ঝগড়াটে মেয়ের মিষ্টি ভালবাসা

ঝগড়াটে মেয়ের মিষ্টি ভালবাসা

ফযর নামাজের পর রাস্তায় একা একা হাঁটছি ! আজকে সকাল টা অনেক মিষ্টি, আজ অনেক কুয়াশা পরেছে তেমনি অনেক শীতও পরেছে ! আজ শুক্রবার কোনো কাজের চিন্তা নাই, তাই ভাবলাম সকালটা উপভোগ করি ৷

আমার পরিচয় হলো – আমি নীল, আব্বু-আম্মুর এক মাত্র সন্তান ৷ ভার্সিটি শেষ করে আব্বুর অফিস দেখাশুনা করি ৷
হাঁটতে হাঁটতে পার্কের দিকে চলে এসেছি, সামনে একটা চায়ের দোকানে বসলাম ৷ দোকানদার ভাইকে এক কাপ রং চা দিতে বললাম ! দোকানদার চা তৈরি করতে করতে তার সাথে পরিচয় পর্বটা শেষ করলাম ৷ চায়ের কাপে চুমুক দেওয়ার সময় একটা মেয়ের দিকে নজর গেল, মেয়েটি পার্কে জগিং করছে ৷ মেয়েটার স্বাস্থ্য একটু বেশী , কিন্তু আমার মনে হয় কমানোর প্রয়োজন নেই ৷ মেয়েটা যে কোনো ছেলেকে ক্রাশ খাওয়াতে পারফ্রেক্ট ৷ মেয়েটার চেহেরার একটা মায়া কাজ করছে ৷ মেয়েটার কথায় বাস্তবে ফিরলাম…..

বালিকা:- এই যে মিস্টার..
আমি:- আমাকে বলছেন ?
বালিকা:- আপনার ছাড়া আর কেউ তো আমার দিকে রাক্ষসের মতো হা করে তাকিয়ে নেই !
আমি:- এই যে ভদ্র ভাবে কথা বলুন….
বালিকা:- আপনি কী ভদ্র ?
আমি:- দেখে মনে হয়না আমি কতটা ভদ্র…
বালিকা:- আইছে আমার ভদ্র পোলা ! গায়ে পাঞ্জাবি, মাথায় টুপি দিয়ে মেয়েদের দিকে হা করে তাকিয়ে থাকে ৷ আবার নিজেকে বলে ভদদ…দ্র…

আমি:- আপনি কি করে ভাবলেন আপনার মতো আটার বস্তার দিকে ছেলেরা তাকিয়ে থাকবে …
বালিকা:- ওই তুই কি বললি ..আমি আটার বস্তা ?
আমি:- তুইতোকারি করবেন না … ব্যবহারে বংশের পরিচয়…
বালিকা:- তোর বংশ মনে হয় ধুয়া তুলসীপাতা …
আমি:- ওই ছেমরি বংশ নিয়ে কথা বলবি না !
বালিকা:- তুই প্রথম বললি কেন …তোর বাড়ির ঠিকানা দে …
আমি:- কেন বিয়ের প্রস্তাব পাঠাবি ? আমি আগেই না করে দিলাম তোর মতো আটার বস্তাকে আমার বউ বানাতে পারবো না ..
বালিকা:- বিয়ের প্রস্তাব না,, শশুর বাড়ি পাঠাবো… আর আমি দোয়া করলাম তোর কপালে যেমন আটার বস্তা পরে…
আমি:- অন্য আটার বস্তা পরলে সমস্যা নাই, শুধু তুই আটার বস্তা না পরলেই হয়..

মেয়েটা এক বস্তা রাগ নিয়ে চলে গেলে ৷ মনে মনে ভাবছি “কী জগড়াটে মেয়েরে বাবা, যার গলায় জুলবে তার জীবনটা তেছপাতা করে দিবে, কিন্তু মেয়াটা অনেক মিষ্টি” ৷ আমি নীলা, অনার্স দ্বিতীয় বর্ষ ! আমার পরিবারে আব্বু-আম্মু, বড় ভাইয়া পুলিশ(ডিসি), ভাবি ও ছোট ভাই(আসিফ)৷
আজকের সকলটা অনেক মিষ্টি ৷ তাই জগিং করার নামে সকালটা উপভোগ করছিলাম ৷ এমন সময় দেখলাম একটা ছেলে আমার দিকে হা করে তাকিয়ে আছে, গায়ে পাঞ্জাবি, মাথায় টুপি ৷ হুজুর হুজুর মনে হচ্ছে , তাই ভাবলাম হয়তো আমার দিকে তাকিয় নেই ৷ কিন্তু পরে বোঝতে পারলাম আমার দিকেই তাকিয়ে আছে, তাই জাড়ি দেওয়ার সুযোগটা হাত ছাড়া করলাম না ৷ ছেলেটাকে আমি কি জাড়ি দিবো, ছেলেটাই আমাকে এত্তো গুলা কথা শুনিয়ে দিল ৷ আমি নাকি দেখতে আটার বস্তা ? তাই ছেলেটার সামনে থেকে চলে আসলাম এক বস্তা রাগ নিয়ে ৷ বাসায় গিয়ে…চেঁচামেচি শুরু করে দিলাম…

আমি:- ভাইয়া..ভাইয়া
আম্মু:- কি হয়েছে মা ?
আমি:- ভাইয়া কোথায় ?
আম্মু:- কেন বলবি তো ! কি হয়েছে ?
আমি:- একটা লুচ্চা ছেলে আমাকে ইভটিজিং করেছে ৷
ভাবি:- আমার ননদকে কোন ছেলে আবার কি বলল ?
আমি:- আমি নাকি আটার বস্তা !
ছোট ভাই:- ভাইয়াটা তো সত্যি কথাই বলেছে….
আমি:- ওই শয়তান তুই কি বললি.. এদিকে আয়….
আম্মু:- জগড়া বন্ধ করে, নাস্তা করতে আয়….

বাসায় ডুকে দেখি আব্বুর সাথে আব্বুর বন্ধু বসে আছে ৷

আমি:- আংকেল কেমন আছেন ?
আংকেল:- ভালো বাবা, কোথায় থেকে আসলা ?
আমি:- নামাজ পড়ে রাস্তায় হাঁটলাম, শীতটা উপভোগ করছিলাম আরকি !
আংকেল:- বাবা একটু সময় পেলে আমাদের বাসা থেকে ঘুরে এসো ৷
আমি:- আচ্ছা আংকেল যাবো ৷

আংকেল আগে যশোর থাকতো, ঢাকা নতুন বাসা নিয়েছে দুই মাস হবে, আমাদের বাড়ি থেকে রিকশায় করে গেলে ৩০-৩৫ মিনিট লাগবে ৷ নাস্তা করে আমার রুমে বসে একটু কাজ নিয়ে বসলাম ৷ আম্মু আসলো

আম্মু:- বাবা নীল একটা কথা ছিল ?
আমি:- কি কথা আম্মু বলো ?
আম্মু:- তোকে না জানিয়ে আমরা তোর বিয়ে ঠিক করে ফেলেছি ৷
আমি:- তাতে কি হয়েছে, তোমরা যা করবে তাতো আমার ভালোর জন্যই করবে ৷
আম্মু:- যদি তোর পছন্দ থেকে…?
আমি:- না আম্মু আমার কোনো পছন্দ নেই, তোমাদের পছন্দই আমার পছন্দ ৷
আম্মু:- তো কাল অফিস থেকে আসার সময় তোর কামরুল আংকেলের বাসা থেকে ঘুরে আসিছ ৷
আমি:- কামরুল আংকেলের বাসায় কেনো ?
আম্মু:- কামরুল ভাইয়ের মেয়ের সাথেই তোর বিয়ে ঠিক করা হয়েছে ৷
আমি:- ওহু,, আচ্ছা সময় পেলে যাবো ৷

ছোট কাল থেকে যা চেয়েছি তাই পেয়েছি, সব আবদার পূরণ করেছে আব্বু-আম্মু ৷ এখন তাই বিয়ের জন্য না করতে পারলাম না ৷আজ অফিস থেকে ফেরার পথে ভাবলাম আংকেলের বাসায় যাবো ৷ গাড়ি থেকে নেমে আংকেলের বাসা টা খুঁজতে লাগলাম ৷ সামনে একটা মেয়ে কে দেখতে পেলাম, তাই ভাবলাম মেয়েটাকে জিজ্ঞাস করি

আমি:- এই যে আপু একটু সাহায্য করবেন ?(আমার দিকে ঘুরলো, আমি তো দেখে পুরাই অবাক্‌, কালকের সেই ঝগড়াটে মেয়েটা)
বালিকা:- এই জীবনের প্রথম কাউকে দেখলাম কোর্ট পরে ভিক্ষা করতে , তা কতো দিয়ে সাহায্য করতে পারি ?
আমি:- ভদ্র ভাবে কথা বললেন…
বালিকা:- মানে আপনি বলতে চান আমি অভদ্র ?
আমি:- অভদ্রর থেকে বেশী কিছু
বালিকা:- তোর সাহস থাকলে দাঁড়া আমি আসতাছি মেয়েটা একটা বাড়িতে ডুকে গেল ৷ কিছু সময় পর একটা ছেলেকে নিয়ে আসলো, ছেলেটার গায়ে পুলিশের পোশাক ৷বালিকা:- ভাইয়া এই ছেলেটা কাল আমার সাথে ইভটিজিং করেছে, আবার আমাকে বলে আমি নাকি অভদ্র ৷

বালিকার ভাই:- তুই বাসায় যা(মেয়েটাকে বলল) আমি এই ছেলেটার খবর নিচ্ছি ৷ মেয়েটা চলে গেল…
বালিকার ভাই:- আমার বোনের হয়ে আমি তোমাকে সরি বললাম ৷ ওর ব্যবহারে কিছু মনে করো না ৷ আমার বোনটা একটু পাগলি টাইপের ৷
আমি:- (একটু না সবটুকুই পাগল) আস্তে আস্তে বললাম ৷
বালিকার ভাই:- তোমার নাম কি ?
আমি:- আমি নীল, আপনি ?
বালিকার ভাই:- আবির…
আমি:- তা হলে ভাইয়া আসি ?
বালিকার ভাই:- ওকে বায়

আজ আর আংকেলের বাসায় গেলাম না আজ আবার সেই ছেলেটার সাথে দেখা হলো, তাই ভাবলাম একটু জাড়ি দেই ৷ কিন্তু আমাকে বলল আমি নাকি অভদ্র, তাই ভাইয়াকে ডেকে আনলাম জাড়ি দেওয়ার জন্য ৷ কিন্তু মজাটা নিতে পারলাম না ৷ ভাইয়া ওইখান থেকে তাড়িয়ে দিলো ৷ ছেলেটাকে আজকে অনেক স্মার্ট লাগিতেছিল ৷ এই রকম ছেলের সাথেই প্রেম করবো ৷

ভাবি:- নীল তোমার ভাইয়া কোথায় ?
আমি:- কালকে যেই ছেলেটা আমার সাথে ইভটিজিং করেছে, তাকে জাড়ি দিচ্ছে …
আম্মু:- নীলা তোর পাগলামি বন্ধ করবি না ? তোর পাগলামির জন্য যশোর থেকে চলে এসেছি ৷ তোর এই পাগলামি বন্ধের ব্যবস্থা করতে হবে ৷

আমি:- তোমার পাগলি মেয়েটার পাগলামি কি করে বন্ধ করবে ?
আম্মু:- তোর আব্বু তোর বিয়ের জন্য ছেলে খুঁজছে, বিয়ে দিলেই তোর পাগলামি বন্ধ হবে ৷
আমি:- আব্বু তুমি কি সত্যি আমার বিয়ের জন্য ছেলে খুঁজছো ? আমি আগেই বলে দিলাম এখন আমি বিয়ে করতে পারবো না ৷
আব্বু:- কেনো বিয়ে করতে পারবি না ?
আমি:- তোমরা আমাকে তোমাদের বাসা থেকে তাড়িয়ে দিতে চাও তাইতো ?
আব্বু:- নারে মা.. আমার মাকে এতো তাড়াতাড়ি বিয়ে দিবো না..
আমি:- সত্যিতো আব্বু..
আব্বু:- হুম…
আম্মু:- এই তোমার আদর পেয়ে পেয়ে মেয়েটা এমন টা হয়েছে ..
আব্বু:- আমার একটা মাত্র মা তাকে আদর করবো নাতো কাকে আদর করবো ?

আজ রাতে আংকেল ফোন দিয়ে জিজ্ঞাস করলো কেনো তাদের বাসায় যাইনি ৷ আমি বলাম কাজ ছিল তাই আসতে পারিনি ৷ আংকেল বলল কাল দুপুরে তাদের বাসায় lunch করতে, আমি হ্যা বলে দিলাম ৷ আজ দুপুরে সব কাজ গুছিয়ে আংকেলের বাসার উদ্দেশে রওনা দিলাম ৷ কলিং বেল চাপতেই একটা পিচ্চি দরজা খুলে দিলো ৷

পিচ্চি:- কাকে চাই ?
আমি:- কামরুল আংকেল বাসায় আছে ?
পিচ্চি:- হুম আব্বু বাসায়… আপনি কে ?
আমি:- আমি নীল… তুমি ?
পিচ্চি:- আসিফ…
আমি:- তোমার আপু বাসায় আছে ?
আসিফ:- নীলা আপুতো ভার্সিটিতে…
আমি:- তোমার আপুর নাম নীলা? ভিতর থেকে কেউ জিজ্ঞাস করলো “আসিফ কে এসেছে ?”
আসিফ:- নীল বলে কেউ আপুর কথা জিজ্ঞাস করছে ৷

মনে হয়ে আমাকে চিনতে পেরেছে ৷ তাই ভিতরে নিয়ে যেতে বলল ৷ lunch করে বসে বসে আসিফের সাথে কথা বলছি ৷ কারণ আংকেল বলেছেন নীলার সাথে দেখা করে যেতে ৷ হঠাত্‌ সেই ঝগড়াটে মেয়েটার আগমন হলো ৷

বালিকা:- এই আপনি আমাদের বাসায় কি ?
আমি:- (বুঝতে পারলাম এই নীলা) আপনি কি নীলা ?
নীলা:- আমার বাসা থেকে বের হয়ে যান ৷
আংকেল এসে নীলার গালে একটা থাপ্পড় বসিয়ে দিল ৷
আংকেল:- কার সাথে কি ভাবে কথা বলতে হয় তাও জানা নেই ৷ নীলা গালে হাত দিয়ে চলে গেল ৷
আংকেল:- বাবা আমি ওর হয়ে ক্ষমা চাচ্ছি..
আমি:- আংকেল কি বলছেন.. আপনি আমার বাবার মতো ৷

নীলাদের বাসা থেকে চলে আসলাম ৷ কেনো জানি নিজেকে খুব অপরাধী মনে হচ্ছে ৷ আংকেল কে ফোন দিয়ে বললাম “আংকেল আমি বিয়েতে রাজি, কিন্তু নীলা কে বলবেন না আমার সাথে নীলার বিয়ে ঠিক হয়েছে ৷ আজ ভার্সিটি থেকে বাসায় এসে দেখি সেই অভদ্র ছেলেটা ৷ তাই একটু জাড়ি দিলাম, মজা করার জন্য কিন্তু আব্বু আমার গালে থাপ্পড় দিল ৷ এই জীবনের প্রথম আমার গায়ে হাত তুলেছে, তাও আবার একটা বাইরের ছেলের জন্য ৷ তাই খুব কষ্ট লাগতাছে ৷ আমার রুমে শুয়ে কান্না করছি ৷ আম্মু এসে ডাক দিলো..

আম্মু:- নীলা মা দরজা খুল ৷
আমি:- দরজা খুলা আছে.. (চোখ মোছে নিলাম)
আম্মু:- খুব লেগেছে মা ?
আমি:- হুম
আম্মু:- তুই নীলের সাথে এমন করলি কেন ? নীলকে কি তুই আগে চিনিস ?
আমি:- ওই ছেলেটাই তো আমাকে ইভটিজিং করেছে ..
আম্মু:- নীল এই রকম ছেলে হতে পারে না,, তোর কোথাও ভুল হচ্ছে…
আমি:- তুমি ছেলেটাকে চিনো ?
আম্মু:- চিনবো না কেনো .. নীলতো তোর সাজ্জাদ আংকেলের ছেলে ৷

সাজ্জাদ আংকেল আমাকে অনেক আদর করে.. কিন্তু আমি ওই নীলকে দেখে নিবো ৷ ওর জন্য আব্বু আমার গায়ে হাত তুলেছে ৷ এখন প্রতিদিনই নীলাকে দেখতে যাই ৷ আজ নীলার ভার্সিটিতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আছে ৷ তাই ভাবিকে (নীলার ভাবি) ফোন করে বললাম “নীলাকে একটা নীল শাড়ী পরিয়ে দিতে” ৷ আমি একটা নীল পাঞ্জাবি পরে নীলার বাসায় যাচ্ছি ৷
বাসায় ডুকে আংকেল আন্টির সাথে কথা বললাম ৷ ভাবি আমার জন্য নাস্তা নিয়ে আসলেন ৷

আমি:- ভাবি নীলা কোথায় ?
ভাবি:- ওর রুমে আছে ৷
আমি:- ওহু…. নীলা কি শাড়ী পরেছে ?
ভাবি:- হুম..
আমি:- ভাবি আরেকটা কাজ করতে হবে ,
ভাবি:- কী কাজ ? বলো
আমি:- আংকেলকে বলবেন নীলা জেনো আমাকে সাথে করে ভার্সিটিতে নিয়ে যায় ৷
ভাবি:- আচ্ছা ব্যবস্থা করছি ..
নীলাকে নীল শাড়ীতে অনেক সুন্দর দেখাচ্ছে ৷
আংকেল:- নীলা ! নীলকে তোর সাথে করে ভার্সিটিতে নিয়ে যা ৷
নীলা:- ওনার কি পা নেই ? যে আমাকে নিয়ে যেতে হবে ৷
আংকেল:- নিয়ে গেলে কি কোনো সমস্যা হবে ?
নীলা:- হু (কিছু বলতে গিয়ে থেমে গেলো) ওকে চলোন ৷

আজ গাড়ি নিয়ে আসিনি, কারণ দুই জন রিকশা দিয়ে যাবো ৷ রিকশা ডাক দিলাম “মামা ভার্সিটি যাবেন”

নীলা:- আমি আপনার সাথে এক রিকশাতে যেতে পারবো না ৷
আমি:- আংকেলকে বলে আসি ..
নীলা:- আব্বুকে বলতে হবে না আমি যাবো ৷
রিকশাতে নীলার গা ঘেসে বসলাম ৷
নীলা:- ওই দিতে চেপে বসোন
আমি:- ওকে…
আমি:- নীলা একটা কথা বলি ?
নীলা:- কি বলবেন বলোন
আমি:- তোমাকে নীল শাড়ীতে অনেক সুন্দর লাগচ্ছে
নীলা:- এবার আমি বলি ?
আমি:- হুম বলো
নীলা:- আপনাকে নীল পাঞ্জাবিতে ক্ষেত দেখাচ্ছে ৷

একটু ভেবাচ্যাকা খেয়ে গেলাম ৷ ভার্সিটি এসে গেছি রিকশা ভাড়া মিটিয়ে ভার্সিটিতে ডুকলাম ৷ নীলা ওর ফ্রেন্ডের সাথে কথা বলছে তাই আমি যাদের চিনি ভার্সিটিতে তাদের সাথে কথা বলছি ৷  আজ ভার্সিটেতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ৷ তাই ভাবছি কি পরা যায় ৷ ভাবি আমার রুমে এসে একটা নীল শাড়ী দিয়ে বলল শাড়ীটা পরে যেতে ৷ শাড়ীটা পরে রুম থেকে বেরিয়ে দেখি নীল একটা নীল পাঞ্জাবি পরেছে ৷ আব্বু বলল নীলকে আমার সাথে ভার্সিটি নিয়ে যেতে, আব্বু ভয়ে না করতে পারলাম না ৷ বুঝতে পারছি না নীল কেনো আমাদের বাসায় প্রতিদিন আসে ৷ নীল ভার্সিটি যাওয়ার জন্য রিকশা ডাকলো ৷ অভদ্র ছেলেটা আমার গা ঘেসে বসলো, মনে চাইতাছে একটা থাপ্পড় বসিয়ে দেই ৷ নীলকে নীল পাঞ্জাবিতে অনেক স্মার্ট দেখাচ্ছে ৷ তারপরও মিথ্যা বললাম ক্ষেত লাগছে ৷ কেনো জানি রাস্তার সব মানুষ আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে, খুব অস্বস্তিকর লাগছে ৷ ভার্সিটি ডুকতেই নীল ছেলেদের সাথে কথা বলতে চলে গেল ৷ যাক ভালো হয়েছে, ৷ আমি আমার ফ্রেন্ডের আড্ডায় যোগ দিলাম ৷

আফরিন:- নীলা দোস্ত তোর সাথে আসলো ওই ছেলেটা কেরে ?
আমি:- নীল
আফরিন:- হুম নীল পাঞ্জাবিটা পরেছে.. কে ?
আমি:- আরে ওর নামই নীল… অভদ্র নীল
নাদীয়া:- ছেলেটা তো অনেক স্মার্ট ..
সানজিদা:- তোর কি হয় ? বি.এফ. নাকি ?
আমি:- আরে না .. নীল আমার আব্বুর বন্ধুর ছেলে
আফরিন:- নীলা প্রেম কর তোর সাথে ভালো মানাবে ৷
সানজিদা:- নীল, নীলা কতো মিল..
নাদীয়া:- নীল নীল পাঞ্জাবি আর নীলা নীল শাড়ী … কি ম্যাচিং

সবাই এক সাথে হাসতে শুরু করলো ৷ এই নীল কে আমি ছাড়বো না .. ওর জন্য আমার উপর আব্বু হাত তুলেছে.. আর এখন. ? আজ নীলার বাসায় যাচ্ছি আম্মু-আব্বুর সাথে, আংটি পরানোর জন্য ৷ নাস্তা করার পর নীলাকে ভাবি নিয়ে আসলো ৷ নীলা একটা লাল শাড়ী পরেছে, একটু বউ বউ লাগছে ৷ সবাই আংটি পরাতে বলছে.. কিন্তু আমি বললাম নীলার সাথে আলাদা ভাবে কথা বলার পর আংটি পরাবো ভাবি আমাকে আর নীলাকে ছাদে দিয়ে আসলো ৷ নীলা কিছু বলছে না আর আমিও কিছু বলছি না ৷ আমিই প্রথম কথা বলা শুরু করলাম….

আমি:- নীলা কেমন আছো ?
নীলা:- আপনি কি এই কথা জিজ্ঞাস করার জন্য ছাদে এনেছেন ?
আমি:- না..না..
নীলা:- তো ?
আমি:- আমাকে বিয়ে করতে তোমার কোনো আপত্তি আছে ?
নীলা:- না…
আমি:- সত্যি …
নীলা:- হুম…

আংটি পরিয়ে চলে আসলাম ৷ রাতে নীলাকে ফোন দিলাম প্রথম বার ধরলো না দ্বিতীয় বার ধরলো

আমি:- আস্সালামু আলাইকুম
নীলা:- ওয়ালাইকুম আস্সালাম
আমি:- কেমন আছেন ?
নীলা:- ভালো.. আপনি ?
আমি:- ভালো …কি করেন ?
নীলা:- আসিফকে পড়াচ্ছি ৷
আমি:- dinner করেছেন ?
নীলা:- না এখন করবো ..
আমি:- আচ্ছা dinner করুন.. রাখি..

আমার রুমে আসিফের সাথে ফাজলামি করছি ৷ এমন সময় ভাবি এসে একটা শাড়ী দিয়ে বলল এই শাড়িটা পরতে ৷

আমি:- এখন শাড়ী পরবো কেনো ?
ভাবি:- সাজ্জাদ আংকেল আর আন্টি তোকে দেখতে আসবে ৷
আমি:- আমাকে দেখতে আসবে কেন ?
ভাবি:- নীলের সাথে তোর বিয়ে ঠিক হয়েছে…
আমি:- কী…! আমি নীলের মতো অভদ্র ছেলেকে বিয়ে করতে পারবো না ৷
আমি:- আম্মু ..আম্মু..
আম্মু:- কি হয়েছে মা ?
আমি:- ভাবি কি বলছে.. নীলের সাথে নাকি আমার বিয়ে ঠিক হয়েছে ?
আম্মু:- আমি কিছু জানতাম না.. সব তোর আব্বু ঠিক করেছে ..
আমি:- আব্বু কোথায় ?
আম্মু:- তোর আব্বু নিচে বসে আছে (নিচে গেলাম)
আমি:- আব্বু তুমি আমাকে না জানিয়ে আমার বিয়ে ঠিক করেছো কেনো ?
আব্বু:- তোর আর নীলের বিয়ে ছোট কাল থেকেই ঠিক হয়ে ছিল ৷ আর নীল ছেলেটা তো খারাপ না ৷ (আব্বুর মুখের দিকে তাকিয়ে কিছু বলতে পারলাম না ৷ আর নীল ছেলেটাতো খারাপ না, তাই বিয়ের জন্য হা বলে দিলাম ৷)
শাড়ী পরে আয়নার সামনে বসে আছি, আর আয়নাতে নিজেকে বার বার দেখছি কেমন বউ বউ লাগতাছে ৷

আসিফ:- আপু ..
আমি:- হুম
আসিফ:- তোমাকে অনেক সুন্দর লাগতাছে. ৷ আর নীল ভাইয়া অনেক ভালো ৷
আমি:- ভাইয়া না তোর দুলাভাই… (কি নিলজ্জের মতো আসিফকে বললাম নীল তোর দুলাভাই হয়)

আংকেল আন্টিকে সালাম দিয়ে, তাদের সাথে কথা বলছি ৷ নীল আমার দিকে বার বার তাকাচ্ছে ৷  নীল বলল আমার সাথে আলাদা কথা বলবে ৷ আমি ভাবলাম নীল আমাকে প্রপোজ করবে কিন্তু গাদাটা বলল আমি বিয়েতে রাজি নাকি.. আমি হা বলে চলে আসলাম mরাতে আসিফকে পড়াচ্ছি, এমন সময় নীলের ফোন আসলো.. প্রথম বার ধরলাম না.. দ্বিতীয় বার ধরলাম গাদাটা শুধু কিছু কথা বলে রেখে দিলো, একটু রুমান্টিক ভাবে কথা বলল না ৷ আর আমিও কিছু বলতে পারলাম না ৷ কতো আশা করেছিলাম হবু বরের সাথে বিয়ের আগে জমিয়ে প্রেম করবো ৷ মা বলেছিল বিয়ের পর আমার পাগলামি বন্ধ হয়ে যাবে, কিন্তু এখন দেখছি বিয়ের নাম শুনতেই আমার পাগলামি বন্ধ হয়ে গেল ৷  আজ আমার আর নীলার বিয়ে সম্পূর্ণ হলো ৷ গাড়িতে নীলা আমাকে জড়িয়ে ধরে বসে আছে, হয়তো কান্না করছে ৷ এখন নীলা আমার রুমে আছে, আর আমি আমার ফ্রেন্ডের সাথে আড্ডা দিচ্ছি ৷

আব্বু:- নীল ! নীলা হয়তো একা বসে আছে ৷
আমি:- হুম ..যাচ্ছি..

কেনো যেনো আমার রুমে ডুকতে ভয় করছে ৷ কিন্তু রুমে ডুকতেই হবে, তাই ডুকে গেলাম ৷ নীলা ঘুমটা দিয়ে বসে আছে ৷ প্রথম খাট থেকে নেমে আমাকে সালাম করলো ৷

আমি:- নীলা তোমাকে আজ অনেক সুন্দর লাগছে.. মনে চায় অনেক আদর করি ৷
নীলা:- আদর করতে হবে না… আর এই আটার বস্তাকে বিয়ে করলেন কেনো ?
আমি:- তখন তো মজা করে বলেছিলাম ৷
নীলা:- হুম বুজছি
আমি:- কি বুজছো ?
নীলা:- কিছু না !
আমি:- নীলা তোমার হাতটা ধরতে পারি ?
নীলা:- না.. আর রাতে আমার কাছে আসার চেষ্টা করবেন না ৷
আমি:- ওকে…
নীলা শুয়ে আছে আমিও শুয়ে পরলাম ৷ হঠাত্‌ আমার বুকে কামর অনুভব করলাম..
আমি:- আউউউ চোখ খোলে দেখি নীলা আমার দিকে চেয়ে মুচকি মুচকি হাঁসচ্ছে ৷
আমি:- কি হলো ?
নীলা:- এই গাদা আমাকে আদর করবি না ? নিজের বউয়ের হাত ধরতে লজ্জা পায় এমন ভদ্র বর আমার দরকার নেই ৷

আজ বিয়েটা সম্পূর্ণ হলো ৷ সবাই কে ছেড়ে যেতে খুব কষ্ট লাগচ্ছে ৷ আব্বু-আম্মুকে বিদায় দিয়ে গাড়িতে বসলাম ৷ নীলের বুকে মাথা রাখলাম, গাদাটা আমাকে জড়িয়ে ধরে একটু শান্তনা দিবে.. তাও পারে না ! রাতে শিক্ষা দিয়ে দিবো ৷
সেই কখন থেকে রুমে একা বসে আছি, গাদাটা এখনো আসে না ৷ হঠাত্‌ গাদাটা আসলো.. গাদাটাকে সালাম করলাম ৷ কোথায় আমার কপালে একটা চুমু দিয়ে বলবে, বউ তোমাকে অনেক সুন্দর লাগছে তানা করে বলে নীলা তোমাকে সুন্দর লাগছে ৷ তাই ভাবলাম একটু মজা করি… গাদাটাকে বললাম রাতে আমার কাছে আসবা না… গাদাটা আমার কথা শুনে শুয়ে পরেছে… এমন রাগ উঠলো.. গাদাটার বুকে একটা কামর বসিয়ে দিলাম ৷ গাদাটা আমার দিকে হা করে তাকিয়ে আছে ৷ আমি গাদাটার বুকে মাথা রেখে শুয়ে আছি, আজ সারাটা রাত নীলের বুকে শুয়ে থাকবো ৷ GOOD NIGHT.!!!!! (আর কিছু শুনতে হবে না… বিয়ে করলে বোঝতে পারছেন, আর বিয়ে না করলে বিয়ের পর বুঝে যাবেন ৷)GOOD MORNING.!!!!!

নীলা:- নীল ! উঠো আর কতো ঘুমাইবা
নীল:- আরেকটু ঘুমাতে দাও, আর আসো তুমিও আমার বুকে ঘুমাও
নীলা:- নীল কি করছো.. ছাড়ো…
নীল:- না ছাড়বো না
নীলা:- আজান দিবেতো নামাজ পড়তে যাবে না ?
নীল:- একটা পাপ্পি দাও
নীলা:- এখন পারবো না….
নীল:- দাও না…একটা পাপ্পি… না হলে আমি দেই..
নীলা:- এই না…না… নীল তুমি কিন্তু রাতে অনকে দুষ্টুমি করেছো এখন ছাড়ো..
নীল:- তুমিই তো দুষ্টুমি করতে বলেছিলে… না হলে কি আমি দুষ্টুমি করতাম.. জানো না আমি কতটা ভদ্র
নীলা:- ভদ্র হলে এখন বউয়ের কথা শুনো ৷
নীল:- একটা পাপ্পি দিলেই তো চলে যাই…
নীলা:- এখন পারবো না… নামায পড়ে আসার পর তোমাকে (হাত প্রসারিত করে) এত্তো গুলা পাপ্পি দিবো
নীল:- সত্যি তো..?
নীলা:- হুম সত্যিএবার যাও

 সমাপ্ত

গল্পের বিষয়:
রোমান্টিক

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত