজে যদি একটু ভুল হয়ে যায় তখন অফিসের অনেকে মনে মনে ঠিকি বলবে সারাদিন অফিসে পিরিতের আলাপ নিয়ে ব্যাস্ত থাকলে কাজ শুদ্ধ হবে কিভাবে? যতই কাজ মনোযোগ দিয়ে করি একটু যদি ভুল হয় অনেকে মনে মনে এইগুলা ভাবে। তাই ইভানা চাইছিল আমাদের স্বামী স্ত্রীর কথাটা যেন কেউ না জানে।

আমরা একসাথেই রিক্সা করে আসি। অফিসের সামনে, যে রাস্তার মোড়টা আছে ঐখানে আমি নেমে গিয়ে হেটে অফিসে যাই। আর অফিস ছুটি হলে ইভানা রিক্সা করে ঐ রাস্তার মোড়টাতে আমার জন্য অপেক্ষা করবে, আমি রাস্তার মোড়ে গিয়ে আবার একসাথে রিক্সায় করে বাসায় চলে যাই। যেন কেউ বুঝতে না পারে। আজকে সকালে যখন একসাথে বের হবো তখন ও বলল তুমি চলে যাও। বাসায় একটু কাজ আছে আমি একটু পর বের হচ্ছি। তাই আজকে একাই বের হয়ে গেলাম।

যত ঝামেলা ঐ অহনা ছেমড়িটা। আসলে রেগে কেন থাকবে না? আমি যদি দেখতাম আমার বউকে কেউ ফুল দিচ্ছে বা আমার বউ হাসি মুখে কাউকে ফুল দিচ্ছে তখন তো আমারো মনে প্রশ্ন জাগবে এই সব বিষয়ে। নিজেই অনুভূতিটা উপলব্দি করলাম।

ক্রিং ক্রিং ক্রিং

দরজার কলিং বেল কয়েকবার টিপতেই ইভানা দরজাটা খুলে ভিতরের রুমে চলে যায়। আমার কি করা উচিত্ কিছু বুঝতেছি না। কিন্তু আমার তো কোন দোষ নেই বা আমার অন্য মতলব ও ছিল না। কি এক ঝামেলায় পড়লাম। অফিসে গেছে তাও আবার ঐ টাইমেই গেছে এক্কেবারে ঠিক ঠাইমে গিয়েছে। আমি পোশাক চেঞ্জ করে তারপর ফ্রেশ হয়ে ওর কাছে গিয়ে বললাম “দেখো মানুষের চোখ অনেক সময় যা দেখে তা ঠিকি দেখে কিন্তু ঐ দেখার মাঝে অনেক কিছু লুকিয়ে থাকে। লুকিয়ে থাকে অনেক কথা অনেক বুঝাবুঝি।

ইভানা কোন কথাই বলল না। ও চুপ করে বালিশের কবার ঠিক করতে লাগল। চুল গুলা খোলাই ছিল। তারপর শাড়ির আচল কোমড়ে গুজে চুল গুলা হাতে এপাশ ওপাশ প্যাচীয়ে খোপা করে নিল। আমি মনে মনে ভাবলাম কুস্তি খেলার জন্য তৈরি হচ্ছে মনে হয়। আমি একটু দুরে সরে গেলাম। এই মেয়ের কোন গ্যারান্টি নেই কখন যে আমায় ঘুষি মেরে টোসা বানিয়ে দেয় তার আয়ত্তা নেই। তার উপর যদি খামছি দেয় আমি তো শেষ। মাঝে মাঝে ভাবি মেয়েদের নক এই জন্যই বড় রাখে। দেখলাম ও কিছুই করল না। তারপর আলমারী খুলে একটা নতুন বিছানার চাদর নামিয়ে বিছানায় সাজিয়ে ঠিকঠাক করতে লাগল। আগের চাদরটা ময়লা হয়ে গেছে। ওটা একটা ঝুড়িতে রাখল। আমি আবার বললাম…

“তোমাকে কিন্তু চুল খোলা অবস্হাই সুন্দর লাগে।

আমার কথা শুনে ইভানা আমার দিকে এক নজরে তাকিয়ে থাকল। তারপর একটা বালিশ আমার দিকে ছুড়ে মেরে রাগান্বীত কন্ঠে বলল…

“তুমি যাবা আমার সামনে থেকে? আমার চোখ ভুল দেখছে তাই না? চোখ যেটা দেখে সেটার মাঝে অন্য কিছু লুকিয়ে থাকে তাই না?

এই বলে আমাকে একটা দৌড়ানি দিল। আমিও ভো দৌড় দিলাম এরুম থেকে ঐ রুমে। আল্লাহ বাঁচাও এই দজ্জাল মেয়ের হাত থেকে। আমি এক দৌড়ে দরজার কাছে এসে দরজাটা কোন মতে খুলে বাহিরে বের হয়ে গেলাম। একেমন বউরে বাবা যে কিনা স্বামীরে দৌড়ানী দেয়। আমারো সুযোগ আসলে দৌড়ানী কত প্রকার ও কি কি সব বুজাব সুবন নাম আমার।

মানিব্যাগটাও বাসায় ফেলে আসছি। হাতে মোবাইল ছিল। কি করব কিছুই বুঝতে পারছি না। অনেক্ষন বাহিরে সময় কাটালাম রাত তো অনেক হয়েছে। ক্ষিদেও লাগছে কোন টাকা পয়সাও নাই। আরে মোবাইল যখন হাতে আছে চিন্তা নেই আমার বিকাশ নাম্বার থেকে টাকাও উঠিয়ে ভোজন দেওয়া যাবে। কিন্তু ঘুমাব কোথায়? আত্বীয়ের বাড়ীতে এখন এই অবস্হায় গেলে কিনা কি ভাববে। ভাববে ইভানার সাথে ঝগড়া করে বাসা থেকে বের হয়েছি। সাধারণত সবাই প্রথমে এইটাই সন্দেহ করবে। আর ঠিকি তখন ইভানাকে ফোন করবে আর ইভানা যদি ঐ মিথ্যে দেখার ভুল কাহিনী বলে তাহলে আমি তো পুরাই আবুল হয়ে যাব। না কারো বাসায় যাওয়া যাবে না। বাড়ির গেটের দাড়োয়ান চাচার সাথে কথা বলে সময় কাটাতে লাগলাম…

“কি চাচা বিড়ি টানেন কেন? বয়স হয়েছে তো? এই বযসে বিড়ি টানা ভাল না।
” কি করমু বাজান নেশা ধরাইয়া ফেলছি সেই ছুডু খাল থেইকা। এখন ছাডতে পারি না আর।
“তা চাচা শরীর ভাল তো।
“আছি ভালই আছি।

খানিকটা চুপ করে রইলাম। এরপর চাচা বললা “বাবা কেইচটা কি? আমি একটু অবাক হলাম চাচার কথা শুনে। “কিসের কেইচ চাচা?

চাচা একটা হাসি দিয়ে বলল “এই বয়সটা আমরা পার কইরা আইছি বাজান। তোমার মুখের অবস্হা দেখেই বুঝছি। আমি আর কিছুই বললাম না। চাচা আবার বললো “সংসারে এমন হয় মাঝে মইধ্যে তাই বইলা দুরে দুরে থাক ঠিক না। রাগ ভাঙ্গাতে হয়। তোমার চাচী তো এখনো মাঝে মইধ্যে রাগ করে। আমি রাগ ভাঙ্গাই। ভালাই লাগে। এইটার মাঝে একটা আনন্দ আছে। চাচা কথাটা বলেই একটা হা হা হা করে হাসি দিল।

ক্রিং ক্রিং ক্রিং

মোবাইলে তাকিয়ে দেখি ইভানার মেসেজ। আসলে আমি ওকে মেসেজের মাধ্যেমে সব বুঝিয়ে লিখে দিয়েছি বিস্তারিত। বাসা থেকে যখন দৌড়ে বের হলাম ঠিক ঘন্টা খানেক পরেই মেসেজ করে পাঠিয়ে দেই। জানি ফোন রিসিভ করবে না। তাই মেসেজের মাধ্যেমে বুঝিয়ে দিয়েছি যেটা তুমি দেখোছো সেটা তুমি ভুল বুঝেছো আরো বিস্তারিত সব ভেঙ্গে বুঝিয়ে লিখেছি। আর এখন ইভানা মেসেজে লিখে পাঠিয়েছে…

“এখনো না খেয়ে আছি। রাত কটা বাজে খেয়াল আছে? এত রাতে বাহিরে কি হু? আমাকে আগে বললেই হতো। বাহিরে ঠান্ডা পড়ছে বাসায় আসো জলদি। আমার পেটে বুঝি ক্ষিধে লাগে নাই? তোমাকে ছাড়া কোন দিনখাইছি? তাড়াতাড়ি আসো। মেসেজটা পড়েই আমার চোখে পানি জমতে শুরু করেছে। এটা ঠিক একটা মেয়ে কখনো চাইবে না তার স্বামী অন্য কারো হয়ে যাক। বাসায় ঢুকে কিছুক্ষন চুপ করে রইলাম। এরপর ভাতের টেবিলে বসলাম। আমি তো বাইরে থেকে খেয়ে এসেছি এখন যদি বলি এই কথা তাহলে আবার রাগ করবে। ও ভাববে আমি ওর জন্য অপেক্ষা করি না। আমি বললাম…

“তুমি খাও। আমি তোমার খাওয়া দেখি।
“তা হয় না। আমার স্বামীটা না খেয়ে থাকবে নাকি। আমি একটু চুপ করে থেকে বললাম। চলো আজকে একি প্লেটে খাব। তারপর …
“তারপর কি?
“তারপর আমাকে যে দৌড়ানি দিয়েছো সেটার প্রতিশোধ নিব ঘুমানোর সময়।
“ওই বদ মাইস কি বলছো হু? তোমার প্রতিশোধের মতলব কিন্তু ভাল না। হি হি হি। ফাযিল কোথাকার।

আমি শুধু ওর হাসিটার দিকে তাকিয়ে থাকলাম। কেন যেন তাকিয়ে থাকতেই ইচ্ছে করতেছে। আমি আর কিছু না বলে ওকে খাইয়ে দিয়ে কোলে করে নিয়ে বিছানায় ঘুমাতে গেলাম…

গল্পের বিষয়:
রোমান্টিক

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত