চাঁদের রাতের প্রেম কাহীনি

চাঁদের রাতের প্রেম কাহীনি

-(রাতে ৯.০০ টায় মিমের ফোন এনামুল তখন পড়ছিলো —ফোন টা রিসিভ করতেই)
– দোস্ত আমাকে বাচা? ( মিম)
– কি হইছে? ( এনামুল)
– বাড়িতে বিয়ের প্রস্তাব আসছে!
– ভালো তো। করে ফেল!!
– তুই না?
– আমি কি?
– ধুর আমি এখন বিয়ে করবো না।
– বিয়ে কি বুড়ি হইলে করবি নাকি।
– বাদ দে তো দুষ্টামী।
– হুম ক?
– বাবা তো বলতেছে বিয়ে দিয়ে দিবে এখনি।
– কি কস। ছেলেকে চিনলু না জানলু না। বিয়ে করবি তাকে?
– আরে সেইটা তো আছেই। আমি আরো পরাশোনা করব। নিজেকে প্রতিষ্ঠিত না করে এইসব ঝামেলায় জড়াতে চাই না।

– ভালো তো। তাহলে করিস না।
– বাবা তো তা শুনতেছে না।
– বুঝিয়ে বল শুনবে?
– না রে আসলেই শুনতেছে না। বাবা বলতেছে ছেলে ভালো চাকরি করে তুই সুখে থাকবি।
– তাহলে করে ফেল।
– আবারো,, তোকে বললাম না। পড়াশোনা করবো আমি।
– কি করবি তাহলে।
– আমি তো কোন উপায় খুজে পাচ্ছি না। তুই একটা বুদ্ধি দে।
– তোর মা কে বুঝিয়ে বল। তোর মা তোর বাবা কে বুঝিয়ে বলবে।
– আচ্ছা রাখি বাই।

( মিম তার মা কে অনেকবার বুঝিয়ে বলল । সে নিজে প্রতিষ্ঠিত না হয়ে বিয়ে করবে না। কিন্তু তার মা ও বলল ঐ চাকরি ওয়ালা ছেলের সাথে বিয়ে দিবে বলল। অনেক বুঝিয়ে যখন কোন উপায় খুজে পেলো না। মিমের সব কিছু গুছিয়ে বাড়ি থেকে পালালো। পালিয়ে এনামুলের বাসার সামনে চলে আসলো। এর মধ্যে মিম এনামুল কে অনেকবার ফোন দিয়েছে কিন্তু এনামুল ফোন রিসিভ করে নি। এনামুল আবার রাতে চাঁদ দেখতে খুব পছন্দ করে। যেদিন আকাশে চাঁদ থাকে সেদিন চাঁদের আলোয় ভিজতে ভিজতে যখন ক্লান্ত হয়ে যেত এনামুল। তখন ঘুমিয়ে যেত। আবার রাতের মাঝখানে ঘুম ভেঙ্গে গেলে। এনামুল তার বাসার ছাদ এ চলে যেত। ছাদ এ বসে কল্পনায় চাঁদের সাথে গল্প করতো। মিম যখন এনামুল এর বাসার সামনে ঘুরাঘুরি করতে ছিলো। মিম কি করবে ভেবে পাচ্ছে না। এদিকে এনামুল ও তো ফোন ধরছে না। হঠাৎ মিমের চোখ গেলো বাসার ছাদের দিকে। এনামুল ফোন টা চার্জ এ রেখে। ছাদে দাড়িয়ে আছে এক দৃষ্টিতে চাঁদ দেখছে। সে রাতে চাঁদের আলো খুব ধবধবে ছিলো। এনামুল চাদের দিকে তাকিয়ে আছে। এমন সময় মিম তাকে জোরে ডাক দিলো।)

– ঐ এনামুল! ( এনামুল নিচের দিকে তাকাতেই দেখল মিম। )
– ঐ কি? তুই এত রাতে। ( মিম হাতের ইশারা দিয়ে বুধিয়ে দিলো)
– তোর ফোন কই? (এনাামুল মিমের হাতের ইশারা বুঝতে পেরে। রুমে গিয়ে ফোন নিয়ে আবার ছাদে আসলো। এবার ফোন এ কথা)

– কি তুই ফোন ধরিস না কেন? ( মিম)
– ফোন চার্জে রেখে এসেছিলাম। (এনামুল)
– আমাকে এখান থেকে নিয়ে যা। ( এনামুল আবার তার বাবা কে দেখে খুব ভয় পায়।)
– কি বলস এগুলা। তোকে নিয়ে আসবো মানে। কোথায় নিয়ে আসবো?
– তোর বাসায়। আমি বাড়ি থেকে পালিয়ে এসেছি।
– কি বলস। পালিয়ে আসছিস মানে।
– জোর করে বিয়ে দিতে চাইছিলো। তাই পালিয়ে এসেছি।
– আমি কি তোর বয়ফ্রেন্ড যে তুই আমার বাসায় এসেছিস?
– তুই আমাকে এখান থেকে॥নিয়ে যাবি নাকি !!!! নাহ?

( একটু রেগে গিয়েই কথাগুলো বলছিলো এনামুল কে। এনামুল কে মিম একটু শাসন করে। এনামুল তাই মিম কে দেখে ভয় পায়। মিম এর সব কথাই শোনে এনামুল তেমনি মিম ও। এনামুল কি করবে ভেবে পাচ্ছে না। যদি বাসায় নিয়ে আসে। তাহলে যদি তার বাবা জানতে পারে তাহলে। আর রক্ষা নেই। অনেক চিন্তা করে এনামুল বুকে অনেক টা সাহস নিয়ে। মিমকে বাসার ভেতরে নিয়ে আসার চেষ্টা করলো । কিন্তু দারোয়ান বেটা তো এখনো জেগে আছে। রাত তখন ১.০০ বাজে প্রায়। এদিকে মিম বাসার বাহিরে একটা মেয়ে। দাড়িয়ে আছে। .. এমন সময় দারোয়ান কি মনে করে বাসার ভেতরে চলে আসলো। এই সুযোগে এনামুল ছাদ থেকে দৌড়ে নিচে মিমের কাছে আসলো। মিম কে নিয়ে বাসার ঢুকতেই এনামুল এর মা সামনে পরে গেলো। এনামুল ভয়ে যেন কাঁপছে।)

– কি রে মেয়ে টা কে। ( এনামুল এর মা) ( এনামুল এর মুখ এ কোন কথা নেই। এদিক থেকে মিম বলে উঠলো।)
– আমি মিম। ওর বন্ধু । আন্টি চলেন আমরা রুম এ যাই । এনামুল এর রুম কোন টা আন্টি।
– চলো। ( মিমের ব্যাগ পত্র দেখে বুঝতে পারলো। মেয়েটি পালিয়ে এসেছে। তাই এনামুল এর মা মিম কে নিয়ে এনামুল এর রুম এ চলে গেলো।)

– হ্যাঁ বলো কে তুমি?
– আন্টি আমি এনামুল এর ব্ন্ধু।
– আমি জানি তুমি ওর বন্ধু না কি।

ব্যাগ গুছিয়ে একেবারে এসেছ। ভালো হইছে। শোন তুমি এসেছ ভালো হয়েছে। কিন্তু মা বাবাকে ফাকি দিলে কেন। তোমরা দুজন কিন্তু আমাকে জানাতে পারতে । ( মিম কথাগুলো শোনার পর। নিজের ভেতরের অনুভুতি টা কেমন যেন পাল্টে গেল। )

– আন্টি আমি ওর বন্ধু।
– বুঝি সব ই বুঝি। তুমি লুকানোর চেষ্টা করছো নিজেকে। লুকাতে হবে না। আমি তোমার মতো এমন ই একটা সুন্দর ছেলের বউ চেয়ে ছিলাম। আমার আর খুজতে হলো না। আমি এনামুল এর বাবা কে বুঝিয়ে বলবো। দেখ ঠিক মেনে নেবে তোমাদের সম্পর্ক। ছেলে আমার গেল কোথায়। দাড়াও ওকে খুজে নিয়ে আসতেছি। ( এনামুল এর মা এই কথা বলেই বাহিরে খুজতে গেল এনামুল কে। এদিকে মিম ভাবছে নতুন কোন জীবন পেলাম। এত সুন্দর শ্বাশুরী মিলবে কি আর। মিম যেন কল্পনায় এখন এই বাড়ির বউ।)

– কিরে এগুলা করা হয় তাহলে গোপনে গোপনে।
( এনামুল কেদে ফেলছে তখন।)
– মা আমি এসবের কিছুই জানিনা।
– হইছে আর ভয় পাওয়া লাগবে না। তাই বলে আমাকে তো বলতে পারতি না কি। আমি তোর মা নাহ? আমার কাছে লুকিয়ে রাখার কোন মানে হয়।

– মা তুমি ভুল বুঝতেছ।
– আমি কোন ভুল বুঝতেছি না। যা মেয়ে টার কাছে। আমি আসতেছি।
– মা মা বাবা যেন জানতে না পারে।
– সেটা আমি দেখবো যা তো তুই।
– প্লিজ মা। বাবা জানতে পারলে কিন্তু আমাকে বাড়ি ছাড়া করবে।
– তুই যা তো। (এনামুল তার রুম এ আসলো। এসে মাথায় হাত দিয়ে বসে পরলো। চেয়ার টায়।)
– দোস্ত আমায় ক্ষমা কর? ( মিম)
– না রে। তোর ও তো বিপদ। এসব কেন বলছিস? ( এনামুল)
– বিপদ টা হয়ে মনে হয় ভালোই হইছে।
– কেন?
– তুই এগুলা বুঝবি না। ধীরে ধীরে বুঝবি!
( এমন সময় এনামুল এর মা ঘরে ঢুকলো। খাবারের প্লেট নিয়ে। )
– কোন চিন্তা করো না। সব ঠিক হয়ে যাবে। নাও কিছু খেয়ে নাও। ( এনামুলের মা মিমকে) ( মিম মিষ্টি একটা হাসি দিয়ে)

– আচ্ছা আন্টি!!!! আপনার ছেলে কি খুব বোকা?
– ঐ আমি বোকা। তোরে কে বলছে হুম?
( এনামুল একটু চটাং মেজাজ এ কথা টা বললো।)
– চুপ কর। (এনামুল কে তার মা) ( এনামুল চুপ হয়ে গেলো। মিম খাচ্ছে আর এনামুল এর দিকে দিকে ড্যাব ড্যাব করে তাকিয়ে আছে। এনামুলের চোখ মুখ রাগে জ্বলছে।খাওয়া শেষে। এনামুলের মা মিম কে)

– তোমরা ঘুমাও সকালে দেখি কি করা যায়।
– মা তুমি কি করবা সকালে। কিছু করতে হবে না তোমার। ( এনামুল )
– আচ্ছা আন্টি ও এরকম করে কেন আপনার সাথে?

( মিম এনামুল এর দিকে তাকিয়ে চোখ বাকিয়ে মুখে হালকা মিষ্টি হাসি দিয়ে এনামুলের মায়ের আরো কাছাকাছি এসে কথাগুলো বললো।)

-ঐ আমার মায়ের সাথে তোর কি হু?
– ঐ চুপ কর তো।

আচ্ছা আমাদের বাসা টা তো ভাড়াটিয়া কোন রুম খালি নেই। একটি রুম আছে কিন্তু তোমাকে সেখানে রাখা যাবে না। তাই তোমাদের আলাদা রাখতে পারলাম না। )

– না আন্টি কোন সমস্যা নেই। ।
আমরা এক রুমেই থাকি তাতেই ভালো হবে।
– আচ্ছা থাকো তাহলে! গুড নাইট।
– আচ্ছা গুড নাইট আন্টি।
– মা আমি ওর সাথে থাকবো না।
( এই কথা এনামুলের মা কানেই তুললো না। চলে গেলো।)
– ঐ আমার মায়ের সাথে তোর কি।
কাল ই চলে যাবি তুই বাসা থেকে।
– এয়া বললেই হলো।
( মুখ বাকিয়ে)
– বললেই হলো মানে।
-বাসা কি তোর নাকি।
– হু আমার বাসা।

– বেশি তিরিং বিরিং করলে তোর বাবা কে ডেকে দেব কিন্তু এখন ।
– আচ্ছা তিরিং বিরিং বাদ। ঘুমা।
– তুই ঘুমাবি না। রাত তো অনেক ২ টা বেজে গেছে।
– না ঘুম নাই আমার।
— ঐ কই যাস।
– যেখানে ইচ্ছা সেখানে।
– পাগলামি করিস না তো।
– ছাদে যাই । যাবি।
– এত রাতে ছাদে কেন?
– একটা মেয়ে আমার জন্য ওয়েট করতেছে ।
– সত্যি না কি?
– হু।

– মেয়ে টি আবার ভুত না তো!!!
– ভুত হলে ভুত । যাবি কি না বল?
– আমি কিন্তু ভুত কে অনেক ভয় পাই।
– ভুত না চল তো।
– চল আমারো ঘুম আসতেছে না।

( বলেই দুজন ছাদে চলে গেলো। মিম ছাদে আসতেই দেখলো পুরো ছাদ টা চাদেঁর আলোতে ধবধবে । মিম দৌড়ে ছাদের মাঝখানে চলে গেলো। এদিকে এনামুল মিমের এই আনন্দ দেখে সে ও খুশি। এনামুল ও হেটে হেটে ছাদের মাঝখান টায় গেলো।)

– সত্যি অনেক সুন্দর। কিন্তু তুই আমাকে মেয়ের কথা বললি সে মেয়ে কোথায়?
– শুনবি মেয়েটি কে। বস এখানে। ( বসে পরলো মিম আর এনামুল। এনামুল বলতে লাগলো)
– ঐ চাঁদ টাই আমার কাছে একটা মেয়ে।

রাতে ঐ চাঁদ না দেখলে আমার ঘুম হয় না। রাতে ঐ চাদের আলোয় না ভিজলে। মনে হয় যেন রাত টাই যেন দুঃখকাতর। ঘুমাতে পারি না আমি । আমার মনের তৃষ্ণা মেটে না ঐ চাঁদ না দেখলে। মাঝে মাঝে আমি ঐ চাঁদের সাথে গল্প করতে করতে কত রাত যে পার করেছি নিজেও জানিনা।

( এনামুলের কথাগুলো মিম গালে হাত দিয়ে এক দৃষ্টিতে এনামুলের দিকে তাকিয়ে থেকে শুনছে। । আর ভাবছে এনামুল কে নিয়ে। এনামুল এখন কল্পনায় কথা বলছে। এনামুল শুধু বলেই যাচ্ছে বলেই যাচ্ছে। বাসার ছাদের আশে পাশে কিছু বড় বড় গাছ ছিলো। একটি গাছ থেকে মনে হয় বড় কোন পাখি উড়ে যাওয়ায় গাছের পাতাগুলো অনেকটা নড়ে উঠেছে শব্দ হয়েছে কিছুটা। এদিকে মিম ভয় পেয়ে এনামুলকে জড়িয়ে ধরেছে। এনামুলকে জড়িয়ে ধরার পর এনামুল যেন কিছুই বলছে না। সে ও অবাক হয়ে গেছে। মিম এনামুল কে আরো জোড়ে চেপে জড়িয়ে ধরছে। এনামুলের মন টা তখন অন্য মনস্ক হয়ে গেলো। এনামুল কি করবে ভেবে পাচ্ছে না। অনেক্ষন জড়িয়ে ধরে আছে দুজন ই নিরব। কেউ কিছু বলছে না। অনেক্ষন পর মিম এনামুল কে ছেড়ে দিয়ে। এনামুল এর দিকে একবার তাকিয়ে। মিম কি যেন ভেবে রুম এ চলে গেলো। এনামুল কিছুই বুঝতে পারলো না। মিম তাকে ছেড়ে দেওয়ার পর । তার মনের মধ্যে প্রেমের অনুভুতি ছোয়া প্রবেশ করলো । নতুন এক পৃথিবীর জন্ম হলো এনামুল এর মধ্যে। নতুন কোন সুখের ছোয়া পেল সে। সে কেবল ভাবছে কেন এমন হচ্ছে।

এনামুল ও রুম এ চলে গেলো। রুম এ গিয়ে দেখে মিম ঘুমিয়ে পরেছে। মিমের সেই ঘুমের মুখটা এতই সুন্দর লাগছিলো। যা এনামুলের কল্পনার মধ্যে ও সীমাবদ্ধ না। মিম কে আগে সে কখনো এভাবে দেখে নি। আজ মিম কে নতুন করে দেখছে এনামুল। আর ভাবছে এটা কি মিম। না কি আমার সেই কল্পনার পরী। এনামুল মিম এর কাছে গিয়ে বিছানায় বসে মিমের মুখটা দেখছে। আর কল্পনায় ভেসে চলেছে। এমন সময় মিম চোখ খুললো। এনামুল চমকে গিয়ে চোখ অন্য দিকে ঘুরিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে গেলো। আসলে মিম ঘুমায় নি। সে কেবল লজ্জায় ঘরে চলে এসে ছে। এসে ঘুমের রুপ নিয়ে শুয়ে ছিলো । মিম খুব লজ্জা বোধ করছে । মিম মনে মনে ভাবছে সে কি এনামুল এর প্রেমে পরছে। এমন ভাবনা তো মিমের ও আগে হয় নি। ও দিকে এনামুল ও এক ই ভাবনায় জড়িত। মিম বাহিরে গিয়ে দেখলো এনামুল নেই। সে আবার ছাদে চলে গেলো। গিয়ে দেখে মিম কে ডেকে ডেকে বলছে কল্পনায় বলছে )

– মিম আমি কি তোর প্রেমে পরলাম। কেন পরলাম। আগে তো এমন হয় নি। ( মিম এনামুল এর কাছে গিয়ে পিছন থেকে বললো)
– ঘুমাবি না? (এনামুল চমকে উঠে)
– কখন উঠে পরলি ?
– আমি তো ঘুমায় নি। আমি ঘুমিয়েছি তুই দেখলি কিভাবে? ( এনামুল মিম এর দিকে চেয়ে আছে। কিছুই বলছে না।)
– কি তাকিয়ে আছিস কেন? কার সাথে কথা বলছিলি এতক্ষন। ( এনামুল মনের কথা গুলো জমা না রেখে বলেই দিলো মিম কে।)

– আমার নতুন পৃথিবী., নতুন স্বপ্ন লোকের সঙ্গে। ( মিম ও এনামুল কে ছাড়লো না)
– নতুন স্বপ্ন লোক টা কে শুনি?
– শুনবি।
– হু খুব ইচ্ছে করছে।
– তাই তাহলে বলবো না।
– বলবি না? ( বলেই মিম এনামুলের আরো কাছে যেতে লাগলো।)
– এতক্ষন তো মনে হয় পিছনে দাড়িয়ে সব শুনেছিস। নতুন করে জানতে চাস কেন আবার।
– আবার বল না শুনতে ইচ্ছে করছে।
– আচ্ছা মিম তোকে নিয়ে যে জীবনে নতুন এক পৃথিবী গড়বো। এটা কখনো ভাবিনি।
– আমি ও তো কখন ও ভাবিনি। কিন্তু তোদের বাড়িতে যখন এসে তোর মার সথে পরিচয় হলো। তখন থেকে মনটা বলছিল। এ বাড়িটাতেই হয়তো আমার সারাজীবন থাকতে হবে। তোর মা খুব ভালো রে।

– আমার বাড়িতেই না হয় থেকে যা।
– একদিন না তো।
– সারাজীবন ই থাকতে চাই।
– হুম তাই।
– রাখবি আমাকে। ভালোবাসবি আমাকে? – বেসে ফেলেছি?
– তোর বাবা যদি মেনে না নেয়?
– দেখিস মেনে নিবে মা কে বুঝিয়ে বলবো। মা বাবাকে বুঝিয়ে বলবে।
– মা কে বুঝাতে হবে না। মা বুঝে গেছে।
– মানে!! কিভাবে?
– আমাকে এ বাড়িতে দেখার পর ই। মা ভেবেছে আমরা দুজন দুজন কে ভালোবাসি। সেই জন্য ই বাড়ি থেকে পালিয়ে এসেছি।

– সত্যি !!!
– হু সত্যি।
– সে জন্যই তো বলি মা তোকে সাপোর্ট করে কেন?
– মা কি তোকে সাপোর্ট করবে না কি?
– আমার মা আমাকে সাপোর্ট করবে। তোকে সাপোর্ট করবে কেন?
– জ্বী না ( দাত কেলিয়ে) এখন থেকে আমাকে সাপোর্ট করবে।
– মা আমার ওকে।
– আমার ও।
– দিমু না তোকে।
– দিবি না !! নাহ?
– নাহ দিমুনা!
– আচ্ছা আমি তোর বাবাকে ডেকে আনবো এখনি। ( বলেই মিম পা বাড়াতেই। এনামুল মিম এর হাত ধরে ফেলল।)
– কই যাস। আমি ই তো তোর। আমার মা ও তোর। বাবা ও। আমার যা কিছু আছে সব তোর।
– হুম তাই।
– আবার একটু জড়িয়ে ধরবি।
– সাহস বেড়ে গেছে নাহ?
– হুম। ( বলেই এনামুল মিম কে জড়িয়ে নিলো।)
– ছাড় । ভোর হবে কিছু সময় পর। চল রুমে যাই।
– হুম যাবো রাত শেষ হোক।

চাঁদ কে বিদায় দিবো তার পর আমরাও বিদায় নিবো। (রাত শেষ হলো। চাঁদ কে বিদায় দিলো।) তবে পরে তাদের দুই পরিবার ই তাদের সম্পর্ক টা মেনে নিয়েছে। এনামুল এখন একটি হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক । আর মিম ঐ হাই স্কুলের একজন ইংরেজি শিক্ষিকা। তারপর দুজন ই সুখী।

গল্পের বিষয়:
রোমান্টিক

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত