পাগল এর পাগলী

পাগল এর পাগলী

প্রেয়সী – এই শোনো! আমরা যখন বিয়ের পর একসাথে থাকবো! তখন আমাদের বিছানায় শুধুমাত্র একটা বালিশ থাকবে (ছেলেটা কিছুটা বিভ্রত হয়ে বলে)

আরিয়ান : ইয়ে মানে! এক বালিশে দুজন থাকবো কিভাবে?? একটা বালিশেতো কেবল একজনি থাকা যায়!

প্রেয়সী- আরে বোকা এক বালিশেই দুজন থাকা যায় তুমি বালিশে মাথা রেখে ঘুমাবে, আর আমি তোমার বুকে মাথা রেখে ঘুমাবো!! এবার বুঝলা??

আরিয়ান : হুম বুঝেছি

প্রেয়সী- রোজ সকালে ভেজাচুলে যখন তোমার ঘুম ভাঙ্গাবো তখন তুমি আমাকে জোর করে দু’হাত ধরে তোমার পাশে বসাবে তারপর চুল আঁচড়ে তেল দিয়ে বিলি কেটে বেনী পাকিয়ে দিবে…

আরিয়ান: কিন্তু আমি যে এগুলো পারিনা

প্রেয়সী- তাতে কি?? মাথায় হাতটাতো বুলিয়ে দিতে পারবে ..!

আরিয়ান-: হ্যা এটা পারবো”!!

প্রেয়সী- শোনো! বিয়ের পর কিন্তু তোমার সাথে ইচ্ছে মতো ঝগড়া করবো! রাগ দেখাবো! অভিমান করবো! (ছেলেটা কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে বলে)

আরিয়ান-: হঠাৎ এগুলো কেনো! এগুলোকে আমি প্রচন্ড ভয় পাই!

প্রেয়সী- আরে এগুলো না করলে তোমার সাথে রোমান্স বাড়বে কিভাবে? তুমি আদর করে রাগ কমাবে, মাঝে মাঝে ছোট খাটো উপহার দিয়ে অভিমান ভাঙ্গাবে তখন আমি তোমার বুকে মাথা রেখে কাঁদবো

আরিয়ান: তুমি কাঁদবে কেনো?না না আমি তোমার কান্না সহ্য করতে পারবনা!!

প্রেয়সী:- আরে গাধা এই কান্না সেই কান্না নয়, এই কান্না সুখের কান্না, ও তুমি বুঝবেনা!

আরিয়ান-: হুম ঠিক আছে

প্রেয়সী- এই শোনো না! বৃষ্টির দিনে কিন্তু তোমাকে সাথে নিয়ে বৃষ্টিতে ভিজবো, মাঝে মাঝে যখন শিলা বৃষ্টি পরবে তখন আমরা চুপি চুপি শিল কুড়াতে যাবো, কি মজা হবে তাইনা!! (ছেলেটা ভ্রু কুচকায়..আতঙ্কিক কন্ঠে বলে ওঠে)

আরিয়ান-: না! না! আমি বৃষ্টিতে ভিজতে পারবোনা, বৃষ্টিতে ভিজলে আম্মু বকে আমার কাপুনি দিয়ে জ্বর আসেতো সেই জন্য”!!

প্রেয়সী- বলো কি! তাহলেতো আরও ভালো! তোমার কাপুনি দিয়ে জ্বর আসবে, আমি রাত জেগে তোমার কপালে জলপট্টি দেবো প্রচন্ড উষ্ণতায় যখন শীত শীত অনুভুতিতে তুমি কাঁপতে থাকবে, তখন আমি তোমার কাঁথা হয়ে জড়িয়ে থাকবো

আরিয়ান-: হুম ঠিক আছে… আমরা ভিজবো

প্রেয়সী- আরেকটা কথা পূর্ণিমারাতে কিন্তু আমরা ঘুমাবোনা, তুমি আমার পাশে বসে রোমান্টিক কবিতা বলবে, মন ভাল করা গান শুনাবে, আর তোমার কল্পরাজ্যের যতশত গল্প আছে সব আমাকে বলবে

আরিয়ান-: কিন্তু আমিতো রাত জাগতে পারিনা কবিতা গান গল্প এগুলোও পারিনা

প্রেয়সী- আরে বোকা এখন থেকে শেখার চেষ্টা করো! রাত জাগার অভ্যাস করো সরল সহজ বোকাসোকা ছেলেটা এখন প্রতিটা পূর্ণিমাতেই রাত জেগে কবিতা লিখে,

বেসুরা কণ্ঠে গান গায় মায়ের শত বকনী উপেক্ষা করে বৃষ্টিতে ভিজে স্কুলটাইমে ছোট বোনটিকে মা’ যখন চুলে সিতি কেটে বেনী পাকিয়ে দেয় ছেলেটি তখন লোভাতুর চোখে তাকিয়ে থাকে”! আসলে আমাদের প্রত্যেকের জীবনেই এমন কিছু প্রিয় মানুষ আসে, যারা আমাদের পুরো সত্বাটাকে পরিবর্তন করে দেয়, অগুছালো জীবনটাকে গুছিয়ে দেয় বদ অভ্যাসগুলোকে অভ্যাসে পরিণত করায় সপ্নগুলোকে আকড়ে ধরে নতুন করে বাঁচতে শেখায়!! সত্যি কথা বলতে কি! আমাদের প্রত্যেকের জীবনে সেই মানুষগুলোর বড্ড অভাব, সত্যিই অভাব”

গল্পের বিষয়:
রোমান্টিক

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত