বৃষ্টিবিলাসী

বৃষ্টিবিলাসী

মায়া– বাবু কী করো??
আমি– কেন??

— ওহ বাবু বলোনা।
— বসে আছি। তুমি??
— একটু বারান্দাতে আসোনা।
— আমি ওখানেই বসে আছি।
— বাবু
— হুম
— বাইরে খুব সুন্দর বৃষ্টি তায়না।
— হুম
— বাবু
— কী
— একটা অনুমতি চায়বো রাগ করবানা আগে বলো।
— আমি জানি এখন তুমি কী বলবা।
— তাহলে যায়।

— আচ্ছা মায়া তোমার বুদ্ধিশুদ্ধি কবে হবে আমাকে বলো তো??
— আমার বুদ্ধি নেই….
— না নেই। একটুও নেই। তুমি যা যা করো সব বোকামি ছাড়া আর কিছুইনা। তোমাকে কতবার বলেছি একটু ভেবেচিন্তে কাজ করবা তাহলে ফল ভালো হবে।
— আচ্ছা আমি তো তোমাকে সবকিছু শেয়ার করি তায়না তাহলে আমি কেন ভাববো আমার ভাবুক প্রেমিক আছে না।
— না। এখন থেকে তোমার কাজ তুমি ভেবে করবে।
— আহা রাগছ কেন।
— কই রাগিণী তো।
— ও বাবু গো শোনোনা।
— হুম
— আমি বলছি কী, একটু বৃষ্টির পানিতে হাত ভেজায়
— নাহ থাক। তুমি রুমে থাকবে। আর একদম রুম থেকে বের হবেনা। যদি বের হও তাহলে ছোঁয়ার থেকে সব জেনে নেবো।
— আহা এমন করো কেন আমার সাথে সবসময়।
— কেমন করি মায়া তোমার সাথে সবসময়??
— তাহলে একটু ছাদে যায়। বিশ্বাস করো ৫মিনিট তারপর আবার রুমে আসবো।
— আচ্ছা মায়া। গত ৩দিন আগে তোমার বৃষ্টিতে ভিজে যে জ্বর ঠাণ্ডা বেঁধেছিলো। আমি দোকানে যেয়েমেডিসিন নিয়ে ছোঁয়া কে দিয়েহোষ্টেলে পৌঁছালাম। এখনো তোমারসর্দিকাশি ভালো মত যায়নি। তারপর আবার আজকে??

— আমি তো বলেছি ৫মিনিট একটু হাত দিবো তারপর আবার রুমে আমি কী বলেছি ভিজবো।
— মায়া আমার সত্যিই রাগে মেজাজ খারাপ হয়ে যাচ্ছে।
— আহা বাবু রাগছো কেন। তুমি জানোনা রাগ হারাম। তুমি না নামায পড়ো কোরআন পড়ো তাহলে কেন রাগবা বলো…..
— ওই চুপ।
— বাবু দেখো কত্ত সুন্দর ঝিরিঝিরি বৃষ্টি। ইশ যদি তোমার সাথে নিয়ে ভিজতে পারতাম আর কী চাইতাম জীবনে বলো।
— মায়া আমরা বৃষ্টি বাদে কথা বলি…..
— না।
— ওকে আমি একটু ওয়াসরুমে যাবো রাখছি। ৫মিনিট পর

মায়া– কী কল তুলোনা কেন??
— এমনি।
— কী এমনি, আচ্ছা ঠিক আছে আমি বৃষ্টি তে ভিজবো নাহ হ্যাপি।
— ওষুধ খেয়েছ??
— ওহ রে ভুলেই তো গেছি। একটু পরে খাচ্ছি।
— নাহ আমি হোল্ড করছি তুমি এক্ষুনি খেয়ে তারপর কথা বলবে।
— ওকে বাবু ঠিক আছে।
— খেয়েছ??
— হু
— কী করছো??
— কিছুনা।
— আজ ক্লাসে যাওনি??
— হুম
— বাসায় কথা বলেছ??
— হুম
— তোমার ছোটভাই কেমন আছে??
— ভাল।
— এখন কী রঙের জামা পড়ে আছো??
— গোলাপি।
— তোমার রুমমেট কই??
– পাশের রুমে।
— এখন একটু ঘুমাও। তারপর খেয়ে নিও সামান্য…..
— হুম
— ওহ নামায পড়েছো তো??
— হুম
— মন খারাপ??
— নাহ
— তাহলে একটু হাসো
— এখন রাখি পরে কথা বলবো।
— কেন??
— ঘুম পাচ্ছে……
— হুম

৩মিনিটস দুজনি চুপ। আমাদের যখন অভিমান হয় আমরা চুপ করে থাকি। তারপর আবার কথা বলি তখন আমাদের অভিমান ভেঙ্গে যায়।

মায়া– আমি কী তোমাকে খুব বেশি জ্বালাতন করি??
— হুম
— কেন করি??
— তুমিই বলো
— তোমাকে আমি অনেক বেশি ভালোবাসি মেঘ।
— হুম
— তোমাকে না দেখলে তোমার কথা না শুনলে আমার কিছুই ভালো লাগেনা। এজন্য সবকিছু আমি শেয়ার করি।
— হুম
— জানো মেঘ তুমি আমাকে যেভাবে বকা দাও এভাবে আর কেউ দেয়না।
— হুম
— আমি নামায পড়ে সবসময় আল্লার কাছে শুধু তোমাকে চায়।
— হুম
— তোমাকে পেলেই আমি সবথেকে বেশি সুখী হবো।
— হুম
— হুম
— মায়া??
— হুম বলো
— এখনো কী বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে??
— হুম। আমি জানালার পাশে দাঁড়িয়ে দেখছি।
— একটু ভিজে আসো ঠিক ৫মিনিট।
— সত্যিই??
— হুম

তারপর মেয়েটি দৌড়ে ছাদে। আর আমি বসেবসে ভাবছি। কিভাবে যেন আমাদের সম্পর্কের ৩ বছর হয়ে গেলো। এই তো সেদিন মেয়েটিকে আমার ভালো লাগে। তারপর একদিন তার বান্ধবির থেকে তার নাম্বার টা নিয়েই কবিতা শোনান এরপরে মিষ্টি গল্প। ওপাশে কেউ শুধু চুপচাপ শুনত। ২ মাস পর একদিন মিথ্যা বলেছিলাম আজ হাত কেটে গেছে সেদিন প্রথম তার কান্নামাখা কণ্ঠ শুনেছিলাম তারপর থেকেই বন্ধুত্ব এরপর সম্পর্ক। আমি প্রেমে পড়েছিলাম ওর মায়াবী চোখ জোড়া আর তাতে মারাত্নক কাজল দেওয়াতে। আর ওর স্টাইল হিজাব দেখে। কিভাবে যেন আমি পটে হালুয়া হয়ে যায়। ভাবতে ভাবতে মায়ার কল।

মায়া– বাবু বিশ্বাস করো ঠিক পাঁচ মিনিট ভিজেছি।
— হাহাহাহা
— যাও আরও ৫মিনিট গিফট। তারপর ড্রেস চেঞ্জড করে কাথামুরি দিয়ে ঘুম ওকে?? এখন রাখি কাজ করব…….
— লাভ ইয়্যু আমার মিষ্ট পাগল টা…..
— লাভ ইয়্যু টু পাগলী

গল্পের বিষয়:
রোমান্টিক

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত