আমি তোমাকে অনেক ভালবাসবো

আমি তোমাকে অনেক ভালবাসবো

বাসর ঘরে বউ তার স্বামীকে বলল আমাকে আপনি স্পর্শ করবেন না। ওকে। আমার বয়ফ্রেন্ড আছে। আমি ওকে ভালবাসি।হুম।কখন থেকে শুধু হুম আর ওকে জবাব দিচ্ছেন কেন?? তো আর কি করব। আপনি যা বলছেন আমি তা মনোযোগ দিয়ে শুনছিলাম। ওকে টিক আছে। আচ্ছা শুনোন আমারও গার্লফ্রেন্ড আছে। আমিও ওকে ভালাবাসি। wow that’s great কিসের great.???আপনার ও Gf আছে, আমার ও Bf আছে। তাতে কি হয়েছে?? ওমা তাতে কি হয়েছে মানে কি??? হুম।। আমাদের তো আর কোন সমস্যা নেই। অন্য দিকে আপনার আর আমার মধ্যে কোন কিছু হচ্ছে না। সমস্যা নেই আপনাকে কে বলল??? আর হা ওই দিকে ওটা ঠিক আছে আপনার আর আমার মধ্যে কোন সম্পর্ক হবে না। আপনি নিশ্চিত থাকেন।

আচ্ছা,, যদি আপনার আর আমার কোন রিলেশন না থাকত তখন তো আমাদের আজকে সম্পর্ক তৈরি হতো। তাই না!!! সেটা না হয় তখন দেখা যেত। আচ্ছা রাত অনেক হয়েছে আপনি ঘুমিয়ে পরেন। আচ্ছা,, আপনি কোথায় ঘুমাবেন??? আমি দেখি,,,, মেঝেতে ঘুমাবো। কাল কথা হবে। একটা রিকোয়েস্ট করব রাখবেন!!! আপনি বিছানাতে ঘুমাতে পারেন। আপনি ও পাশে, আর আমি এ পাশে। মাঝ খানে বর্ডার। কিন্তু আপনার সমস্যা হবে না???  না আমার কোন সমস্যা হবে না আমরা এখন থেকে বন্ধু। আর এখন থেকে আপনি না তুমি করেই বলব। কেমন!! ওকে ঠিক আছে।।। কথা হচ্ছিল,,নুপুর ও নাহিদের মধ্যে। তাদের বিয়ে হয়েছে ঘন্টা খানেক হল। আজ তাদের বাসর রাত। কিন্তু তাদের মাঝে রয়েছে অতীতের ছোয়া। তারা স্বামী স্ত্রী ঠিকই লোক দেখানো।। তাদের মধ্যে অন্য কেউ বসত করছে। পরের দিন সকালে,,,,,,, নাহিদ উঠো,,,,, হুম উঠছি তো!! ( ঘুম ঘুম চোখে নুপুরকে দেখে অবাক হল।

তাই লাফিয়ে উঠলো) এই নুপুর তুমি সকাল সকাল গোসল করছো কেন??? কি হয়েছে কাল রাতে??? আরে ধূররর!! কিছুই হয় নি??? এটা বাইরের মানুষকে দেখানোর জন্য করেছি!!! অহহহ,, তাই বলো। দেখ কিন্তু!!!! আরেহহ নিশ্চিন্তে থাকো। তারা বাইরে থেকেই স্বামী স্ত্রী। তাই অভিনয় করছে সবার সামনে। আচ্ছা তোমার Bf কি করছিল যে, তোমাকে আমার সাথে বিয়ে দিয়ে দিচ্ছে আর সে কিছুই করল না। আমার bf এখনও চাকরি পায় নি, মাত্র দুটো টিউশনি করে, আর তার পড়ালেখা চালায়। তাই আমার ফ্যামিলি রাজি হয় নি। তাই আমি বাধ্য হয়ে বিয়ে করি, আর বিয়ে করে বউয়ের নসটক করছি। আচ্ছা তুমি আমাকে বিয়ে কেন করলে তোমার gf কে রেখে? আমার ফ্যামিলি আমার gf কে পছন্দ করে না। কারণ আমি প্রেম করছি বলে। তারা আমাকে প্রেম করে বিয়ে করতে দিবে না। তাই তাদের কথায় বাধ্য হয়ে বিয়ে করতে হয়। পরে বিয়ে কিভাবে করবে??? সে তখন দেখা যাবে???? তারা দুজন ঘুড়তে একসাথেই বেড় হয়। কিন্তু তারা দুজন দু দিক চলে যায়। নুপুর তার bf সজিবের সাথে আর নাহিদ তার gf মওএর সাথে।

দেখা করে তারা দুজনই একসাথেই বাড়ি ফিরে আসে। নুপুর আর নাহিদ দিন দিন দুজনের অনেক ঘনিষ্ঠ হয়ে যায়। এতটাই গভীর ঘনিষ্ঠ হয়ে যায় মনে হয় তারা সত্যিকারেরর স্বামী স্ত্রী। একে অপরের অনেক কেয়ারিং করে। এখন একে অপরে বেশি সময় কাটায়। নাহিদ অফিস গেলে নুপুর ওকে ফোন দেয়। আবার নাহিদ ও ফোন দিয়ে নুপুরের খোজ খবর নেয়। নুপুর খেয়েছে কিনা, কি করছে ইত্যাদি সব কথা বলে। এখন তারা তাদের gf bf এর সাথে তেমন ফোনালাপ করে না, তেমন একটা সময় কাটায় না। নুপুর নাহিদের স্বপ্নে বিভোর থাকে। নাহিদও ঠিক তেমনি। নাহিদ নুপুরের সাথে তার bf সজিবকে দেখলে সহ্য করতে পারে না। নুপুর ও নাহিদের gf মওএর সাথে দেখলে তা মোটে ও সহ্য করতে পারে না। এখন নুপুরের বয়ফ্রেন্ডের সাথে সম্পর্ক তেমন ভালো যায় না, দ্বিধা দ্বন্দ্ব হয়। নাহিদ আর মওএর অবস্থাও টিক তেমন ই। নাহিদ ও নুপুর চায় তাদের সম্পর্কটা আগে বাড়ুক। কিন্তু তারা কেউ কাউকে বলতে পারছে না।

নাহিদ আর নুপুর এখন বেড়াতে গেলে একসাথেই যায়। দু দিকে আর যায় না। একদিন যা হবার নয় তাই হয়ে গেল। নুপুরকে নিয়ে আমার বন্ধুর পার্টিতে গেলাম। সবাই নুপুরকে ভাবি হিসাবে অনেক সম্মান করল। সেইখানে নুপুর একটু বেশি ড্রিংকস করে ফেলে। নাহিদ স্বাভাবিক ভাবেই ডিংক করল তাই ওর তেমন কিছুই হয় নি। সেই দিন সিটিতে ইলেক্ট্রি সিটি ছিল না। কারণ মুষলধারে বৃষ্টি পড়ছিল সে রাতে, দুজনই ভিজে যায়। নুপুরের সারা শরীল ভেজা। ওর ভেজা শাড়ী ওর শরীরে লেপ্টে আছে। ওর প্রতি নাহিদ গভীর ভাবে আকর্ষণ হচ্ছিল। মোম বাতির নিভো আলোতে আলোকিত ছিল তাদের রুমটি। নুপুর মাতালের ঘোরে চাচ্ছিল এক হয়ে যেতে। নুপুর নাহিদকে তার প্রতি আহ্বান করে। সে রাতে তাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কিন্তু নুপুর ছিল বে খবর।। নাহিদ কিছুটা খেয়াল ছিল বটে। কয়েক মাস পর নুপুরের বমি বমি লাগছে। কয়েক বার বমিও করেছে। নুপুর তো অস্তির হয়ে উঠেছে কি ভাবে সম্ভব এটা। নাহিদ বুঝতে পারলো ব্যাপারটা কি হতে যাচ্ছিল।

নুপুর প্রেগন্যান্সী টেস্ট করিয়ে নিশ্চিত হলো যে, তার গর্ভে সন্তান রয়েছে। কিন্তু কিভাবে??? তার bf এর সাথে এমন কোন সম্পর্ক গড়ে উঠে নি। তবে কি নাহিদ????? নুপুর নাহিদকে রুমে ডাকল- নাহিদ তুমি এটা কি করলে? ( প্রেগন্যান্সী কিডটি দেখিয়ে বলল) মাথা নিচু করে…. Sorry নুপুর!!!!  Sorry!!!! হাহ! নাহিদ তুমি কি জানো এটা তুমি কি করেছো????  বন্ধুত্বের নামে এই দিলে আমাকে???? নুপুর সরি!!!! আমি জানি ভুল করেছি। আর এই ভুলের ক্ষমা হবে না এটা ও জানি।।। এমন কেন করলে বলো নাহিদ??? ভুল যেহেতু আমার থেকেই হয়েছে, সেহেতু শুধরানোর দায়িত্ব আমারই। চল আজই তোমাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাব।। এবরোশন করাবো।- ঠাসসসসসসসসস!!!! নুপুর নাহিদের গালে চড় বসিয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে গেল। নাহিদও নিজেকে নিজে দোষ দিচ্ছে বন্ধুত্বের নামে এসব কি করল। আবার নাহিদের সাথে মওএর ব্রেকাপও হয়ে যায় অনেক আগে। নাহিদ তা নুপুরকে জানায় নি। নাহিদের কারণে নুপুর বাড়ি ছেড়ে চলে যায় তাই দুশচিন্তা করতে করতে বাইক চালিয়ে কখন যে,, গাড়ির সামনে এসে গেল বলতে পারে নি।

গাড়ির সাথে ধাক্কা খেয়ে সে ছিটকে অনেক দূরে গিয়ে পড়ে গেল। নাহিদকে হসপিটালে নিয়ে গেল। নাহিদ গুরুতর ভাবে এক্সিডেন্ট টা হয়েছে। নুপুরের বাসায় ফোন করল তার শাশুড়ি। নুপুরকে নাহিদের অবস্থার কথা জানালো। নুপুর কথাটি শুনার পর অজ্ঞান হয়ে যায়। নুপুরের পরিবার তাকে জ্ঞান ফিরার পর হসপিটালে নিয়ে এল। নাহিদকে অপারেশন থিয়েটারে অপারেশন চলছে। নুপুর ডাক্তারকে জিজ্ঞাস করল,,,নাহিদের কি অবস্থা কেমন?? ডাক্তার বলল:- রোগীর অবস্থা অনেক মারাত্মক। বাচতে ও পারে আবার নাও পারে।। দোয়া করুন আল্লাহ কাছে। নুপুর কথাটি শুনার পর ওইখানে অজ্ঞান হয়ে যায়। নুপুরকে ডাক্তারি পরিক্ষার পর জানালো সে মা হতে চলেছে। তাকে পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হবে। কিন্তু নুপুর নাহিদের কাছে যাবে বলে বার বার জ্ঞান হারাচ্ছে। অপারেশন সফল হল। কিন্তু নাহিদের জ্ঞান ফিরল না। ডাক্তার জানালো ২৪ ঘন্টার আগে কিছু বলা সম্ভব না। নুপুরকে বাড়ি নিয়ে যেতে চাইলো। কিন্তু পারল না। নাহিদের কাছেই থাকবে বলে জিদ ধরল।

তাই খাওয়া দাওয়া ছেড়ে নাহিদের কাছে অপেক্ষা করলো। নুপুর এই অবস্থায় খাওয়া দাওয়া ছেড়ে ওর জন্য বসে আছে কখন জ্ঞান ফিরবে। অবশেষে ভোরের দিকে নাহিদের জ্ঞান ফিরল। চোখ মেলতেই নাহিদ দেখলো নুপুর বেডে মাথা রেখে চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছে। নাহিদ ওর কাপা কাপা হাতে নুপুরের মাথায় হাত রাখাতেই নুপুরের ঘুম ভেঙ্গে গেল। নাহিদ দেখা মাত্রই নুপুর কাদছে এই নুপুর নুপুর কাদছো কেন তুমি????  কেদেই যাচ্ছে সজিব কিছু কি বলেছে তোমাকে । আচ্ছা আমি ওকে বুঝিয়ে বলব। ওকে তোমার কাছে আবার ফিরিয়ে নিয়ে আসবো। চুপ!! ওর কথা মুখেও আনবে না। কেন?? কি হয়েছে? তোমাকে ভুল বুঝেছে, আমি তোমাদের এক করে তবেই আমি মরব। চুপ কর প্লীজ। তুমি আর কখনও মরার কথা মুখেও আনবে না। আমাকে দেখে কি মনে হয় তোমার। কার জন্য কাদছি আমি?

আমার ভুলের প্রাশ্চিত্ত করতে হবে তো?? না তুমি কোন ভুল কর নি। যা করেছো ঠিকই করেছো। তোমার অধিকার আছে।  মানে???  মানে অনেক কিছু। নাহিদ আমি তোমাকে ভালবেসে ফেলেছি মনের অজান্তে। অনেক অনেক বেশি। তোমার কিছু হয়ে গেলে আমি নিজেই মরে যেতাম। ধূর পাগলি। এসব আর কখনও বলবে না। আমিও তোমাকে ভালবেসে ফেলেছি।  সে দিন চড় মেরেছিলাম কেন?? তুমি একটু ও বুঝলে না। না!!  এব্রোশনের কথা কেন বললে? যা হয়েছে ভুলে হয়েছে, তার জন্য ও কেন শাস্তি পাবে। আর আমরা তো স্বামী স্ত্রী। তাহলে সজিব? আমি ওর সাথে ব্রেকাপ করে ফেলেছি। আর আমি নিজেও চাই নি ওর সাথে কোন সম্পর্ক থাকুক। আর আমি যখন জানতে পারলাম মা হতে চলেছি তখন আমি এই কথা ওকে জানাতে ও ব্রেকাপ করে। আমার নতুন করে ব্রেকাপ করতে হয় নি।

আমার সাথে মওএর ও আর কোন সম্পর্ক নেই। চল আজ থেকে আমরা সংসার সাজাতে শুরু করি।  হুম। আমি তোমাকে অনেক ভালবাসবো। ভালবাসাতে তোমায় ভরিয়ে দিব। আমিও তাই চাই নাহিদ।।। নাহিদ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেল। এখন সে নুপুরের সব দিকে খেয়াল রাখে। আগের তুলনায় একটু বেশি। এভাবে চিরস্থায়ী থাকুক তাদের এই ভালবাসা। এই ভালবাসা দুনিয়ার সকল ধন সম্পদের থেকেও অনেক দামী।

(সমাপ্ত)

গল্পের বিষয়:
রোমান্টিক

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত