পাগল পাগলীর ভালবাসা

পাগল পাগলীর ভালবাসা

আমমমমমমম্মু,  তুমি কই গেলা আমি তো মইরা যামু। কী হয়েছে কী, এত্ত চিল্লাচিল্লি করছিস কেন। (আম্মু) আম্মু শেষ বারের মতো তোমার পোলাডার মুখ দর্শন কইরা নাও। (আমি) আবার কিন্তুু থাপ্পড় খাবি, ফাজলামি ছেরে বল কীইইই হইছে।(আম্মু) আমি না চকলেট মনে করে তোমার যেই ভাঙ্গা লিপস্টিক আছে না ওইটা খেয়ে ফেলছি। (আমি) কীইইই,, এত্ত চকলেট ক্যান তোর খাওয়া লাগবে বলতো, আর কত জ্বালাবি আমাকে। তারপর বুশরাকে কল দিলেন। হ্যালো বুশরা কই তুই।(আম্মু) এই তো আন্টি মেডিকেল থেকে মাত্র বাসায় আসলাম। (বুশরা)

একটু তারাতারি আয় না মা আমাদের বাসায়।(আম্মু) কেন আন্টি কীইইই হইছে আবার। (বুশরা) আর বলিস না বাঁদরটা আজকে  চকলেট মনে করে আমার লিপস্টিক খেয়ে ফেলছে।(আম্মু) কীইইই, আজকে ওর একদিন কী আমার একদিন, নিজেতো শান্তিতে থাকতে পারে না, কাউকে থাকতে ও দিবে না, আমি এক্ষুনি আসতেছি।(বুশরা) আম্মু আমি মনে হয় মইরা যামু, আমার মাথা ঘুরতেছে, বমি বমি ভাব হইতেছে, আল্লারে আল্লাহ আমি এখন মইরা যামু তো, কীইইই হইব আমার।(আমি) ঐ থামবি তুই, বুশরা তো আসতেছেই।(আম্মু) কীইইই তুমি ওই ডাইনিরে ক্যান আসতে বলছ, ও আসলে তো আমারে এমনিই মেরে ফেলবে। আমার কীইইই হইলরে, আর জীবনে ও চকলেট খামু না আমি।(আমি) ক্যান খাবি না ক্যান আরো খা, মানা করছে কে (বুশরা)। ডাইনিটারে দেখে আরো জোরে জোরে চিল্লানি দিতাছি, আমি আর বাঁচমু নারে, ও আল্লাহ আমার এমন হইতেছে ক্যান?(আমি) ঐ চুপ কর হারামি, লিপস্টিক খেলে কেউ মরে হুমমমম, বাঁদরামি করার জায়গা পাস না।(বুশরা) এইযে আপনারা কি ভাবছেন সত্যি সত্যি আমি লিপস্টিক খাইছি? আরে না আমি বলি কি হয়েছিলো আসলে কাল থেকে বুশরারে দেখি নাই।

তাই মানে আম্মু বুশরারে যেন ডেকে আনে সেই জন্য এই প্লানটা করা, ও হ্যা আমাদের পরিচয় টা দিয়ে ফেলি, আমি আপনাদের ফেসবুক ফ্রেন্ড হৃদয়। আর ঐটা হল আমার জানের জান বুশরা। অনেক ভাল স্টুডেন্ট। মেডিকেল এ পড়ে একদম ফাস্ট গার্ল, আমার যত সমস্যা সব বুশরাই ঠিক করে। বয়সে কিন্তুু আমার থেকে ছয় মাসের বড়, কিন্তুু আমি জীবনে ও সম্মান করি না। সারাদিন ঝগড়া করি, আমি ওরে সেই কবে থেকে ভালবাসি, আমি জানি বুশরা ও ভালবাসে, না হলে কোন মেয়ে আমার দিকে একটু তাকালে ওই মেয়েরে সেই বকা দেয় হি হি, বুশরার ও কোন ছেলে বন্ধু নেই, সারাদিন পড়াশুনা আর আমাকে নিয়েই থাকে। আমি তো জাতের একটা গর্ধব,হি হি ঐ ফাজিল হা করে কী দেখছিস, আর হ্যা তুই আবার ক্লাস টেষ্ট পরিক্ষাই  ফেল করছিস।(বুশরা) ঐ তুমি কেমনে জানলে।(আমি) কীইইই তার মানে সত্যি সত্যি ফেল করছিস।(বুশরা) হায় হায় সত্যিটাই বলে দিছি।(আমি)

দাঁড়া আন্টিরে বলতেছি।(বুশরা) প্লিজ প্লিজ আম্মুরে বইল না, আমারে সারাদিন পিটাবে।(আমি) হুমমমম, সেটাই তো চাই আমি, দাঁড়া বলতেছি,  আন্টি আন্টি।(বুশরা) কীরে বুশরা কীইইই হয়েছে।(আম্মু) তোমার গুনধর ছেলের পড়ালেখার যে হাল এমন চলতে থাকলে, আচ্ছা কিছু না  আমার এক্সাম শেষ হয়েছে, ওরে আমার কাছে পড়তে পাঠাই দিও।(বুশরা) হুমমমম রে মা তুই একটু পড়ালেতো ভালই হয়, তাও যদি বাঁদরামিটা ওর মাথা থেকে যায়।(আম্মু) আম্মু আমি ওর কাছে পড়ব না, এমনি আমারে খালি মাইর দেয়।(আমি) কীইইই আর একবার বলতো শুনি।(আম্মু) না না কিছু না পড়ব তো।(আমি) হুমমমম, আজকে থেকেই পড়বি। (বুশরা)। আল্লাহ আমার জীবনটা এবার গেল, এমনিতো ও একটা বইপোকা,  আমারে ও তাই বানাইব। দূর জেনে শুনে খাল কেটে কুমির আনলাম মনে হয়। ওই এবার যা বই নিয়ে আয়। (বুশরা) কীইইই এখনই।(আমি)
হুমমমম যা বলছি তাই কর না হলে কিন্তুু মাইর খাবি।(বুশরা) দূর ভাল লাগে না,  যেদিকে যে পারে খালি মাইর দেয়।

তারপর বই নিয়ে আসলাম।(আমি) চল এবার ছাদে যাই।(বুশরা) হুমমমম চলো।(আমি) দেখি বই, এই গুলো না দেখে বল।(বুশরা) হি হি কোনদিন পড়িই নি আবার না দেখে।(আমি) কীইইই আচ্ছা না পড়লে কেমনে হবে বল।(বুশরা) আমার পড়া ভাল লাগে না তো।(আমি) ওমনি আমার চুল ধরে টান দিল, আর সাথে সাথে আমার চোখ দিয়ে পানি বের হয়ে গেছে। আমার চোখে পানি দেখে বলল। খুব জোরে লেগেছে তাই না,  আচ্ছা সরি, বুশরার চোখে ও পানি চলে আসছে, হি হি হি।(আমি) ঐ হাঁসতেছিস কেন।(বুশরা) না মানে এমনি, এই প্রথম দেখলাম কেউ কাউকে মনে আবার নিজেই কাঁনতেছে।(আমি) কীইইই বললি কুত্তা, আমি কাঁদতেছি।(বুশরা) হি হি হুমমমম তাই তো,  আচ্ছা তোমার কোলে মাথা দিয়ে পড়ি প্লিজ।(আমি) কী জানি একটু ভেঁবে হ্যা বলল। আমি বুশরার কোলে মাথা রেখে পড়তেছি, আহা কীইইই যে শান্তি ইসসসস এমন হলে তো আমি সারাজীবন পড়তাম, আহা মাথায় হাত বুলাই ও দিতাছে, মনে হয় ঘুমাই পড়ব এক্ষুনি। এমন সময় আম্মুর ডাক।

বুশরা মা বাঁদরটাকে নিয়ে খেতে আয়।(আম্মু) হুমমমম আন্টি আসতেছি । তারপর আমাকে বলল,ওই এবার উঠ।(বুশরা) দূর কেবল একটু পড়াই মন বসল এমন করলে পড়া হয় নাকি।(আমি) হুমমম হয়েছে এবার চল।(বুশরা) তার পড়ে খেতে চলে গেলাম, আম্মু আমাদের খাবার দিয়ে চলে গেল। ঐ খা, এমন ভাবে বসে আছিস ক্যান।(বুশরা) আমারে একটু খাইয়ে দাও না প্লিজ।(আমি) অনেক সাহস হয়ে গেছে তাই না,  এবার মাইর খাবি কিন্তুু ।(বুশরা) ওকে ওকে দিতে হবে না।(আমি) এর মধ্যে বুশরা আপুর মা আসল, আমার আম্মু বলল ভাবি কীইইই হয়েছে হঠাৎ এমন সময় কেন। আর বলিস না, বুশরার সেই কোন সম্পর্কের দাদু নাকি বুশরাকে দেখবে। গ্রামের বাড়ি থেকে ফোন দিছিল, আমরা তো যেতে পারব না অনেক কাজ, আর হৃদয় যদি বুশরা সাথে যেত আরে কীইইই যে বলেন না ভাবি, হৃদয় যাবে সমস্যা কই। ওদের কথা শুনে আমি তে হাতে চাঁদ পাওয়ার মতো অবস্থা বুশরা আপুর সাথে এ কয়দিন থাকতে পারব আহা।

হঠাৎ আমার সেই আশায় পানি ফেলে বুশরা আপু বলল,  কিন্তুু মা আমি যাব না,  গ্রামে গেলেই সবাই কেমন করে, এত বড় হয়ে গেছিস অনেক সুন্দরি হয়েছি। আমি যাব না ব্যাস।(বুশরা)  ঐ যাবে না মানে কী হুমমমম, আন্টি আপনি কোন চিন্তা কইরেন না আমি রাজি করাই তেছি আজকে কালকে সকালেই আমরা রওনা দিব। (আমি) তারপরে অনেক কষ্টে বুশরা আপু টাকে বুঝাইলাম। তারপরে পরেরদিন সকালে রওনা দিলাম, গ্রামের উদ্দেশ্যে। কিন্তুু বাসের মধ্যে পাকাই ফেলছি ভেজাল, আমিও বসব জানালার সাইটে বুশরা ও বসবে জানালার সাইটে, অতপর দুই জনকেই বাস ত্যাগ করে চলে গেল, রাস্তাই হাঁটতেছি দুইজন। আমি এজন্য তোর সাথে যাইতে চাইছিলাম না, এবার নে হাঁট।(বুশরা) আরে বাবা আমি জানি নাকি বাস কন্টাক্টর এত্ত খারাপ হইব।(আমি) তার অনেক পরে আর একটা বাস ধরে চলে গেলাম, কিন্তুু তখন অনেক সন্ধা হয়ে গেছে। এমনিতেই গ্রামের পথ, একটু কাঁচা রাস্তা আর একটু আগে আসলে নাকি ভ্যান পাওয়া যেত। তাই বলছিল একটা চা ওয়ালা ।

কিচ্ছু করার নাই ম্যাডাম চলেন হাঁটা দেই। তারপরে দুইজন হাঁটতে লাগলাম। বিলের মাঝ পথে এসেই শুধু হল ঝি ঝি পোকার ডাক, আর শিয়ালের ডাক, বুশরা ভয়ে একদম চুপসে গেছে, আমার হাত শক্ত করে ধরে আছে। আমি শুনছি এই রকম রাস্তা দিয়ে নাকি আগে ভূত যাইত। ওমনি আমাদের সামনে দিয়ে একটা শিয়েল দৌড় দিল, এবার বুশরা আমাকে শক্ত করে জরাই ধরে ফুফাইতেছে। মনে হয় এই কেঁদে দিবে। তার পড়ে চলে চলে আসলাম বুশরার চাচার বাড়ি। যেতে না যেতেই সবাই বুশরাকে নিয়েই পড়ে আছে, তারপরে আমরা সেদিন রাতে খেয়ে শুয়ে পড়লাম, আমি এক রুমে বুশরা এক রুমে, সারারাত মশার কামড়ে ঘুম হয়নি, সকালে বুশরার ডাকে ঘুম ভাংল। ঐ এমন মরার মতো ঘুমাইতেছিস ক্যান।(বুশরা) দুঃখের কথা কী আর কইতাম সারা রাত মশার জ্বালায় ঘুম হারাম হয়ে গেছে।(আমি) তার পড়ে সকালে খেয়ে ঘুরতে গেলাম।

একটু দূরেই একটা নদী আর অনেক বড় ব্রিজ স্রোত ও আছে অনেক। পোলাপান লাফালাফি করছে, আমি আগে থেকেই সাঁতার জানতাম। না একটু মজা করি যদি ওর মুখ থেকে ভালবাসার কথাটা শুনতে পাই। বুশরা আমি না তোমাকে হেব্বি ভালবাসি যদি না বলো তা হলে আমি ঐ নদীতে ঝাপ দিয়ে মইরা যামু। হুমমমম জানা আছে তোর সাহস, বয়েই গেছে তোরে ভালবাসতে।(বুশরা) সত্যি সত্যি ঝাপ দিমু কইলাম।(আমি)  হুমমমম দে তো দেখি।(বুশরা) যেই কথা সেই কাজ,  এক দৌড়ে স্রোতের মধ্যে ঝাপ দিলাম। হায় হায় কীইইই বিপদেই না পড়লাম, এমন জোরে স্রোত আসল, মিনিটের মধ্যে হারাই গেলাম।

আমি জানি বুশরা এখন কান্না শুরু করে দিছে, মন স্থির করলাম না বেশি সাঁতার কাঁটা যাবে  না, যত দূরেই যাই, দেহটাকে কন্ট্রোল করা লাগবে, বুশরার জন্য হলে ও বাঁচতে হবে। অনেক দূরে চলে গেলাম, তার পড়ে উঠতে পারছি, উঠার পরে বুশরার চাচার বাসায় যেতে সন্ধা লেগে গেল। হায় হায় এত্ত মানুষ ক্যান, সবাই বলা বলি করছে এই বাড়িতে একটা ছেলে বেড়াতে এসে ডুবে মারা গেলে, অনেক চেষ্টা করে ও তার লাশ নাকি পাওয়া যায় নি, আর একটা মেয়ে নাকি পাগল এর মতো আচরণ করছে। আমি একজন কে বললাম ভাই কীইইই হইছে। আরে মিয়া একটা পোলা নদীতে ঝাপ দিয়া মইরা গেছে। হায় হায় জলজান্ত একটা পোলারে মইরা গেলো, বাড়িতে ঢুকতেই পারছি না, তখন আরে ভাই যেই পোলা মইরা গেছে সেটাই আমি চিৎকার করে বললাম। ওমনি সবাই থেমে গেল, হায় হায় আব্বু আম্মু আন্টি আংকেল সবাই আসছে।

আম্মু কেঁদে কেঁদে শেষ এসেই একটা চর ঠাসসসসসসসসসসসস, তার পরে আব্বু একটা, আম্মু জরাই ধরে কাঁনতেছে। আরে যার জন্য লাফ দিলাম সে কই, দেখি বুশরা অজ্ঞান হয়ে আছে,  কাঁনতে কাঁনতে এমন হয়ে গেছে। সবাই তো কী বকা আমারে, অমনি আমি মুখ ফসকে বলে দিলাম আরে তখন ও আমাকে ভালবাসে বললেই তো হত। তার পরে বুশরা কাছে গিয়ে বললাম উঠরে পাগলি প্লিজ আর দুষ্টুমি করব না, এই কান ধরছি, একটু পর বুশরার জ্ঞান ফিরল, সবার মাঝে ও আমাকে জরাই ধরে বলল অনেক ভাল বাসিরে অনেক, আমার বিশ্বাস হয়না।

আর যদি ভালবাসতে তাহলে আগেই বলে দিতে।(আমি) সত্যি বলছি আমি তকে অন্নেক ভালবাসি রে।(বুশরা) তাহলে আমায় কিস দাও!! কথা শেষ না করতেই দেখি বুশরা সবার সামনে আমাকে জড়িয়ে ধরে তার দুটি ঠোট আমার ঠোটে মিলিয়ে দিলো। পরে সবাই ডিসিশন নিল, এই পাগল পাগলি দুইটারেই বিয়ে দেওয়া লাগবে। তার পর এই তো এখন পাগলির কাঁধে মাথা দিয়ে বাসার দিকে আসতেছি। হি হি ভাল ভাগ্যিস ঝাপটা দিছিলাম। বউ প্লাস একটা ডাক্তার ও ফ্রি তে পেয়ে গেলাম। হা হা হা।

>>সমাপ্ত<<

গল্পের বিষয়:
রোমান্টিক

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত