একটি ছোট্ট প্রেমের গল্প

একটি ছোট্ট প্রেমের গল্প

– আচ্ছা আপনি এত সুন্দর গল্প লিখেন কেনো??? (আলেশা)
– ভালো লাগে তাই! (রিফাত)
– প্রেমে পড়ে যাবে তো কেউ
– পড়লে পরবে তাতে আমার কি, আমি তো আর পরবো না।
– যদি আপনিও পড়ে যান
– কোনো চান্স ই না
– হুম দেখা যাবে
– কি দেখা যাবে???
– না কিছু না!!
– বলেন না প্লিস
– যদি আমার প্রেমে পরে যান তাহলে..??
– কিইইই???
– আরে কিছু না, মজা করলাম।
– ও মজা হলে ঠিক আছে।
– হুম

কথা চলছিল আলেশা ও রিফাতের মধ্যে আলেশা মেয়েটি খুব ভালোবাসে রিফাত কে কিন্তু রিফাত তারভালোবাসাটা বুঝার চেষ্টাই করে না। রিফাতের ও কোন দোষ নেই, কারন আলেশা এখনো তার মনের কথা রিফাত কে বলেনি।বলেনি কারন তার সাহসই হয়ে না ভালোবাসি কথাটা বলার। এভাবে আলেশা ও রিফাতের মধ্যে অনেক কথা হয়। রাতে আলেশা আবার রিফাত কে মেসেজ দেয়

– হাই (আলেশা)
– হ্যালো (রিফাত)
– কেমন আছেন.?
– ভালো আপনি
– ভালো না!
– কেনো??
– আমি একটি ছেলে কে ভালোবাসি
– তাহলে তো বেশি ভালো থাকার কথা!
– এটাই তো আমি ওকে ভালোবাসি কিন্তু সে তো বাসে না
– আপনি কি তাকে আপনার মনের কথা বলেছেন কখনো?
– না তো!!!
– তাহলে সে জানবে কি করে যে আপনি তাকে ভালো বাসেন
– তাই তো এখন আমার কি করা উচিত?
– আপনি তাকে আপনার মনের কথা বলে দিন তারপর সেটা তার উপর নিভর সে করে, আপনাকে মেনে নিবে নাকি নিবে না।
– হুম আমি তাই করবো, মনের কথাটা তাকে বলে দিবো ধন্যবাদ বলার জন্য।
– ওকে ভালো থাকবেন বায়। ১০ মিনিট পর আলেশা – রিফাত কে মেসেজ দিল, ওটা মেসেজ বললে ঠিক হবে না প্রপোজ বললে ঠিক হবে মানে

আলেশা – রিফাত কে প্রপোজ করেছে। আলেশা প্রপোজ করার পর খুশি তেআত্মহারা, আর অপর দিকে রিফাত তো

জ্বলে – পুরে আগুন হয়ে আছে। কি বলবেকিছু বুঝছে না শুধু নিজেকে সামলে রাখছে। আর আলেশা কে মেসেজ দিলো –

– এটার মানে কি??
– কোন টার মানে???
– দেখেন একদম নাটক করবেন না বলেন এটার মানে কি??
– দেখছো না এটা কি, আমি তোমাকে সত্যি ভালোবাসি (আলেশা নিজের অজান্তে তুমি তে চলে গেছে)
– আমি ভাসি না!
– কেনো????
– জানি না!
– আমি তোমাকে সত্যি ভালোবাসি, প্লিস এভাবে আমাকে না করো না।
– আমি কিছু শুনতে চাই না, বায় আরআমাকে মেসেজ দিবেন না। আমরা শুধু ভালো বন্ধু থাকবো ওকে।
–(এই কথা শুনার পরর আলেশা কেঁদেই দিলো, আর রিফাত কে একটি মেসেজ দিলো) ওকে দিবো না যাওয়ার আগে আমার একটি কথা শুনে যাও প্লিস।
– তারাতারি বলেন????
– তুমি কি জানো তোমাকে আমি কি ভাবে ভালোবেসে ছি
– না!
–তাহলে শুনো ছোট্ট একটা গল্প,

তোমার লিখা গল্প পরে তোমাকে পছন্দ করা শুরু করি। তারপর তোমার সাথে কথা বলি। তোমার গল্প পরা আর তোমার সাথে কথা বলা এগুলা আমার অভ্যাসে পরিনিত হয়ে যায় তারপর হঠাৎ একদিন নিজের অজান্তে তোমাকে ভালো বেসে ফেলি। কিন্তু মনের কথা বলার সাহস পাইনি কোন দিন। আজ যখন তুমি বললেভালোবাসার মানুষ কে মনের কথা বলাউচিত, সেটা তার উপর নিভর করে সেমেনে নিবে নাকি নিবে না। তাই আমি আমার মনের কথা বলে দিলাম, এইটুকু ই বলার ছিল। তোমাকে আর ডিস্টাব করবো না ভালো থেকো।

রিফাত মেসেজ টা পড়ার পড় কি বলবে কিছু বুঝতে পারছে না। সে জানতো না যে আলেশা সত্যি তাকে এত ভালোবাসে, তাই সেও তার রাগ অভিমান শেষ করে আলেশার কাছে ক্ষমা চাওয়ার জন্য মেসেজ দিলো। কিন্তু মেসেজ দেওয়া সাথে সাথে যা দেখলো তা নিজের চোখে বিশ্বাস করতে পারছে না। তার চোখের সামনে শুধু একটাই লেখা দেখা যাচ্ছে তা হলো You can’t not reply this conversation. এর মানে আলেশা তাকে বল্ক করেদিয়েছে।রিফাত কি করবে ভেবে পাচ্ছে না,আলেশ মোবাইল নাম্বার ও নেই। তার বাড়ির ঠিকানা ও জানে না। শুধু আলেশার একটি ছবি দেখেছে, রিফাত কি করবে এখন আলেশার সাথে কি ভাবে যোগাযোগ করবে, এই সব চিন্তা ভাবনা মাথায় নিয়ে ঘুমিয়ে পড়লো। সকালে ঘুম থেকে উঠেই ফেসবুকে ডুকলো দেখলো আলেশা তাকে বল্ক থেকে আনবল্ক করলো নাকি। কিন্তু না এখনো সে বল্ক লিষ্টেই আছে।এই একদিনেই রিফাত আলেশা কে মিসকরছে কেনো সে নিজেও জানে না।এভাবে ৪ দিন চল গেলো কিন্তু আলেশার কেনো সারা শব্দ নেই। রিফাত এই ৪ দিনে আলেশাকে খুব মিস করেছে।

রিফাত বুঝেগেছে সেও আলেশা কে ভালোবাসে, রিফাতের শুধু একটা চিন্তা কিভাবে আলেশার সাথে যোগাযোগ করবে! কিভাবে মনের কথা বলবে। কিন্তু রিফাত এটা ভেবে পাচ্ছে না যে আলেশা তাকে মেসেজ বল্ক কেনো দিয়েছে। একবারের জন্য কেনো দেই নি। এটা ভাবছে রিফাত তখনই রিফাতের মাথায় একটি বুদ্ধি এল। তাই সে আর দেরি করলো না, কাজে লেগে গেল। বুদ্ধি টা ছিল এ রকম যে আলেশা হয়তো এখনো রিফাতের গল্প পড়ার জন্য তার কাছ থেকে একবারের জন্য দুরে সরে যাই নি। তাই রিফাত আর দেরি করলো না তারতারি একটা গল্প লিখে ফেললো। গল্পটা ছিলো রোমেন্টিক, কষ্ট, ক্ষমাআর হ্যাপি এনডিং। গল্পের মাধ্যেমে রিফাত আলেশা কে এটা ঝুঝাতে চায় যে সে তাকে খুব ভালোবাসে। রিফাত সিওুর যে আলেশা এটা পরার পর তাকে মাফ করে দিবে। ঠিক তাইই হলো গল্পটা পোষ্ট করার কিছুক্ষন পরই আলেশা বল্ক খুলে রিফাত কে মেসেজ দেয়,

– এই পাগল এত ভালোবাসো আমাকে (আলেশা)
– হুম আমিত তোমার জন্যই পাগল (রিফাত)
– হুম আর নাটক করতে হবে না
– নাটক নয় সত্যি!!
– তাহলে প্রপোজ করো?
– আমি তো পারি না
– মিথ্যাবাদি এত রোমেন্টিক গল্প লিখতে পারে, আর বলে প্রপোজ করতে পারে না।
– তারাতরি প্রপোজ কর না হলে আমি গেলাম।
– ওই কই যাও আমাকে নিয়ে যাও, তুমি ছারা আমি যে বড্ড একা। তুমি ছারা আমি যে অসহায়। আমি আমি…..

– আমি আমি কি বলবে তো??
– আমি তোমাকে ভালোবাসি আলেশা সত্যি ভালোবাসি!!!
– হুম আমি জানি সব জানি তোমার গল্পটাই বলে দিয়েছে।
– তাহলে বললা কেন প্রপোজ করতে???
– ভালোবাসার মানুষটির মুখ থেকে ভালোবাসি কথাটা শুনবো বলে!!
– হুম এত ভালোবোসো আমাকে
– হুম পাগল!
– হুম তুমি ও পাগলি, আমার পাগলি এভাবে বেঁচে থাকুক তাদের ছোট্ট প্রেমের গল্প। ভালোবাসা তো ভালোবাসাই, সেটা না হয় একটি গল্প পড়া থেকেই শুরু হোক। কথাটা ঠিক কিনা পাঠক বন্ধুরা আপনাদের মতামত আশা করছি।

গল্পের বিষয়:
রোমান্টিক

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত