ভালোবাসার পাগলামি

ভালোবাসার পাগলামি

পিয়াস: এই পাগলী!

নীলা: কি?

পিয়াস:তুমি এতো পাগলী কেন? নীলা: একটা পাগলকে ভালবাসি বলে। পিয়াস: ওহ,তাই?

নীলা: হুমম….

পিয়াস: যখন তোমার ভালবাসার পাগলটা থাকবে না তখন? তখন কি পাগলামী করবে?

–নীলা: পাগলটা যতদিন আছে ততদিনই আমার পাগলামী চলবে।

তাকে ঘিরেই যে আমার সব পাগলামী, আমি তো শুধু তারই পাগলী। আর পাগল কখনও তার পাগলীকে ছেড়ে কোথাও যেতে পারবেনা। পাগলী তাকে একা যেতেই দিবে না¡ পিয়াস: সব কিছু জোর করে রাখা যায় না গো পাগলী। কিছু কিছু জিনিষে জোর খাটালে হয় না। আচ্ছা সত্যিই যদি আমি কখনও তোমার থেকে দূরে চলে যাই তখন তুমি কি করবে? আমাকে ভুলে যাবে নাকি ভুল বুঝে ধিক্কার দিবে? পিয়াসের মুখ থেকে হঠাত এই কথা শুনে নীলা চমকে উঠলো! পিয়াস আর নীলার সম্পর্ক বেশী দিনের না, প্রায় এক বছর হবে। সম্পর্কের শুরু থেকেই পিয়াস নীলাকে পাগলী বলে ডাকে। কেননা নীলা সব সময়ই পিয়াসের সাথে পাগলামী করতো। মাত্র এক বছরের মধ্যে তারা দুজন এতোই ঘনিষ্ট হয়েছে যে একজনকে ছাড়া অন্যজনের জীবন কল্পনাই করতে পারেনা।

নীলা: হঠাত করে এমন প্রশ্ন করার মানে কি পিয়াস?

পিয়াস: না এমনিতেই জানতে ইচ্ছে হলো আরকি। বলো না প্লীজ…

নীলা: তাহলে শুনো….

চাঁদ ছাড়া রাতের আকাশ যেমন শূন্য, সূর্য্যের কিরন ছাড়া দিন যেমন অন্ধকার, পানি ছাড়া নদী যেমন শুকনো, ডানা ছাড়া পাখী যেমন উড়তে পারেনা। তুমি ছাড়া আমার জীবনটাও তেমনি… আমি এক মূহুর্ত ও তোমায় ছাড়া ভাবতেই পারিনা। যদি কখনও তুমি দূরে চলে যাও তখন আমি তোমায় ভুল বুঝবো না বরং যতদিন থাকবো তোমার আসার প্রতিক্ষায় সারাজীবন কাটিয়ে দিবো!! পিয়াস: সত্যিই তুমি আস্তো একটা পাগলী। অনেক অনেক ভালবাসি রে পাগলী তোরে… এই কথা বলে পিয়াস নীলাকে বুকে জড়িয়ে নিলো। আর লুকিয়ে লুকিয়ে কাঁদতে শুরু করলো। কেননা পাগলীর এতো ভালবাসা ফেলে চলে যেতে হবে তাকে।

পিয়াসের ব্রেন টিউমার! ডাক্তার বলেছে ও এই দুনিয়াতে আর মাত্র কিছুদিনের মেহমান। এরপরে তাকে তার গন্তব্য স্থান পরপারে পৌছাতে হবে। আর মাত্র কয়েকটা দিন সে এ পৃথিবীর আলো, বাতাস ভোগ করতে পারবে। নীলাকে সে এ ব্যাপারে কিছুই বলেনি কারন ও যে একটা পাগলী।পাগলের মতো ভালবাসে তাকে। এ কথা যদি জানতে পারে তাহলে ও অস্থির হয়ে পড়বে। তিন মাস পরে একদিন নীলার নাম্বারে একটি অপরিচিত নাম্বার থেকে কল আসে। রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে আওয়াজ আসে –আপনি কি নীলা?

–হ্যা
–আপনি জলদি জেনারেল হাসপাতালে চলে আসুন।

বলেই কলটা কেটে যায়। নীলা উন্মাদ হয়ে ছুটে যায় হাসপাতালে। গিয়ে দেখে তার পাগলটা বেডে শুয়ে আছে। কোন কথা বলতে পারছে না। পাশ থেকে পিয়াসের এক বন্ধু বলল ওর ব্রেন টিউমার ছিল, আজ তার প্রচন্ড মাথা ব্যাথা ধরায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। ও আর মাত্র কয়েক মিনিট বা কয়েক সেকেন্ড এই পৃথিবীর অক্সিজেন গ্রহন করতে পারবে¡ আপনাকে দেখার শেষ ইচ্ছা ছিল তার তাই আপনাকে ডেকে আনা হয়েছে। বেড থেকে ইশারা করে নীলাকে কাছে ডাকলো পিয়াস। নীলা পিয়াসের মাথার পাশে গিয়ে বসে তার মাথায় হাত বুলাতে লাগলো। নীলার দুচোখ বেয়ে যেন অঝোর ধারায় বৃষ্টি ঝরছে। পিয়াসের শরীর পুরো নিস্তেজ হয়ে পড়েছে। মৃত্যুঘাতী ব্রেন টিউমার ক্রমশ তাকে মৃত্যুর পথে টেনে নিচ্ছে। শরীরে কোন শক্তি পাচ্ছে না সে।

এরপরেও কোন রকম গায়ের সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে হাতটা তুলে নীলার চোখের পানি মুছে দিয়ে নীলার হাতে একটা চিরকুট ধরিয়েই শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করলো পিয়াস। কান্নার রুল পরে গেলো সমস্ত হাসপাতালে। নীলাকে কোনভাবেই কন্ট্রোল করতে পারলো না কেউ। কাঁদতে কাঁদতে বেহুশ হয়ে গেলো নীলা। বাসায় নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। হুশ ফেরার পর সে যেন পুরো নিস্তব্দ হয়ে গেলো। মানসিক ভাবে আঘাত পাওয়ায় নিজের ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছে সে। তাকেও ট্রিটমেন্ট করা হচ্ছে। কয়েকদিন পর নীলা পিয়াসের দিয়ে যাওয়া শেষ চিরকুট টি বের করে পড়তে লাগলো। তাতে লেখা আছে প্রিয় নীলা, আমি জানি আমাকে হারানোর ব্যাথা তুমি সহ্য করতে পারবে না। অনেকটা রাগও হবে আমার উপর, আমি আগে তোমায় এ ব্যাপারে জানাইনি তাই। আসলে বিশ্বাস করো নীলা আমি তোমাকে কষ্ট দিতে চাইনি। আমি আগে তোমাকে জানালে তুমি অনেক ভেঙ্গে পড়তে।

আর আমি বেঁচে থাকতে তোমার এই ভেঙ্গে পড়া কিভাবে সহ্য করতাম বলো? চিঠি টা যখন তুমি পড়বে তখনও তুমি অনেক কাঁদবে আমি জানি। তবুও বলে যাচ্ছি একদম কেঁদোনা তুমি। তোমার কান্না যে আমি সহ্য করতে পারিনা,
তুমি কাঁদলে আমি পরপারে গিয়েও শান্তি পাবো না। বেঁচে থাকতে আমাদের মিলন হয়নি তো কি হয়েছে ওপারে ঠিকই আমরা দুজন দুজনার হবো! আর হ্যা, কোন রকম পাগলামী করবে না তুমি। তোমার পাগলামী একমাত্র তোমার পাগল ছাড়া যে আর কেউই সহ্য করবে না। যতটুকু পারো নিজেকে গুছিয়ে নিও। একদম মন খারাপ করে থাকবে না কিন্তু, আমি মরার পরেও সব সময় তোমার পিছু পিছু ছায়ার মতো থাকবো।

তুমি হয়তো দেখবে না আমায় তবে আমি ঠিকই দেখবো। আর তোমার মন খারাপ আমি দেখতে পারিনা এটা তুমি তো জানোই সো সব সময় হাসি-খুশি থেকো। আমি ওপারে গিয়ে তোমার অপেক্ষায় থাকবো। ইতি, তোমার পাগল পিয়াস। চিঠি টা পড়েই নীলা হাউমাউ করে কাঁদতে লাগলো। পৃথিবীর আলো, বাতাস সব কিছুই যেনও বিষাক্ত মনে হলো তার। এখন সে শুধু তার পাগলের কাছে যাওয়ার প্রহর গুনছে। পাগল যে বলে গেছে ওপারে তাদের মিলন হবে।

গল্পের বিষয়:
রোমান্টিক

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত