পাগলী বৌ

পাগলী বৌ

-এই আজকে অফিস না গেলে হয় না? (নীরা)
-না,গো ৷ যেতেই হবে৷(আমি)
-হুহ,প্রতিদিনই এক কথা৷ (নীরা)

পাগলীটা অভিমান করে মুখ ঘুরিয়ে চলে গেল৷অভিমানী পাগলীটা খুব৷

আমি রাফিন৷নীরা হচ্ছে আমার বৌ৷ মা-বাবার পছন্দেই বিয়ে করেছি৷ এখন অবশ্য আমার বৌ টার সাথে প্রেমটা ভালোই জমে উঠেছে৷ মান- অভিমান=ভালো বাসা৷ বিকেলে অফিস থেকে এসেই কলিং বেল টিপলাম৷ সাথেই সাথেই দরজাটা খুলে দিল৷ যেন আমার অপেক্ষাতেই ছিল৷ কিন্তু ম্যাডামের ভাবসাব ভালো লাগতেছেনা৷ ঝড়ের পূর্বাবাস৷ ওওও বলা হয়নি৷আমাদের একটা মেয়ে আছে৷নাম রিধী৷ তবে কল্পনায়৷ বাস্তবে না!৷ আমাদের বিয়ের বয়স এখনো ৮মাস৷ বুঝেন না ব্যাপারটা? হি হি৷ যাই পাগলিটার রাগ ভাঙিয়ে আসি৷

-রিধী ,তোর আম্মুকে বলতো আমাকে নাস্তা দিতে৷(আমি)
-রিধী তোর আব্বুকে বলে দে৷ ঔ অফিসের মেয়ে কলিগটার হাতে বানানো নাস্তা খেতে৷ (নীরা)
-রিধী,তোর আম্মু কে বলে দে৷ যে,তোর আব্বু সত্যিই কলিগের কাছে যাচ্ছে কিন্তু৷ (আমি)
-রিধী,বলে দে তো মা৷যে আর এক পা সামনে বাড়ালেই তোর আব্বুর ঠ্যাং লুলা করে দিবে৷(নীরা)

পাগলীটা রীতিমত হুমকী দিয়ে দিল৷ ভালোই রাগ করছে৷

-সন্ধায় আর কথা হয়নি৷রাত্রে বসে বসে গেমস খেলছিলাম মোবাইলে৷নীরা এসে দূরত্ব বজায় রেখে বসলো৷
-রিধী,তোর আব্বুকে বলে দে,টেবিলে খাওয়ার দেওয়া আছে৷ যেন খেয়ে নেয়৷(নীরা)
-রিধী,তোর আম্মুকে ও আসতে বল৷ (আমি)
-রিধী,বলে দে আমি খাব না৷ (নীরা)
-তাইলে আর কী?আমি খাচ্ছি না৷(আমি)
-হুহ ঢং দেখে বাচিঁ না৷রিধী,বলে দে,উনি নিচে শোঁবে৷(নীরা)
-ধুরর,ঘুমাবোই না৷

এইটা বলেই বারান্দায় চলে আসলাম৷ভাবখানা এমন করলাম”৷ যেন আমিই অভিমান করে আছি৷ আমি জানি নীরা এখন নিশ্চিত আসবে৷

-হুম,মহারানী আসছেন৷ আমার পিছনে দাড়িঁয়ে  আছে৷ আমি অবশ্য দেখেও না দেখার ভান করে আছি৷ আমার চুপ থাকা দেখে বলে উঠলো,
-রিধী,তোর আব্বুকে খেতে আসতে বল৷ (নীরা)
-রিধী,বলে দে আমাকে খাইয়ে না দিলে খাবো নাহ৷ (আমি) এবার পাগলীটা আর পারলোনা রাগ করে থাকতে৷
-এই চলোতো,খাবে চলো,৷ পাগল একটা৷ কোথায় আমার রাগ ভাঙাবে৷ আর উনি নিজেই রাগ করে আছেন৷ (নীরা)
-হা হা ৷ কে বললো রাগ করেছি৷ (আমি)
-তবে রে ৷

আহা! কি ভাগ্য আমার? বৌ এর চাঁদমুখ খানা দেখছি আর বৌ আমাকে খাওয়াই দিচ্ছে৷ ইশশ! আমিও অবশ্য বৌ কে খাওয়াই দিছি৷

-খাওয়া ধাওয়া করে জোস্না বিলাস করছি৷ বৌ আমার কাধেঁ মাথা দিয়ে চাঁদ দেখছে৷ আহা কি লুমান্তিক মূহুর্ত৷
-নীরা?(আমি)
-হুউউম৷(নীরা)
-কখনো ছেড়ে যাবে না তো?(আমি)
-জীবন থাকতে না৷(নীরা)
-যদি আমি যায়?(আমি)
-ঠ্যাং ভেঙে দিব৷(নীরা)
সারাদিন অনেক কষ্ট দিছো তুমি৷শাস্তি হিসেবে আমাকে বুকে নিয়ে ঘুমাবা৷ ok.(নীরা)
-এরকম শাস্তি পেতে আমি হাজারো অপরাধ করতে রাজি৷

গল্পের বিষয়:
রোমান্টিক

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত